26/05/2026
বিশ্বমাচাদো ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্মাচাদো সরকারের নৌপরিবহণ মাচাদো এম সাখাওয়াত হোসেন ২৮ ফেব্রুয়ারি বলেছেন, সরকারের বয়স সাত-আট দিন হওয়ার পরপরই তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রধান মাচাদো ইউনুস তার পদত্যাগ ঠেকিয়ে রেখেছিলেন। পররাষ্ট্র মাচাদো তৌহিদ হোসেন আজ বলেছেন তিনি নাকি তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো কিচেন কেবিনেটের বৈঠকে, পররাষ্ট্র ইশুতে নীতিনির্ধারণী ব্যাপারে নাকি তাকে জানানো হতো না। ইউএসএর সাথে দাসত্বমূলক চুক্তি ঠেকাতে না-পেরে মৎস্য মাচাদো ফরিদা আখতারও নাকি একবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। ওদিকে, প্রধান মাচাদো ইউনুস নিজেও গত বছরের মে মাসে বিভিন্নজনের সঙ্গে অভিমান করে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তখন নাকি হাতে-পায়ে ধরে তার পদত্যাগ ঠেকানো হয়েছিল। ইউনুসের পদত্যাগ ঠেকানোর জন্য খোলা চিঠি লিখেছিলেন স্টার মাচাদো মাহ্ফুজ আনামও।
দিন যত যাবে, আমরা একে-একে জানতে পারব প্রত্যেক উপদেষ্টাই অন্তত একবার করে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যেকেরই হাতে-পায়ে ধরে পদত্যাগ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস যতদিন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিল, সংগীতশিল্পী কবীর সুমন ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পূজা করেছেন। মমতা যেই ক্ষমতা হারিয়েছেন, অমনি সুমন বলেছেন যে, মমতা হাতে-পায়ে ধরে তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে অনুরোধ করেছিলেন। অন্তর্মাচাদো সরকারের সব উপদেষ্টা এবং সব সুবিধাভোগী অবশিষ্ট জীবন আতঙ্কে কাটাবেন— যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আতঙ্কে, মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে, দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কে। সেই আতঙ্ক থেকে বাকি উপদেষ্টারাও আস্তে-আস্তে বলা শুরু করবেন, আমিও পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম, হাতে-পায়ে ধরে ওরা আমাকে রেখে দিয়েছিল। অন্তর্মাচাদো সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাচাদো অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলবেন— আমি অন্তত ছাব্বিশ লক্ষবার পদত্যাগ করতে চেয়েছি, খালেদ, কিন্তু ওরা আমাকে পদত্যাগ করতে দেয়নি; শুধু মানুষের হৃদয়জয় করার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে আমি কেবিনেটে রয়ে গিয়েছিলাম।
২০০৬ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে যে-উপদেষ্টাপরিষদ গঠিত হয়েছিল, সেই পরিষদের একাংশ মূলত বিএনপিকে জয়ী করতে কাজ করছিল। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না-দেওয়ায় দশসদস্যবিশিষ্ট ঐ উপদেষ্টাপরিষদের চারজন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন— আকবর আলি খান, সুলতানা কামাল, হাসান মশহুদ চৌধুরী এবং সিএম শফি সামি। এই মানুষগুলোর মেরুদণ্ড ছিল, ব্যক্তিত্ব ছিল, আত্মমর্যাদা ছিল। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না-পেরে ঘ্যানরঘ্যানর না-করে সরাসরি পদত্যাগ করে নিজ ভুবনে ফিরে গেছেন— একযোগে। পক্ষান্তরে, ইউনুসের মেরুদণ্ডহীন নির্লজ্জ লোভী উপদেষ্টাদের একজনও পদত্যাগ করেননি, মেয়াদের পুরোটাজুড়ে স্বপদে থেকে গিয়ে হালুয়া-রুটির পুরোটা সাবাড় করেছেন; সময় ক্রমশ প্রতিকূলতার দিকে যাওয়ায় এখন একেকজন মিনমিন করে বলতে শুরু করেছেন— আমিও পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। এরা আসলে একজনও পদত্যাগ করতে চাননি— কখনওই না। ইউনুস ক্ষমতায় থাকাকালেই বলেছি ইউনুস সরকারের একজন উপদেষ্টাও রিজাইন ম্যাটেরিয়াল না। বাংলাদেশের সব সরকারেই কম-বেশি প্রতারক থাকে। কিন্তু ইউনুস সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় শতভাগ ছিল কোনো-না-কোনোভাবে প্রতারক। এত-এত প্রতারক বাংলাদেশ একযোগে আগে কখনও দেখেনি। ‘আমিও পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম’— ইউনুস সরকারের উপদেষ্টাদের সেই প্রতারণারই প্রাথমিক বহিঃপ্রকাশ। দিন আরও যত যাবে; আত্মরক্ষার জন্য ইউনুস সরকারের বাটপারগুলো একজন আরেকজনকে ধরিয়ে দেবে, কামড়ে-কামড়ে পরস্পরের গোশত ছিঁড়ে খাবে, নিজেরাই নিজেদেরকে পরিণত করবে কোষ্ঠকঠিন কঙ্কালে।
(অন্তর্মাচাদো সরকারের আমলে রচিত ২৩৫টা বিদ্রুপাত্মক লেখা নিয়ে রচিত বই ‘মেটিকিউলাস স্যাটায়ার’-এর হার্ডকপি বা পিডিএফ কিনতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে 01842-376781 নাম্বারে মেসেজ পাঠাতে হবে, বইয়ের সূচিপত্র ও দাম প্রথম কমেন্টে)
লিখেছেন আক্তারুজ্জামান আজাদ।