29/05/2025
অপেক্ষা
তেপান্তরে মেঘ জমেছে,
বাড়ি যাব বলে সব গুছিয়ে নিয়েছি।
আকাশটাও আজ রক্তিম সাজে সেজেছে।
রাগ করেছে নাকি আমার উপর কে জানে?
তোমার দেখা পাওয়ার আশায় মনটা আজ অস্থির।
যেদিন তুমি শেষবার পেছন ফিরে তাকিয়ে বলেছিলে, “তাড়াতাড়ি ফিরো”—সেদিন বুঝিনি, সেই চাহনিতে এতটা অভিমান লুকানো ছিল।
আজ বুঝি, দূরত্ব শুধু কিলোমিটারে মাপে না—চোখের ভাষা না বোঝা মানেই সম্পর্কটা একটু দূরে সরে যাওয়া।
দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসে তোমার গানের সুর। আমি জানি, তুমি এখনো সেই পুরোনো কাঁথাটা গায়ে দিয়ে বারান্দায় বসে থাকো, হয়তো আমায় মনে করে।
আমি পথচেয়ে থাকি ট্রেনের সেই জানালার পাশে বসে—যে পথে ছুটে যাচ্ছি তোমার কাছে, আমার ঘরে।
তুমি জানো, আকাশ দেখে এখন আমার মনে হয়—ওটাও যেন অপেক্ষায় থাকে।
আকাশ জানে, আমি কতখানি তোমার স্পর্শ চাই, কতটা অভিমানী এই বুক।
রোদ, মেঘ, বৃষ্টি—সব যেন একেকটা দিন আমার একাকীত্বের সাক্ষ্য হয়ে থাকে।
বাড়ির উঠোনে এখনো তোমার লাগানো বেলিফুল গাছটা ফুল দেয়।
আমি গায়ে হালকা মাটির গন্ধ মেখে গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে থাকি—ভেবে নিই, তুমি পাশে আছো।
তুমি তো চুপচাপেই ভালোবাসতে, অনেক কিছু না বলেই বুঝিয়ে দিতে—আজ সেই নীরবতাই যেন চারপাশে ছড়িয়ে গেছে।
প্রতিটি মুহূর্তে ভাবি—তুমি কি অপেক্ষা করছো আমার মতোই?
তোমার হাতে এখনো কি আমার দেওয়া চুড়িগুলো ঝুম ঝুম করে?
তোমার ঘুমের মাঝে কি এখনো আমার ডাক ভেসে আসে?
আমি জানি, ফিরে এসে তোমার চোখে চোখ রাখলেই সব ভুল ভাঙবে।
তুমি শুধু একবার বলো, “এবার দেরি করো না”—আমি আর এক পা-ও দূরে যাব না।
আমার ব্যাগে এখন কেবল তোমার জন্য কেনা ছোট্ট একটা নাকচাবি, আর মনভরা অপেক্ষা।
আরেকটা সন্ধ্যা পেরোলেই পৌঁছে যাব তোমার দোরগোড়ায়।
তুমি আলো জ্বেলে রেখো, আমি এসেই পড়ছি।