30/07/2026
#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব (সারপ্রাইজ পর্ব )
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫 প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুক্তমনস্কদের জন্য।
_______________________________________
রাত ১১টা ১৭বাজে কিরণ ইমরোজ পার্সোনাল গার্ডদের যেতে বলে বিক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়ে নিজের মার্সিডিজ নিয়ে হাইওয়ের রোড দিয়ে ছুটে চলেছে। বিক্ষিপ্ত মনে শুধু বার বার ফেরিহার নীল চোখ জোড়া ভেসে উঠছে।হঠাৎ জোরে ব্রেক করে গাড়ি থামিয়ে সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে বির বির করে বলে উঠে, ' My Lotus... তু্ই কতদিন আমার থেকে পালিয়ে বেড়াস? তাই আমি দেখবো।তোর মুক্তি নেই আমার কাছ থেকে Lotus...' বলেই অন্যমনস্ক হয়ে একা একাই আরও কিছু বিরবির করতে থাকে। ঠিক সেই সময় কিরণের কানে টিক টিক জাতীয় শব্দ আসে। কপালে ভাজ ফেলে সোজা হয়ে বসে শব্দের উৎস খুঁজতে আশেপাশে তাকায়। কিন্তু কিছু খুঁজে পায় না। হঠাৎ মাথায় কিছু আসতেই দ্রুত সিটবেল্ট খুলে গাড়ির ডোর খুলে দৌড়ে দুকদম যেতেই গাড়িটা ব্লাস্ট হয়। গাড়ি থেকে বেশি দূরে যেতে না পারায় কিরণ ছিটকে হাইওয়ের পাশে একটা গাছের সাথে বারি খেয়ে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।আর দূরে কেউ একজন গাড়িতে বসে এই দৃশ্য ভিডিও করে কাউকে পাঠিয়ে দেয়।
******************************************
এদিকে ৪০১নাম্বার হোটেল রুমে তুরহান পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। তুরহানের সামনেই বসে আছে মাহি রাতুলদের আব্বু আম্মুরা।রাতুল আর সুমনরা সবাই পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।তুরহান নীরবতা ভেঙে হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' All of you are my seniors... so without pretense... I have registered a legal marriage with Ayala Siddiq Feriha long ago without her and me being aware of it. My mother did this. I came to know about it a few days ago. But he doesn't know about this yet. I don't want to tell you for now.(আপনারা সবাই আমার বয়োজ্যেষ্ঠ... তাই কোনো ভনিতা না করে সরাসরি বলছি... আয়লা সিদ্দিক ফেরিহার সাথে আমার অনেক আগেই আইনত বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে তার এবং আমার অগোচরেই। আমার আম্মিজান এই কাজটি করেছেন। আমি কিছুদিন আগেই কথাটা জানতে পেরেছি। কিন্তু সে এখনো এই বিষয়ে জানে না। জানাতে চাচ্ছিও না আপাতত।)' বলেই কিছুক্ষন চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তুরহান আবার বলে উঠে, ' আমি আয়লা সিদ্দিক ফেরিহাকে আজ এই মুহূর্তে সজ্ঞানে ধর্মীয়ভাবে বিয়ে করতে চাচ্ছি। বেয়াদবি মাফ করবেন। কারো অনুমতি চাচ্ছি না আমি শুধু আমার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ডেকেছি আপনাদের।' নিজের কথা শেষ করে তুরহান নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে থাকে।যেন কিছুই বলেনি বা হয়নি।আর এদিকে তুরহানের কথা শুনে সুমনরা বাদে সবাই অবাক হয়ে থমকে বসে আছে।
