25/07/2026
ছোটবেলায় কাউকে মোটা মোটা গল্প/উপন্যাসের বই পড়তে দেখলেই যেই আমিটার বিরক্ত লাগতো খুব, সেই আমিই একটা সময় আস্ত একটা বইয়ের পোকায় পরিণত হই। বই পড়ার জার্নিটা শুরু হয় তিন গোয়েন্দার কোনো এক ভলিউম দিয়ে, তখন আমি সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণিতে। সেই থেকে শুরু। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা, গল্পের পর গল্প। জীবনের এক জাদুর জানালা যেন খুলে গিয়েছিল।
রকিব হাসানের তিন গোয়েন্দার একেকটা ভলিউম তো গোগ্রাসে গিলতাম, যেন ওদের দলে আমিও আছি।
রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস আর ছোট গল্পে জীবনকে নতুন চোখে দেখেছি।
হুমায়ুন আহমেদের হিমু যেন আমার ভাবনার সাথে হেঁটে বেড়াতো শহরের অলিগলি দিয়ে।
জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন পড়লে মনে হতো, আমি সময় আর মহাকাশ পেরিয়ে ছুটে চলেছি এক নতুন অজানার খোঁজে।
শার্লক হোমসের সাথে যেন আমিও বসে থাকতাম ২২১বি বেকার স্ট্রিটে, হাতে চায়ের কাপ, চোখে ধাঁধার আলো।
ফেলুদার ধারালো বিশ্লেষণ, তোপসের সরল বর্ণনায় যেন আমার চোখ দিয়ে নয়, ওদের চোখ দিয়েই রহস্যের গন্ধ পেতাম।
সাইমুম সিরিজ আমাকে শিখিয়েছে সত্যের পথে কিভাবে লড়াই করে বাঁচতে হয়।
হ্যারি পটারের সাথে নিম্বাস ২০০০-এ করে আমিও যেন উড়ে বেড়াতাম হগওয়ার্টসের আনাচে কানাচে!
আর কাকাবাবুর রহস্যের পেছনে খুড়িয়ে খুড়িয়ে ছুটে চলা যেন চোখের সামনেই ঘটতো!
এই আর্টটা করতে গিয়ে এসবই স্মৃতিচারণ করছিলাম একটু। আর ভাবছিলাম হুট করে আসা বই পড়ার অভ্যেসটা কেমন যেন হুট করেই চলে গেল। ৫-৬ বছর হবে হয়তো...এখন আর তিন গোয়েন্দার সাথে সিক্রেট মিশনে যাওয়া হয় না, কাকাবাবুর খুঁড়িয়ে চলা পায়ের শব্দও কানে আসে না আর।
হিমুর হলুদ পাঞ্জাবি চোখে পড়ে না বহুদিন, মিসির আলির যুক্তিভরা বিশ্লেষণও ভুলে গেছি সব। সময়ের ভিড়ে পৃষ্ঠার গন্ধটা কেমন যেন ফিকে হয়ে গেছে।
বইয়ের পাতার সেই চুপচাপ ভ্রমণগুলো এখন স্মৃতির পাতায় বাঁধাই হয়ে পড়ে আছে। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে—সব ফেলে আবার শুরু করি, আবার ডুবে যাই গল্পের নদীতে, ঠিক আগের মতো।
কিন্তু পড়ার ফাঁকে কিংবা ক্লাসের বইয়ের ভেতর লুকিয়ে গল্পের বই পড়ার যে আনন্দটা ছিল, সুযোগ থাকার পরও কেন যেন সেই আগ্রহটা আর জাগে না। মন চায় না গল্পে ডুবে যেতে, চোখ আটকে থাকে স্ক্রিনে—পৃষ্ঠার শব্দগুলো কেমন যেন মলিন হয়ে গেছে। ইচ্ছেটা আছে, সময়ও আছে, শুধু সেই আগের পাগলপারা টানটা আর নেই… এটা কি বয়সের বদল নাকি হারিয়ে ফেলা কোনো অনুভুতি ফিরে না আসা?? জানি না...