Ittehad sunnah collection

Ittehad sunnah collection Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ittehad sunnah collection, Shopping & retail, Chittagong.

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন।আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রহ: ইন্তেকাল করেছেন। Ittehad sunnah collection  ...
15/08/2023

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রহ: ইন্তেকাল করেছেন। Ittehad sunnah collection
এর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
সকালে শুনলাম হযরত অসুস্থ দোয়া করেছি দোয়া চেয়েছি আল্লাহর দরবারে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের এই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবেন।
হে আল্লাহ আমাদের দেশে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রহ: মতো কুরআনের তাফসির কারক দান করুন। এবং মরহুমের মাগফিরাত কামনা করছি শোক সন্তপ্ত পরিবার, রাজনৈতিক পরিবার প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
আল্লাহ তায়ালা হযরতকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুক, আমীন।

ইসলামের ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদ...
08/04/2023

ইসলামের ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করেন, তখন যাকাত ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

কিন্তু যাকাত কীভাবে কতটুকু দিতে হবে সে বিষয়ে অনেকের মধ্যেই আছে নানা প্রশ্ন?

যদিও ইসলামী চিন্তাবিদরা বলে থাকেন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং হাদিসে যাকাত সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেমন সবাই জানেযে এক বছরের বেশি সময় ধরে সঞ্চিত স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছাড়াও বিভিন্ন দলিল, শেয়ার সার্টিফিকেট, প্রাইজবন্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র যার আর্থিক মূল্য আছে ইত্যাদির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ, অর্থাৎ যাকাত প্রদানের উপযুক্ত পরিমাণ হয় এবং পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয় তাহলে ইসলামিক আইন অনুযায়ী যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক।
কিন্তু কোন ক্ষেত্রে যাকাত দিতে হবে, কোন ক্ষেত্রে যাকাত দিতে হবে না? কারা এটা পেতে পারে যাকাতের কিছু জরুরী মাসায়েলঃ

১. যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন বালেগ মুসলমানের কাছে নিজের প্রয়োজনীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ও বাসগৃহ ইত্যাদি ব্যতীত ঋণমুক্তভাবে যাকাতের নেসাব পরিমান সম্পদ থাকে অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য (৬১২.৩৬ গ্রাম) কিংবা সমপরিমাণ টাকা বা ব্যবসার মাল থাকে এবং তার উপর বছর অতিক্রান্ত হয় তাহলে উক্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত আদায় করা তার উপর ফরয। (আলমগীরী ১/১৭০-১৭৬, শামী ৩/১৭৩-১৭৯)
২. যদি কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা ও কিছু নগদ টাকা থাকে কিন্তু পৃথক পৃথকভাবে কোনটার নেসাবই পূর্ণ হয় না, তবে সবগুলোর মূল্য একত্রে যোগ করলে যে কোন একটির নেসাব পুরা হয়ে যায়, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। - তাতারখানিয়া ২/১৭৪, আলমগীরী ১/১৭৯, শামী ৩/২৩৪
৩. যদি কারো কাছে বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমাণ মাল থাকে কিন্তু বছরের মাঝে ১/২ মাস নেসাব থেকে কম থাকে তাহলে তার উপর যাকাত দেয়া ফরয। হ্যাঁ, যদি বছরের মাঝে সম্পদ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে পূর্বের হিসাব বাদ যাবে। পুনরায় যখন নেসাবের মালিক হবে তখন থেকে নতুন হিসাব ধরা হবে। এবং তখন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে।- আলমগীরী ১/১৭৫, শামী ৩/১৮৩ ও ২৩৩
৪. অর্থ-সম্পদের প্রত্যেকটা অংশের উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। কাজেই কারো কাছে যদি বছরের শুরুতে ৪০,০০০/- টাকা থাকে আর তা বাড়তে বাড়তে বছরের শেষে এক লক্ষ টাকা হয়ে যায় তাহলে বছরের শেষে তাকে এক লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে।- তাতারখানিয়া ২/১৯৩, আলমগীরী ১/১৭৫
৫. ব্যবসার উপকরণের উপর যাকাত আসে না। যেমনঃ মিল, কারখানা, দোকান, উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, মেশিন, ভাড়ায় খাটানো হয় এমন বাড়ি-গাড়ি, রিক্সা, সিএনজি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ইত্যাদি। তবে এগুলো দ্বারা উৎপাদিত পণ্য ও উপার্জিত টাকা নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে।- শামী ৩/১৮৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৫৩
৬. ব্যবসার মাল যার যাকাত আদায় করা শরীয়ত ফরয করেছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐ মাল যা মানুষ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করেছে। যেমনঃ কেউ প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রয় করল, এ সমস্ত মালের যাকাত আদায় করা ফরয। পক্ষান্তরে কারো যদি ক্রয় করার সময় দোদুল্যমানতা থাকে যে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারও করতে পারে, আর লাভ পাইলে বিক্রিও করতে পারে; তাহলে তা ব্যবসার মাল হিসাবে গণ্য হবে না এবং এর যাকাতও ওয়াজিব হবে না। হ্যাঁ, পরবর্তীতে তা বিক্রি করলে বিক্রয়লব্ধ টাকার যাকাত দিতে হবে। যদি সে পূর্ব থেকেই নেসাবের মালিক হয়ে থাকে তাহলে ঐ নেসাবের সাথে এ টাকারও যাকাত আদায় করবে। অন্যথায় এই টাকা নেসাব পরিমাণ হলে বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত ওয়াজিব হবে।- আদদুররুল মুখতার ৩/১৯৪-৯৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/২৪০, ফাতাওয়ায়ে বাযযাজিয়া ৪/৮৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৬৭, ফিকহী মাকালাত ৩/১৫১
৭. দোকান ও ব্যবসার মালের হিসাব তিন প্রকারে করা যায়। (১) খুচরা মূল্য (২) পাইকারী মূল্য (৩) সমস্ত মাল একত্রে বিক্রি করলে যে দাম হয়। যাকাতের হিসাবের সময় তৃতীয় প্রকারের মূল্যের হিসাবে যাকাত দিলেও চলবে। তবে সতর্কতামূলক দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ পাইকারী মূল্যের হিসাবে যাকাত দেয়া উত্তম। -ফিকহী মাকালাত ৩/১৫০, ফাতাওয়ায়ে ওসমানী ২/৬৭
৮. বিক্রিত পণ্যের বকেয়া টাকা হস্তগত হওয়ার পর পেছনের বছর গুলোর যাকাতও একত্রে আদায় করতে হবে। আর যদি বকেয়া টাকা বা ঋণ ফেরত পাওয়ার আশা না থাকে, তাহলে যাকাত দিতে হবে না। তবে পেলে বিগত সকল বছরের যাকাত দিতে হবে।- আলমগীরী ১/১৭৫, শামী ৩/২৩৬-২৩৭
৯. স্বর্ণ ও রূপার উপর সর্বাবস্থায় যাকাত আসে, চাই তা অলংকার আকারে থাকুক কিংবা কাঁচা টুকরা আকারে। ব্যবহৃত হোক কিংবা বাক্সে সংরক্ষিত থাকুক বা কাপড়ে, টুপিতে চশমা ও ঘড়িতে কারূকার্যরূপে থাকুক সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করা ফরয।- আল-বাহরুর রায়ক ২/৩৯৪, শামী ৩/২২৭
১০. মহিলাদের মালিকানায় যে স্বর্ণ বা রূপার অলংকার থাকে এগুলো নেসাব পরিমাণ হলে এগুলোর যাকাত দেয়া তাদের উপর ফরয। নগদ টাকা না থাকলে এগুলো বিক্রি করে হলেও যাকাত আদায় করতে হবে। আর স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে যাকাত আদায় করে দেয় তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অলংকার যদি স্বামীর মালিকানায় থাকে আর স্ত্রীকে ব্যবহারের জন্য দেয় তাহলে সে অলংকারের যাকাত স্বামীকে আদায় করতে হবে।- আহকামুল কুরআন ৩/১৩৯, শামী ৩/২২৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৩/১০৮
১১. স্বর্ণের সাথে যে পরিমাণ খাদ থাকে, খাদের অংশ বাদ দিয়ে শুধু স্বর্ণের অংশের যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট। শামী ৩/২৩০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৭০
১২. প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা হাতে আসার পর বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। কিন্তু যে টাকাটা চাকরীজীবীর হাতে আসার পর স্বেচ্ছায় ঐ ফান্ডে বা অন্য কোন কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করে, তার যাকাত প্রতি বছর আদায় করতে হবে।- শামী ৩/২৩৬, আহসানুল ফাতওয়া ৪/২৬০, মাহমূদিয়া ১৭/১১১
১৩. বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানীর শেয়ার যদি দাম বাড়লে বিক্রি করে দিবে এ উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয় তাহলে তার পূর্ণ বাজার দরের উপর যাকাত আসবে। আর যদি কোম্পানী হতে বাৎসরিক লাভ কামানোর উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়, তাহলে কোম্পানীর যে পরিমাণ সম্পদ যাকাত যোগ্য (যা ব্যালেন্সশীটের সাহায্যে বেরা করা যাবে।) শেয়ার প্রতি তার আনুপাতিক হার যা হয় শুধুমাত্র রমাণের যাকাত দিতে হবে। তবে যদি যাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ জানা সম্ভব না হয় তাহলে সতর্কতামূলক শেয়ারের পূর্ণ বাজার মূল্যের যাকাত দেয়া চাই।- আল-বাহরুর রায়েক ২/৪০০, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৮৭, ইসলাম আওর জাদীদ মায়িশাত ওয়া তিজারত, পৃ. ৯২-৯৪, ফাতাওয়ায়ে উসমানি ২/৭১
১৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে যদি কেউ ১০/১৫ বছরের জন্য F.D.R করে এককালীন বা মাসে মাসে টাকা জমা করতে থাকে এগুলোর যাকাত হিসাব করার নিয়ম হলো যাকাতের বছর শেষে ঐ একাউন্ট ক্লোজড করলে মূল টাকাসহ যত টাকা লাভ পাওয়া যাবে পুরা টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, সুদী ব্যাংকে F.D.R করলে প্রতি বছর মূল জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। যদি প্রতি বছর যাকাত আদায় না করে তাহলে মেয়াদ শেষে টাকা উত্তোলন করলে একসাথে পিছনের সকল বছরের মূল টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আর সূদের অংশ পুরাটাই সাদাকা করে দিবে।- জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৬
১৫. জীবন বীমা কোম্পানীর নিকট জমাকৃত প্রিমিয়ামের যাকাত আদায় করতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী ২/৭১
১৬. ব্যাংকে ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রকার একাউন্টে গচ্ছিত টাকার যাকাত আদায় করা জরুরী। তদ্রুপ বিভিন্ন সমিতি, সমবায় ও সোসাইটির মধ্যে সদস্যগণ মুযারাবা হিসাবে যে টাকা বিনিয়োগ করে থাকে, সেগুলো নেসাব পরিমাণ হলে বা অন্য মালের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা জরুরী।- ফাতাওয়া রহীমীয়া ২/১৪, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল ৩/৩৭৫
১৭. ব্যাংকের একাউন্টে বা অন্য কোথাও গচ্ছিত টাকা তেমনিভাবে যেকোন যাকাতযোগ্য সম্পদ যদি বন্ধক রাখা হয় তাহলে তার যাকাত আদায় করা লাগবে না।- বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৮, আল-বাহরুর রায়েক ২/৩৫৫
১৮. সিকিউরিটি মানি হিসাবে যে টাকা দোকান ও বাড়ির মালিকগণ গ্রহণ করে থাকে; যদি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে তা ভাড়া বাবদ কর্তন করা হয়, তাহলে মালিকদেরকে ঐ টাকার যাকাত দিতে হবে। আর যদি তা ফেরতযোগ্য হয় অর্থাৎ দোকান বা বাড়ি ছেড়ে দিলে তা ফেরত দেয়া হয় ও মালিকগণ ঐ টাকা খরচ না করে আমানত হিসাবে রাখেন তাহলে ভাড়াটিয়াকে ঐ টাকার যাকাত দিতে হবে।- ফাতহুল কাদীর ২/১২১, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৭-১৯
১৯. জমি, প্ল্যাট বা অন্য কিছু কিনে প্রাথমিক যে টাকা দিয়ে বায়না করা হয় সে টাকার মালিক বিক্রেতা। অতএব বিক্রেতাকে এর যাকাত দিতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী ২/৭২
২০. ঋণ দুই প্রকার (১) ব্যক্তিগত ও সাংসারিক প্রয়োজনে মানুষ যে ঋণ নেয়। যাকাতের নেসাব থেকে এ ধরনের ঋণের টাকা বিয়োগ করে বাকী মালের যাকাত দিতে হবে। (২) বাণিজ্যিক ঋণ যা বাণিজ্যিক স্বার্থে যেমন মিল-কারখানা করা, কাঁচা মাল ক্রয় করা ইত্যাদি এগুলোর জন্য যে ঋণ নেয়া হয় যদি তা দ্বারা যাকাতযোগ্য সম্পদ যেমন কাঁচা মাল ইত্যাদি ক্রয় করে, তাহলে এই ঋণও যাকাতের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে। আর যদি এর দ্বারা এমন সম্পদ ক্রয় করা হয় যা যাকাতযোগ্য নয় যেমন মেশিনারী জিনিস ইত্যাদি। তাহলে এ ঋণ যাকাতের মূল নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক ঋণ দ্বারা যদি যাকাতযোগ্য মাল ক্রয় করা হয় তাহলে যাকাতের হিসাবের সময় আগামী এক বছরে পরিশোধযোগ্য পরিমাণ ঋণই শুধু বিয়োগ করা যাবে। এর অতিরিক্তটা এই বছরে বিয়োগ করা যাবে না। যে বছর পরিশোধ করবে ঐ বছর বিয়োগ করতে পারবে।- ফাতাওয়ায়ে ওসমানী ২/৮৩, ফিকহী মাকালাত ৩/১৫৫-৫৬, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ২/৬৭, ইসলাম আওর জাদীদ মাঈশাত ওয়া তিজারত, ৯৪
২১. কাউকে ঋণ দেয়ার পর আদায়ে গড়িমসি করলে তা যাকাত হিসাবে কর্তন করা যাবে না। হঁ্যা, যাকাতের টাকা তার হাতে দিয়ে পূর্বের পাওনা বাবদ তা উসূল করে নিতে পারবে। তাতারখানিয়া ২/১৯৯, তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৭১৫
২২. যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর যদি যাকাত অনাদায়ী থাকে আর ইত্যবসরে সমস্ত মাল বরবারদ হয়ে যায় তাহলে আর যাকাত আদায় করা লাগবে না। আর যদি কিছু মাল বরবাদ হয় তাহলে ঐ অংশের যাকাত দেয়া লাগবে না। তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে তাহলে যাকাত আদায় করা আবশ্যক।- আদদুররুল মুখতার ও শামী ৩/২০৭-২০৮
২৩. স্ত্রীর মহর অনাদায়ী থাকলে যদি তা পরিশোধ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে যাকাতের নেসাব থেকে এই ঋণ বিয়োগ করে বাকী অংশের যাকাত দিলে চলবে। আর যদি পরিশোধ করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে এটাকে এই বছরের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না।- আলমগীরী ১/১৭৩
২৪. কেউ যদি হজের জন্য টাকা জমা করে তাহলে ঐ টাকার যাকাত আদায় করাও ফরয। হজের কাজে টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর ঐ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আলমগীরী ১/১৭৩
২৫. কেউ যদি বাড়ি করার উদ্দেশ্যে টাকা জমা করে তাহলে বাড়ির কাজে ঐ টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর ঐ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। -নায়াদিদুরুল ফিকহ ১/৩৭৮-৩৮৪
২৬. যে মাল ক্রয় করার পর এখনো হস্তগত হয়নি তার যাকাত দেয়া লাগবে না। হ্যাঁ, হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় করা জরুরী।- আল বাহরুর রায়েক ২/৩৫৫ জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৯
২৭. হালাল ও হারাম মাল একত্রে মিশ্রিত হলে যদি হারাম মালের পরিমাণ ও মালিক জানা থাকে তাহলে তা মালিককে ফেরত দেয়া জরুরী। আর যদি পরিমাণ জানা থাকে; কিন্তু মালিক জানা নেই বা তাকে পৌছানো সম্ভব নয়; তাহলে এক্ষেত্রে ঐ টাকাগুলো মালিকের পক্ষ থেকে সাদাকা করে দিবে। পক্ষান্তরে যদি হারাম মালের পরিমান ও মালিক জানা না থাকে; আর হালাল মালের পরিমাণ হারামের চেয়ে বেশি হয় ও হারাম মাল চিহ্নিত করা না যায় এ ক্ষেত্রে সকল মাল একত্রে হিসাব করে পুরাটার যাকাত আদায় করা জরুরী।- শামী ৩/২১৭-২১৮, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ১/২১৬-২১৭
২৮. স্বর্ণ-অলংকার ছাড়া অন্য কোন ধাতুর অলংকার বা মুক্ত কিংবা অন্য কোন মূল্যবান পাথরের অলংকার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত না হলে এগুলোর যাকাত দেয়া লাগবে না।- আরুরুল মুখতা-