******************************************
কাইয়ান আনমনে দোতালার সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যেতে গিয়েও রেলিং শক্ত করে ধরার কারণে বেঁচে যায়।কাইয়ান রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামনের ব্যক্তি বলে উঠে, ' কাই স্যার সরি!!সরি স্যার!!আসলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আপনি যে উঠে আসছিলেন খেয়াল করিনি।' কাইয়ান সামনের ব্যক্তির কথা শুনে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠে, ' কি এমন তাড়াহুড়ো করে মহান কাজ করতে যাচ্ছো শাহীন? যে চোখ চাঁন্দের দেশে রেখে রকেটের গতিতে ছুটছো.....' কাইয়ানের কথায় শাহীন বুঝতে পারে কাইয়ান ভীষণ চটেছে। তাই দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে, ' তুরহান স্যারের এত রাতে বিয়ে করার ক্রেভিং উঠেছে কাই স্যার। তাই গার্ডেদের দিয়ে এই রাত ১১:৫০শে একজন হুজুর অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি। তাকেই আনতে যাচ্ছি নিচে স্যার।' কাইয়ান শাহীনের কথা শুনে কপালে ভাজ ফেলে বলে, ' এই বিদেশের মাটিতে এতো রাতে তুমি হুজুর কোথায় পেলে?' কাইয়ানের কথায় শাহীন নিজের শার্টের কলার দুই হাত দিয়ে ভাব নিয়ে একটু উচু করে ভাব নিয়ে বলে, ' এই শাহীনের দ্বারা কোনো কিছুই অসম্ভব নয় স্যার.... খালি আপনারাই বিশ্বাস করতে চান না। এই শাহীন ইচ্ছে করলে ঐ চাঁদটা এনেও আপনাদের সামনের হাজির করতে পারে স্যার। একবার হুকুম করেই দেখুন।' কাইয়ান শাহীনের কথা শুনে বিরক্তির শ্বাস ছেড়ে বলে, ' প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলো তুমি শাহীন।' বলেই কাইয়ান শাহীনকে পাশ কাটিয়ে উপরে উঠে যায়। আর শাহীন হতভম্ব দাঁড়িয়ে থেকে মনে মনে বলে যাহ!!বাবা!!আমি আবার বেশি কি কথা বললাম.....।
******************************************
সবার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার মাঝেই রাতুলের আব্বু রাহাত শেখ হালকা কেশে বলে উঠেন, ' আমরাও কোনো ভনিতা করে কথা বলতে চাচ্ছিনা না ইয়ংম্যান..... রিহা আম্মুর ব্যাপারে আমরা বেশি কিছু না জানলেও আবার কিছু জানি এমন নয়। সে কি?কে? এগুলো নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। শুধু জানি সে আমাদেরই মেয়ে। কিন্তু মেয়েকে এভাবে আমরা বিয়ে দিতে পারি না ইয়ংম্যান??? তার উপর মেয়েটার জ্ঞান নেই...' রাহাত শেখের কথা শুনে তুরহান মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে রাতুলের দিকে তাকিয়ে বলে, ' Mr. Ratul??????' তুরহান রাতুলের নাম ধরে ডাকতেই রাতুল চমকে তুরহানের দিকে তাকায়। আর তুরহানের চোখের দিকে তাকাতেই যা বোঝার বুঝে যায়। তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রাতুল ওর আব্বু আম্মুদের দিকে তাকিয়ে বলে, ' আব্বু তোমরা ভাইয়ার কথায় রাজি হয়ে যাও। কেন রাজি হতে বলছি?? তা তোমাদের পরে বলবো।কিন্তু আপাতত শুধু এইটুকু জেনে রাখো রিহা যদি কারো কাছে নিরাপদ থাকে সেটা একমাত্র তুরহান ভাইয়ের কাছে।একটু আগেও ওর উপর দিয়ে বড় রকমের একটা বিপদ গিয়েছে। আমরা হাজার সচেতন হয়েও ওকে সেফ রাখতে পারছি না।