02/04/2024
আমি নিজেও এক রাতে কুরআন খতম করেছি আলহামদুলিল্লাহ।
এক রাতে কুরআন খতম করা (১৫টি দলিল)
সাহাবী ও তাবেয়ীদের অসংখ্য দলিল দারা প্রমাণিত এক রাতে কুরআন খতম করা। অল্প সময়ে অধিক আমল করার দলিল সমূহও সহিহ বুখারী সহ বহু মুহাদ্দিসদের থেকে প্রমাণিত যা পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
🟥 সাহাবিদের আমল 🟥
🔲 সাহাবী হযরত উসমান বিন আফফান রাদিঃ এর আমল।
হযরত উসমান রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত।
ﻭَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻛُﻠَّﻪ .ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﻋَﻔَّﺎﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺭُﻭِﻱ
তিনি এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং সারারাত ইবাদত করতেন।।
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. তার ফাজাইলুল কুরআনে একে সহীহ বলেছেন। হযরত উসমান রা. এর এক রাতে কুরআন খতমের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন,
১. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খ.২, পৃ.৫০২
২.মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক।
৩. ইমাম বাইহাকী, শুয়াবুল ইমান ও সুনানুল কুবরা।
৪.ইমাম দারে কুতনী, সুনানে দারে কুতনী।
৫.ইমাম ত্ববরানী, মু'জামুল কাবীর।
৬. ইমাম বাগাবী শরহুস সুন্নাহ।
উসমান রা. এর তেলাওয়াতের বিষয়টি সহীহ বলেছেন, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারীতে। (খ.২, পৃ.৪৮২)
তিরমিজী শরীফের ২৯৪৬ নং হাদীসের মন্তব্যে ইমাম তিরমিজী রহ. লিখেছেন,
ﻭ ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻌْﺾُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻟَﺎ ﻳُﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻓِﻲ ﺃَﻗَﻞَّ ﻣِﻦْ ﺛَﻠَﺎﺙٍ ﻟِﻠْﺤَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺭَﺧَّﺺَ ﻓِﻴﻪِ ﺑَﻌْﺾُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ﻭَﺭُﻭِﻱ ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﻋَﻔَّﺎﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺭُﻭِﻱ ﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪِ ﺑْﻦِ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺮَﺃَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜَﻌْﺒَﺔِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺮْﺗِﻴﻞُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘِﺮَﺍﺀَﺓِ ﺃَﺣَﺐُّ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ
অর্থ: কোন কোন আলেম বলেন, তিন দিনের কমে কুরআন খতম করা হবে না। এ বিষয়ে রাসূল স. এর হাদীস রয়েছে। আবার কিছু আলেম এর অনুমতি দিয়েছেন। হযরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বিতরের এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করতেন। হযরত সাইদ ইবনে জুবাইর সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি কা'বা ঘরে এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করেছেন। আলেমদের নিকট তারতীলের সাথে কুরআন তেলাওয়াত অধিক পছন্দনীয়।
এছাড়াও আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রহমান মুবারকপুরী হযরত উসমান রা. এর আমলটি উল্লেখ করেছেন। সেই সাথে আরও অনেক ইমামের কুরআন খতমের বিষয় উল্লেখ করেছেন। তুহফাতুল আহওয়াজী, খ.৮, পৃ.২১৯।
🔲 হযরত তামীম দারী রা. এর আমল :
ইমাম ইবনে আব্দুল বার তার আল-ইস্তেজকার কিতাবে লিখেছেন,
ﻭﻗﺪ ﻛﺎﻥ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﺗﻤﻴﻢ ﺍﻟﺪﺍﺭﻱ ﻭﻋﻠﻘﻤﺔ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻳﻘﺮﺅﻭﻥ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻠﻪ ﻓﻲ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﻛﺎﻥ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﻭﺟﻤﺎﻋﺔ ﻳﺨﺘﻤﻮﻥ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺮﺗﻴﻦ ﻭﺃﻛﺜﺮ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ
অর্থ: হযরত উসমান রা, তামীম দারী রা, হযরত আলকমাসহ অন্যান্যরা এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করতেন। হযরত সাইদ ইবনে জুবাইর ও একদল তাবেয়ী একই রাতে দু'বার বা এর চেয়ে কুরআন খতম করেছেন।
আল-ইস্তেজকার, খ.২, পৃ.৪৭৫
ইমাম ত্বহাবী রহ. হযরত উসমান রা, হযরত তামীম দারী রা, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. সাইদ ইবনে জুবাইর সম্পর্কে শরহু মায়ানিল আসারে উল্লেখ করেছেন যে, তারা সকলেই এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতেন।
-শরহু মাযানিল আসার, খ.১, পৃ.৩৪৮ ।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আবি শাইবা রহ. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাতে তামীম দারী রা. এর একই রাকাতে কুরআন খতমের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খ.১, পৃ.৩২৩।
আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াজীতে লিখেছে,
" ( ﻭَﺭَﺧَّﺺَ ﻓِﻴﻪِ ﺑَﻌْﺾُ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ ) ﺃَﻱْ ﺭَﺧَّﺺَ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺃَﻥْ ﻳَﻘْﺮَﺃَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺃَﻗَﻞَّ ﻣِﻦْ ﺛَﻠَﺎﺙٍ . ﻗَﺎﻝَ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻧَﺼْﺮٍ ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ : ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺳَﻌِﻴﺪُ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﺴَﻴِّﺐِ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺘَﻴْﻦِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺛَﺎﺑِﺖٌ ﺍﻟْﺒُﻨَﺎﻧِﻲُّ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻭَﻳَﺼُﻮﻡُ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮَ . ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮ ﺣَﺮَّﺓَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻞَّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋَﻄَﺎﺀُ ﺑْﻦُ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﺐِ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺘَﻴْﻦِ . ( ﻭَﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﻋَﻔَّﺎﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﻬَﺎ ) ﺭَﻭَﺍﻩُ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻧَﺼْﺮٍ ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ , ﻭَﺭَﻭَﻯ ﺍﻟﻄَّﺤَﺎﻭِﻱُّ ﺑِﺈِﺳْﻨَﺎﺩِﻩِ ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﺳِﻴﺮِﻳﻦَ ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﺗَﻤِﻴﻢٌ ﺍﻟﺪَّﺍﺭِﻱُّ ﻳُﺤْﻴِﻲ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻛُﻠَّﻪُ ﺑِﺎﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻛُﻠِّﻪِ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ , ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺮَﺃَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ , ﻭَﻋَﻦْ ﺳَﻌِﻴﺪِ ﺑْﻦِ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺮَﺃَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ , ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻧَﺼْﺮٍ ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ : ﻭَﺧَﺮَﺝَ ﺻَﺎﻟِﺢُ ﺑْﻦُ ﻛَﻴْﺴَﺎﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺤَﺞِّ ﻓَﺮُﺑَّﻤَﺎ ﺧَﺘَﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻣَﺮَّﺗَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﺑَﻴْﻦَ ﺷُﻌْﺒَﺘَﻲْ ﺭَﺣْﻠِﻪِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻣَﻨْﺼُﻮﺭُ ﺑْﻦُ ﺯَﺍﺫَﺍﻥَ ﺧَﻔِﻴﻒَ ﺍﻟْﻘِﺮَﺍﺀَﺓِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻠَّﻪُ ﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟﻀُّﺤَﻰ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ ﻭَﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﻭَﻳَﺨْﺘِﻢُ ﻓِﻲ ﻳَﻮْﻡٍ ﻣَﺮَّﺗَﻴْﻦِ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻛُﻠَّﻪُ , ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَ ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺧَﺘَﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀِ ﺧَﺘْﻤَﺘَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄَّﻮَﺍﺳِﻴﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﺗُﻘَﺎﻡَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓُ . ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺇِﺫْ ﺫَﺍﻙَ ﻳُﺆَﺧِّﺮُﻭﻥَ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَ ﻟِﺸَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻥْ ﻳَﺬْﻫَﺐَ ﺭُﺑْﻊُ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺍِﻧْﺘَﻬَﻰ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﻗِﻴَﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺑِﻘَﺪْﺭِ ﺍﻟْﺤَﺎﺟَﺔِ , ﻭَﻟَﻮْ ﺗَﺘَﺒَّﻌْﺖ ﺗَﺮَﺍﺟِﻢَ ﺃَﺋِﻤَّﺔِ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻟَﻮَﺟَﺪْﺕ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻘْﺮَﺀُﻭﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺃَﻗَﻞَّ ﻣِﻦْ ﺛَﻠَﺎﺙٍ , ﻓَﺎﻟﻈَّﺎﻫِﺮُ ﺃَﻥَّ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ ﺍﻟْﺄَﻋْﻠَﺎﻡَ ﻟَﻢْ ﻳَﺤْﻤِﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻨَّﻬْﻲَ ﻋَﻦْ ﻗِﺮَﺍﺀَﺓِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ ﻓِﻲ ﺃَﻗَﻞَّ ﻣِﻦْ ﺛَﻠَﺎﺙٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺘَّﺤْﺮِﻳﻢِ , ﻭَﺍﻟْﻤُﺨْﺘَﺎﺭُ ﻋِﻨْﺪِﻱ ﻣَﺎ ﺫَﻫَﺐَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ ﻭَﺇِﺳْﺤَﺎﻕُ ﺑْﻦُ ﺭَﺍﻫْﻮَﻳْﻪِ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻫُﻤَﺎ ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ".
অর্থ: কিছু আলেম তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতমের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে নসর তার কিয়ামুল লাইল কিতাবে লিখেছেন, তাবেয়ী হযরত সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব দু'দিনে কুরআন খতম করতেন। হযরত সাবেত বুনানী রহ. একদিন ও এক রাতে কুরআন খতম করতেন এবং লাগাতার রোজা রাখতেন। হযরত আবু হাররা প্রত্যেক রাত ও দিনে কুরআন খতম করতেন। হযরত আতা ইবনে সায়েব দু'রাতে কুরআন খতম করতেন। (হযরত উসমান রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বিতরের এক রাকাতে কুরআন খতম করতেন।) মুহাম্মাদ ইবনে নসর তার কিয়ামুল লাইল কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম ত্বহাবী রহ. নিজ সনদে ইবনে সিরীন রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, সাহাবী হযরত দামীম দারী রা. এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতেন এবং সারা রাত নামাযে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি এক রাকাতে কুরআন খতম করেছেন। হযরত সাইদ ইবনে জুবাইর রহ. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি কাবা ঘরে এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে নসর তার কিয়ামুল লাইল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইমাম সালেহ ইবনে কাইসান হজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কখনও বাহনে আরোহী অবস্থায় একই রাতে দু'বার কুরআন খতম করতেন। হযরত মানসুর ইবনে যাজান রহ. ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন। কখনও তিনি চাশতের নামাযে কুরআন খতম করতেন। তিনি যোহর ও আসরের মাঝে কখনও কুরআন খতম করতেন। তিনি এক দিনে দু'বার কুরআন খতম করতেন। সারা রাত জেগে তিনি নামায আদায় করতেন। যখন রমজান মাস আসতো, মাগরিব ও ইশার নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে দু'বার কুরআন খতম করতেন। এরপর ইশার নামাযের পূর্বে তাসিন পর্যন্ত তেলাওয়াত করতেন। রমজানে তিনি ইশার নামায একটু বিলম্বে রাতের এক চতুর্থাংশের পরে আদায় করতেন। তুমি যদি মুহাদ্দিসগণের জীবনী দেখো, তাহলে তাদের অনেকের জীবনীতে পাবে, তারা তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করতেন। সুতরাং স্পষ্ট কথা হল, যে হাদীসে তিন দিনের কমে কুরআন খতম করতে নিষেধ করা হয়েছে, এসব মুহাদ্দিস সেটা দ্বারা হারাম নিষেধাজ্ঞা উদ্দেশ্য নেননি। আমার নিকট প্রাধান্য মত হল, ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ ও অন্যদের মত। আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।
-তুহফাতুল আহওয়াজী খ.৮, পৃ.২১৯।
আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তাবেয়ীদের থেকে বর্ণান করলেন,মাগরিব থেকে ইশার মধ্যবর্তী সময়ে দু'খতম কুরআন তেলাওয়াত? এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত কীভাবে সম্ভব? সেটা কীভাবে সম্ভব?
🟥 সালাফে-সালেহীনের কুরআন তেলাওয়াত 🟥
🔲১. ইমাম আবু বকর ইবনে আয়্যাশ রহ. ত্রিশ বছর যাবৎ প্রতি দিন একবার কুরআন খতম করতেন। এ সম্পর্কে ইমাম নববী রহ. বলেন,
ﻭﺭﻭﻳﻨﺎ ﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ ﻋﻴﺎﺵ ﺃﻧﻪ ( ﺃﻱ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ) ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﻟﻲ ﺃﺑﻲ : ﺇﻥَّ ﺃﺑﺎﻙ ﻟﻢ ﻳﺄﺕ ﻓﺎﺣﺸﺔ ﻗﻂ ، ﻭ ﺇﻧَّﻪ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﻨﺬ ﺛﻼﺛﻴﻦ ﺳﻨﺔ ﻛﻞَّ ﻳﻮﻡ ﻣﺮَّﺓ .
