09/01/2026
📌স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক: হাত ও চোখের মতো অবিচ্ছেদ্য এক দায়িত্ববোধ
____________________________
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অনেকেই শুধু আবেগ, ভালোবাসা বা রোমান্টিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। এটা একটা ভুল ধারণা। ইসলাম এই সম্পর্ককে আবেগের চেয়ে দায়িত্ব, দয়া, সহযোগিতা ও আত্মত্যাগের উপর দাঁড় করিয়েছে।
যেমন—হাত ও চোখ।
হাত ব্যথা পেলে চোখ কাঁদে,
চোখ কাঁদলে হাত অশ্রু মুছে দেয়।
এটা কোনো কবিতা নয়; এটা একে অপরের কষ্ট অনুভব করা এবং কষ্ট লাঘব করার বাস্তব দায়িত্বের প্রতীক।
---
মূল আলোচনা:
আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে খুব স্পষ্ট ভাষায় সংজ্ঞায়িত করেছেন:
> “আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”
(সূরা আর-রূম: ২১)
এখানে তিনটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ—
প্রশান্তি (سَكِينَة), ভালোবাসা (مَوَدَّة) এবং দয়া (رَحْمَة)।
দয়া ছাড়া ভালোবাসা টেকে না। আর দয়া মানে শুধু অনুভূতি নয়—কষ্টে পাশে দাঁড়ানো।
হাত যেমন চোখের কান্না মুছে দেয়, তেমনি স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর কষ্ট লাঘব করা, আর স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর দুর্বল মুহূর্তে আশ্রয় হওয়া।
নবী ﷺ বলেছেন:
> “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।”
(তিরমিযি, সহীহ)
এটা পরিষ্কার কথা—স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার কোনো অপশন নয়, ঈমানের মানদণ্ড।
আবার স্ত্রীদের সম্পর্কেও রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অধিকার রক্ষা করে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে এবং সতীত্ব রক্ষা করে, তবে তাকে বলা হবে—যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করো।”
(ইবনু হিব্বান, সহীহ)
অর্থাৎ—এটা একতরফা সম্পর্ক নয়। হাত একা চোখের কাজ করে না, চোখও একা হাতের কাজ করে না। উভয়ই পরস্পরের পরিপূরক।
আরেকটি শক্ত হাদিস লক্ষ্য করুন:
> “মুমিনরা পরস্পরের প্রতি দয়া ও ভালোবাসায় একটি দেহের মতো; দেহের একটি অঙ্গ কষ্ট পেলে পুরো দেহ জেগে ওঠে।”
(বুখারী ও মুসলিম)
এই হাদিস সাধারণ মুসলিম সমাজের জন্য, আর স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য। স্বামী-স্ত্রী যদি একে অপরের কষ্টে নির্লিপ্ত থাকে, তাহলে তারা ইসলামের এই মূলনীতিই ভেঙে ফেলছে।
---
বাস্তব কথা (এখানে মিথ্যা সান্ত্বনা নেই):
যে দাম্পত্য সম্পর্কে—
▪️স্বামীর কষ্টে স্ত্রী উদাসীন
▪️স্ত্রীর কষ্টে স্বামী নীরব
▪️দু’জনই শুধু নিজের “অধিকার” গুনে
সেটা ইসলামী দাম্পত্য নয়, সেটা সহাবস্থানের চুক্তি মাত্র।
ইসলামী দাম্পত্য মানে—
একজন ভেঙে পড়লে অন্যজন শক্ত হয়ে দাঁড়াবে।
একজন কাঁদলে অন্যজন হাত বাড়াবে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হওয়া উচিত হাত ও চোখের মতো—
কোনো প্রতিযোগিতা নয়,
কোনো ক্ষমতার লড়াই নয়,
বরং একে অপরের ব্যথা অনুভব করা এবং ব্যথা সারানোর আন্তরিক চেষ্টা।
যেখানে দয়া নেই, সেখানে বরকত নেই।
আর যেখানে বরকত নেই, সেখানে সংসার টেকে না—এটাই নির্মম বাস্তব।