14/11/2015
ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল:
১/ ISO (Sensitivity): এটি হচ্ছে একটি মাপ, যা বলে দেয়
CCD বা CMOS সেনসর কতখানি সংবেদনশীল বা আলোর
স্পর্শে কত তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করবে। Low ISO Rating -
এর অর্থ এটা কম সংবেদনশীল অর্থাৎ যথার্থ
এক্সপোজারের জন্য বেশি আলোর প্রয়োজন হবে। High
ISO Rating -এর বেলায় হবে ঠিক উল্টো। সাধারণত ISO 100
- ISO 400 ব্যবহার হয় বেশি। ISO Rating যত বেশি হবে
ক্যামেরা কম আলোর ছবি তত বেশি ভালো তুলতে
পারবে।
২/ Imaze Stabilazator: খুবই প্রয়োজনীয় একটি ফিচার।
এক্সপোজারের সময় ক্যামেরা কাঁপলে ছবি ঝাপসা হয়।
এই সমস্যাকে কমিয়ে আনার জন্য image stabilization
অথবা vibration reduction systems। এক্সপোজারের সময়
ক্যামেরা কাঁপলে সেনসর নিজেই সামান্য স্থান
পরিবর্তন করে সেটা ব্যালেন্স করে নেয়। জুমের মত
এখানেও Optical Stabilazator গুরুত্বপূর্ণ, ডিজিটাল নয়।
৩/ Viewfinder/LCD Display: যে ব্স্তু বা ব্যক্তির ছবি তুলব
তা আমরা ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমেই দেখি। আমরা যে
দৃশ্যের ছবি তুলবো সেটা ফ্রেমের মধ্যে কেমন
দেখাচ্ছে তা ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমে অথবা এলসিডি
ডিসপ্লেতে দেখে সন্তুষ্ট হলেই শাটার বাটন চাপ দিয়ে
ছবি তুলি। এছাড়া ছবি তোলার পর ডিসপ্লেতে দেখতে
পারি ছবিটি ভালো হয়েছে কিনা, নাহলে ডিলিট
করতে পারি। সুর্যের প্রকট আলোতে ডিসপ্লের পরিবর্তে
ভিউফাইন্ডার ভালো। সুতরাং ভিউফাইন্ডার ও ডিসপ্লে
দুটিই প্রয়োজনীয়। ডিসপ্লের ব্যবহারে ব্যাটারী
তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। ডিসপ্লে কমপক্ষে ৩ ইঞ্চি
(কোনাকুনি দৈর্ঘ্য) হওয়া উচিত।
৪/ Autofocus: ছবি তোলার সময় আমরা লেন্সকে জুম ইন বা
জুম আউট করে অথবা নিজে ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন
দিকে মুভ করে ভিউফাইন্ডার/ডিসপ্লেতে দেখি কোন
পজিশনে ছবিটি ফোকাস পয়েন্টে আসে। এই কাজটি
লেন্সকে আগে পিছে মুভ করে ক্যামেরা নিজে নিজে
করাকেই বলে অটোফোকাস।
৫/ White Balance: ছবি থেকে অবাস্তব রঙের প্রভাব দুর
করে বাস্তবসম্মত সাদা করার প্রসেসকে বলে হোয়াইট
ব্যাল্যান্স। বিশেষ করে যেখানে সাদার প্রধান্য বেশি
সেসব ক্ষেত্রে যদি ফ্লোরোসেন্ট বাতি জালানো হয়
তখন সাদার মধ্যে একটি নীলাভ আভা প্রতিপলিত হয় যা
ছবির কালারকে অবাস্তব করে তোলে।
৬/ Flash: সাধারণত কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার
built-in flash ৩-৫ মিটার দুরত্ব কভার করে। অন, অফ, অটো
ছাড়াও ফ্লাশ লাইটেরও আবার বিভিন্ন মুড থাকে যা
ক্যামেরার ইউজার ম্যানুয়েল দেখে সঠিকভাবে ব্যবহার
করা যায়। কিছু ক্যামেরায় Infrared sensor থাকে যার
