21/02/2022
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু
গড়ায়ে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি।
আমার সোনার দেশের রক্তে
জাগালো ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি।🖤
আমরা আজ মন খুলে নিজের ভাষায় কথা বলতে পারছি শুধুমাত্র শহীদদের আত্মত্যাগের জন্যেই।
বাংলা ভাষাকে নিজের ভাষা করার জন্য ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" স্লোগানে মেতে উঠেছিলো ছাত্র-সমাজ ।
মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার সাথে একাত্ম হয়ে আছে যে চেতনা, তার নাম মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।
বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মহৎ স্বীকৃতির প্রতীক এই দিনটি। পৃথিবীর বুকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াইয়ের এমন ইতিহাস আর দ্বিতীয়টি নেই। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত করেছিল এদেশের দামাল ছেলেরা।
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ অমর ভাষা শহিদ আজও আমাদের চেতনার স্মারক। তাঁদের ত্যাগে ভাস্বর একুশ বাংলা সংস্কৃতির নতুন চেতনা সঞ্চারকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ। বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে একুশের চেতনা এক অপরিমেয় শক্তি, প্রাণের দীপ্ত জাগরণ।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তাঁর কবিতায় মাতৃভাষা রক্ষার আকুতি ব্যক্ত করেছেন এভাবে-
‘মাগো, ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
বলো মা, তাই কি হয়?’
এত বছর পর তাদের স্মৃতিতে আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেবো তাদের শ্রদ্ধা জানাবো তা কি তারা কখনও ভেবেছিল??
ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।
১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে
'বাংলা ভাষা প্রচলন বিল' পাশ হয়। যা কার্যকর হয় ৮ মার্চ ১৯৮৭ সাল থেকে।
বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতির ইতিহাস যতদিন এই পৃথিবীতে সমুন্নত থাকবে ততদিন বাঙালি জাতি এই মহান ভাষা সৈনিকদের নম্রচিত্তে স্মরণ করবে ‘‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’’।