তাই ভাইয়া যা বলে মেনে নেও।' রাতুলের কথা শুনে ফেরিহার সাত পাপা মাম্মার বুঝতে বাকি থাকে না যে কিছু একটা নিশ্চয়ই হয়েছে। নয়তো রাতুলের মতো বিচক্ষণ ছেলে কখনো তাঁদের এমন কথা বলতো না। তাই তারা একসাথে বলে উঠে, ' ঠিক আছে।' কিন্তু মাহির আম্মু মরিয়ম চিন্তিত স্বরে বলে উঠেন, ' রিহা কি রাজি হবে??? আর তাছাড়া ওতো এখন সেন্সলেস অবস্থায় পরে রয়েছে ।' সবাই মাহির আম্মুর কথা শুনে চিন্তায় পরে যায়। ঠিক তখন মাহিদ হোসেন ছোট একটা শ্বাস ছেড়ে বলেন, ' মাহি তোমার আম্মুদের নিয়ে রিহার কাছে যেয়ে ওকে চোখ মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরানোর ট্রাই করো।' মাহি মাহিদ হাসানের কথা শুনে মাহির আম্মু আর রাতুলদের আম্মুদের নিয়ে বেডের কাছে যায়।ঠিক সেই মুহূর্তে কাইয়ান রুমের ডোর খুলে ভিতরে ঢুকে সুমনের পাশে যেয়ে দাঁড়িয়ে তুরহানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে মৃদু হাসে। তুরহান কাইয়ানের দিকে তাকিয়েও নির্লিপ্ত থাকে।
******************************************
মাহির আম্মু মরিয়ম ফেরিহার মুখে পানি ছিটা দিতেই ফেরিহা চোখ মুখ হালকা কুঁচকে ফেলে। মরিয়ম ফেরিহাকে চোখ মুখ কুচকাতে দেখে হাতের পানির গ্লাসটা টি টেবিলে রেখে গালে আলতো হাত রেখে মৃদু স্বরে বলে, ' রিহা আম্মু!!!রিহা আম্মু!!!চোখ খুলে দেখো তোমার মাম্মারা তোমার কাছে বসে আছে আম্মু.... তোমার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা করছে। তাকাও আম্মু...' মরিয়ম বেগমের ডাক ফেরিহার মস্তিষ্কে পৌঁছাতেই ফেরিহা পিট পিট করে তাকায়।কিছুক্ষন সবার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে বসে হু হু করে কেঁদে বেডের হেড বোর্ডের পাশে চেপে যেয়ে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বিরবির করে বলে উঠে, ' ডাইনিটা আমাকে ঐ জানোয়ারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ঐ জানোয়ারটা আমাকে জোর করে নিয়ে যাবে। আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কেউ না....' একনাগাড়ে বিরবির করতে থাকে ফেরিহা আর কানতে থাকে। এদিকে ফেরিহার অদ্ভুত আচরণ দেখে ফেরিহার সাত মাম্মা পাপা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। আর রাতুল আর মাহিদের চোখের কোণে পানি জমে। রাতুলের আম্মু এগিয়ে যেয়ে ফেরিহার পাশে বসে ফেরিহাকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে নরম স্বরে বলে, ' আম্মা শান্ত হও..... মাম্মারা আছি তো... কেউ তোমাকে নিয়ে যেতে পারবে না শান্ত হয়। এই যে মাম্মার বুকে আছো... নিরাপদে আছো আম্মা। শান্ত হও আমাদের লিটল বার্ড।' রাতুলের আম্মুর কথায় শান্ত না হয়ে বরং রাতুলের আম্মুর সাথে চেপে যেয়ে হেঁচকি দিয়ে কান্না করতে থাকে।এদিকে রাতুল আর রুমন বড় একটা কাপড় দিয়ে বেডের সমানে পর্দা দিয়ে রেখেছে। চাইলেও ফেরিহার কাছে যেতে পারছে না। শাহীন হুজুর নিয়ে আসার সাথে সাথে হুজুরকে সুমন সব ইনফরমেশন দিতেই হুজুর বিয়ের জন্য খুৎবা পাঠ করতে শুরু করেন। আর ওদিকে ফেরিহা একটা ট্রমার মধ্যে থাকার কারণে ওর কান পর্যন্ত কিছু পৌঁছাতে পারছে না। মাহিদ হোসেন সব কিছু চিন্তা ভাবনা করে সোফার থেকে উঠে রাতুলের পাশ দিয়ে বেডের কাছে যেয়ে ফেরিহার পাশে বসে রাতুলের আম্মুকে ফেরিহাকে ছাড়তে বলে ইশারায়। রাতুলের আম্মু ফেরিহাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াতেই মাহিদ হোসেন কান্নারত ফেরিহার মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কণ্ঠে বলেন, ' আমার আম্মা পাপার কাছে আসতো দেখি....' মাহিদ হোসেনের কথায় ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কাছে আসে মাহিদ হোসেনের বুকে মাথা রেখে কান্না করতে করতে বলে, ' পাপা.... পাপা আমাকে বাঁচাও পাপা.... একটা খারাপ মানুষ আমাকে নিতে এখানে এসে গেছে। আমাকে কোথাও লুকিয়ে ফেলো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে পাপা। কাউকে আমার কষ্টের কথা বলতে পারি না পাপা এখনো পারছি না পাপা। প্লিজ পাপ কিছু করে আমার কষ্ট কমিয়ে দেও।' ফেরিহার আকুতি ভরা কথায় সবার চোখে কোণে পানি চিকচিক করে।মাহিদ হোসেন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠেন, ' পাপাকে ভরসা করো তো আম্মা।' ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কথায় কান্না করতে করতে মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলে, ' যদি তুমি পাপাকে ভরসা করে থাকো তাহলে আমি বলবো আমাকে যেমন তুমি ভরসা করো তেমন তোমার সব পাপাদেরও ভরসা করো তো...' ফেরিহা ফের মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ হোসেন তাই বলে উঠেন, ' তাহলে পাপারা তোমার যেটা ভালো হবে সেটাই তোমার জন্য করবে। সেই বিশ্বাসটা আছে তো আমাদের উপর আম্মা???' ফেরিহা কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে। তারপরও মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ ফেরিহার থেকে পজিটিভ উত্তর পেয়ে আবার মৃদু হেসে বলে উঠেন, ' তাহলে এই পাপার উপর ভরসা করে কান্না থামিয়ে চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করো আম্মা । পাপার বুকে তার আম্মা ভীষণ নিরাপদে আছে। আম্মা চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে তোমার সবচাইতে ভরসা হাত বাড়িয়ে দেওয়া একজন মানুষের চেহারা কল্পনা করবে ঠিক আছে।যাকে তোমার সবচাইতে আপন লাগে। তারপর তোমার কানে যেই সব পোঁছাবে তা বলবে ঠিক আছে। পাপার কথা শুনে দেখো আম্মা তোমার ভালো লাগবে।' ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কথা শুনে মাহিদ হোসেনের বুক থেকে মাথা তুলে কান্না বন্ধ করে অবাক হয়ে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকায়।মাহিদ হোসেন ফেরিহার তাকানো দেখে মৃদু হেসে চোখের ইশারায় ফেরিহাকে আস্বস্ত করে। ফেরিহা আর কোনো কিছু না ভেবেই মাহিদ হোসেনের বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে বড় বড় শ্বাস নিয়ে নিজের সবচেয়ে আপন এবং কাছের কাউকে মনে করার চেষ্টা করে। ঠিক তখনি কিছু বছর আগের একটা এক্সিডেন্টে যেই ছেলেকে বাঁচিয়ে ছিল সেই ছেলের রক্তাক্ত মুখটা ভেসে উঠে। সেই ব্যথাতুর অথচ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মুখটা ফেরিহার চোখের সামনের ভেসে উঠে। ঠিক তখনি ফেরিহার কানে কিছু শব্দ ভেসে আসতেই ফেরিহা কল্পনার জগতে থেকেই নরম অথচ কোমল স্বরে বলে, ' আলহামদুলিল্লাহ কবুল ' আলহামদুলিল্লাহ কবুল 'আলহামদুলিল্লাহ কবুল '। ফেরিহার বলা শেষ হতেই সবাই একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠতেই ফেরিহা কল্পনার মাঝ থেকে বের হয়ে আসে।