01/05/2020
ছোট্ট গল্প 🙂
একটু মনযোগ আর ধৈর্য ধরে পড়বেন 😊
মারুফ তখন ক্লাস ১০ এ পড়ে। শোভা তখন ৮ এ।
নরমালি তারা অনেক আগে থেকেই দুজন দুজনকে পছন্দ করতো। কিন্তু কেউই সেড়া প্রকাশ করতো না।
তারা একে অপরের সাথে কথা বলতো। খানিকটা গভীরও হয়ে গেলো।
মারুফ বাজারে গেলে ওর জন্য ক্যাটবেরি, লিচি, অয়েফার নিয়ে আসতো।
আর সেটা লুকিয়ে নিতো।
বাসার সবাই টিভি দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো মারুফ ওসব নিয়ে এলে একটা সংকেত দিতো। আর শোভা তখন ঘর থেকে বেরিয়ে ছলে বলে কৌশলে সেটা নিয়ে নিতো কেউ টেরই পেত না।
মারুফের মোবাইল টা শোভার কাছেই থাকতো।
স্কুল ছুটির পর থেকে শুরু, সে মোবাইলটা নিয়ে নাটক, মুভি, গেইম এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। কেউ তাদেরকে কোন প্রকার সন্দেহই করতো না।
তাদের এই ধরণের খুনসুটি আচরণে কখন যে দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলেছিল তারা নিজেরাও জানে না।
একা একা কোথাও তেমন একটা ঘুরতে যায় নি। সন্ধাটা হলেই যেন দুজনের জন্য একটা সুখের ঠিকানা। চন্দ্রিমা রাত, বিদ্যুৎ চলে গেছে রাস্তায় বেরিয়েছে। কখনও মারুফ তার হাত ধরে, আবার শোভাও তার হাত ধরে খুনসুটি করে, উফফ ভাবতে কতই না মজা।
শোভার কোলে মাথা রাখতো মারুফ। মাথা বুলিয়ে দিত, চুল নেড়ে দিতো। কপালে আলতো চুমু খেতো, চুল দিয়ে সুড়সুড়ি দিতো। কিন্তু, তখনও তারা অজ্ঞাত যে তারা কি আসলেই ভালবাসে দুজন দুজনকে নাকি, এমনিতেই ছেলেখেলা সেটা।
রমজান মাস, শোভা যা দিয়ে ইফতার করতো মারুফের জন্য কিছুটা হলেও রেখে দিতো, ওকে খাইয়ে দিয়ে আবার চলে আসতো। এরপর মারুফ SSC পাস করলো। আর সে ক্লাস ৯ এ। মারুফ ছুটি পেল অনেকদিন। শোভাও ছুটি পেল মাঝখানে। এতে তাদের আচরণ আরো মাখো মাখো হয়ে গেল। রাত্রে দুজন চাঁদের আলোয় হাটে। ওর নানি আর মামাতো বোন ছোট, সেও পাশে থাকে। দুজনের মধ্যে কি দারুণ খুনসুটি। ভালই চলছে সবকিছু।
মারুফ একদিন যাচাই করবে এটা কি প্রেম নাকি শুধুই ভাল লাগা,নাকি আবার শুধুই চাওয়া।
হঠাৎ, মারুফ এক সপ্তাহের জন্য সে তার চাচাদের বাড়ি বেড়াতে যাবে। এই কথা শুনে শোভার মন খারাপ। মারুফকে আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছে প্লিজ যাইস না আমায় ছেড়ে, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
মারুফ তার সাথে মজা করে বললো, আরে নাহ শোন আমাকে যেতেই হবে ১ মাসের মত থেকে চলে আসবো আমি।
শোভা এ কথা শুনে কান্নার মত অবস্থা। ভাত খায় না, মন খারাপ করে বসে থাকে।
মারুফ জিজ্ঞাসা করলো কিরে কথা বলছিস না যে কি হইছে?
