Journey to be a good Muslimah

Journey to be a good Muslimah The only purpose is to pursue knowledge of Islam ! �

09/15/2026
09/13/2026

সালাতে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু মনটা যেন অন্য কোথাও?

তাকবির বলে হাত বাঁধলেন। মুখে সূরা ফাতিহা চলছে, অথচ মাথার ভেতর হঠাৎ বাজারের তালিকা, কারও বলা একটা কথা, আগামীকালের কাজ, ফোনের notification, পুরোনো কোনো কষ্ট সব একসঙ্গে এসে গেল। সালাম ফিরিয়ে কখনো মনে হয়, “আমি একটু আগে কী পড়লাম?” যদি এমন হয়, তাহলে এই পোস্টটা আপনার জন্য।

অনেকেই এখানেই নিজের সম্পর্কে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, “আমার দ্বারা খুশু হবে না।” কিন্তু মন একবার অন্যদিকে চলে যাওয়া মানেই আপনি সালাতের প্রতি উদাসীন, এমন নয়। মনকে ফিরিয়ে আনতে হয়, আর সেই ফেরানোর প্রস্তুতি অনেক সময় তাকবিরের আগেই শুরু হয়।

আল্লাহ সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বলতে গিয়ে বলেছেন, “যারা তাদের সালাতে বিনয়ী ও একাগ্র।”
সূরা আল মুমিনুন, ২৩:১–২

অর্থাৎ সালাত শুধু শেষ করার বিষয় নয়। আমরা কার সামনে দাঁড়িয়েছি, কী বলছি, কেন বলছি, হৃদয় সেখানে আছে কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার সালাতেও মন বারবার হারিয়ে যায়, তাহলে এই সাতটি বিষয় ধীরে ধীরে অভ্যাসে আনতে পারেন।

১. সালাতের আগে এক মিনিট নিজেকে থামান।
সারাদিনের ব্যস্ততা থেকে সরাসরি তাকবিরে চলে গেলে শরীর সালাতে দাঁড়ালেও মন তখনও আগের কাজেই পড়ে থাকতে পারে। ওযুর পর কয়েক মুহূর্ত স্থির হন, ফোন সরিয়ে রাখুন, নিজেকে মনে করিয়ে দিন, “এখন আমি আমার রবের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি।” এই ছোট্ট প্রস্তুতি মনকে সালাতের দিকে ঘুরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

২. আপনি যা পড়ছেন, তার অর্থ শিখুন।
সূরা ফাতিহা প্রতিদিন কতবার পড়ি, কিন্তু প্রতিটি আয়াতের অর্থ কি মনে থাকে? রুকু, সিজদা, তাশাহহুদ এবং নিয়মিত পড়া ছোট সূরাগুলোর অর্থ ধীরে ধীরে শিখুন। একসময় দেখবেন, মুখ শুধু শব্দ পড়ছে না, হৃদয়ও বুঝতে পারছে আপনি আপনার রবের সামনে কী বলছেন।

৩. সালাতকে কাজের ফাঁকে রাখবেন না, কাজকে সালাতের চারপাশে সাজান।
“আর পাঁচ মিনিট পরে”, “ভিডিওটা শেষ হোক”, “এই কাজটা শেষ করে পড়ব” বলতে বলতে আমরা কখনো সালাতকে এমন সময়ে নিয়ে যাই, যখন শরীর ক্লান্ত আর মন অস্থির। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নিকট প্রিয় আমলের মধ্যে সময়মতো সালাত আদায়ের কথা বলেছেন।
সহিহ আল বুখারি, ৫২৭

সালাত যখন দিনের স্থির appointment হয়ে যায়, তখন মনও ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে, এটা অন্য সব কাজের পরে রাখা কোনো বিষয় নয়।

৪. শুরু করার আগে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
নিজের ভাষায় বলুন, “আল্লাহ, আমার মনটাকে আপনার দিকে ফিরিয়ে দিন। আমাকে বুঝে, মন দিয়ে সালাত পড়ার তাওফিক দিন।” এটাকে কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক দোয়া মনে করার প্রয়োজন নেই। এটা আপনার রবের কাছে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ বলেছেন, “আমার স্মরণের জন্য সালাত কায়েম করো।”
সূরা ত্ব হা, ২০:১৪