ইমরান ইসলামাবাদী
চেয়ারম্যান: ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ মুসলিম কমিউনিটি কাতার
পরিচালক: দারুল ইত্তেহাদ কুরআনিক রিচার্স সেন্টার চট্টগ্রাম

আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘদিন পরেইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর শুভ উদ্বোধন। শুভ উদ্বোধন করেন ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর কর্ণধার...
17/08/2021

আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘদিন পরে
ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর শুভ উদ্বোধন। শুভ উদ্বোধন করেন ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর কর্ণধার, ইমরান ইসলামাবাদীর বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,
এবং সমাজসেবক মুহাম্মদ জাকারিয়া সাহেব দা:।
করোনা পরিস্থিতিতে কাউকে বলার পরিবেশ আসলে করতে পারি নাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ইনশা আল্লাহ নতুনত্বের ছোঁয়ায় আরো বেশি আনন্দিত হবেন আমাদের শোরুমে। ১৭/৮/২০২১

সবাইকে হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা।হিজরি বর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস মুহাররম। পবিত্র কোরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফে এ মাসকে ...
09/08/2021

সবাইকে হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

হিজরি বর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস মুহাররম। পবিত্র কোরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফে এ মাসকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে। কোরআনের ভাষায় এটি সম্মানিত চার মাসের ‘আরবাআতুন হুরুম’ অন্যতম।

এ মাসে রোজা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি, হাদিস : ১/১৫৭)

মুহাররমের রোজার মধ্যে আশুরার রোজার ফজিলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি : ১/২১৮)

আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমজানের পর আর কোনো মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবি করেছিলেন, তখন আমি তার খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১/১৫৭)

অন্য হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম : ১/৩৬৭; জামে তিরমিজি : ১/১৫৮)

আশুরার রোজা সম্পর্কে এক হাদিসে আছে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে— আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখ।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১/২৪১)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম : ১/৩৫৯)

ইসলামিক আইটেমের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন তার নাম।
19/07/2021

ইসলামিক আইটেমের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান।
ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন তার নাম।

Ittehad sunnah collection  নতুনত্বের ছোঁয়ায় চলে আসুন আমাদের আঙ্গিনায়। ইসলামিক আইটেমের পাইকারি খুচরার  বিপুল সমাহার।গু...
29/05/2021

Ittehad sunnah collection নতুনত্বের ছোঁয়ায় চলে আসুন আমাদের আঙ্গিনায়। ইসলামিক আইটেমের পাইকারি খুচরার বিপুল সমাহার।
গুলজার টাওয়ার, চকবাজার, চট্টগ্রাম।
01867698044

শরিয়তের দৃষ্টিতে ইতিকাফ কি?আরবি ‘ইতিকাফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হ...
04/05/2021

শরিয়তের দৃষ্টিতে ইতিকাফ কি?

আরবি ‘ইতিকাফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশক বা অন্য কোনো দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। এর উদ্দেশ্য, মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য, সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আকাঙ্ক্ষা, সওয়াব অর্জনের প্রত্যাশা এবং লাইলাতুল কদর লাভের আশা করা।ইত্তিকাফ হল মুসলিমদের একটি ধর্মীয় চর্চা, যেখানে একজন মুসলিম তার নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী এক বা একাধিক দিন নিকটবর্তী মসজিদে দিনানিপাত করেন|[১] রমজান মাসে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষত রমজানের শেষ দশ দিনের জন্য। অনেক মসজিদেই মুসলমানরা রমযান মাসের শেষ দশ দিনে ইতিকাফে থাকে।ইতিকাফের স্বপক্ষে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন- ‘ওয়া আনতুম আ’কিফু-না ফিল মাসা-জিদ’; তিলকা হুদু-দাল্লাহি ফালা-তাক্বরাবু-হা’। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৮৭) অর্থাৎ আর যখন তোমরা মসজিদ ইতিকাফে বসো তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা এর ধারে কাছেও যেয়ো না। ইতিকাফে বসার অর্থই হচ্ছে, রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করা এবংএই দিনগুলোকে আল্লাহর যিকিরের জন্য নির্দিষ্ট করা। এই ইতিকাফে থাকা অবস্থায় নিজের মানবিক ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন (অজু, গোসল, মিসওয়াক, পায়খানা-পেশাব) পূর্ন করার জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া যায় কিন্তু যৌন স্বাদ আস্বাদন করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা একান্ত অপরিহার্য।

