Folk Shelf

Folk Shelf Let the words find a home and the hearts find a story.

Eid Mubarak
20/03/2026

Eid Mubarak

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_৪র্থ_পর্ব   ​হঠাৎ করে ঘরের ভেতর থেকে একজন চিৎকার করে ওঠে। সিনথিয়া দৌড়ে ভেতরে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা...
17/03/2026

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_৪র্থ_পর্ব

​হঠাৎ করে ঘরের ভেতর থেকে একজন চিৎকার করে ওঠে।
সিনথিয়া দৌড়ে ভেতরে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, কী হয়েছে?"
সিনথিয়ার বাবা জাকির থতমত খেয়ে বলল, "কিছু না, আবার সেই রাতের স্বপ্নটা দেখলাম।"
পুলিশ অফিসার ভেতরে গিয়ে প্রশ্ন করলেন, "কী স্বপ্ন? আর চিৎকারই বা করলেন কেন?
জাকির সাহেব পুলিশকে দেখে আতোঙ্কি হলো আর বলল, কীছু না।
পুলিশ অফিসার বললেন, দেখুন জাকির সাহেব, আমরা আপনার জমি থেকে যে কঙ্কালটি পেয়েছি সেটি সাইরার তাই সত্যি করে বলুন কী হয়েছে না হলে আপনিও ফেঁসে যেতে পারেন ।" কথাটি শুনে জাকিরের তখন কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছে।
পুলিশ অফিসার শান্ত কন্ঠে বললেন, "যদি কিছু জেনে থাকেন, নির্ভয়ে বলুন।"
​জাকির তখন সব সত্যি বলে দিলেন। তিনি জানালেন, সে রাতে তারাবির নামাজ পড়ে ফেরার সময় তিনি কয়েকজন ছেলেকে মদ্যপান করতে দেখেন এবং তাদের হাতে রয়েছিল দেশীয় অস্ত্র। তারা কি করে এটা দেখার জন্য আমিেএকটি বড় গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। এভাবে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর দেখি তাদের সাথে আরো কয়েকজন সেখানে আসে কিন্তু তাদের সাথে ছিল ইমাম সাহেবও মোয়াজ্জিন তারা ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিন কে ধরে নিয়ে এসে মাটিতে পুঁতে রাখে এটি দেখে আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম কাউকে কিছু বলতে পারিনি।

পুলিশ অফিসার বললেন আপনি কি তাদের চেনেন।
জাকির বললেন — হ্যাঁ চিনি তারা হলো আমাদের এলাকার আলিমের ছেলে, সাফিয়ানের ছেলে এবং আরো কিছু ছেলেপেলে।
পুলিশ অফিসার আর দেরি না করে দ্রুত তাদের ধরে নিয়ে এসে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। অনেক টর্চারের পর তারা স্বীকারোক্তি দেয়।
তাদের মধ্যে আরিয়ান বলল, "ইমাম সাহেব আর মুয়াজ্জিন শেষ রাতে ডাকাডাকি করতেন বলে আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটত। আমরা বারণ করলেও তারা শোনেননি। তার ওপর ইমাম সাহেবের সাথে সভাপতির মেয়ের সম্পর্ক আছে—এই অপবাদ দিয়ে সভাপতি আমাদের বলেন তাদের মেরে ফেলতে। আমরা এমনভাবে মারার পরিকল্পনা করি যাতে সবাই ভাবে জিনের কাজ।"
​অফিসার গর্জে উঠে বললেন, "তাহলে সায়রা, সাজ্জাদ আর সাদিককে মারলি কেন?"
আরিয়ান বলল, "সে রাতে আমরা জঙ্গলে মদ খাচ্ছিলাম, তখন দেখি ওরা তিনজন পালিয়ে যাচ্ছে। আমি সায়রাকে আগে থেকেই ভালোবাসতাম কিন্তু ও কখনো পাত্তা দেয়নি। ওর বাবাও আমাকে নিচু জাত বলে হেয় করত। সেদিন সুযোগ পেয়ে আমরা সাজ্জাদকে মেরে ফেলি। সাদিক জখম হয়ে পালিয়ে গেলেও হয়তো কোথাও মরে পড়ে আছে। আর সায়রাকে পাশবিক নির্যাতন করে সেখানেই কবর দিয়ে দেই যাতে কেউ জানতে না পারে।"
​সব শুনে অফিসার ক্রুদ্ধ হয়ে সভাপতিকে ধরে আনার নির্দেশ দেন।
সভাপতিকে ধরে আনতে গেলে সভাপতি দম্ভ করে বললেন, "আমি এই রাজ্যের মন্ত্রী, আর তুমি আমাকে ধরবে!"
পুলিশ অফিসার তখন সামনে এসে বললেন, "আপনাকে গ্রেফতার করতে আসিনি, শুধু একটি কথা বলতে এসেছি যা শুনলে আপনি জ্যান্ত মরে যাবেন।
সভাপতি রুক্ষ কণ্ঠে বললেন, কী কথা?
পুলিশ অফিসার বললেন, আপনি তো ইমাম সাহেবকে মারার হুকুম দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন—আপনার মেয়ের সাথে ইমাম সাহেবের কোনো সম্পর্কই ছিল না? আপনার মেয়েকে তারাই মেরেছে যাদের আপনি খুনি হিসেবে ভাড়া করেছিলেন। চরম নির্যাতনের পর আপনার আদরের মেয়েকে তারাই মাটিতে পুঁতে দিয়েছে।" কথাটি শুনে সভাপতির পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। চোখ দিয়ে শুধু এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
​নদী দিয়ে নৌকা করে শফিক, রূপালী আর জুলু মিয়া এক অজানা গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে।
জুলু মিয়ার মুখে এই দীর্ঘ কাহিনী শুনে শফিক বলল, "ওহ! তাহলে এই হলো ইমাম সাহেবের সম্পূর্ণ কাহিনী। আচ্ছা, পরে সাদিকের কি কোনো খোঁজ মিলেছিল আর পুলিশ বা কীভাবে জানলো সায়রাকে ইমাম সাহেবের খুনিরাই মারছে?"
জুলু মিয়া বললেন, "সেটা আমি জানি না।"
শফিক তখন রূপালীর দিকে তাকিয়ে বলল, "আচ্ছা, আপনার মেয়ে রূপালীর এই অতিপ্রাকৃত শক্তির উৎস কী? আপনি কি জানেন?"
​​চলবে...
কপি করা নিষেধ।
লেখক: #সাাহাদ_শেখ