ﻭ ﺭﻭﻳﻨﺎ ﻋﻨﻪ ﺃﻧَّﻪ ﻗﺎﻝ ﻻﺑﻨﻪ : ﻳﺎ ﺑﻨﻲ ! ﺇﻳَّﺎﻙ ﺃﻥ ﺗﻌﺼﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻐﺮﻓﺔ ﻓﺈﻧِّﻲ ﺧﺘﻤﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﺛﻨﻲ ﻋﺸﺮ ﺃﻟﻒ ﺧﺘﻤﺔ .
ﻭ ﺭﻭﻳﻨﺎ ﻋﻨﻪ ﺃﻧَّﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﺒﻨﺘﻪ ﻋﻨﺪ ﻣﻮﺗﻪ ﻭ ﻗﺪ ﺑﻜﺖ : ﻳﺎ ﺑﻨﻴﺔ ﻻ ﺗﺒﻜﻲ ، ﺃﺗﺨﺎﻓﻴﻦ ﺃﻥ ﻳﻌﺬﺑﻨﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﻗﺪ ﺧﺘﻤﺖ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺰَّﺍﻭﻳﺔ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﻭ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺃﻟﻒ ﺧﺘﻤﺔ ؟
অর্থ: হযরত ইব্রাহীম ইবনে আবু বকর আয়্যাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বললেন, নিশ্চয় তোমার পিতা কখনও ফাহিশা (গর্হিত, যিনা-ব্যভিচার) কাজ করেনি। আর সে ত্রিশ বছর যাবৎ প্রতি দিন এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করেছে।
ইমাম আবু বকর আয়্যাশ থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি তার ছেলেকে বলেন, বৎস!, এই ঘরে আল্লাহর নাফরমানী থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকবে। আমি এই ঘরে বার হাজার বার কুরআন খতম করেছি।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, মৃত্যুর সময়ে তার মেয়ে কাঁদছিলো। তিনি মেয়েকে বললেন, কেদো না। তুমি কি ভয় করছো, আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিবেন; অথচ আমি ঘরের এই কোণে চব্বিশ হাজার খতম দিয়েছি?
-শরহে মুসলিম, ইমাম নববী রহ, খ.১, পৃ.৭৯
🔲২. ইমাম ইবনে কাসীর রহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে লিখেছেন,
ﺫﻛﺮ ﺍﺑﻦ ﻋﺴﺎﻛﺮ ﻓﻲ ﺗﺮﺟﻤﺔ ﺳﻠﻴﻢ ﺑﻦ ﻋﻨﺰ ﺍﻟﺘﺠﻴﺒﻲ ﻗﺎﺿﻲ ﻣﺼﺮ، ﻭ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﻛﺒﺎﺭ ﺍﻟﺘﺎﺑﻌﻴﻦ ... ﻭ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﺰﻫﺎﺩﺓ ﻭ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻋﻠﻰ ﺟﺎﻧﺐ ﻋﻈﻴﻢ ، ﻭ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﺛﻼﺙ ﺧﺘﻤﺎﺕ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭ ﻏﻴﺮﻫﺎ . ﺍﻫـ .
অর্থ: ইমাম ইবনে আসাকির মিশরের বিচারপতি হযরত সুলাইম বিন হানাজ আত-তুজাইবির জীবনীতে লিখেছেন, তিনি একজন বড় তাবেয়ী ছিলেন। দুনিয়া বিরাগী ও অধিক ইবাদত বন্দেগীকারীদের প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি প্রতি নামায ও নামাযের বাইরে তিন খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
-আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.৯, পৃ.১৩৬
🔲৩. ইমাম ইবনে কাসীর রহ. ইমাম বোখারী রহ. এর জীবনী লিখেছেন আল-বিদায়াতে। ইমাম বোখারীর আমল সম্পর্কে লিখেছেন,
ﻗﺪ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﻠﻲ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﺛﻼﺙ ﻋﺸﺮﺓ ﺭﻛﻌﺔ ، ﻭ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺧﺘﻤﺔ
অর্থ: তিনি প্রত্যেক রাতে তেরো রাকাত নামায আদায় করতেন। আর রমজান মাসে প্রত্যেক রাতে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.১১, পৃ.৩১
ইমাম হাকেম বর্ণনা করেনঃ মুসাব্বিহ ইবনু সাঈদ বলেছেনঃ
قال الحاكم. حدثنا محمد بن خالد المطوعى. حدثنا مسبح بن سعيد قال. كان محمد بن اسماعيل يختم في رمضان في النهار كل يوم ختمة. ويقوم بعد التراويح كل ثلاث ليال بختمة.
( سير اعلام النبلاء ٢٣/٤٣٢)
( تاريخ بغداد ٢/١٢)
( طبقات سبقى ٢/٩)
( الخطة ٢٢)
ইমাম বুখারী রমজানে দিনে প্রতিদিন এক খতম করআন তিলাওয়াত করতেন..!
{ সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/৪৩২}{তারিখে বাগদাদ ২/১২}{ তবকাতে সুবকী ২/৯}{আল হিত্তাহ ২২}
🔲৪. ইবনে কাসীর রহ. লিখেছেন,
ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺍﻟﻜﺮﺧﻲ ﺍﻷﺩﻳﺐ ، ﻛﺎﻥ ﻋﺎﻟﻤﺎً ﺯﺍﻫﺪﺍً ﻭﺭﻋﺎً ، ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ، ﻭ ﻳﺪﻳﻢ ﺍﻟﺼﻴﺎﻡ
অর্থ: সাহিত্যিক মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আহমাদ বিন আব্বাস আল-কারখী, তিনি বড় আলেম, যাহিদ (দুনিয়াত্যাগী) ও খোদাভীরু ছিলেন। প্রত্যেক দিন কুরআন খতম করতেন। আর লাগাতার রোজা রাখতেন।
-আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.১১, পৃ.২৫৯
🔲৫. ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ'লামিন নুবালাতে হযরত ইব্রাহীম নাখয়ী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
ﻋَﻦْ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴْﻢَ ، ﻗَﺎﻝَ :
ﻛَﺎﻥَ ﺍﻷَﺳْﻮَﺩُ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﻟَﻴْﻠَﺘَﻴْﻦِ ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَ ﺍﻟﻌِﺸَﺎﺀِ ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﻏَﻴْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺳِﺖِّ ﻟَﻴَﺎﻝٍ .