কেননা অন্যান্য নবী-রাসুলদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করে শত শত বছর ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকত। কিন্তু আমাদের হায়াত কম যার কারণে শত শত বছর বেঁচে থেকে ইবাদত করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া লাইলাতুল ক্বদরের রজনী যদি আমরা পেয়েই যাই; তবে হাজার মাসের ইবাদতের সমপরিমাণ ইবাদত একরাত্রিতেই সম্ভব। সুতরাং আমরা লাইলাতুল ক্বদরের জন্য ইতিকাফ করবো। লাইলাতুল ক্বদরের অর্জন ইতিকাফের মাধ্যমেই পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর এই জন্যই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফের জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন।নবী করীম (সাঃ) ও তার পরিবার বর্গের এর ইতিকাফ পালন

১) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:

إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ

“রামাযানের শেষ দশক প্রবেশ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন।”[1] কোমর বাঁধার অর্থ হল: পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে চেষ্টা-সাধনায় লিপ্ত হওয়া। কোন কোন আলেম এর ব্যাখ্যায় বলেন: স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাকা।

২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না:

আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِهِ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।”ইতিকাফ সর্ম্পকিত হাদিস সমূহ



লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও এর ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। জীবনের শেষ রমজান পর্যন্ত তিনি এ সময়কাল পালন করেছেন। মাহে রমজানের শেষ দশক এলে তিনি স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকতেন এবং ইবাদতে মশগুল হতেন। সারা রাত নিজেও জাগতেন এবং পরিজনকেও জাগিয়ে রাখতেন। ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক রাত বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে। তবে ইতিকাফ দীর্ঘ সময় ধরে করা উত্তম, বিশেষত মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ অবস্থায় থাকায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা হাজার মাসের শ্রেষ্ঠতম ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার জীবনে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করে গেছেন। (বুখারি, মুসলিম)। হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘রাসুলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে যে পরিমাণ কষ্ট করতেন, এত কষ্ট অন্য সময় করতেন না।’ (মুসলিম)। তিনি আরও বলেন, ‘শেষ দশক হাজির হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা রাত জাগতেন, পরিবারের সবাইকে জাগাতেন। খুব কষ্ট করতেন এবং কোমরে কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিতেন।’ (বুখারি, মুসলিম)।
সুতরাং আখিরাতের চূড়ান্ত কল্যাণে গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভের জন্য ইতিকাফের প্রস্তুতি নেয়া প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত আবশ্যক। ইতিকাফকালীন সময়ে পরিবারের সকল খরচাদি ও প্রাথমিক সমস্যা সমাধান করে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে রমজানের শেষ দশ দিন সপে দেয়ার জন্য আমরা এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করি। আল্লাহ আমাদেরকে ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর রেজামন্দি হাছিলের তাওফিক দান করুন।আমিন।

নবীজি ইতিকাফের এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশক (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বছর ইতিকাফ করতে পারেননি, পরবর্তী বছর তিনি ২০ রাত ইতিকাফ করেন।’ (তিরমিজি) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করিম (সা.) প্রতি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিফাক করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর ২০ দিন ইতিফাক করেন।’ (বুখারি)
রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা সুন্নত এবং এর ফজিলত অপরিসীম। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে।’ (বায়হাকি) তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিনের ইতিকাফ করল, তার ও দোজখের মধ্যখানে আল্লাহ এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।’ (তিরমিজি)

যে ব্যক্তি ইবাদত মনে করে সওয়াবের নিয়তে ইতিকাফ করেন, তাঁর সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.)-এর ফরমান, ‘ইতিকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকে আর ইতিকাফে লিপ্ত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নেক কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ওই নেক কাজগুলোর পূর্ণ নেকি সে লাভ করবে।’ (ইবনে মাজা) ‘ইতিকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং তাকে ইতিকাফের বিনিময়ে এত বেশি নেকি দেওয়া হবে, যেন সে সব নেকি অর্জনকারী।’ (ইবনে মাজা)পুরুষদের ইতিকাফ

ইতিকাফকারী পুরুষ ২০ রমজান আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছাবেন এবং কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে অবস্থান নেবেন; এমনভাবে যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় পর্দা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়। এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং বিনা প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ।
জাগতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থান করাই ইতিকাফ।মহিলাদের ইতিকাফ

স্ত্রীলোকের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরুহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামাজ আদায় করেন, সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন না।
শুভকামনায়:
মুফতি ইমরান ইসলামাবাদী
চেয়ারম্যান: ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বাংলাদেশ
পরিচালক: দারুল ইত্তেহাদ কুরআনিক রিচার্স সেন্টার চট্টগ্রাম।

ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
14/04/2021

ইত্তেহাদ সুন্নাহ কালেকশন এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শবে_বরাত, বা লায়লাতুল বরাত। শবে বরাত উপলক্ষ্যে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় #শবে_বরাত_সম্পর্কে_সংক্ষিপ্ত_আলোচনাআল্লাহ তা‘আলার...
29/03/2021

শবে_বরাত, বা লায়লাতুল বরাত।
শবে বরাত উপলক্ষ্যে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়

#শবে_বরাত_সম্পর্কে_সংক্ষিপ্ত_আলোচনা
আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত বন্দেগীর মধ্যেই রয়েছে বান্দার চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও পূর্ণতৃপ্তি। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য দৈনিক, সাপ্তাহিক, বাৎসরিক কিছু পূণ্যময় ও বরকতময় ইবাদতের সুযোগ রেখেছেন। সে সমস্ত সুযোগ হতে শা’বান মাসের মধ্য রজনী “শবে বরাত”ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতময় ইবাদতের রাত। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতের মর্ম বুঝে একে উদযাপন করেছেন এবং আপন উম্মতকে এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। সেই আলোকে স্বর্ণযুগ তথা ছাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনদের যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সর্বস্তরের হক্কানী উলামা-মাশায়েখগণ উক্ত রাতকে ইবাদতের বিশেষ রাত হিসেবে উদযাপন করে আসছেন।