নোট: আপনি যদি জুলু মিঞা, শফিক,রুপালী এবং ইমাম সাহেবের রাজ্য সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আমার লেখা #ভাগ্যের_লহর গল্পটি পড়ুন।

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_৩য়_পর্ব   ​অনেকদিন হয়ে গেছে। সেই তিনটি মৃত্যুর পর এলাকায় আর কেউ মারা যায়নি ঠিকই, কিন্তু তাদের তিনজনক...
13/03/2026

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_৩য়_পর্ব

​অনেকদিন হয়ে গেছে। সেই তিনটি মৃত্যুর পর এলাকায় আর কেউ মারা যায়নি ঠিকই, কিন্তু তাদের তিনজনকে কে মেরেছে—তা কেউ জানে না। শুধুমাত্র একজন ব্যতীত; তার নাম জাকির। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলবে, সেই সাহসটুকু তার নেই। সেই রাতের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা যখন তার মনে পড়ে, তখন সে আতঙ্কে আঁতকে ওঠে।
​একদিন দুপুরবেলা জাকিরের সাথে তার ভাইয়ের ঝগড়া হয়। সে সিদ্ধান্ত নেয়, সে এবং তার পরিবার আর দাদার বাড়িতে থাকবে না। দূরে জঙ্গলের ভেতরে একটা জায়গা আছে তাদের, সেখানেই বাড়ি করে থাকবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাকির কিছুদিন পর বাড়ির কাজের জন্য জঙ্গলের গাছপালা কাটতে শুরু করে। বাড়ি করার উদ্দেশ্যে মাটি খুঁড়তে গিয়ে সে হঠাৎ একটি কঙ্কাল খুঁজে পায়।এটি দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। মিস্ত্রিরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে কঙ্কালটি পর্যবেক্ষণ করে এবং আশেপাশের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপর কঙ্কালটিকে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে জানা যায়, কঙ্কালটি এক তরুণীর, যার বয়স বড়জোর ২২-২৩ বছর।
​পুলিশ তখন খোঁজখুজি শুরু করে যে আশেপাশে এই বয়সি কোনো মেয়ে গায়েব হয়েছে কি না। এটি করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সভাপতির মেয়েকে এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ তখন সভাপতিকে তলব করে। সভাপতির ডিএনএ নিয়ে কঙ্কালটির ডিএনএ-র সাথে মিলিয়ে দেখা হয় এবং দুটি হুবহু মিলে যায়; অর্থাৎ এটি আসলে সভাপতিরই মেয়ে, সায়রা। এটি জানতে পেরে সভাপতি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পুলিশ অফিসার সভাপতিকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনার মেয়ে যেদিন রাতে গায়েব হয়েছিল, সেদিনের কথা কি আপনার মনে আছে? শেষবার কোথায় তাকে দেখেছিলেন?"
সভাপতি সাহেব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "কোথায় আর দেখব? বাড়িতেই খাবার-দাবার খেয়ে রাতে নিজের রুমে ঘুমাতে গিয়েছিল। আমরাও ঘুমাতে যাই। সকালে উঠে দেখি মেয়ে নেই।"
​পুলিশ অফিসার বলেন, "সত্যি করে বলুন তো, আপনার মেয়ের কি ইমাম সাহেবের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল?"
সভাপতি সাহেব রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন, "না, ছিল না! আমি আপনাকে এক কথা কতবার বলব?"
​পুলিশ অফিসার বলেন, "রাগ করবেন না। আপনার মেয়ের কি কোনো বান্ধবী আছে?"
সভাপতি জানালেন, ওর সবচেয়ে ভালো বান্ধবী হলো সিনথিয়া।
পুলিশ অফিসার দ্রুত সিনথিয়াদের বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশ অফিসার সিনথিয়াকে জীঙ্গেস করেন, "তোমার বান্ধবী সম্পর্কে যদি কিছু জানো? সত্যি করে বলো, তোমার বান্ধবী কীন্তু মারা গেছে।"
সিনথিয়া বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল, "না স্যার, তেমন কিছু জানি না।"
পুলিশ অফিসার বললেন, "সত্যি করে বলো যাতে খুনিকে ধরা যায়। পুলিশ অফিসার হঠাৎ চুপ করে একটু ভেবে বলে, আচ্ছা, ইমাম সাহেবের সাথে কি তোমার বান্ধবীর কোনো সম্পর্ক ছিল?"
সিনথিয়া বলে, "না স্যার। সায়রা সাজ্জাদ নামে একজনকে অনেক ভালোবাসত। কিন্তু পরবর্তীতে সায়রা আল্লাহর পথে চলে আসতে চেয়েছিল। তার কবরের আযাব নিয়ে প্রচুর ভয় হতো। সাজ্জাদের সাথে তার ভালোবাসা খুব গভীর থাকলেও, এই পথ থেকে কীভাবে ফিরে আসা যায় তা নিয়ে সে ইমাম সাহেবের সাথে প্রায়ই আলোচনা করত। এটি দেখেই মানুষ বিভিন্ন কথা রটিয়েছে।"
​অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, "সাজ্জাদ কোথায় এখন?"
সিনথিয়া জানাল, সে জানে না।
অফিসার পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, "সাজ্জাদের কি আপন বলতে কেউ আছে?"
সিনথিয়া বলল, "না স্যার, ওর বাবা-মা কেউ নেই, ও একদম একা।"
সিনথিয়া আরও বলল যে, সায়রা একদিন রাতে ফোন করে বলেছিল সে সাজ্জাদের সাথে পালিয়ে যাচ্ছে। তারপর থেকে তাদের দুজনের আর খবর পাওয়া যায়নি, সেদিন থেকে সাজ্জাদের বন্ধু সাদিকেরও কোনো হদিস নেই।
পুলিশ অফিসার মনে মনে ভাবেন, ওই লাশের ডিএনএ তো সাদিকের বাবা-মায়ের সাথে মিলল না, তবে কি লাশটি সাজ্জাদের হতে পারে?
পুলিশ অফিসার সিনথিয়া কে জিজ্ঞেস করলেন, ছাইরা তো ভালো হতে চেয়েছিল তাহলে সাজ্জাদের সাথে পালিয়ে গেল কেন?
সিনথিয়া বলল, স্যার সেটা তো আমি জানি না কিন্তু সাইরা ফোন দিয়ে কথা বলার সময় অনেক ভীতূ মনে হচ্ছিল। কথা শুনে মনে হচ্ছিল কেউ জোর করছে ।