অর্থ: হযরত আসওয়াত ইবনে ইয়াজীদ রহ. রমজানের প্রতি দু'রাতে কুরআন খতম করতেন। তিনি মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নিদ্রা যেতেন। রমজান ব্যতীত অন্য সময়ে ছয় রাতে তিনি কুরআন খতম করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৪, পৃ.৫১
🔲৬.ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ'লামিন নুবালাতে উল্লেখ করেছেন,
ﻋَﻦْ ﻭِﻗَﺎﺀِ ﺑﻦِ ﺇِﻳَﺎﺱٍ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﺳَﻌِﻴْﺪُ ﺑﻦُ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻴْﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَ ﺍﻟﻌَﺸَﺎﺀِ ﻓِﻲ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ، ﻭَ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳُﺆَﺧِّﺮُﻭْﻥَ ﺍﻟﻌِﺸَﺎﺀَ
অর্থ: হযরত বিকা ইবনে ইয়াস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাবেয়ী হযরত সাইদ ইবনে জুবাইর রহ. রমজান মাসে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে কুরআন খতম করতেন। রমজানে তাঁরা ইশার নামায বিলম্বে আদায় করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৪, পৃ.৩২৪
🔲৬. ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,
ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻼَﻡُ ﺑﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻄِﻴْﻊٍ : ﻛَﺎﻥَ ﻗَﺘَﺎﺩَﺓُ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺳَﺒْﻊٍ ، ﻭَ ﺇِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ، ﺧَﺘﻢَ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﺛَﻼَﺙٍ ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَ ﺍﻟﻌَﺸﺮُ ، ﺧَﺘَﻢَ ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ .
অর্থ: সালাম ইবনে আবী মুতী বলেন, ইমাম কাতাদা রহ. সাত দিনে কুরআন খতম করতেন। রমজান মাস এলে তিন দিনে কুরআন খতম করতেন। রমজানের শেষ দশকে প্রতি রাতে কুরআন খতম করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৫, পৃ.২৭৬
🔲৭. ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,
ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺰِﻳْﺪُ ﺑﻦُ ﻫَﺎﺭُﻭْﻥَ : ﻛَﺎﻥَ ﻣَﻨْﺼُﻮْﺭُ ﺑﻦُ ﺯَﺍﺫَﺍﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻠَّﻪ ﻓِﻲ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻀُّﺤَﻰ ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻷُﻭْﻟَﻰ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻌَﺼْﺮِ ، ﻭَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻴَﻮْﻡِ ﻣَﺮَّﺗَﻴْﻦِ ، ﻭَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞَ ﻛُﻠَّﻪ . ﻭَ ﻋَﻦْ
ﻫِﺸَﺎﻡِ ﺑﻦِ ﺣَﺴَّﺎﻥٍ ، ﻗَﺎﻝَ :ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﻓِﻴْﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَ ﺍﻟﻌِﺸَﺎﺀِ ﻣَﺮَّﺗَﻴْﻦِ ، ﻭَ ﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺜَﺔُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄَّﻮَﺍﺳِﻴْﻦَ ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺒُﻞُّ ﻋِﻤَﺎﻣَﺘَﻪ ﻣِﻦْ ﺩُﻣُﻮْﻉِ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ .
অর্থ: ইমাম ইয়াজিদ ইবনে হারুন রহ. বলেন, ইমাম মানসুর ইবনে জাযান চাশতের নামাযে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতেন। তিনি যোহরের সময় থেকে আসর পর্যন্ত কুরআন খতম করতেন। দিনে দু'বার কুরআন খতম করতেন। তিনি সারা রাত জেগে নামায আদায় করতেন।
হিশাম ইবনে হাসসান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম মানসুর ইবনে জাযান রহ. মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে দু'খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তৃতীয় খতমে ত্বসীন পর্যন্ত পড়তেন। তার চোখের অশ্রুতে সামনের পাগড়ী ভিজে যেত।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৫, পৃ.৪৪১-৪৪২
🔲৮. ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ'লামিন নুবালাতে লিখেছেন,
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺣْﻤَﺪُ ﺍﻟﺪَّﻭْﺭَﻗِﻲُّ ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺳَﻌِﻴْﺪٌ ﺃَﺑُﻮ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ، ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺍﺑْﻦَ ﻋُﻴَﻴْﻨَﺔَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺷُﺒْﺮُﻣَﺔَ : ﺳَﺄَﻝَ ﻛُﺮْﺯٌ ﺭَﺑَّﻪُ ﺃَﻥْ ﻳُﻌْﻄِﻴَﻪُ ﺍﻻﺳْﻢَ ﺍﻷَﻋْﻈَﻢَ ، ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻻَ ﻳَﺴْﺄَﻝَ ﺑِﻪِ ﺷَﻴْﺌﺎً ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ، ﻓَﺄُﻋْﻄِﻲَ ، ﻓَﺴَﺄَﻝَ ﺃَﻥْ ﻳُﻘَﻮَّﻯ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺘِﻢَ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻴَﻮْﻡِ ﻭَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻠَﺔِ ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺕٍ
অর্থ: হযরত সাইদ ইবনে আবু উসমান বলেন, আমি ইমাম সুফিয়ান ইবন উয়াইনাকে বলতে শুনেছি, ইমাম ইবনে শুবরুমা বলেন, ইমাম কারজ আল্লাহর কাছে ইসমে আ'জম প্রাপ্ত হওয়ার দুয়া করলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন, এর দ্বারা দুনিয়ার কোন কিছু কামনা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা তাকে এটি দান করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ইসমে আ'জমের মাধ্যমে দুয়া করলেন, আল্লাহ যেন তাকে দিনে ও রাতে তিন বার কুরআন খতমের ক্ষমতা দান করেন ।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৬,পৃ.৮৫
🔲৯.ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,
ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑﻦُ ﺟَﻌْﻔَﺮِ ﺑﻦِ ﺧَﺎﻗَﺎﻥَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﻋَﻤْﺮَﻭ ﺑﻦَ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻳَﻘُﻮْﻝُ : ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑﻦُ ﺳَﻌِﻴْﺪٍ ﺍﻟﻘَﻄَّﺎﻥُ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻞَّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ، ﻳَﺪﻋُﻮ ﻷَﻟﻒِ ﺇِﻧْﺴَﺎﻥٍ ، ﺛُﻢَّ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﻌَﺼْﺮِ ، ﻓَﻴُﺤَﺪِّﺙُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ .
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন জা'ফর বিন খাকান বলেন, আমি আমর বিন আলীকে বলতে শুনেছি, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-কাত্তান রহ. প্রত্যেক দিনে ও রাতে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। এক হাজার মানুষের জন্য দুয়া করতেন। এরপর আসরের পরে বের হয়ে মুহাদ্দিসদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৯, পৃ.১৭৮
🔲১০.ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺑِﻴْﻊُ ﺑﻦُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﻃَﺮِﻳْﻘَﻴْﻦِ ﻋَﻨْﻪُ ، ﺑَﻞِ ﺃَﻛْﺜَﺮَ : ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲُّ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓِﻲ ﺷَﻬْﺮِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺳِﺘِّﻴْﻦَ ﺧَﺘْﻤَﺔً . ﻭ ﺭَﻭَﺍﻫَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺗِﻢٍ ﻋَﻨْﻪُ ، ﻓَﺰَﺍﺩَ : ﻛُﻞُّ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺻَﻼَﺓٍ .
অর্থ: ইমাম রবী ইবনে সুলাইমান থেকে দু'টি বা দুয়ের অধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইমাম শাফেয়ী রহ. রমজানে ষাট খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। ইমাম ইবনে আবী হাতেম এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এর সাথে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, ষাট খতমই তিনি নামাযে তেলাওয়াত করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.১০, পৃ.৩৬
রবী ইবনে সুলাইমান রহঃ বলেন,
كان الإمام الشافعي رحمه الله يختم القرآن ستين مرة في رمضان.
--------
حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ الرَّبِيعُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ: "كُنْتُ أَخْتِمُ فِي رَمَضَانَ سِتِّينَ مَرَّةً"
আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন আমি রমাদানে ষাটবার কুরআন খতম করেছি।
সকলেই সিক্বাহ হাফিয, এবং সনদ মুত্তাসিল
সূত্রঃ-
📚(হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/১৩৪, আরশিফু মুলতাক্বা ৫৯/২০৯,তারিখে বাগদাদ 2/392)
সনদ আলোচনাঃ
১. আবু মুহাম্মদ ইবনে হিয়্যান (মৃত্যু 369) নির্ভরযোগ্য।
সূত্রঃ-
তারিখুল ইসলাম 8/305.
২. ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান (মৃত্যু 302) নির্ভরযোগ্য।
সূত্রঃ-
তারিখুল ইসলাম 7/47
৩.
রবী ইবনে সুলাইমান রহঃ (মৃত্যু 270) নির্ভরযোগ্য।
সূত্রঃ-
তাজকিরাতুল হুফ্ফাজ লিসসূয়ুতী 1/256.
সনদের মানঃ সনদ সহীহ।
🔲১১. ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,
ﻛَﺎﻥَ ﺑﻘﻲ ﺑﻦ ﻣﺨﻠﺪ ﻳَﺨْﺘِﻢ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻞَّ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ، ﻓِﻲ ﺛﻼَﺙَ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻣﺎﺋَﺔِ ﺭَﻛْﻌَﺔٍ ، ﻭَ ﻳَﺼُﻮْﻡُ ﺍﻟﺪَّﻫْﺮَ
অর্থ: ইমাম বাকী ইবনে মাখলাদ প্রত্যেক রাতে তেরো রাকাত নামাযে কুরআন খতম দিতেন। দিনে এক শ রাকাত নফল নামায পড়তেন এবং লাগাতার রোজা রাখতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.৩, পৃ.২৯৮
🔲১২. ইমাম যাহাবী রহ. ইমাম হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন,
ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺤَﺎﻛِﻢُ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﻃَﺎﻫِﺮَ ﺑﻦَ ﺃَﺣْﻤَﺪَ ﺍﻟﻮَﺭَّﺍﻕ ﻳَﻘُﻮْﻝُ : ﺗُﻮُﻓِّﻲَ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻟﻌَﺒَّﺎﺱِ ﺑﻦُ ﺷَﺎﺩَﻝ ، ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳﺨﺘﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻛُﻞَّ ﻳَﻮْﻡ
অর্থ: ইমাম হাকেম রহ. বলেন, আমি ত্বাহের ইবনে আহমাদ আল-ওররাককে বলতে শুনেছি, আবুল আব্বাস বিন শাদাল ইন্তেকাল করেন। তিনি প্রত্যেক দিন কুরআন খতম করতেন।
🔲১৩.ইমাম আবুল ওয়ালীদ মুরসী রহ. সম্পর্কে আবু উমর ইবনুল হাজ্জা বলেন,
ﻣَﺎ ﻟَﻘَﻴْﺖُ ﺃَﺗﻢَّ ﻭَﺭَﻋﺎً ﻭَ ﻻَ ﺃَﺣْﺴَﻦَ ﺧُﻠُﻘﺎً ﻭَ ﻻَ ﺃَﻛْﻤَﻞَ ﻋِﻠْﻤﺎً ﻣِﻨْﻪُ ، ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺨْﺘِﻢُ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﺪَﻣِﻴْﻪ ﻓِﻲ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَ ﻟﻴﻠَﺔٍ .