৫. তিলাওয়াত একটু ধীরে করুন।
কখনো আমরা এত দ্রুত পড়ি যে জিহ্বা এগিয়ে যায়, কিন্তু হৃদয় পিছনে পড়ে থাকে। আল্লাহ বলেছেন, “কুরআন ধীরে ও স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করো।”
সূরা আল মুযযাম্মিল, ৭৩:৪

প্রতিটি আয়াতের শেষে সামান্য থামুন। অর্থ জানা থাকলে এক মুহূর্ত অর্থটা মনে করুন। লক্ষ্য সালাত অকারণে দীর্ঘ করা নয়, বরং আপনি কী বলছেন সেটা অনুভব করার সুযোগ তৈরি করা।

৬. সিজদাকে শুধু দ্রুত পার হওয়ার ধাপ বানাবেন না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে যখন সে সিজদায় থাকে, তাই তখন বেশি দু‘আ করতে বলেছেন।
সহিহ মুসলিম, ৪৮২

সিজদায় একটু স্থির হন। আপনার ভয়, ক্লান্তি, অভাব, অপরাধবোধ, আশা সব আল্লাহ জানেন। আপনি এমন একজনের সামনে মাথা রেখেছেন, যাঁর কাছে কিছুই গোপন নেই।

৭. যে জিনিস মন কেড়ে নেয়, আগে থেকেই সেটা সরিয়ে দিন।
ফোন সামনে রেখে notification না দেখার যুদ্ধ করার চেয়ে ফোনটা দূরে রাখা সহজ। আবার খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার সামনে থাকলে, অথবা পেশাব পায়খানার তীব্র চাপ থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন অবস্থায় সালাত শুরু না করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন খাবার উপস্থিত এবং মন সেটার দিকে টানছে, অথবা প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রাখতে হচ্ছে।
সহিহ মুসলিম, ৫৬০

আর সালাতের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ওয়াসওয়াসা, কিরাআত বা মনোযোগে বিঘ্ন বাড়তে থাকলে তারও Sunnah ভিত্তিক করণীয় আছে। উসমান ইবন আবিল আস রা. এমন অভিযোগ করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে এবং বাম দিকে তিনবার হালকা ফুঁ বা থুতুর ভঙ্গি করতে বলেছেন।
সহিহ মুসলিম, ২২০৩

সবগুলো একদিনে perfect করতে হবে না। আজ শুধু একটি জিনিস বেছে নিন। হয়তো পরের সালাতের আগে এক মিনিট চুপ করে থাকবেন, হয়তো আজ সূরা ফাতিহার অর্থ আবার পড়বেন, অথবা ফোনটা অন্য ঘরে রেখে সালাত আদায় করবেন।

আর একটা কথা খুব জরুরি। সালাতে মন একবার অন্যদিকে চলে গেলেই “আজও হলো না” ভেবে হতাশ হবেন না। যখনই বুঝবেন মন চলে গেছে, তখনই আবার ফিরিয়ে আনুন। মনকে ফিরিয়ে আনার প্রতিটি চেষ্টাই প্রমাণ করে, আপনি আপনার রবের সামনে মন নিয়ে দাঁড়াতে চান।

হয়তো এতদিন আমরা সালাত পড়েছি। এখন চেষ্টা করি সালাতকে অনুভব করতে।

আল্লাহ আমাদের সালাতে খুশু দান করুন, তাঁর স্মরণে অন্তরকে জীবন্ত করুন এবং এমন সালাতের তাওফিক দিন যার পর শুধু দায়িত্ব শেষ হওয়ার স্বস্তি নয়, রবের সামনে দাঁড়িয়ে আসার প্রশান্তিও অনুভব করি। আমিন।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