​চলবে...
কপি করা নিষেধ।
লেখক: #সাাহাদ_শেখ

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_২য়_পর্ব   ​চারিদিকে নিস্তব্ধতা। সাদিকের রুমের বাইরে থেকে আসা হালকা আওয়াজটি যেন বজ্রকণ্ঠের মতো তার কা...
11/03/2026

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_২য়_পর্ব

​চারিদিকে নিস্তব্ধতা। সাদিকের রুমের বাইরে থেকে আসা হালকা আওয়াজটি যেন বজ্রকণ্ঠের মতো তার কানে এসে বাজছে। সাদিকের বুকের ভেতর ধরফর করছে; সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। ভয়ে তার সারা শরীর ঘেমে একাকার। কয়েক সেকেন্ড পর্যোবেক্ষন করে সাদিক বুঝতে পারল আওয়াজটি রান্নাঘর থেকে আসছে। পা টিপে টিপে সে রান্নাঘরের দিকে এগোতে থাকে। সেখানে গিয়ে সে দেখল জানালাটি খোলা এবং মুলুতো সেখান থেকে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আসছে।
এটি ​দেখে সাদিকের যেন পরানে প্রাণ ফিরে এলো। সে জানালাটি বন্ধ করার জন্য ধীরে ধীরে জানালার দিকে অগ্রসর হলো।
​পরদিন সকালবেলা। পুলিশ স্টেশন পুরোপুরি নিস্তব্ধ। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ টেলিফোনের রিংটোন বেজে উঠল। একজন পুলিশ কনস্টেবল রিসিভারটি কানে তুলতেই ওপার থেকে ভেসে এলো আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর— "স্যার, তাড়াতাড়ি আসুন! মাটির নিচে মাথা পোঁতা অবস্থায় আরও একজনের লাশ পাওয়া গেছে!"
​কথাটি শুনে কনস্টেবল যেন পাথর হয়ে গেল। তার ফ্যাকাশে মুখ দেখে পুলিশ অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে?"
কনস্টেবল তোতলাতে তোতলাতে বলল, "স্যার, একই অবস্থায় আরও একটি লাশ পাওয়া গেছে!"
​অফিসার চমকে উঠে বললেন, "বল কী! কার লাশ?"
কনস্টেবল উত্তর দিল, "স্যার, সেটা তো এখনো বলা যাচ্ছে না। ওখানে গিয়ে দেখতে হবে।"
অফিসার গর্জে উঠলেন, "তাহলে দেরি করছ কেন? তাড়াতাড়ি চলো!"
​পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাল। সেখানে গিয়ে দেখল, এই লোকটির লাশও আগের দুজনের মতো—মাথা মাটির ভেতরে গাঁথা এবং পা দুটো ওপরের দিকে। ফরেনসিক টিমের লোকজন এসে লাশটি ওপরে তুলল। কিন্তু লাশের অবস্থা এতটাই বীভৎস যে চেনার উপায় নেই। পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত লোকটির ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করা হলো। পুলিশ আশপাশের সবাইকে জিজ্ঞেস করল কেউ নিখোঁজ আছে কি না, কিন্তু তৎক্ষণাৎ কোনো কিছু জানা গেলো না।
​দুপুর নাগাদ সাদিকের মা কাঁদতে কাঁদতে থানায় হাজির হলেন।
তিনি ডুকরে কেঁদে বললেন, "স্যার, আজ সকাল থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ভেবেছিলাম হয়তো কোথাও গেছে, পরে চলে আসবে কিন্তু সে এখনো ফিরছে না। ওই লাশটির কথা শুনে আমার মন কু গাইছে..."
​কথাটি শুনে পুলিশ অফিসার আর দেরি করলেন না। সাদিকের মায়ের ডিএনএ নমুনা নিয়ে নিলেন পরীক্ষার জন্য। ঠিক এমন সময় মসজিদের সভাপতি ঝড়ের বেগে থানায় ঢুকলেন। তিনি অভিযোগ করতে এসেছেন যে তার মেয়ে সাইরাও নিখোঁজ।
মসজিদের সভাপতি অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে পুলিশকে ধমক দিয়ে বললেন, "আমার মেয়েকে যদি আজকের দিনের ভেতর খুঁজে না দাও, তবে তোমাদের চাকরি থাকবে না!"
​পুলিশ অফিসার এক চরম দ্বিধায় পড়লেন। তিনি ভেবে পাচ্ছেন না, সভাপতি সাহেবের মেয়েই বা কোথায় গেল, আর ওই বেওয়ারিশ লাশটিই বা কার!
​চলবে...
কপি করা নিষেধ।
লেখক: #সাাহাদ_শেখ

গল্প:  #নিষিদ্ধ_আজান_প্রথম_পর্ব   সুবহে সাদিকের কয়েক ঘণ্টা পূর্ব মুহূর্ত। চারপাশ নিস্তব্ধ। রুমের বিছানায় ইমাম সাহেব এবং...
10/03/2026

