20/05/2026
সকালটা শুরু হল Sad নিউজ🥲 দেখে,
মানব রচিত আইনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বনাম অপরাধমুক্ত সমাজ: আমাদের আর কত রামিসাকে হারাতে হবে?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজ ফিড খুললেই বুকটা কেঁপে ওঠে। কিছুদিন পর পরই চোখে পড়ে ৫ বছর, ৭ বছর কিংবা ১৩ বছরের নিষ্পাপ শিশুদের ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার খবর। সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর যেভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হলো, তা যেকোনো সভ্য সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই বর্বরতা দেখে পুরো দেশ আজ স্তব্ধ ও মর্মাহত।
প্রতিটি ঘটনার পরই জনরোষ তৈরি হয়, অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয় এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে হয়তো ৩-৪ মাসের মধ্যে ফাঁসির রায়ও হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই রায় কার্যকরের চূড়ান্ত রূপ আমরা কতটুকু দেখতে পাই? বছরের পর বছর আপিল আর আইনি জটিলতার বেড়াজালে আটকে থাকে সেই রায়। ফলে, অপরাধী শাস্তি পেল কি পেল না—তা একসময় জনস্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়।
আমাদের এই শতাব্দী প্রাচীন ও ধীরগতির বিচার ব্যবস্থার গলদগুলো সংস্কার না করে, শুধু আইনের খাতা ভারী করে এই জঘন্য অপরাধ দমন করা কি আদেও সম্ভব? উত্তর হচ্ছে—না।
সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর দেওয়া বিধান ও দিকনির্দেশনার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সমাধান। একজন অপরাধী যখন প্রকাশ্য দিবালোকে বা গোপনে এত নৃশংস অপরাধ করতে পারে, তখন তার শাস্তিও হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক এবং জনসম্মুখে দৃশ্যমান। যতদিন না অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা দেখে অন্য সম্ভাব্য অপরাধীদের বুক কেঁপে উঠবে, ততদিন শুধু মানব-রচিত আইনের ফাঁকফোকর গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে।
সমাজকে এই জঘন্য অপরাধের হাত থেকে বাঁচাতে হলে এবং আমাদের সন্তানদের একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে হলে আইনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। ইসলামী শরীয়ার আলোকে এবং নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে যদি এই অপরাধের কঠোর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়, তবেই সমাজ থেকে এই নৃশংসতা দূর করা সম্ভব।
আসুন, সাময়িক ক্ষোভ প্রকাশ না করে বিচার ব্যবস্থার এমন এক স্থায়ী সংস্কারের দাবি তুলি, যেন আর কোনো রামিসাকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়।