মাধ্যমে ক্যামেরা ও ছবির টার্গেটের দুরত্ব নির্ণয় করে
ফ্লাশ এডজাস্ট হয়ে যায়। অনেক ক্যামেরায় আবার
External Flash Unit ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তবে তা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসএলআর ক্যামেরার বেলায়।
৭/ Red Eye Reduction: মানুষ বা জীব-জন্তুর ছবিতে
অনেকসময় দেখা যায় চোখের রেটিনা লাল বর্ণের হয়ে
গেছে। শটের সময় ফ্লাশের আলো সামান্য কোণ সৃষ্টি
করে লেন্সে ফিরে আসে। চোখের রেটিনা হল আয়নার
মত। কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় ফ্লাশ লাইট ও লেন্সের
অবস্থান খুবই কাছাকাছি। পোট্রেইট বা ক্লুজ আপ শট
নেওয়ার সময় ফ্লাশ লাইটের আলো যখন রেটিনা থেকে
প্রতিপলিত হয়ে সোজাসুজি লেন্সে চলে আসে তখনই
রেটিনার ছবি লাল হয়। এই সমস্যাকে এড়ানোর জন্য Red-
Eye Reduction Flash Mode।
৮/ Continuous Shot Function: দ্রুত গতিতে চলমান কোন
বস্তু (গাড়ি) বা ব্যক্তির (খেলোয়াড়) ছবি তোলার জন্য
Continuous Shooting বা Burst Mode। এই মুডে শাটার বাটন
পুরো চাপ দিলে ক্যামেরা পরপর অনেকগুলো ছবির
(সিরিজ) শট নেবে এবং সাথে সাথে মেমরিতে সেভ
করবে। সেখান থেকে দেখে সবচেয়ে ভালো ছবিটি
রেখে বাকীগুলো ডিলিট করতে পারেন। ভালো
ক্যামেরায় সিরিজে ছবির সংখ্যা বেশি হয় ও ছবি
রেকর্ডের গতি দ্রুত হয়।
৯/ Video with sound: সাউন্ডসহ ভিডিও করার ফিচার। এটা
কখনও ভিডিও ক্যামেরার সমতুল্য নয়, শুধু কয়েক মিনিটের
ভিডিও ক্লিপ। কোন বিশেষ মুহুর্তকে রেকর্ড করার জন্য
প্রয়োজনীয় একটি ফিচার।
১০/ File Format: প্রায় সব ক্যামেরাই তিন ধরনের ফাইল
ফরমাট সাপোর্ট করে: JFEG, TIFF এবং RAW। JFEG
(ডিফল্ট ফরমাট) কমপ্রেশন ফরমাট অর্থাৎ ফাইলের
সাইজ ছোট করার জন্য ছবির অপ্রয়োজনীয় ও কম
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেয়া হয়। TIFF ফরমাটেও কমপ্রেস হয়
তবে ছবির কোন তথ্য বাদ দেয় না। ফাইল সাইজ বড় হয়।
RAW ফরমাটে কোন কমপ্রেস হয় না, ছবির সম্পুর্ণ
ডিজিটাল নেগেটিভ।
১১/ Storage Media: ডিজিটাল ক্যামেরার সাথে যে
মামোরি (12 MB - 32 MB) দেয়া হয় তা খুবই অল্প। তাই
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মেমোরি কিনতে হয়।
সুতরাং ক্যামেরা কেনার আগে দেখা উচিত কোন
ধরনের মেমোরি কার্ড কিনতে হবে। তার দাম কেমন ও
সহজলভ্য কিনা। উল্লেখযোগ্য মেমোরি কার্ড
CompactFlash, Secure Digital, SDHC, xD Picture, Memory
Stick, MicroDrive, and SmartMedia. তবে SD ও SDHC কার্ড
হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সহজলভ্য কার্ড। সাধারণত
2GB - 4GB মেমোরি যথেষ্ট। ছবি পেন ড্রাইভ বা
সিডিতে কপি করে মেমোরি খালি করলেই হয়ে যায়।
সাধারণত 4GB মেমোরিতে 10 MP ক্যামেরায় JFEG
ফরমাটের প্রায় ১১৫০ টি ছবি ও 8 MP ক্যামেরায় ১৪৫০টি
ছবি সেভ করা যায়।
