25/11/2024
বিদআতীদের তাওবা কি কবুলযোগ্য ⁉️
• প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয় যারা নিজেদের দীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, আপনি তাদের সাথে কোনো কিছুতেই নেই। -(সূরা আনআম, আয়াত: ১৫৯)
শাইখুনা! তাফসীরে জালালাইনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় একটি হাদীস পড়েছিলাম। হাদীসটি হলো: 'তারা হচ্ছে এই উম্মাতের বিদআতপন্থি, প্রবৃত্তিপূজারী ও পথভ্রষ্ট। হে আয়েশা! প্রত্যেক পাপীর জন্য তাওবার সুযোগ রয়েছে; তবে বিদআতীদের জন্য নয়। তাদের তাওবার কোনো সুযোগ নেই। হে আয়েশা! আমি তাদের থেকে মুক্ত আর তারা আমার থেকে মুক্ত। -(আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২৭; তাখরীজু কিতাবিস সুন্নাহ লিল-আলবানী, ৪)
এ হাদীসটি কি সহীহ? বিদআতী ও প্রবৃত্তিপুজারীদের জন্য তাওবা করার কোনো সুযোগ নেই বলতে কী উদ্দেশ্য❓
✅ জবাব: নিঃসন্দেহে হাদীসটি সনদ ও মূলভাষ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল। সনদে সমস্যা থাকার কারণে হাদীসটি সহীহ নয়। আমি জানি হাদীসটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। তবে কী কারণে সহীহ নয়, তা এখন আমার স্মরণে আসছে না। আর মূলভাষ্যের দিক থেকে সহীহ নয়। কারণ, একজন বিদআতী যেই বিদআতে জড়িত হোক না কেন, তা কাফির ও মুশরিকদের শিরক থেকে জঘন্য নয়। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তাহলে প্রত্যেক মুসলিম এ আয়াতটি জানে। আয়াতটি হলো,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন। -(সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮)
এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তো বিদআতীর তাওবা কবুল করবেনই বরং যদি তাওবা নাও করে তবুও তার বিদআতের গুনাহ তিনি মাফ করে দিতে পারেন। কারণ, বিদআত শিরক নয়। আর আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন। -(সূরা নিসা, আয়াত: ৪৮)
আমরা যে জবাব দিলাম তা এ ভিত্তিতে যে, বিদআত শিরক নয়। বরং শিরকের তুলনায় হালকা। আর আমরা যদি ধরেও নেই যে, উক্ত হাদীসে বিদআতকে শিরকের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, তবুও আমরা এ আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا (٨٦) يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا (٩٦) إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (۰۷) وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى
اللَّهِ مَتَابًا
আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে। তবে সে ব্যতীত, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -(সূরা ফুরকান, আয়াত: ৬৮-৭০)
আল্লাহ তাআলা আয়াতগুলোতে পাপী ও অপরাধীদের মধ্যথেকে প্রথমে মুশরিকদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।'
তাদের ব্যাপারে জাহান্নামের ঘোষণা দেওয়ার পর নিম্নের লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে বাদ দিয়ে বলেছেন, 'তবে সে ব্যতীত, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'
অতএব, আমরা যদি মেনেও নেই যে, বিদআত হচ্ছে শিরক, তারপরও আল্লাহ কেন তার তাওবা কবুল করবেন না; অথচ উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'তবে যে তাওবা করে'।
অতএব, এভাবে প্রমাণ হয়, হাদীসটির মূলভাষ্য বাতিল। তাছাড়া মুহাদ্দিসদের পদ্ধতির আলোকেও হাদীসটির মূলভাষ্য প্রমাণিত নয় অর্থাৎ সনদের দিক থেকে প্রমাণিত নয়। কাজেই হাদীসটি সনদের দিকে থেকেও প্রমাণিত নয় এবং মূলভাষ্যের দিক থেকে প্রমাণিত নয়। -(তুরাসুল আলবানী ফিল মানহাজ,৮/৪২৪-৪২৫)
-সংগৃহীত : মানহাজুস সালাফ, ১২৭-১২৯
#মানহাজ #সালাফি #নাসিরুদ্দিনআলবানী