গল্প: #নিষিদ্ধ_আজান_প্রথম_পর্ব

সুবহে সাদিকের কয়েক ঘণ্টা পূর্ব মুহূর্ত। চারপাশ নিস্তব্ধ। রুমের বিছানায় ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন ঘুমিয়ে রয়েছেন। পাশেই মসজিদ, পুরো পরিবেশ নীরব। হঠাৎ এক ভয়ঙ্কর 'খচর-মচর' শব্দ তাদের কানে ভেসে এলো। শব্দটির কারণে তাদের গভীর ঘুম বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তারা শব্দটি শুনে খুব ভীত হলেন।
​মুয়াজ্জিন ভীতু কণ্ঠে বললেন, "হুজুর, আমি বারবার আপনাকে ওই কাজটি করতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু আপনি শোনেননি। এবার কী হয় আল্লাহ জানে!"
ইমাম সাহেব বললেন, "এত চিন্তা করো না, কিছু হবে না। আমি বাইরে গিয়ে দেখছি কিসের শব্দ হচ্ছে।"
মুয়াজ্জিন কম্পিত কণ্ঠে বললেন, "না হুজুর, যাবেন না।"
ইমাম সাহেব বললেন, "না যাই, কিছু হবে না।"
ইমাম সাহেবেরও অনেক ভয় করছিল, কিন্তু তিনি সেই ভয়কে পাশ কাটিয়ে রুমের দরজাটির কাছে গেলেন।
দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখেন বাতাসের শব্দ। এটি দেখেখেতাঁর পরানে যেন প্রাণ ফিরে এলো। তিনি হেসে মুয়াজ্জিনকে বললেন, "আরে, এতো বাতাসের শব্দ হচ্ছে!"
​দরজায় ঠকঠক করে সাদিক তার মাকে ডাকছে। সাদিক বলল, "মা ওঠো, তিনটে ৪৫ বেজে গেছে। রান্না করবা না? আমাদের সেহেরী খেতে হবে তো।"
কথাটি কানে পৌঁছাতেই সাদিকের মা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে গেলেন। তিনি শোবার রুমের দরজা খুলে ঘড়ি দেখে বললেন, "এত বেজে গেছে! কিন্তু হুজুর আজ ডাক দিল না কেন?"
​কিছুক্ষণ পর সেহরির সময় শেষ হয়ে গেছে। সবাই মসজিদে নামাজের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন দুজনের কেউই নেই। মসজিদের পাশের ঘরেও তারা নেই। সবাই দুশ্চিন্তা করতে লাগল যে তারা গেল কোথায়। নামাজের সময় চলে যাচ্ছে দেখে নিজেদের মধ্যেই একজন ইমাম হয়ে নামাজ পড়ে নিল।
​নামাজ শেষে সবাই যার যার মতো বাড়ি চলে গেল। বাড়ি ফেরার পথে সাদিক রাস্তার পাশে এমন একটি দৃশ্য দেখল যা তাকে চমকে দিল।
সে দেখলো ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিনের মাথা মাটির ভেতর গাঁথা এবং পা দুটো উপরে। দুজনেরই একই অবস্থা। এটি দেখে সাদিক ভয়ে চিৎকার করে উঠল এবং পাড়ার সবাইকে সেখানে ডেকে আনল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—তাদের কে মারল?
​এমন সময় পুলিশ এসে উপস্থিত হলো এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করল।
পুলিশ অফিসার সাদিককে জিজ্ঞেস করলেন, এই ছেলে, তোমার নাম কী?
সাদিক বলল, আমার নাম সাদিক
পুলিশ অফিসার সাদিককে জিজ্ঞেস করলেন, "সাদিক,তুমি কি ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন সম্পর্কে কিছু জানো? আর এদের কে মারতে পারে বলে তোমার মনে হয়?"
সাদিক ভীতু কণ্ঠে বলল, "স্যার, গতকাল রাতে আমি, ইমাম সাহেব এবং মুয়াজ্জিন—তিনজন মিলে ৪০ বার সুরা জিন পড়েছিলাম যাতে জিন আসে। আমার মনে হয় জিনেই মারছে। এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যু জিন ছাড়া আর কেউ মারতে পারে না।"
​পুলিশ অফিসার বললেন, "জিনের ব্যাপারটা আমরা পরে দেখছি। আগে বলো, এনাদের আপন বলতে আর কেউ আছে কি না?"
সাদিক বলল, "মুয়াজ্জিন সাহেবের শুধু অসুস্থ মা আছেন। উনাকে এখনো ছেলের মৃত্যুর কথা বলা হয়নি, কারণ উনি সহ্য করতে পারবেন না।
আর ইমাম সাহেবের স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে ছিল, কিন্তু উনার স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে গেছে।"
​পুলিশ অফিসার বললেন, "তালাক হয়েছে কেন জানো?
" সাদিক বলল, "না জানি না।"
পুলিশ বলল, "চলো তাহলে আমাদের ইমাম সাহেবের স্ত্রীর কাছে নিয়ে চলো। তাঁর সাথে কথা বলা দরকার।"
​সাদিক তাদের নিয়ে গেল, ইমাম সাহেবের স্ত্রীর বাড়িতে ।
পুলিশ অফিসার তালাকের কথা জিজ্ঞেস করলে ইমাম সাহেবের স্ত্রী বললেন, "আমি তাঁর সাথে থাকতে চাইনি। কারন সে একটি মেয়ের সাথে গোপনে সম্পর্কে ছিল। আমি বিষয়টি জানার পরেও সে কোনোভাবেই তা স্বীকার করেনি।"
পুলিশ অফিসার বললেন, "মেয়েটি কে?"
ইমাম সাহেবের স্ত্রী বললেন, "মসজিদের সভাপতির মেয়ে, সাইরা।"
সাদিক চোখ কুঁচকে মনে মনে ভাবল, "সাইরা! কিন্তু সাইরার সাথে তো আমার এক বন্ধুর সম্পর্ক আছে, যা কেউ জানে না।"
​পুলিশ অফিসার সাদিককে বললেন, "দেরি করো না, আমাদের সাইরাদের বাড়ি নিয়ে চলো।"
সাইরাদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ অফিসার মসজিদের সভাপতির কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার মেয়ের সাথে কি ইমাম সাহেবের কোনো সম্পর্ক ছিল?"
সভাপতি অত্যন্ত কড়াভাবে তা অস্বীকার করে বললেন, "না।"
এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হলো।
​রাত নেমে এসেছে। চারদিকে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাদিক তার রুমে একা শুয়ে আছে, কিন্তু ভয়ে তার গা ছমছম করছে। সেই রাতে আমল করার সময় তারা তিনজনই ছিল—দুজন ইতিমধ্যেই শেষ, এখন বাকি আছে শুধু সে নিজে। ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা চিরে সাদিকের রুমের দরজার ওপাশ থেকে একটা 'খচর-মচর' শব্দ শুনতে পেল সাদিক। শব্দটা শুনে সাদিক ভীষণ ভয় পেল।

