04/03/2020
করোনাভাইরাস বাতাসে বেশিক্ষণ উড়তে পারে না। এর অর্থ হচ্ছে এটি কফ, থুথু, লালার মাধ্যমে মাটিতে, আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহার করা শক্ত জিনিসপত্রে একটা প্রলেপের মতো লেগে থাকে। ফলে আক্রান্ত কেউ আপনার মুখের উপর জোরে হাঁচি-কাশি না দিলে আপনার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
সমস্ত ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে দেখা যাচ্ছে যে করোনা আমাদের আশেপাশের পরিবেশে (মানে বিভিন্ন জিনিসপত্রে) প্রায় দুই সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। এই জিনিসগুলো কি? জিনিসগুলো হলো: মেঝে, দরজার হ্যান্ডেল, লিফ্টের বাটন, চেয়ার, টেবিল, মোবাইল ফোন, পাবলিক কম্পিউটারের কীবোর্ড, যেকোন পাবলিক যানবাহন (উবার/পাঠাও সহ !), রেস্টুরেন্ট, যেকোন পাবলিক জমায়েত, পাবলিক টয়লেট, সিঁড়ির হাতল, যেকোন লাউঞ্জ, বিমানের সিট, যেকোন কাউন্টার ইত্যাদি। ফলে এগুলোতে হাত দিবেন এবং সেই হাত দিয়ে আপনার নাকেমুখে, চোখে ডলা দিবেন, কারবার শেষ। রাস্তায় কফ, থুথুতে পা দিবেন, জুতায় লাগবে। জুতা খুলতে গিয়ে হাতে আসবে। হাত থেকে মুখে এবং নাক ও গলা দিয়ে শ্বাসনালিতে যাবে। এজন্যই বারবার বলা হচ্ছে হাত ধোয়ার জন্য। বারবার বলা হচ্ছে পানি কিংবা অন্য তরল বেশিকরে বারবার খাওয়ার জন্য যাতে গলায় কিছু করোনাভাইরাস গেলেও পেটে চলে যায়। গলায় যাতে বসে থাকতে না পারে। পেটে চলে গেলে আলহামদুল্লিলাহ। হজম হয়ে যাবে। আমাদের পেট হলো সৃষ্টির এক বিরাট বিস্ময়।
তাহলে কি করতে হবে আমাদের? বুঝেন নাই কি করতে হবে? হাত ধুইবেন ভালো করে সাবান দিয়ে, বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর (বাহিরে থাকলে), আশেপাশের পরিবেশ পরিস্কার রাখবেন, বাসার-অফিসের-ফ্ল্যাট বাড়ির সিঁড়ির হ্যান্ডেল, মেঝে, লিফ্টের নব এবং অন্যান্য যা যা বললাম সেগুলো ভালো করে রেগুলার মোছামুছি করবেন (ডিসইনফেক্ট), পাবলিক পরিবহণে, পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সাবধান থাকতে হবে, বেশী লোকের মাঝে, শপিংমলে, লিফ্টে উঠা কমিয়ে দিতে হবে (এমনিতেই আমাদের দেশে লিফ্টে অনেক রোগ ছড়ায়) এবং নিজেও সাবধানে হাঁচি-কাশি দিবেন (টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু বিনে ফেলে দিতে হবে) এবং অন্যের হাঁচি-কাশি যাতে আপনার মুখে এসে না পরে সেটার দিকে খেয়াল রাখবেন।
আর একটা কথা, বুঝতেই পারছেন মাস্ক কিন্তু করোনা প্রতিরোধে তেমন কোন কাজ করে না। তবে বিশ্বের একনাম্বার দুষিত শহর ঢাকাতে আপনার মাস্ক এমনিতেই পড়া উচিত জীবন বাচাঁনোর জন্য। এ শহরে বছরে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগে।
নিজে সতর্ক হোন, সন্তানদেরকে সতর্ক করুন (দেশে-বিদেশে) এবং এই বার্তাগুলো ছড়িয়ে দিন। বাকীটা ভবিষ্যতের কাছেই ছেড়ে দিন, ভয় পাবেন না। সমস্যা হলে মোকাবিলা করতে হবে। ২৫ বছরের বেশী সময় ধরে ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করছি এবং সেই অভিজ্ঞতায় বলছি--
যে কারো যে কোন সময় যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে। করোনায় ধরলেও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১.৪% থেকে ২.৫%। সুখের বিষয় চায়নার বাহিরে মৃত্যুর হার মাত্র 0.৩%। তাই যে কোন বিপদ সাহস নিয়ে মোকাবিলা করবেন।
জয় হোক মানুষের,
জয় হোক মানবতার।
courtesy: Ferdous Aman sir