#শাব্দিক_ও_পারিভাষিক_অর্থ_ও_নামকরণ:
“শব” শব্দটি ফার্সি। যার আরবী প্রতিশব্দ হলো “লাইলাতুন”। উভয় শব্দের অর্থ রাত। “বরাত” শব্দটি আরবী। যার অর্থ মুক্ত হওয়া। “শবে বরাত” বা “লাইলাতুল বরাত” বাক্যের অর্থ হলো মুক্তির রাত। উক্ত ফযীলতময় রাত্রটি শা’বান মাসের মধ্যরাতে হয়ে থাকে বিধায় হাদীসে “লাইলাতুন নিছ্ফি মিন শা’বান” অর্থাৎ, শা’বান মাসের মধ্য রজনী বলে এর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু উক্ত রাতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমার ঘোষণা করেন, সেহেতু এই রাতকে “লাইলাতুল বারাত” বা “শবে বরাত” বলে নামকরণ করা হয়েছে।

#শবে_বরাতের_প্রমাণিকা_ও_ফযীলত
হাদীসের আলোকে শবে বরাত:
১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
يَطَّلِعُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِعِبَادِهِ إِلَّا لِاثْنَيْنِ: مُشَاحِنٍ، وَقَاتِلِ نَفْسٍ. (قال شعيب الأرنؤوط في تعليق المسند: حديث صحيح بشواهده.)
অর্থ: “আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অতঃপর দুই শ্রেণীর লোক ব্যতীত তাঁর সকল বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। ১. বিদ্বেষপোষণকারী। ২. (অন্যায়ভাবে) হত্যাকারী”। (মুসনাদে আহমদ. খ. ১১ পৃ. ২১৬ হা. ৬৬৪২। তাহকীক শুয়াইব আরনাউত। তিনি টীকাতে বলেন, হাদীসটি শাওয়াহেদসহ ছহীহ।)
২. হযরত মু‘আয বিন জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِن. قال شعيب الأرنؤوط في تعليق صحيح ابن حبان: حديث صحيح بشواهده.
অর্থ: “আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের মধ্য রজনীতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অতঃপর দুই শ্রেণীর লোক ব্যতীত তাঁর সকল বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। ১. মুশরিক। ২. বিদ্বেষপোষণকারী”। (ছহীহ ইবনু হিব্বান. খ. ১২ পৃ. ৪৮১ হা. ৫৬৬৫। তাহকীক শুয়াইব আরনাউত. তিনি উক্ত কিতাবের টীকাতে বলেন, হাদীসটি শাওয়াহেদসহ ছহীহ।)

৩. হযরত আবূ মূসা আশ‘আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ، إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ. قال شعيب الأرنؤوط في تعليق ابن ماجه: حسن بشواهده.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের মধ্য রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অতঃপর দুই শ্রেণীর লোক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন। ১. মুশরিক। ২. বিদ্বেষপোষণকারী”। (সুনানে ইবনে মাজাহ. খ. ২ পৃ. ৪০০ হা. ১৩৯০। তাহকীক শুয়াইব আরনাউত. তিনি টীকাতে বলেন, হাদীসটি শাওয়াহেদসহ হাসান।)

৪. হযরত আবূ ছা’লাবাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اطَّلَعَ اللهُ إِلَى خَلْقِهِ فَيَغْفِرُ لِلْمُؤْمِنِ، وَيُمْلِي لِلْكَافِرِينَ، وَيَدَعُ أَهْلَ الْحِقْدِ بِحِقْدِهِمْ حَتَّى يَدَعُوهُ.
অর্থ: “যখন শা’বান মাসের মধ্য রজনী আসে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন। অতঃপর মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দেন, কাফেরদেকে ঢিল বা সুযোগ দেন, আর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দেন, যতদিন না তারা তা বর্জন করে”। (শুয়াবুল ঈমান. খ. ৫ পৃ. ৩৫৯ হা. ৩৫৫১।)

৫. আম্মাযান হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
فَقَدْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَخَرَجْتُ، فَإِذَا هُوَ بِالبَقِيعِ، فَقَالَ: أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ.
অর্থ: “এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম (অর্থাৎ, বিছানায় পেলাম না)। আমি (তাঁর সন্ধানে) বের হলাম। এসে দেখলাম, তিনি “বাকী” নামক কবরস্থানে আছেন। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি ভয় করছ যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি কোন অবিচার করবেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধারণা করেছি যে, আপনি আপনার অন্য কোন বিবির নিকট গিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা মধ্য শা’বানে (১৫ তারিখের রাত্রে) দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন। অতঃপর “কালব” গোত্রের বকরীর পালের লোমের চেয়েও বেশি সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন”। (সুনানে তিরমিযী. খ. ২ পৃ. ১০৮ হা. ৭৩৯। তাহকীক. বাশ্শার আওয়াদ মা’রুফ।)