​চলবে...
কপি করা নিষেধ।
লেখক: #সাাহাদ_শেখ

10/03/2026


গল্পের নাম: নিষিদ্ধ আজান
আসছে আগামীকাল, সুবেহ সাদিকের পর।

প্রস্তুত থাকুন সেই রহস্যের সাক্ষী হতে...

09/03/2026

প্রিয় পাঠক,
আমার লেখা ​ #ভাগ্যের_লহর এবং #চাঁদের_দেশের_অভিযান এই দুইটি গল্পের সমস্ত ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে কোন ক্যারেক্টারটি আপনার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে?
​অবশ্যই কমেন্টে জানান! 👇

 #চাঁদের_দেশের_সন্ধানে — সিজন ১ এই গল্পের সম্পূর্ণ লিঙ্ক এখানে দেওয়া হলো।যারা থ্রিলার, ড্রামা আর অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন...
08/03/2026

#চাঁদের_দেশের_সন্ধানে — সিজন ১ এই গল্পের সম্পূর্ণ লিঙ্ক এখানে দেওয়া হলো।
যারা থ্রিলার, ড্রামা আর অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন এবং প্রতিটা পরতে পরতে রহস্যময় গল্প খুঁজছেন, তারা এটি পড়তে পারেন। এটি অত্যন্ত ইমোশনাল একটি গল্প—আপনি যদি এমন কোনো গল্প পড়তে চান যার শেষে আপনার চোখে জল আসবে, তবে এই গল্পটি আপনার জন্য।
গল্পটি পড়ার আগে ট্রেলারটি দেখে নিতে পারেন:
https://www.facebook.com/reel/25956685070625123/?app=fbl
🔹 প্রথম পর্ব: https://www.facebook.com/61581913891483/posts/122123077719063796/?app=fbl
🔹 দ্বিতীয় পর্ব:
https://www.facebook.com/61581913891483/posts/122123154381063796/?app=fbl
🔹 তৃতীয় পর্ব:
https://www.facebook.com/61581913891483/posts/122123383311063796/?app=fbl
🔹 চতুর্থ পর্ব:
https://www.facebook.com/61581913891483/posts/122123521977063796/?app=fbl
🔹 পঞ্চম পর্ব :
https://www.facebook.com/61581913891483/posts/122123521977063796/?app=fbl
সিজন ২ অসছে……..
কপি করা নিষেধ।
লেখক:সাাহাদ_শেখ

 #চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_৫ম_পর্ব জনরা:    #থ্রিলার,  ,    ,   বাঘটি ধীরে ধীরে সিয়ামের দিকে এগিয়ে আসছে। বাঘটি যখনই ক্ষিপ্...
08/03/2026

#চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_৫ম_পর্ব
জনরা: #থ্রিলার, , ,
বাঘটি ধীরে ধীরে সিয়ামের দিকে এগিয়ে আসছে। বাঘটি যখনই ক্ষিপ্রতা দিয়ে সিয়ামের দিকে আক্রমণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল, তখনই শিকারিদের পেতে রাখা একটি গোপন ফাঁদে বাঘটি আটকা পড়ে গেল।
সিয়াম দৌড়ানোর কারণে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। সে কাঁধের ব্যাগ থেকে কিছুটা শুকনো খাবার নিয়ে খেল। কিন্তু সে পানি আনতে ভুলে গিয়েছিল। প্রচণ্ড তৃষ্ণায় কিছুক্ষণ পর সিয়াম জ্ঞান হারাল। তার ছোট্ট দেহটি এলিয়ে পড়ল মাটির ওপর।
বৃদ্ধ লোকটি বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "পাহাড় দিয়ে চাঁদের দেশে যাওয়া যায়—সিয়ামকে কে বলেছে?"
বাচ্চাটি সরলভাবে উত্তর দিল, "আমি জানি না।"
রবিনের চোখে জল। সে কিভাবে একজন ছোট্ট বাচ্চাকে বাঘের সামনে ফেলে দিয়ে রেখে আসতে পারল। এই ভেবে তার নিজের উপরই প্রচূর রাগ হচ্ছে। আসলে রবিন হলো একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সে এই বাচ্চা অপহরণকারীর পুরো নেটওয়ার্ক টিকে ধরতে চাই তার জন্য তারা একটি গোপন তদন্ত চালাচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের যে মালিক তার সাথে দেখা করতে হলে কমপক্ষে ২০ জন বাচ্চা অপহরণ করতে হবে। রবিন অলরেডি ১৯ জনকে ধরে ফেলেছে আর একজন বাকি আছে। সেটি হল সিয়াম। সিয়ামকে যদি আজ রাতের ভেতর না ধরে জমা দিতে পারে তাহলে নেটওয়ার্কের মালিক কে আর ধরা হবে না, কারণ আগামীকালকেই এই অপহরন নেটওয়ার্কের হোতা দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