অর্থ: আমি আবুল ওয়ালীদ এর চেয়ে খোদাভীরু, সুন্দর চরিত্র ও পরিপূর্ণ ইলমের অধিকারী কাউকে দেখিনি। তিনি প্রত্যেক দিন ও রাতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে (নামাযে) কুরআন খতম করতেন।
-সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খ.১৭, পৃ.৫৮৬
🟥 অল্প সময়ে অধিক আমল: 🟥
বোখারী শরীফে এ বিষয়ে রাসূল স. এর একটি হাদীস রয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স.বলেন
,حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خُفِّفَ عَلَى دَاوُدَ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ الْقُرْآنُ، فَكَانَ يَأْمُرُ بِدَوَابِّهِ فَتُسْرَجُ، فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ قَبْلَ أَنْ تُسْرَجَ دَوَابُّهُ، وَلاَ يَأْكُلُ إِلاَّ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দাউদ (‘আঃ)-এর জন্য কুরআন (যাবুর) তেলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর পশুযানে গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হতো। অতঃপর তাঁর পশুযানের উপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪১৭
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট, হযরত দাউদ আ. খুব অল্প সময়ে যবুর পড়ে শেষ করতেন। তিনি খুব দ্রুত পড়তেন বিষয়টি এমন নয়। সুললিত কন্ঠে ধীর-স্থিরভাবে তেলাওয়াতের জন্য তিনি বিখ্যাত। ঘোড়ার জিন লাগাতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। এই অতি অল্প সময়ে তিনি সম্পূর্ণ যবুর পড়ে শেষ করতেন।
উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺒَﺮَﻛَﺔ ﻗَﺪْ ﺗَﻘَﻊ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰَّﻣَﻦ ﺍﻟْﻴَﺴِﻴﺮ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘَﻊ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻌَﻤَﻞ ﺍﻟْﻜَﺜِﻴﺮ . ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﻮَﻭِﻱّ : ﺃَﻛْﺜَﺮ ﻣَﺎ ﺑَﻠَﻐَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘْﺮَﺃ ﺃَﺭْﺑَﻊ ﺧَﺘَﻤَﺎﺕ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ،
অর্থ: হাদীস থেকে প্রমাণিত, কখনও খুব অল্প সময়ে ব্যাপক বরকত হয়। ফলে অল্প সময়ে অধিক কাজ করা সম্ভব হয়। ইমাম নববী রহ. বলেন, এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা আমাদের নিকট পৌছেছে যে, অনেকে এক রাতে চার খতম ও এক দিনে চার খতম কুরআন তেলাওয়াত করেছেন।
-ফাতহুল বারী, খ.৬, পৃ.৪২৪
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. উমদাতুল কারীতে লিখেছেন,
ﻭﻓﻴﻪ ﺍﻟﺪﻻﻟﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻄﻮﻱ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﻟﻤﻦ ﻳﺸﺎﺀ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩﻩ ﻛﻤﺎ ﻳﻄﻮﻱ ﺍﻟﻤﻜﺎﻥ ﻭﻫﺬﺍ ﻻ ﺳﺒﻴﻞ ﺇﻟﻰ ﺇﺩﺭﺍﻛﻪ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻔﻴﺾ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻲ ... ﻭﻟﻘﺪ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺟﻼً ﺣﺎﻓﻈﺎً ﻗﺮﺃ ﺛﻼﺙ ﺧﺘﻤﺎﺕ ﻓﻲ ﺍﻟﻮﺗﺮ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺭﻛﻌﺔ ﺧﺘﻤﺔ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ
অর্থ: হাদীসে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা যে কোন বান্দার জন্য সময়কে সংকোচন করতে পারেন। যেমন স্থানকেও সংকোচন করতে পারেন। আল্লাহর পাকের পক্ষ বিশেষ ফয়জ ও অনুগ্রহ ছাড়া এটা অনুধাবন করা সম্ভব নয়....। আমি নিজে এক হাফেজকে দেখেছি, শবে কদরে বিতর নামাযের তিন রাকাতে তিন খতম কুরআন তেলাওযাত করেছে।
-উমদাতুল কারী, খ.২৩, পৃ.৩৬৮
ইমাম নববী রহ. বলেন,
ﻳﻨﺒﻐﻲ ﺃﻥ ﻳﺤﺎﻓﻆ ﻋﻠﻰ ﺗﻼﻭﺗﻪ ، ﻭﻳﻜﺜﺮ ﻣﻨﻬﺎ . ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻟﻬﻢ ﻋﺎﺩﺍﺕ ﻣﺨﺘﻠﻔﺔ ﻓﻲ ﻗﺪﺭ ﻣﺎ ﻳﺨﺘﻤﻮﻥ ﻓﻴﻪ .
ﻓﺮﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ ﻋﻦ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ، ﺃﻧﻬﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺨﺘﻤﻮﻥ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺷﻬﺮﻳﻦ ﺧﺘﻤﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺷﻬﺮ ﺧﺘﻤﺔ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻋﺸﺮ ﻟﻴﺎﻝ ﺧﺘﻤﺔ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺛﻤﺎﻥ ﻟﻴﺎﻝ ، ﻭﻋﻦ ﺍﻷﻛﺜﺮﻳﻦ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺳﺒﻊ ﻟﻴﺎﻝ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺳﺖ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺧﻤﺲ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺃﺭﺑﻊ ، ﻭﻋﻦ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺘﻴﻦ ، ﻭﺧﺘﻢ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺧﺘﻤﺔ ، ﻭﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﺛﻼﺛﺎ ، ﻭﺧﺘﻢ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺛﻤﺎﻥ ﺧﺘﻤﺎﺕ ، ﺃﺭﺑﻌﺎ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﻭﺃﺭﺑﻌﺎً ﺑﺎﻟﻨﻬﺎﺭ .
ﻓﻤﻦ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺨﺘﻤﻮﻥ ﺧﺘﻤﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻟﻴﻮﻡ : ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻋﻔﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭ ﺗﻤﻴﻢ ﺍﻟﺪﺍﺭﻱ ﻭ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﻭ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻭ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻭﺁﺧﺮﻳﻦ .
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺨﺘﻤﻮﻥ ﺛﻼﺙ ﺧﺘﻤﺎﺕ : ﺳﻠﻴﻢ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﺿﻲ ﻣﺼﺮ ﻓﻲ ﺧﻼﻓﺔ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ، ﻭﺭﻭﻯ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺃﺭﺑﻊ ﺧﺘﻤﺎﺕ ، ﻭﺭﻭﻯ ﺃﺑﻮ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻜﻨﺪﻱ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﻓﻲ ﻗﻀﺎﺓ ﻣﺼﺮ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺃﺭﺑﻊ ﺧﺘﻤﺎﺕ .
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺴﻠﻤﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺃﺑﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺍﻟﻤﻐﺮﺑﻲ ﻳﻘﻮﻝ : ﻛﺎﻥ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻳﺨﺘﻢ ﺑﺎﻟﻨﻬﺎﺭ ﺃﺭﺑﻊ ﺧﺘﻤﺎﺕ ﻭﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﺃﺭﺑﻊ ﺧﺘﻤﺎﺕ ، ﻭﻫﺬﺍ ﺃﻛﺜﺮ ﻣﺎ ﺑﻠﻐﻨﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻭﺍﻟﻠﻴﻠﺔ .
ﻭﺭﻭﻯ ﺍﻟﺴﻴﺪ ﺍﻟﺠﻠﻴﻞ ﺃﺣﻤﺪ ﺍﻟﺪﻭﺭﻗﻲ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩﻩ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﺑﻦ ﺯﺍﺩﺍﻥ ﻣﻦ ﻋﺒﺎﺩ ﺍﻟﺘﺎﺑﻌﻴﻦ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻈﻬﺮ ﻭﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﻳﺨﺘﻤﻪ ﺃﻳﻀﺎ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺧﺘﻤﺘﻴﻦ ، ﻭﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺆﺧﺮﻭﻥ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﺃﻥ ﻳﻤﻀﻲ ﺭﺑﻊ ﺍﻟﻠﻴﻞ .
ﻭﺭﻭﻯ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩﻩ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ : ﺃﻥ ﻣﺠﺎﻫﺪﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ .
ﻭﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ ﻗﺎﻝ : ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻲ ﺍﻷﺯﺩﻱ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻴﻤﺎ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ .
ﻭﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﻗﺎﻝ : ﻛﺎﻥ ﺃﺑﻲ ﻳﺤﺘﺒﻲ ﻓﻤﺎ ﻳﺤﻞ ﺣﺒﻮﺗﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺨﺘﻢ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ .
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺨﺘﻢ ﻓﻲ ﺭﻛﻌﺔ ، ﻓﻼ ﻳﺤﺼﻮﻥ ﻟﻜﺜﺮﺗﻬﻢ ، ﻓﻤﻦ ﺍﻟﻤﺘﻘﺪﻣﻴﻦ : ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻋﻔﺎﻥ ﻭ ﺗﻤﻴﻢ ﺍﻟﺪﺍﺭﻱ ﻭ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﺧﺘﻤﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﻌﺒﺔ .
অর্থ: কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনযোগী হওয়া উচিৎ। অধিক কুরআন তেলাওয়াত মু'মিনের বিশেষ কর্তব্য। কতো দিনে কুরআন খতম করতে হবে, এ বিষয়ে সালাফে -সালেহীনের বিভিন্ন আমল ছিল। ইবনে আবি দাউদ কিছু সালাফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা প্রতি দু'মাসে একবার কুরআন খতম করতেন। কোন কোন সালাফ এক মাসে একবার খতম করতেন। কেউ কেউ প্রতি দশরাতে একবার খতম করতেন। কেউ কেউ আট রাতে। তবে অধিকাংশ থেকে সাত রাতে খতমের কথা বর্ণিত আছে। কিছু সালাফ থেকে ছয়দিন, পাচ দিন ও চার দিনে খতমের কথা বর্ণিত আছে। কিছু সালাফ দু'রাতে খতম করতেন। কেউ কেউ এক দিন ও একরাতে এক খতম করতেন। কিছু সালাফ একদিনে ও একরাতে তিন খতম তেলাওযাত করেছেন। কোন কোন সালাফ আট খতম তেলাওয়াত করেছেন। চার খতম দিনে ও চার খতম রাতে।
সালাফে-সালেহীনের মাঝে যারা একদিন ও একরাতে কুরআন খতম করেছেন, তাদের কয়েকজন হলেন, ১. হযরত উসমান রা ২, তামীম দারী রা. ৩. তাবেয়ী সাইদ ইবনে জুবাইর রহ. ৪.ইমাম মুজাহিদ রহ. ৫. ইমাম শাফেয়ী রহ. সহ অন্যান্য সালাফগণ।
যারা দিনে তিন খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন, এদের মাঝে রয়েছেন, সুলাইম বিন উমর রা. । তিনি হযরত মুয়াবিয়া রা. এর সময় মিশরের বিচারপতি ছিলেন। ইমাম আবু বকর ইবনে আবি দাউদ বর্ণনা করেন, তিনি এক রাতে চার খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। আবু বকর আল-কিন্দী তার 'কুজাতু মিসর' বইয়ে লিখেছেন, তিনি রাতে চার খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
শায়খ আবু আব্দুর রহমান সুলামী বলেন, আমি শায়খ আবু উসমান মাগরিবীকে বলতে শুনেছি, "ইবনুল কাতিব রহ. দিনে চার খতম ও রাতে চার খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।"
আমার (ইমাম নববী) জানা মতে এটি সর্বোচ্চ পরিমাণ।
ইমাম আহমাদ দাওরাকী নিজ সনদে বিখ্যাত তাবেয়ী ও আবেদ ইমাম মানসুর ইবনে যাজান সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, ইমাম মানসুর ইবনে যাজান রহ.যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কুরআন খতম করতেন। তিনি রমজান মাসে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে দু'খতম কুরআন তেলাওযাত করতেন। তিনি রমজানে রাতের এক চতুর্থাংশের পরে ইশার নামায আদায করতেন।
ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, ইমাম মুজাহিদ রহ. মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
ইমাম মানসুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী আল-আজদী রহ. রমজান মাসে প্রত্যেক রাতে মাগরিব থেকে ইশার মধ্যবর্তী সময়ে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
হযরত ইব্রাহীম ইবনে সায়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা মাঝে মাঝে লোকান্তরে যেতেন। এসময়ে তিনি এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
সালাফের মাঝে এক রাকাতে কুরআন খতম কারীদের সংখ্যা এতো বেশি যে গণনা করে শেষ করা যাবে না। এদের মাঝে অগ্রণী ছিলেন, হযরত উসমান রা, হযরত তামীম দারী রা ও হযরত সাইদ ইবনে জুবাইর রহ. ।তিনি কা'বা শরীফে এক রাকাতে এক খতম তেলাওয়াত করেছেন।
[আত-তিবয়ান, পৃ.৫৯-৬০]
এধরনের বক্তব্য ইমাম নববীর কিতাবুল আজকারেও রয়েছে।
বিখ্যাত ইমাম তাজুদ্দীন সুবকী রহ. বলেন,
( ﺍﻟﻨﻮﻉ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻭﺍﻟﻌﺸﺮﻭﻥ : ﻣﺎ ﺳُﻬِّﻞَ ﻟﻜﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺼﺎﻧﻴﻒ ﻓﻲ ﺍﻟﺰﻣﻦ ﺍﻟﻴﺴﻴﺮ، ﺑﺤﻴﺚ ﻭﺯﻉ ﺯﻣﺎﻥ ﺗﺼﻨﻴﻔﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺯﻣﺎﻥ ﺍﺷﺘﻐﺎﻟﻬﻢ ﺑﺎﻟﻌﻠﻢ ﺇﻟﻰ ﺃﻥ ﻣﺎﺗﻮﺍ ﻓﻮﺟﺪ ﻻ ﻳﻔﻲ ﺑﻪ ﻧﺴﺨﺎً، ﻓﻀﻼً ﻋﻦ ﺍﻟﺘﺼﻨﻴﻒ، ﻭﻫﺬﺍ ﻗﺴﻢ ﻣﻦ ﻧﺸﺮ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻗﺪﻣﻨﺎﻩ،
ﻓﻘﺪ ﺍﺗﻔﻖ ﺍﻟﻨﻘﻠﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻋُﻤُﺮَ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﻔﻲ ﺑﻌﺸﺮ ﻣﺎ ﺃﺑﺮﺯﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺼﺎﻧﻴﻒ، ﻣﻊ ﻣﺎ ﻳﺜﺒﺖ ﻋﻨﻪ ﻣﻦ ﺗﻼﻭﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺧﺘﻤﺔ ﺑﺎﻟﺘﺪﺑﺮ، ﻭﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺧﺘﻤﺘﻴﻦ ﻛﺬﻟﻚ، ﻭﺍﺷﺘﻐﺎﻟﻪ ﺑﺎﻟﺪﺭﺱ، ﻭﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﻭﺍﻟﺬﻛﺮ ﻭﺍﻟﻔﻜﺮ ﻭﺍﻷﻣﺮﺍﺽ ﺍﻟﺘﻲ ﻛﺎﻧﺖ ﺗﻌﺘﻮﺭﻩ، ﺑﺤﻴﺚ ﻟﻢ ﻳﺨﻞُ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻣﻦ ﻋﻠﺔ ﺃﻭ ﻋﻠﺘﻴﻦ ﺃﻭ ﺃﻛﺜﺮ، ﻭﺭﺑﻤﺎ ﺍﺟﺘﻤﻊ ﻓﻴﻪ ﺛﻼﺛﻮﻥ ﻣﺮﺿﺎً .
