24/08/2026
হরিশপুর ইউনিয়নে তুলাতলীতে ব্যবসায়ীর উপর সন্ত্রাসী হামলায় তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, সন্দ্বীপ
সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়নের তুলাতলী বাজারে ব্যবসায়ী আকবর সওদাগর ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মিজানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও গুলির ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এর নেপথ্যে জুয়ার আসর, বাজারের ডাক (ইজারা) নিয়ে পূর্ববিরোধ, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তুলাতলী বাজারে আকবর সওদাগরের দোকানের পেছনে তাস ও জুয়ার আসর বসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন ওই জুয়ার আসরে থাকা বিএনপি নেতা নিজামের সঙ্গে স্বাধীন ও তার সহযোগীদের আগে থেকেই বাজারের ডাক (ইজারা) নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও মারধর শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হামলাকারীরা আকবর সওদাগরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে আকবর গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় মিজানও হামলার শিকার হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মিজানকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রশ্ন
ঘটনার অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি মিজানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মিজান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাসেম মোল্লার নির্বাচনী পোস্টার নিজ উদ্যোগে করিয়ে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেকে দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হরিশপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
আকবরের দোকান ও জুয়ার আসর নিয়ে অভিযোগ
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তুলাতলী বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন আকবর সওদাগর। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
তবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পেছনে তাস ও জুয়ার আসর বসতো—এমন অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন ওই আসরে থাকা বিএনপি নেতা নিজামের সঙ্গে স্বাধীনদের পূর্ববিরোধই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
তবে জুয়ার আসর পরিচালনা বা সেখানে আকবরের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাধীনের নাম নিয়ে নানা অভিযোগ
হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তাদের মধ্যে অন্যতম কিশোর গ্যাংখ্যাত স্বাধীন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
৫ আগস্টের পর তুলাতলী বাতেন মার্কেট এলাকায় তার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে। এছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
স্বাধীনকে কেন্দ্র করে একটি অপরাধী চক্র সক্রিয় এবং ওই চক্রকে যুবদল নেতা মনজুর আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা মনজুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও যাদের নাম আলোচনায়
হামলার ঘটনায় রহমতপুর ইউনিয়নের মামুন চেয়ারম্যানের আত্মীয় মির্জা আনোয়ার, জলদস্যু খোকন, তফসির মামুন, মিঠুসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাধীন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে তারা হামলায় জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ মুহূর্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন দুটি ভিন্ন ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। এক পক্ষের দাবি, এটি মূলত জুয়ার আসর ও বাজারের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের। অন্য পক্ষের দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।