রাতের বেলা বানরেরা একটি নতুন খেলা আবিষ্কার করেছে—দৌড়ানোর প্রতিযোগিতা। তাদের পাহাড় বেয়ে একটি গুহায় যেতে হবে। তারা সবাই দৌড়াচ্ছে। এমন সময় তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা একটি বাচ্চাকে দেখতে পেল। বানরেরা কৌতূহলী হয়ে বাচ্চাটির দিকে এগিয়ে এলো। তারপর তারা সম্মিলিতভাবে বাচ্চাটিকে তাদের গুহায় নিয়ে গেল। বাচ্চাটি ছিলো সিয়াম।
জ্ঞান ফিরার পরে সিয়াম দেখে তার চারপাশে বানরেরা খেলা করছে, তার থলেটিও বানরদের হাতে।এইসব দেখে সিয়াম ভয় পেয়ে যায়। হঠাৎ একটি গুলির শব্দ হলো; আতঙ্কে বানরেরা সবাই পালিয়ে গেল।
ওদিকে পুলিশ খুঁজতে খুঁজতে শিকারিদের দেখতে পেল এবং তাদের উদ্দেশ্য করে গুলি করতে শুরু করল।

​গুলির আওয়াজে সমস্ত বানরেরা পালিয়ে যায়। সিয়াম পকেট থেকে গ্যাস লাইট বের করে মশালটি জ্বালিয়ে পাহাড়ের দিকে উঠতে থাকে। তার ভয় করছে, আশেপাশে কেমন যেন একটি শব্দ শুনতে পায় সে। সে শব্দের দিকে এগিয়ে যায় আর মনে মনে বলে, "হে আল্লাহ, আমাকে তৌফিক দাও চাঁদের দেশে যাওয়ার, আমার মায়ের কাছে যাওয়ার।"

বৃদ্ধ লোকটি এবং সিয়ামের বাবা কিছু গ্রামবাসী নিয়ে দ্রুত পাহাড়ে আসলেন এবং তারা সবাই পাহাড়ি জঙ্গল দিয়ে সিয়ামকে খুঁজতে লাগলেন।

​এদিকে সিয়াম বলে, "মা, তোমাকে আল্লাহ তাআলা আমার কাছে পাঠিয়েছে! ও, তাহলে আমরা এখন একসাথেই চাঁদের দেশে যাব। আমাকে তুমি চাঁদের দেশে নিয়ে যেতে এসেছো, তাই না? তাহলে চলো, তাহলে আমরা একসাথে যায়।"

মশালটির আলো কেবল সিয়ামের পথটুকুই আলোকিত করছে, চারিদিকে গভীর অন্ধকার। সিয়াম দ্রুত পা চালিয়ে পাহাড়ে উঠছে। শেষমেশ সিয়াম পাহাড়ে উঠতে সক্ষম হয়। কিন্তু সিয়াম পাহাড়ে উঠে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

পাহাড়ের চূড়ায় কিছু ভ্রমণপিপাসু ব্যক্তি ক্যাম্প বানিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আনন্দ করছে। তারা সিয়ামকে দেখে এগিয়ে এসে তাকে কিছু খাবার দেয়।
তারা সিয়ামকে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, "তুমি এখানে কিভাবে এলে? আর কিসের জন্য এত গভীর জঙ্গল পাড়ি দিয়ে একা একা এলে?"
সিয়াম বলল, "হেঁটে এসেছি, আর আমার মায়ের জন্য এসেছি।"
তারা বিস্মিত হয়ে গেল। তারা বলল, "এটি তো অসম্ভব! এটি একটি বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে তোমার মতো কোনো ছোট মানুষ এত বড় পাহাড়ে উঠতে পারেনি। তুমি কীভাবে পারলে এটা"
তখন সিয়াম বলল, "আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ তাআলা আমাকে ওঠার তৌফিক দান করেছেন, আর আমার মা-ও আমাকে সাহায্য করেছেন।"
লোকগুলো বলল, "তোমার মা কোথায়?"
সিয়াম কিছুটা চুপ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে দ্রুত বলল, "বলা যাবে না। আর আপনারা এত কথা না বলে আমাকে বলেন, চাঁদের দেশ কোথায়?"
তারপর লোকগুলো মজা করে বলল, "পাহাড়ের ওই কোনায় গিয়ে একটা লাফ দাও। দেখবা, চাঁদের দেশে পৌঁছে যাবে।"
সিয়াম সরল বিশ্বাসে বলল, "ওহ, তাইতো!" এই বলে সিয়াম পাহাড়ের কোনায় গিয়ে জোরে একটি লাফ দিল।

মুহূর্তেই সিয়ামের চোখের সামনে সবকিছু মিলিয়ে গেল। তার কল্পনার জগৎ শেষ হয়ে গেল। সে তীব্র তৃষ্ণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, আর কল্পনার এই দৃশ্যটি ছিল তার ঘোর লাগা মস্তিষ্কের এক প্রলাপ। তার চোখের পানি চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল—সেই ফোঁটাতেই যেন তার মায়ের কাছে যাওয়ার এই আকুল কল্পনাটি ছিল।
পাশ দিয়ে তাকে একটি খেঁকশিয়াল পা ধরে টানছে, আর অন্য একটি শিয়াল টানছে তার হাত ধরে।
অন্যদিকে, সিয়ামের বাবা এবং বৃদ্ধ লোকটি খুঁজতে খুঁজতে রক্তে ভেজা সিয়ামের জামা খুঁজে পেলেন। সেই দৃশ্য দেখে বৃদ্ধ লোকটির আর বুঝতে বাকি রইল না—সিয়াম আর এই দুনিয়াতে নেই।
বৃদ্ধ লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আফসোস করে বললেন, "আমি যদি সেই দিন সত্যি কথাটা বলতাম যে তোমার মা চাঁদের দেশে নয়, কবরে শুয়ে আছে! আর এটাও মনে ছিল না যে বলব, তোমার মা ভালো মানুষ ছিলেন, তাই আল্লাহ তাকে কাছে ডেকে নিয়েছেন।
এদিকে রবিন সিয়ামকে খুঁজে না পেয়ে বিরাট দুশ্চিন্তায় আছে। আজকের ভেতরে যে করে হোক সিয়াম অথবা অন্য কোন বাচ্চাকে লাগবে। না হলে যে এই নেটওয়ার্কের হোতাকে ধরা হবে না।
আর পুলিশ স্টেশনে রিয়া এখনো তার মেয়ের জন্য কান্না করছে।
লেখক: #সাহাদ_শেখ
​Part 2 অসছে……..
কপি করা নিষেধ।
নোট: সিয়ামের মা রিয়া সম্পর্কে আরো জানতে আমার #ভাগ্যের_লহর গল্পটি পড়ুন। এবং গল্পটির পরবর্তী সিজন খুব শীঘ্রই আসবে। কিন্তু এই গল্পটির কিছু ক্যারেক্টারদের পরবর্তী জার্নি জানতে আমার অন্যান্য গল্পগুলো আসলে সেগুলো পড়বেন।