মাহিদ হোসেনের বুক থেকে মাথা তুলে বোকা চোখে সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সবাই মিট মিট করে হাসছে। তাই বোকা বোকা ভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলে, ' ওরা হাসছে কেন পাপা???' মাহিদ হোসেন নিজেও মৃদু হেসে বলেন, ' আম্মা আপনার বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে।' মাহিদ হোসেনের এই একটা কথা ফেরিহাকে বাকশুন্য করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল। ফেরিহার বাকশুন্য হয়ে বসে থাকার মাঝেই তুরহান কাপড়ের পর্দা সরিয়ে ভিতরে বেডের কাছে এসে দাড়িয়ে নরম স্বরে বলে, ' "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু বেগম সাহেবা।' তুরহানের সালাম দেওয়া শুনে ফেরিহা অবাক হয়ে তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে আনমনেই সালামের উত্তর দিয়ে বলে উঠে, ' পাপা আমার বিয়ে কি স্যারের সাথে হয়েছে????' মাহিদ হোসেন মুচকি হেসে বলেন, ' জি আম্মা।' ব্যাস এইটুকু কথায় ছিল ফেরিহার জন্য যথেষ্ট। ফেরিহা তুরহানের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে মাহিদ হোসেনের বুকে ঢোলে পরে। ফেরিহার সেন্সলেস হওয়া দেখে সবাই ফিক করে হেসে দেয়। কিন্তু তুরহান বিরক্ত হয়ে বিরবির করে বলে, ' এই মেয়ে কত সেন্স হারাতে পারে আল্লাহ ভালো জানেন। '
******************************************
সবাই চলে গেছে। শুধু হোটেলরুমে রয়ে গিয়েছে তুরহান আর ফেরিহা। পিহুকে বলেছিল ফেরিহাকে চেঞ্জ করে দিতে। পিহু অচেতন ফেরিহাকে চেঞ্জ করে একটা সুতির মিষ্টি কালারের কামিজ সেট পড়িয়ে দিয়ে গেছে। তারপর থেকে তুরহান শাহীনকে দিয়ে আনিয়ে রাখা প্যাকেট থেকে একটা মেহেদীর কোণ বের করে ইউটিউব দেখে অচেতন ফেরিহার হাতে মেহেদী দিয়ে চলেছে। রাত ১:৩০দেওয়া শেষ করে এখন হাত দুটো আলতো করে ধরে বসে আছে শুকানোর জন্য। আধাঘন্টা পর মেহেদী শুকিয়ে গেলে তুরহান পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে শাহীনকে ফোন দেয়।ফোনটা রিসিভ হতেই তুরহান গম্ভীর স্বরে বলে, ' চপার রেডি।' শাহীন তুরহানের কথা শুনে, ' জি বস।' বলতেই তুরহান ফোন কেটে দিয়ে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে দেখে ফেরিহার মাথায় ওড়না হিজাবের মতোই বাধা আছে। তারপরও রিস্ক না নিয়ে ফেরিহাকে একটা চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে ফেরিহার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলে, ' স্বামীর বাড়ি বিয়ের পর প্রথম পা রাখবে। তাই দু হাতে মেহেদী দিয়ে দিয়েছি বেগমসাহেবা।' তুরহান তো বলেছে ফেরিহাকে উদ্দেশ্য করে কিন্তু অচেতন ফেরিহার কানে কি আধো সেই কথা গিয়েছে??? ভেবেই তুরহান মুচকি হেসে ফেরিহাকে নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ায়।
#চলবে
[ভাইয়া এবং আপুরা গল্পে যদি কোনো বানান ভুল হয়ে থাকে। তারজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কারণ টাইপ করার সময় অনেক ঝামেলা হয়। তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। আর গল্প পড়ে যদি ভালো লেগে থাকে তবে বেশি লাইক কমেন্ট করে আমাকে গল্প লিখতে উৎসাহিত করবেন 🥰🥰🥰🥰🥰]