ﻭﻛﺬﻟﻚ ﺇﻣﺎﻡ ﺍﻟﺤﺮﻣﻴﻦ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻤﻌﺎﻟﻲ ﺍﻟﺠﻮﻳﻨﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ، ﺣُﺴِﺐَ ﻋُﻤُﺮُﻩ ﻭﻣﺎ ﺻﻨﻔﻪ ﻣﻊ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﻠﻘﻴﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻄﻠﺒﺔ، ﻭﻳُﺬَﻛِّﺮْ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻣﺠﺎﻟﺲ ﺍﻟﺘﺬﻛﻴﺮ ﻓﻮﺟﺪ ﻻ ﻳﻔﻲ ﺑﻪ .
ﻭﻗﺮﺃ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺛﻤﺎﻧﻲ ﺧﺘﻤﺎﺕ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ، ﻭﺃﻣﺜﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﻛﺜﻴﺮ .
ﻭﻫﺬﺍ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻲ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻣﺤﻴﻰ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭُﺯِّﻉَ ﻋُﻤُﺮُﻩ ﻋﻠﻰ ﺗﺼﺎﻧﻴﻔﻪ، ﻓﻮﺟﺪ ﺃﻧﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻳﻨﺴﺨﻬﺎ ﻓﻘﻂ ﻟﻤﺎ ﻛﻔﺎﻫﺎ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻌﻤﺮ، ﻓﻀﻼً ﻋﻦ ﻛﻮﻧﻪ ﻳﺼﻨﻔﻬﺎ، ﻓﻀﻼً ﻋﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﻀﻤﻪ ﺇﻟﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺃﻧﻮﺍﻉ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﻏﻴﺮﻫﺎ .
ﻭﻫﺬﺍ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﻮﺍﻟﺪ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﺫﺍ ﺣُﺴِﺐَ ﻣﺎ ﻛﺘﺒﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺼﺎﻧﻴﻒ ﻣﻊ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﺍﻇﺒﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ، ﻭﻳﻤﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺪ، ﻭﻳَﺬْﻛُﺮُﻩ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﺭﻭﺱ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻠﻮﻡ، ﻭﻳﻜﺘﺒﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ، ﻭﻳﺘﻠﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ، ﻭﻳﺸﺘﻐﻞ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﺎﻛﻤﺎﺕ، ﻋﺮﻑ ﺃﻥ ﻋﻤﺮﻩ ﻗﻄﻌﺎً ﻻ ﻳﻔﻲ ﺑﺜﻠﺚ ﺫﻟﻜﻦ ﻓﺴﺒﺤﺎﻥ ﻣﻦ ﻳﺒﺎﺭﻙ ﻟﻬﻢ ﻭﻳﻄﻮﻯ ﻟﻬﻢ ﻭﻳﻨﺸﺮ
অর্থ: কারামতের চব্বিশতম প্রকার হল, অল্প সময়ে ইমামগণের অধিক গ্রন্থ রচনা। ইমামগণ যে পরিমাণ কিতাব লিখেছেন, যে সময় তারা ইলম শিখেছেন, এবং যতো দিন বেচে ছিলেন, এগুলো যদি হিসেব করা হয়, তাহলে এই সময়ে এতো কিতাব লেখা সম্ভব নয়। এটি মূলত: সময়কে প্রশস্ত করে দেয়ার একটি উদাহরণ। পূর্বে এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বর্ণনাকারীগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইমাম শাফেয়ী রহ. যে পরিমাণ জীবন পেয়েছিলেন, এই সময়ে স্বাভাবিকভাবে তার লিখিত গ্রন্থের দশভাগের একভাগও লেখা সম্ভব নয়। অথচ তার থেকে প্রমাণিত আছে, তিনি প্রতি দিন এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন অত্যন্ত ধীর-স্থির ও মর্ম অনুধাবন করে। রমজানে একইভাবে দু'খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। নিয়মিত দরস, ফতোয়া, জিকির ও গবেষণা করতেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকতেন। তিনি সব সময় দু'একটি রোগে ভুগতেন। কখনও ত্রিশটিও রোগও দেখা দিতো।
একইভাবে ইমামুল হারামাইন আবুল মায়ালী জুয়াইনী রহ. তিনি যে পরিমাণ কিতাব লিখেছেন, দরস, নসীহত ও দীনের কাজে সময় দিয়েছেন, তার জীবনে স্বাভাবিকভাবে এটি সম্ভব নয়।
কোন কোন সালাফ দিনে আট খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। এজাতীয় অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে।
তুমি ইমাম নববীর কথা চিন্তা করো। তার জীবনের সময়টা যদি তার লিখিত গ্রন্থ দিয়ে ভাগ করা হয়, তাহলে তার পক্ষে এগুলো শুধু কপি করেই শেষ করাই সম্ভব নয়। অথচ গবেষণা করে এগুলো লেখা তো অনেক কঠিন বিষয়। অথচ গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি তিনি সর্বদা বিভিন্ন ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।
আমার পিতা তকীউদ্দীন সুবকী রহ. কে দেখো। গ্রন্থ রচনা, বিভিন্ন ইবাদত, সূক্ষ্ম বিষয়ে গবেষণা, ইলমের বিভিন্ন শাখায় নিয়মিত দরস প্রদান, নিয়মিত ফতোয়া প্রদান, কুরআন তেলাওয়াত, বিচার কার্য পরিচালনাসহ তিনি যেসব কাজে ব্যস্ত থাকতেন, এগুলো দিয়ে যদি তার জীবনের সময়কে ভাগ করা হয়, তাহলে এর এক তৃতীয়াংশও সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। সেই মহান সত্তার জন্য পবিত্রতা, যিনি তাদের জীবনে বরকত দিয়েছেন। তাদের জন্য সময় সংকুচিত ও বিস্তৃত করেছেন।
[ত্ববাকাতুশ শাফিইয়্যা আল-কুবরা, খ.২, পৃ.৩৪২]
✍️ Md Azizul Sheikh