 #চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_চতুর্থ্_পর্ব জনরা:  #থ্রিলার,  ,    ,      সিয়াম রাতের বেলা তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বলল, "কী রে, চ...
06/03/2026

#চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_চতুর্থ্_পর্ব
জনরা: #থ্রিলার, , ,
সিয়াম রাতের বেলা তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বলল, "কী রে, চাঁদের দেশে যাবি? আমাকে একজন নিয়ে যাবে। চল পাহাড় দিয়ে যাব।"
ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে,না দিনেরবেলা হলে যেতাম।

​সিয়াম বলে, দিনের বেলা কী চাঁদ থাকে।
ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে, "তাও তো ঠিক! অপেক্ষা কর। আমি তো যেতে পারব না, কিন্তু তোকে দুই-তিনটি মশাল বানিয়ে দিচ্ছি। আমি আমার দাদার কাছ থেকে মশাল বানানো শিখেছি। তোর কাজে লাগবে।"
​তার বন্ধু তাকে দুইটি মশাল বানিয়ে দেয়। সে মশাল দুইটি নিয়ে পাহাড়ের কাছে গিয়ে রবিনের জন্য অপেক্ষা করছে।
এদিকে সিয়ামের বাবা সিয়ামকে খুঁজছে আর সিয়ামের মা রিয়ার মুখে শুধু একটাই শব্দ—"রোজি!"

সিয়াম পাহাড়ে ওঠার জন্য অধীর আগ্রহে বসে রয়েছে। রবিন সেখানে আসে। রবিন তাকে ফিসফিস করে বলে, "চলো, আমরা চাঁদের দেশে যাই।"

​সিয়াম এবং রবিন দু'জনে পাহাড়ে উঠছে। পাহাড়ি জঙ্গল ঘন, গাছপালার ভিড়ে জোৎস্নার আলো প্রবেশ করতে পারছে না; ফলে কিছু কিছু জায়গায় কেমন যেন গা ছমছমে অন্ধকার। রবিনের হাতে টর্চ লাইট, সেই সীমিত আলোয় কেবল পথ খুঁজে চলেছে তারা।

​সিয়ামের মনে কিছুটা ভয় ভয় করছে, কিন্তু মায়ের কাছে পৌঁছানোর তীব্র আনন্দের কাছে এই ভয় যেন তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। তার কাঁধে একটি ছোট পুটলি, যার ভেতরে দু'টি মশাল আর কিছু শুকনো খাবার। তারা যতই উপরে উঠছে, চারিদিকে ততই বিভিন্ন পশুপাখির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে—খেঁকশিয়াল ডাকছে, 'হুক্কা হুয়া'। ভয়ে সিয়াম রবিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরে। তার মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হলেও, কেউ তা বুঝতে পারবে না; কারণ তার মুখে লেগে আছে এক স্বর্গীয় হাসি—তার মায়ের সাথে দেখা করতে যাওয়ার হাসি। আর রবিন এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, কীভাবে সে দ্রুত কোনো নির্জন পথ খুঁজে সিয়ামকে অপহরণ করতে পারে।

জঙ্গলের ভেতর বানরেরা দলবদ্ধভাবে খেলাধুলা শেষে ক্লান্ত হয়ে বসে আছে। তারা এখন কোনো খেলার উপকরণ পাচ্ছে না, কী নিয়ে খেলবে!
এদিকে পুলিশ গাড়ি চালিয়ে পাহাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। গাড়ি থেকে নেমে পুলিশদল জঙ্গলের ভেতর তল্লাশি শুরু করল। তারা মূলত এই জঙ্গল থেকে পশুপাখি শিকার করা সেই শিকারিদের সর্দারকে খুঁজছে। পুলিশদের সবার হাতে টর্চ লাইট।
রবিন পাহাড়ে না উঠে হঠাৎ ডানদিকের একটি নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করে। সিয়াম ভীতু কণ্ঠে বলে, "এদিকে যাচ্ছেন কেন? আমরা তো পাহাড়ে উঠব!"
রবিন প্রত্যুত্তরে বলে, "এটি শর্টকাট হবে।"
সিয়ামের মনে কিছুটা সন্দেহ হলো, সে থমকে দাঁড়াল। তার শ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
রবিন পেছন ফিরে বলে, "দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?"
সিয়াম দ্রুত পাহাড়ের মূল পথ ধরে উপরের দিকে দৌড় দিল। পিছু নিল রবিন। হঠাৎ করে তাদের সামনে এক বিশাল বাঘ উপস্থিত হলো। বাঘটি রবিন এবং সিয়ামকে ধাওয়া করল। রবিন অন্ধকারে টর্চ লাইট বন্ধ করে দৌড়ে পালিয়ে গেল। কিন্তু সিয়াম হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। বাঘটি ধীরে ধীরে সিয়ামের দিকে এগিয়ে আসছে।

​সিয়ামের বাবা এদিক-সেদিক সিয়ামকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বৃদ্ধ লোকটিও সিয়ামকে খুঁজছেন। সিয়ামের বাবা একটি শিশুকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি সিয়ামকে কোথাও দেখেছো?" শিশুটি ছিল সিয়ামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই মুহূর্তে বৃদ্ধ লোকটিও সেখানে উপস্থিত হলেন।
বাচ্চাটি বলল, "আঙ্কেল, সিয়াম আমাকে বলেছিল, সে নাকি পাহাড়ে উঠে চাঁদের দেশে যাবে। আমাকেও যেতে বলেছিল, কিন্তু মা রাগ করবে বলে আমি যাইনি। সে ওই পাহাড়ে উঠে চাঁদের দেশে যাচ্ছে। আমি তাকে দুটো মশালও বানিয়ে দিয়েছি।"
এদিকে পুলিশ দ্রুত শিকারিদের খোঁজার চেষ্টা করছে। কারণ পুলিশ গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছে, তারা আজকেই যতটা সম্ভব পশু-পাখি শিকার করে অন্য জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। তাই পুলিশদের হাতে আর বেশি সময় নেই। যে করে হোক শিকারিদের সর্দারকে আজ রাতের মধ্যে ধরতে হবে।

