22/08/2026
চেনা যায় শাকিলকে?
আমিও প্রথমে চিনতে পারিনি। ২০১২ সালের সেই বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার কথা মনে আছে? শিবির সন্দেহে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল নিরীহ বিশ্বজিৎকে। সেই ঘটনায় আলোচিত ছাত্রলীগকর্মীদের একজন ছিলেন শাকিল। তখন তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বয়স মাত্র ২০ বছর। সামনে পড়ে ছিল পুরো জীবন, একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
কিন্তু সেই সময়ের ছাত্ররাজনীতি ছিল ভয়ংকর। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে “শিবির” ট্যাগ দেওয়া, হামলা-মামলা এবং সহিংসতার অসংখ্য অভিযোগ আমরা দেখেছি। দাড়ি আছে, টাখনুর ওপরে প্যান্ট পরে, নিয়মিত নামাজ পড়ে, এমন চেহারা দেখেও অনেককে সন্দেহের চোখে দেখা হতো। রাজনৈতিক আনুগত্য দেখাতে গিয়ে কত তরুণ যে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে, তার হিসাব কে রাখে?
আজকের এই ছবিটা দেখুন।
সম্ভবত মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন শাকিল। চোখে অশ্রু, কাঁধে মায়ের লাশ, অথচ হাতে হ্যান্ডকাফ। এর চেয়ে নির্মম দৃশ্য আর কী হতে পারে!
প্রায় ১৪ বছর ধরে কারাগারে। যে রাজনীতির জন্য জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল, বিপদের দিনে সেই রাজনীতির কতজন নেতা পাশে আছে?
এই ছবিটা বর্তমান ছাত্ররাজনীতির কর্মীদের জন্যও বড় শিক্ষা।
বিশেষ করে ছাত্রদলের তরুণদের বলব, ক্ষমতার দাপট চিরস্থায়ী নয়। নেতার নির্দেশে কিংবা নেতাকে খুশি করতে গিয়ে কারও ওপর হামলা করবেন, কাউকে হত্যা করবেন, আর ভাববেন দল আপনাকে সারাজীবন রক্ষা করবে, এই ভুল করবেন না।
দিন শেষে অপরাধের দায় আপনারই। মামলা আপনার নামে হবে, সাজা হলে জেলও আপনাকেই খাটতে হবে।
নেতাদের কেউ থাকবে লন্ডনে, কেউ চলে যাবে শিলংয়ে, কেউ বিদেশে বসে রাজনীতি করবে। কিন্তু বিপদে পড়া কর্মীকে তারা সঙ্গে করে নিয়ে যাবে না।
আপনি দেশেই থাকবেন।
আপনার পরিবার কাঁদবে।
আপনার মা-বাবা কাঁদবেন।
আর আপনার জীবনের মূল্যবান বছরগুলো চলে যাবে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে।
So, mind it. Change your politics.
রাজনীতি করুন আদর্শের জন্য, মানুষের জন্য। কোনো নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের জীবন আর অন্যের জীবন ধ্বংস করার জন্য নয়।