📌 পোস্ট-টি সদকায়ে জারিয়া এবং ইসলাম প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করে অশেষ সওয়াবের ভাগিদার হোন। এই পোস্ট আপনার আখেরাতের কঠিন মুসিবাতের সময় নাজাতের ওসিলা হয়ে যাক, আমিন🤲

🌿 বাস্তব জীবনের প্রশ্ন, চিন্তা ও সমস্যার ইসলামিক সমাধান পেতে আমাদের পেজ NahWa Ad-Deen Follow করে রাখুন।

📚 একদম ফ্রিতে ইসলামিক বই পেতে ইলমযাত্রা গ্রুপে যুক্ত হোন।

🎓 একদম ফ্রিতে ইসলামিক দ্বীনি ক্লাস করতে রিহলাতুল ইলম । Free Islamic Classes গ্রুপে যুক্ত হোন।

09/12/2026

আপনার কিশোরী মেয়ে যদি একদিন বলে, “আমাকে হিজাব পরতেই হবে কেন?”

প্রশ্নটা শুনেই হয়তো আপনার ভেতরে একটু ভয় ঢুকে যাবে। মনে হতে পারে, “এতদিন তো ঠিকই ছিল, এখন হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন? ও কি হিজাব ছেড়ে দিতে চাইছে?” কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগে একটা কথা মনে রাখুন, প্রশ্ন করা আর অস্বীকার করা এক জিনিস নয়। অনেক সময় আপনার মেয়ে হিজাবের বিরুদ্ধে নয়, সে শুধু জানতে চাইছে, “আমি যেটা করছি, কেন করছি?”

কিশোর বয়সে এই প্রশ্নটা অস্বাভাবিকও নয়। স্কুলে গিয়ে সে অন্য মেয়েদের দেখে, বন্ধুদের কথা শোনে, নিজের appearance নিয়ে সচেতন হয়, কে তাকে কীভাবে দেখছে সেটাও ভাবতে শুরু করে। তখন তার মনে আসতেই পারে, “আমার বন্ধুদের তো হিজাব করতে হয় না”, “মানুষ আমাকে আলাদা ভাবলে?”, “শুধু মেয়েদেরই কেন?”, “হিজাব কি শুধু মাথায় কাপড় দেওয়ার নাম?” এসব প্রশ্নকে যদি শুধু “এত প্রশ্ন করো কেন?” বলে থামিয়ে দেওয়া হয়, সে হয়তো চুপ করবে, কিন্তু প্রশ্নটা তার ভেতরেই থেকে যাবে।

তাই প্রথমে খুব সহজ করে বলুন, হিজাব কোনো পারিবারিক tradition বা মানুষের বানানো সামাজিক নিয়ম নয়। এটি আল্লাহর আনুগত্যের অংশ। আল্লাহ মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত করতে, নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে, সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমা মানতে এবং তাদের মাথার আবরণ বক্ষদেশের ওপর টেনে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবার মুমিন নারীদের বাইরের পোশাক নিজেদের ওপর টেনে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
— সূরা আন নূর, ২৪:৩১; সূরা আল আহযাব, ৩৩:৫৯

তবে এখানেই কথা শেষ করবেন না। শুধু “আল্লাহ বলেছেন, তাই করতে হবে” বললে বিধানটি সত্য থাকে, কিন্তু আপনার মেয়ের মনের সব প্রশ্নের উত্তর নাও হতে পারে। তাকে বুঝতে সাহায্য করুন, আল্লাহর কোনো বিধানই তাকে ছোট করার জন্য নয়। তিনি নারী ও পুরুষ উভয়কেই দায়িত্ব দিয়েছেন, যদিও কিছু দায়িত্বের ধরন আলাদা।

বরং নারীদের পর্দার নির্দেশের আগেই আল্লাহ মুমিন পুরুষদের বলেছেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করতে এবং পবিত্রতা রক্ষা করতে।
— সূরা আন নূর, ২৪:৩০