৬. হযরত উসমান বিন আবীল আ’ছ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ نَادَى مُنَادٍ: هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ، هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ فَلَا يَسْأَلُ أَحَدٌ شَيْئًا إِلَّا أُعْطِيَ إِلَّا زَانِيَةٌ بِفَرْجِهَا أَوْ مُشْرِكٌ.
অর্থ: “যখন শা’বান মাসের মধ্য রজনী আসে, তখন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে যে, কেউ গুনাহ মাফের প্রার্থনাকারী আছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কেউ অর্থ-সম্পদ প্রার্থনাকারী আছে? আমি তাকে তা দিয়ে দেব। অতঃপর যে কোন ব্যক্তি যে কোন বিষয়ে প্রার্থনা করলে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা দিয়ে দেন। তবে যেনাকারীনী ও মুশরিক” (তাদের ডাকে আল্লাহ তা‘আলা সাড়া দেন না। (শুয়াবুল ঈমান. খ. ৫ পৃ. ৩৬২ হা. ৩৫৫৫।)
এ ছাড়াও মুসনাদে বায্যার ও শুয়াবুল ঈমানে হযরত আবূ বকর রাযি. থেকে, মুসনাদে বায্যারে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. ও হযরত আউফ বিন মালেক রাযি. থেকে এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

#উলামায়ে_কিরামগণের_উক্তির_আলোকে_শবে_বরাত
১. শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন,
ليلة النصف من شعبان، فقد روى في فضلها من الأحاديث المرفوعة والآثار ما يقتضي أنها ليلة مفضلة وأن من السلف من كان يخصها بالصلاة فيها.
অর্থ: “শবে বরাতের ফযীলতের ব্যাপারে কিছু মারফু হাদীস ও আছারে ছাহাবা বর্ণিত হয়েছে, যার দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, উক্ত রাতটি ফযীলতময়। পূর্ববর্তী মনীষীগণও উক্ত রাতে নফল নামায পড়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন”। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৬।)

২. আল্লামা মোবারকপুরী রহ. তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “তুহফাতুল আহওয়াযী” তে বলেন,
اعلم أنه قد ورد في فضيلة ليلة النصف من شعبان عدة أحاديث مجموعها يدل على أن لها أصلا ..... فهذه الأحاديث بمجموعها حجة على من زعم أنه لم يثبت في فضيلة ليلة النصف من شعبان شيء. والله تعالى أعلم.
অর্থ: “জেনে রেখো! শবে বরাতের ফযীলত সংক্রান্ত কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, শরীয়তে শবে বরাতের ভিত্তি আছে। (এরপর তিনি কিছু হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন,) যারা বলে, শবে বরাতের ফযীলতের ব্যাপারে কোন প্রমাণ সাব্যস্ত নেই, এ সমস্ত হাদীসগুলো তাদের দাবির বিপক্ষে দলীল”। (তুহফাতুল আহওয়াযী. খ. ৩ পৃ. ৩৬৫-৩৬৭।)

৩. শবে বরাতের হাদীস উল্লেখ করার পর শাইখ নাছীরুদ্দীন আলবানী রহ. বলেন,
حديث صحيح، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا ... وجملة القول أن الحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب.
অর্থ: “হাদীসটি ছহীহ। হাদীসটি এক জামাত ছাহাবায়ে কিরাম রাযি. থেকে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। যার একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। ... সার সংক্ষেপ কথা হলো, এ সমস্ত সনদের সমষ্টি দ্বারা প্রমাণ হয় যে, নিঃসন্দেহে হাদীসটি ছহীহ”। (সিলসিলাতুল আহাদীসুছ ছহীহা. খ. ৩ পৃ. ১৩৫-১৩৮ হা. ১১৪৪।)

৪. আল্লামা শুয়াইব আরনাউত রহ. বলেন,
وهذه الشواهد وإن كان في إسناد كل منها مقال إلا أنه بمجموعها يصح الحديث ويقوى.
অর্থ: “এ সমস্তা শাওয়াহেদ যদিও এর প্রত্যেকটি সনদ আপত্তিকর; কিন্তু সমষ্টিগতভাবে হাদীসটি শক্তিশালী ও ছহীহ”। (মুসনাদে আহমদের টীকা. খ. ১১ পৃ. ২১৭ হা. ৬৬৪২।)

#শবে_বরাতে যারা আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপক ক্ষমার ঘোষণা থেকে বঞ্চিত থাকবে:
১. মুশরিক তথা শিরক গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি। (ছহীহ ইবনে হিব্বান. হা. ৫৬৩৬।)
২. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি। (শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৫৬।)
৩. যিনাকারী। (শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৫৫।)
৪. খুনী। (মুসনাদে আহমদ. হা. ৬৬৪২।)
৫. মদ পানকারী। (প্রাগুক্ত. শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৫৬।)
৬. আত্মীয়তা বিচ্ছিন্নকারী। (প্রাগুক্ত. শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৫৬।)
৭. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী। (প্রাগুক্ত. শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৫৬।)
৮. হিংসুক ব্যক্তি। (মু’জামে কাবীর. তাবরানী. হা. ১৬৬৩৯।)
৯. বিদ্বেষপোষণকারী। (মুসনাদে আহমদ. হা. ৬৬৪২।)
১০. হারাম ভক্ষণকারী। (মু’জামে আওসাত. তাবরানী. হা. ৬৪৯৫।)
১১. ডাকাত। (শুয়াবুল ঈমান. হা. ৩৫৪৪।)
১২. জাদুকর। (লতায়িফুল মা‘আরিফ. পৃ. ১৩৭।)
১৩. অবৈধ কর আদায়কারী। (প্রাগুক্ত।)
১৪. জ্যোতিষী। (প্রাগুক্ত।)
১৫. গণক। (প্রাগুক্ত।)
১৬. ঢোল-বাদ্যযন্ত্রকারী। (প্রাগুক্ত।)
১৭. অবৈধ কবিতা রচনাকারী। (প্রাগুক্ত।)
১৮. অবৈধভাবে জমি উৎপাদনের এক দশমাংশ আদায়কারী। (প্রাগুক্ত।)