১২/ Power Sources: ডিজিটাল ক্যামেরার বহুমুখী
ফাংশন ও এলসিডি ডিসপ্রের জন্য যথেষ্ট বিদুৎ
প্রয়োজন। সুতরাং রিসার্জেবল ব্যাটারীর কোন বিকল্প
নেই। সাধারণত ব্যাটারীর অপশন তিন রকমের হয়ে
থাকে।
ক) Lithium Ion ব্যাটারী, এটি ক্যামেরার সাথেই থাকে
এবং ক্যামেরাসহ চার্জ করতে হয়। অবিকল মোবাইল
ফোনের মত। নতুন ব্যাটারীকে প্রথমবার ৮-১২ ঘন্টা
চার্জে রেখে পূর্ণ চার্জ করা ভালো (ম্যানুয়েল
দ্রষ্টব্য)। বিভিন্ন ক্যামেরার ব্যাটারীর সাইজ ও মডেল
বিভিন্ন রকমের হয়। অনেকদিন ব্যবহারের পর ব্যাটারীর
চার্জ বেশিক্ষণ থাকে না। যারা ক্যামেরা নিয়মিত
ব্যবহার করেন সম্ভব হলে তাদের একটা রিজার্ভ
ব্যাটারী কিনে নেয়া ভালো।
খ) সার্জারসহ Lithium Ion ব্যাটারী, সবকিছু উপরের মতই,
শুধু পার্থক্য হচ্ছে আলাদা একটি চার্জার থাকে,
ব্যাটারী ক্যামেরা থেকে বের করে এই চার্জারে
রেখে চার্জ করতে হয়। সুবিধা হল, একটা এক্সট্রা
ব্যাটারী কিনলে একটা স্ট্যান্ড বাই চার্জে রেখে
আরেকটা দিয়ে ক্যামেরার কাজ চালানো যায়।
গ) Rechargeble AA NiMh (পেন্সিল ব্যাটারী)। এ অপশনে
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাটারী ও চার্জার আলাদাভাবে
নিজেকে কিনতে হয়। ব্যাটারীর চার্জের ক্ষমতা mAh
বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
১৩/ Interfaces: সব ক্যামেরার সাথে USB ক্যাবল থাকে।
অনেক ক্যামেরার সাথে টিভি কানেকটিং কেবল
থাকে যাতে ক্যামেরার ছবি সরাসরি টিভিতে দেখা
যায়।
১৪/ Self-timer option: কোন বিশেষ দৃশ্যে বা কোন গ্রুপের
সাথে নিজের ছবি তুলতে এই অপশন। ক্যামেরাকে
ট্রাইপড বা স্টাবিল কোন কিছুর উপরে রেখে দৃশ্য
নির্বাচন করে এই অপশনটি নির্বাচন করে আপনি
সেখানে গিয়ে দাড়াঁন। ৫-১০ সেকেন্ড পর ক্যামেরা
নিজেই শট নেবে।
১৫/ Photo Editing Software: সব ক্যামরার সাথে একটি
ফ্রি ফটো এডিটিং সফটওয়্যার দেয়া হয়। কোনটা
পাওয়ারফুল আবার কোনটা সিম্পল। এই প্রোগ্রাম
কমপিউটারে ইনস্টল করে ফটো এডিটের কাজ করা যায়।
১৬/ In-Camera Photo Editing: ইদানিং লেটেস্ট মডেলের
ক্যামেরায় In-Camera Photo Editing টুলস থাকে। এই টুলস
দিয়ে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে ছবির বেসিক এডিটিং
করা যায়। যেমন: ছবির আলো/কনট্রাস্ট কমানো-
বাড়ানো, সাইজ ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ
দেয়া, ক্লোজ আপ করা ইত্যাদি।
১৭/ Color Accent/Color Swap : ইদানিং লেটেস্ট মডেলের
ক্যামেরায় বিশেষ করে CANON মডেলে এই ফিচারটি
থাকে। কোন ছবির নির্বাচিত অংশের কালার রেখে
অবশিষ্ট অংশকে সাদা-কালো করার নাম Color Accent।
১৮/ Color Swap হচ্ছে কোন ছবির সবকিছু ঠিক রেখে
নির্বাচিত কোন কালারকে অন্য কালারে পরিবর্তন
করা। যেমন একটি ছবির সবকিছু ঠিক থাকবে শুধু ঘাসের
বং সবুজের পরিবর্তে লাল হবে!