তাই মেয়েকে কখনো এমনভাবে শেখাবেন না, “তুমি মেয়ে, তোমাকেই ঢাকতে হবে, না হলে ছেলেরা খারাপ হবে।” একজন পুরুষ তার দৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী, একজন নারী তার নিজের পোশাক, দৃষ্টি ও আচরণের জন্য দায়ী। হিজাব পুরুষের ভুল আচরণের দায় নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার নাম নয়; এটি একজন মুমিন নারীর নিজের রবের প্রতি আনুগত্যের অংশ।

আর হিজাবকে শুধু মাথার একটি scarf-এর মধ্যেও সীমাবদ্ধ করবেন না। ইসলামের শালীনতার শিক্ষা পোশাকের পাশাপাশি দৃষ্টি, আচরণ, কথাবার্তা এবং নারী পুরুষের পারস্পরিক সীমাবোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত। আবার কোনো মেয়ে হিজাব করতে গিয়ে কষ্ট করছে বলে তার পুরো দ্বীনদারিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করাও ঠিক নয়। মানুষ কখনো কখনো আল্লাহর বিধানকে সত্য বলে বিশ্বাস করেও তা পালন করতে সংগ্রাম করে, আর সেই সংগ্রামের সময়ই তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নসিহাহ, দোয়া এবং নিরাপদ একটি পরিবার।

এখানে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। কিশোরী হলেই যে সে শরয়িভাবে বালেগ হয়েছে, এমন নয়। ছোট বয়স থেকেই হায়া, শালীন পোশাক ও ইসলামী আদবের অভ্যাস তৈরি করা যায়, কিন্তু শরয়ি দায়িত্ব বালেগ হওয়ার পর প্রযোজ্য হয়। তাই বয়স, মানসিক প্রস্তুতি এবং শরয়ি অবস্থার পার্থক্য বুঝে সন্তানকে শেখানো জরুরি।

হয়তো আপনার মেয়ে একদিন বলবে, “মানুষ আমাকে judge করলে?” কথাটা আপনার কাছে ছোট মনে হলেও তার কাছে হয়তো খুব বড়। এমন বয়সে বন্ধুদের স্বীকৃতি, স্কুলের পরিবেশ এবং অন্যরা কী ভাবছে, এগুলো অনেক বেশি অনুভূত হয়। তখন শুধু “মানুষের কথা শুনবে না” বলবেন না। আগে স্বীকার করুন যে তার জন্য বিষয়টা কঠিন হতে পারে, তারপর শেখান, মানুষের মতামত প্রতিদিন বদলায়, কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য মানুষের স্বীকৃতি নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়, আল্লাহ তার জন্য মানুষের ব্যাপারে যথেষ্ট হয়ে যান।
— জামে আত তিরমিযি, ২৪১৪

কিন্তু এখানেই আমরা অনেক মা বাবা বড় একটা ভুল করে ফেলি। মেয়ে হিজাব নিয়ে দুর্বলতা প্রকাশ করতেই বলে ফেলি, “খুললে তুমি খারাপ মুসলিম”, “মানুষ কী বলবে?”, “আমাদের মানসম্মান শেষ করে দেবে”, “এভাবে থাকলে তোমাকে কে বিয়ে করবে?” ভয় দেখিয়ে হয়তো কিছুদিন তাকে বাধ্য রাখা যাবে, কিন্তু ভয় সবসময় conviction তৈরি করে না। উল্টো একসময় মেয়েটি হিজাবকে আল্লাহর ভালোবাসার বদলে পরিবার, সামাজিক চাপ আর লজ্জার সঙ্গে যুক্ত করে ফেলতে পারে।

তার বদলে পাশে বসুন। জিজ্ঞেস করুন, “তোমার কোন জায়গাটা সবচেয়ে কঠিন লাগে?” হয়তো সে বলবে গরম লাগে, হয়তো বন্ধুদের মাঝে awkward লাগে, হয়তো নিজের appearance নিয়ে insecurity আছে, হয়তো কোনো প্রশ্নের উত্তর সে কখনোই পায়নি। সে যা বলবে, মাঝখানে থামিয়ে defence mode-এ যাবেন না। আগে শুনুন, তারপর উত্তর দিন।

