01/09/2026
বাংলাদেশে আপনার সম্পদ যদি ১০–১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে একটু সাবধান হওয়া দরকার।
১। আপনার সম্পদের পরিমাণ কাউকে বলবেন না। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত, অপ্রয়োজনে কাউকেই বলার দরকার নেই। “আমার এত কোটি টাকা আছে” এই তথ্যের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভুল মানুষের কাছে এর মূল্য অনেক বেশি।
২। জীবনযাপন যতটা সম্ভব সাধারণ রাখুন। আপনার পোশাক, গাড়ি, বাসা বা চলাফেরা দেখে যেন সহজে বোঝা না যায় আপনি কতটা সম্পদশালী। সম্পদ দেখানোর জন্য নয়, স্বাধীনতার জন্য।
৩। খুব অল্প মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখুন। ব্যবসার প্রয়োজনে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় থাকবে, কিন্তু সবাই আপনার বন্ধু নয়। আপনার সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যাংক, ব্যবসার মালিকানা, এসব তথ্য যত কম মানুষের কাছে থাকবে, ঝুঁকিও তত কম থাকবে।
৪। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন। এদেশে ৫০০ টাকার জন্য মানুষ ছুরি মারে, ১ লাখ টাকার জন্য মানুষ খুন করে। সেখানে ১০–১৫ কোটি টাকার সম্পদের মালিক একজন মানুষ কতটা সতর্ক থাকা উচিত, সেটা সহজেই বোঝা যায়। বাসা, সন্তানদের চলাফেরা, নগদ অর্থ, ব্যাংকিং তথ্য, এসব বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ এড়িয়ে চলুন।
৫। সম্পদ তৈরি করার পাশাপাশি সম্পদ রক্ষার কাঠামো তৈরি করুন। কোম্পানির মালিকানা, শেয়ার, উইল, নমিনি, উত্তরাধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে সাজিয়ে রাখুন। সম্পদ তৈরি করতে আপনার ২০ বছর লাগতে পারে। কিন্তু ভুল একজন মানুষের কাছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য চলে যেতে কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশে একজন মানুষ যত ধনী হবেন, তার জীবন তত প্রদর্শনমূলক নয়, বরং তত বেশি ব্যক্তিগত, সাদামাটা এবং সতর্ক হওয়া উচিত।
সম্পদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার দৃশ্যমানতা নয়, আপনার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বাড়ানো উচিত।
© Yaa Baba