বাঘটি ধীরে ধীরে সিয়ামের দিকে এগিয়ে আসছে।
চলবে…...
কপি করা নিষেধ।
নোট: সিয়ামের মা রিয়া, শফিক,রুপালী এবং বামুন রাজ্য সম্পর্কে জানকতে আমার লেখা #ভাগ্যের_লহর গল্পটি পড়ুন।

 #চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_৩য়_পর্ব জনরা:  #থ্রিলার,  ,   ​সিয়াম ঘুমিয়ে রয়েছে বৃদ্ধ লোকটির বাড়িতে। হঠাৎ তার কানে কিছু ক্ষ...
05/03/2026

#চাঁদের_দেশের_সন্ধানে_৩য়_পর্ব
জনরা: #থ্রিলার, ,

​সিয়াম ঘুমিয়ে রয়েছে বৃদ্ধ লোকটির বাড়িতে। হঠাৎ তার কানে কিছু ক্ষীণ আওয়াজ ভেসে এলো, যা বৃদ্ধ লোকটির শোবার জায়গার পাশে থেকে আসছে। সিয়ামের ঘুম ভেঙে গেল। সে ভয়ে ভয়ে সেই আওয়াজটির দিকে গেল। সে বুঝতে পারল আওয়াজ সেখান থেকে নয় ঘরের বাইরে থেকে আসছে সে ধীরে ধীরে ঘরের বাইরে গেল। বৃদ্ধ লোকটিও ঘুম থেকে জেগে গেলেন। বৃদ্ধ লোকটি ঘরের বাইরে গিয়ে সিয়ামের কথা লুকিয়ে শুনতে লাগলেন।
সিয়াম ফিসফিস করে বলছে, "মা, তুমি প্রতিদিন আওয়াজ করতে, আর আমি কী ভয়টাই না পেতাম! আচ্ছা, তুমি কি চাঁদের দেশে থাকো? ওহ, তুমি চাঁদের দেশেই থাকো, তাই না? ওইখানে খাও কী? তুমি কি ভূত? ভূত না? তাহলে সবাই কেন বলে ভূত?"
​এসব শুনে বৃদ্ধ লোকটি কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে?"
​সিয়াম বলে, "কিছু না"
বৃদ্ধ লোকটি বলেন, "কিছু না।
সিয়াম কথা ঘুরিয়ে বলে, দাদু, ওই যে দূরে চাঁদ দেখা যাচ্ছে না? তো এই গাছটি কেটে দিলে মনে হয় চাঁদ দেখা যাবে।"
​বৃদ্ধ লোকটি বলে, "কালকে কাটব। আজ ঘুমিয়ে পড়ো।"
​বৃদ্ধ লোকটি এবং সিয়াম আবার শুয়ে পড়ে। এমন সময় দূর থেকে একটি গুলির তীব্র আওয়াজ শুনতে পেল তারা।

​ পুলিশ কয়েকজন শিকারিকে ধাওয়া করেছে, তারা গ্রাম সংলগ্ন পাহাড় থেকে বন্য পশু-পাখি শিকার করে। ধাওয়া করতে করতে একজনকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাকে ধরে নিয়ে স্টেশনে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে, "তোমাদের দলনেতার নাম কী?" সে মুখ খুলতে রাজি হয় না।
পরের দিন গ্রামে পুলিশের টহল আরও বাড়ানো হলো। শিশু মেয়েটির হারিয়ে যাওয়ার কারণে পুলিশ রবিনের খোঁজ করছে। কেউ তাকে দেখলেই যেন ধরতে পারে, সেই চেষ্টা চলছে। একই সাথে তারা সতর্ক থাকল যেন আর কোনো শিশু হারিয়ে না যায়।

বিকালবেলা নিস্তব্ধ মনে গ্রামের বড় পাহাড়ের পাশে বসে রয়েছে সিয়াম। সে মনে মনে ভাবছে, 'এই পাহাড়টি বেয়ে কি আমি চাঁদে উঠতে পারব?'
এমন সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, "কী হয়েছে তোমার?"
সিয়াম সরলভাবে বলে, "আমার মা ওই দূরে চাঁদের দেশে থাকেন। আমি কি এই পাহাড় দিয়ে চাঁদের দেশে উঠতে পারব?"
লোকটি হেসে বলে, "হ্যাঁ, পারবা। তবে তুমি রাতের বেলায় এসো। আমি তোমাকে নিয়ে যাব, কিন্তু কাউকে কিছু বলবে না। ঠিক আছে?"
এই লোকটিই ছিল রবিন। গ্রামে পুলিশের টহল অনেক বেড়ে যাওয়ায় সে সরাসরি গ্রাম থেকে কোনো শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারবে না। তাই সে মনে মনে এক ফন্দি আঁটল। সে যখন সিয়ামকে নিয়ে পাহাড়ে উঠবে, তখন পাহাড়ের পথ ব্যবহার করে সিয়ামকে অপহরণ করে পালিয়ে যাবে।
কপি করা নিষেধ।
নোট:সিয়ামের মা রিয়া, শফিক,রুপালী এবং বামুন রাজ্য সম্পর্কে জানকতে আমার লেখা #ভাগ্যের_লহর গল্পটি পড়ুন।

04/03/2026

আপনার কোন জনরার গল্প বেশি পছন্দ?
​১. থ্রিলার 😮
২. রোমান্টিক ❤️
৩. হরর👍
৪. কমেডি🤣

Address

Laxmipasha, Lohagara
Narail
7510

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Folk Shelf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category