#শবে_বরাতে_করণীয়:
১. বেশি বেশি করে নফল নামায আদায় করা। তবে রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে না হতে হবে। বরং অন্য সময় স্বাভাবিকভাবে যেভাবে নফল নামায আদায় করা হয়, ঠিক সেভাবে উক্ত রাতেও নফল নামায আদায় করবে।
২. কুরআন কারীমের তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠসহ বিভিন্ন যিকির-আযকারে লিপ্ত থাকা।
৩. খালেছ দিলে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা।
৪. যরুরী মনে করা ব্যতীত, দলবদ্ধ না হয়ে ও প্রথা অনুসরণের বশীভূত না হয়ে সম্ভব হলে কবর যিয়ারত করা। কবর যিয়ারতের বিষয়টি আম্মাযান হযরত আয়েশা রাযি. এর হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত।
৫. অন্যান্য যে কোন জাযেয ইবাদতে লিপ্ত থাকা।
৬. হাদীসের বিশাল ভাণ্ডার হতে একটি মাত্র হাদীসে এ কথা বলা হয়েছে যে, “শবে বরাতের পরের দিনে রোযা রাখ”। সনদের বিচারে হাদীসটি দুর্বল। তাই এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের উপর ভিত্তি করে শবে বরাতের পরের দিন রোযা রাখাকে সুন্নাত কিংবা মুস্তাহাব বলা অনেক আলেমের মতে সঠিক নয়। কারণ অধিকাংশ আলেমের মত অনুযায়ী যয়ীফ হাদীস দ্বারা সুন্নাত; কিংবা মুস্তাহাব হুকুম সাব্যস্ত হয় না। তবে হ্যাঁ, শা’বান মাসে রোযা রাখার কথা বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া শা’বানের ১৫ তারিখ “আইয়ামে বীয” তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে রোযা রাখার অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে “আইয়ামে বীয” এ রোযা রাখার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি এ দুটি কারণকে সামনে রেখে শা’বানের ১৫তম দিনে রোযা রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ সে প্রতিদান পেয়ে যাবে। তবে কেবল ১৫ই শা’বানের কারণে এ রোযাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুন্নাত; কিংবা মুস্তাহাব বলে দেয়া অনেক আলেমের মতে সঠিক নয়। বরং শা’বানের যে কোন দিনেই রোযা রাখা উত্তম। সুতরাং এ সকল বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখে যদি কেউ ১৫ই শা’বানে রোযা রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ সে ছাওয়াব পেয়ে যাবে। তবে মনে রাখা চাই যে, এ মাসে নির্দিষ্ট কোন দিনের পৃথক কোন ফযীলত নেই।

#শবে_বরাতের_বর্জনীয়:
১. শবে বরাত উপলক্ষ্যে ফযীলতময় মনে করে রাত্রে গোসল করা; কিংবা তা সুন্নাত, মুস্তাহাব অথবা আবশ্যকীয় মনে করা। তবে কেউ যদি শারিরীক প্রফুল্লাতার জন্য গোসল করে, তাহলে এতে কোন অসুবিধা নেই।
২. শবে বরাতের নামায নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যায় ও নির্দিষ্ট নিয়মে আদায় করা। যেমন, ১২ রাকাত নামায, প্রত্যেক রাকাতে ৩ বার, ২০ বার, ২৫ বার করে সূরায়ে ইখলাছ পড়া ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। তবে নির্দিষ্ট নিয়ামাবলি পালন না করে অন্যান্য দিনের ন্যায় নফল নামায পড়া যাবে। এতে কোন অসুবিধা নেই। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৮। আল-আছারুল মারফু‘আহ. ইমাম আব্দুল হাই লকনাবী রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ১ পৃ. ৮২।)
৩. মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা।
৪. মসজিদ, ইবাদতখানা, ঘর-বাড়ি ইত্যাদি আলোকসজ্জা করা। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৮।)
৫. শবে বরাত উপলক্ষ্যে খিচুড়ি; কিংবা হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করা। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৮।)
৬. আতশবাজি, তারাবাতি, পটকা ফোটানো ইত্যাদি অহেতুক ও অপচয়ে লিপ্ত হওয়া।
৭. দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন মসজিদ; কিংবা মাযারে সফর করা।
৮. জামাতের সাথে নফল নামায আদায় করা। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৮।)
৯. শবে বরাত উপলক্ষ্যে দলবদ্ধ হয়ে যিকির করা।
১০. খতমে সবিনার আয়োজন করা।
১১. দলবদ্ধ হয়ে অধিক গুরুত্ব ও পাবন্দীর সাথে কবর যিয়ারত করা। (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম. ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কর্তৃক রচিত. খ. ২ পৃ. ১৩৮।)

🤲আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শবে বরাতের সঠিক মর্ম ও ফযীলত বুঝে সে অনুযায়ী আমাল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
শুভকামনায়: মুফতি ইমরান ইসলামাবাদী
চেয়ারম্যান: ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: দারুল ইত্তেহাদ কুরআনিক রিচার্স সেন্টার চট্টগ্রাম।

Address

Chittagong

Telephone

+8801826532122

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ittehad sunnah collection posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share