শোভা তাকে জড়িয়ে ধরে বললো প্লিজ তুই আমাকে ছেড়ে যাইস না, আমি তোকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারি না। তুই কি বুঝিস না এটা, তুই কি আমার চোখের, মনের ভাষা বুঝিস না তোকে আমি কতটা চাই।
মারুফ সেদিন থেকে আর তার সাথে এমন করে না। তার থেকে দূরে যায় না।
ভাল কলেজে এডমিশন পেয়েছিল। কিন্তু সে বাড়ির পাসের কলেজেই ভর্তি হয়। ভালই চলছিল সব। একদিন সে শোভার মামার সাথে ছিল। কারণ মারুফের মামাদের বাড়িতে মেহমান ছিল। অনুষ্ঠান হয়েছিল তাই। অনেক লোকের সমাগম ছিল।
শোভার ছোট মামার সাথে মারুফের ভাল সম্পর্ক। মারুফকে রুমে ঢুকতে দেখে খানিকটা বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল শোভা। ভাবতে লাগলো, কি ব্যাপার ও এখানে ক্যান।
তখন ওর মামা বললো উপরে দেখ একটা বালিশ আছে ঐটা নাম আর ফ্যানটার পাওয়ার বাড়িয়ে দে।
শোভা হতভাগ হয়ে ওর নানির সাথে শুয়ে পড়লো।
ঐ ঘরে দুটো বেড। রুম টা বেশ বড়। নানা মারা গেছেন।
তাই নানি, মামা আর বড় মামার মেয়ে সহ, ছোট মামা এক বেডে আর নানি আর বড় মামার মেয়ে আরেক বেডে শোভা সহ থাকেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নানি নামাজ পড়ে রাঁধতে রান্না ঘরে চলে যান। মামাকে খাইয়ে কাজে পাঠান। পরে, নানি উঠোন পরিষ্কার আর সবার রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
শোভাকে রুমটা ঝাড়ু দিতে বলে। ও প্রতিদিনই দেয়।
মারুফ দড়জার আওয়াজে সজাগ হয়ে বেডের পাশে দেখে শোভা বসে আছে।
চমকে উঠে বললো কি রে কি করছিস। শোভা বললো একদম চুপ আমার কোলে মাথা রাখ আমি হাত বুলিয়ে দেই। মারুফ তাকে বাধা দেয় নি বরং উৎসাহ দিচ্ছিল। হঠাৎ, তাদের মধ্যে একটা কিছু ঘটতে যাওয়ার আগেই মারুফ শোভাকে বললো সর নানি চলে আসবে। এই বলে শোভা ওখান থেকে সরে গিয়ে ঘর ঝাড়ু দেয়ায় ব্যস্ত।
এভাবে ভালই চলছিল।
একদিন হঠাৎ করেই ওকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে বলে ওকে বাসায় নিয়ে গেছে বিয়েও ফাইনাল করে ফেলছে। কিন্তু শোভা তাতে রাজি হয় নি। ও বলেছিল আমি আগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করবো এরপর বিয়ে এর আগে না।
তখন আর হইলো না। মারুফ একটু খুশিই হইলো। এরপর, এই অভিমান নিয়ে ক'দিন ধরে মারুফ শোভার সাথে কথা বলে না। অভিমান ভাঙাতে শোভা মারুফের পেছন পেছন ঘুরে আর বলে ঐ কি হইছে তোর তুই কথা বলছিস না ক্যান, আমার কিন্তু বড্ড একা লাগছে। তুই ছাড়া আমার একদম ভাল লাগে না। মারুফ মনে মনে খুব আনন্দ আর সুখ অনুভব করতে লাগলো। যখনই পেছন ফিরে তাকালো দেখলো ওর বড় মামা পেছনে। পুরো ব্যাপারটা একটু হলেও বুঝেছে মনে হয়। কিন্থ তাদের দুজনকে কিছুই বলে নি।
শোভা, মারুফ পড়াশুনায় ব্যস্ত। কম কথা হয় তাদের মাঝে। শোভার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন।তার মা হার্টের রোগী তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে ওর ফুপু আমাকে বললো ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, ওর মার শেষ ইচ্ছা চাকুরীজীবী ছেলে সাথে ওর বিয়ে দেবে।
মারুফ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। খানিকটা মাথায় বাজ পরার মতন।
নিমিষেই জীবনের মোড় ঘুরে গেল। স্বপ্নগুলো সব ধামাচাপা দিয়ে দিল মারুফ। লাস্টবারের মত কথাও বলতে পারে নি মারুফ। শোভাও আর চেষ্টা করে নি।
কিন্তু মারুফ খানিকটা কষ্টের গ্রহে চলে যায়। এর রেষ কাটতে প্রায় তার ১ বছর সময় লেগেছিল। রাত্রে ঘুমাইতো না, ঠিক মতন খাইতো না, সিগেরট পান করতো শুধু। এভাবে ইনসোমনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় সে।
এখন সে সুস্থ আছে। কিন্তু শুধু নেই শোভা। তার একটাই চাওয়া ছিল। শোভা যেন তার হয়।
ভাগ্যের কাছে হেরে গেল ভালবাসা। বয়সটা তাদের এমনই ছিল যে তারা এসব নিয়ে কথা বলারও যোগ্য ছিল না 🙂 কনজারভেটিভ ফ্যামিলি হলে যা হয়।
#বিঃদ্রঃ গল্পটি বাস্তব চরিত্র থেকে নেওয়া। সকলের মন্তব্য কাননা করছি 🙂