আর উত্তর না জানলে বলুন, “আমি নিশ্চিত হয়ে তোমাকে বলব।” সন্তানের সামনে সব প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর জানা মা বাবার দায়িত্ব নয়, কিন্তু সত্য খুঁজে দেওয়ার আন্তরিকতা থাকা দায়িত্ব। কখনো কখনো এই একটি বাক্যই সন্তানকে শেখায়, ইসলাম প্রশ্নকে ভয় পায় না।

আর যদি সে সরাসরি বলে, “আমি হিজাব করতে চাই না”? তখন তার কথাকে হালকা করে দেবেন না, আবার আল্লাহর বিধানকেও অস্পষ্ট করবেন না। আগে বুঝুন সমস্যাটা কোথায়। এটা কি বিশ্বাসের প্রশ্ন, বন্ধুদের চাপ, স্কুলের পরিবেশ, নিজের appearance নিয়ে অস্বস্তি, কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা, নাকি শুধু অভ্যাসের কষ্ট?

বালেগ হওয়ার পর আল্লাহর বিধান মানার দায়িত্ব তার ওপর আসে, এটা তাকে সুন্দরভাবে স্পষ্ট করুন। কিন্তু সেই সঙ্গে তাকে একা ছেড়ে দেবেন না। ধৈর্য ধরে বোঝান, তার কষ্টের বাস্তব সমাধান খুঁজুন, ভালো পরিবেশ তৈরি করুন এবং নিজের জীবন দিয়েও দেখান যে আল্লাহর আনুগত্য শুধু মেয়ের জন্য কোনো নিয়ম নয়, পুরো পরিবারের জীবনধারা।

বিশেষ করে আপনার নিজের আচরণটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি তাকে হিজাব শেখান কিন্তু নিজের কথাবার্তায় অন্যের পোশাক নিয়ে অপমান করেন, মানুষকে ছোট করেন, গীবত করেন বা দ্বীনের ব্যাপারে দ্বৈত মানদণ্ড রাখেন, তাহলে সে আপনার কথার চেয়ে সেই contradiction-টাই বেশি মনে রাখবে। সন্তান আমাদের নসিহাহ শোনে, কিন্তু আমাদের জীবনও খুব মন দিয়ে পড়ে।

একদিন হয়তো সেই মেয়েটাই আয়নার সামনে নিজের হিজাব ঠিক করতে করতে বুঝবে, “আমি এটা শুধু আম্মু বলেছে বলে করছি না। আমি আমার রবের জন্য করছি।” সেদিন হিজাব শুধু তার মাথায় থাকবে না, তার সিদ্ধান্তের ভেতরেও থাকবে।

এটাই তো আসল লক্ষ্য। শুধু এমন একটি মেয়ে বড় করা নয় যার মাথায় হিজাব আছে, বরং এমন একজন মুমিনাহকে বড় করা, যে জানে কেন আল্লাহর আনুগত্য করে, প্রশ্ন এলে উত্তর খোঁজে, দুর্বল হলে আবার ফিরে আসে এবং মানুষের মতামতের চেয়ে নিজের রবের সন্তুষ্টিকে বড় করতে শেখে।

তাই আপনার মেয়ের “কেন?” শুনে ভয় পাবেন না। হয়তো এই প্রশ্নটাই তার দ্বীনকে শুধু inherited habit থেকে conscious faith-এর দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি দরজা হতে পারে। দরজাটা বন্ধ করে দেবেন না, তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সঠিক পথে হাঁটতে সাহায্য করুন।

আল্লাহ আমাদের কন্যাদের হায়া, উপকারী ইলম, দৃঢ় ঈমান ও সুন্দর চরিত্র দান করুন। আর আমাদের এমন মা বাবা হওয়ার তাওফিক দিন, যাদের কাছে সন্তান দ্বীনের প্রশ্ন নিয়ে এলে ভয় নয়, নিরাপত্তা অনুভব করে। আমিন।

মূল ভাবনা ও রেফারেন্স: Faith & Fiqh, Instagram

— NahWa Ad Deen

Address

Buffalo, NY

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Journey to be a good Muslimah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share