12/01/2020
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহটি যেন শীতকালের ধোঁয়াটে সন্ধ্যার মতো রহস্যময়। থেকে যাওয়া বাকি দিনগুলোতে কী করা যায় আর ফেলে আসা দিনে কী করা হলো না, তাই ভেবে ফুরিয়ে যায় প্রহর।
ঠিক সকাল ৮টায় মেঘদল বলে, না বলা ফুল ফুটবেই; গভীর গোপন বিষাদে, অথচ ফুল ফোটাতে গেলেই সল্ট লেকের তিন নম্বর সেক্টরে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে; বাংলা মিডিয়ামের তকমা লাগানো দুই বেণি করা একাকী বালিকা। যেন বহু বছর আগের বৃষ্টিতে ভিজে রাসেল স্কয়ার পার হতে যাওয়া মেয়েটি। রিকশা না পেয়ে যে একা হেঁটে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এদিকে আকাশে দূর্যোগ দেখে, মা তাকে খুঁজতে বেরিয়েছে স্কুল থেকে আনার জন্য। তারা পথে একে অন্যকে খুঁজে পায়নি। অথচ তাদের দেখা হবার কথা ছিল।
এইসব দিনের ছুঁড়ে ফেলা হলুদ ফুল, সাদা ডালিয়া কিংবা এজমুর স্ট্রিটে দ্রুতলয়ে হেঁটে যাবার সময় হঠাৎ থমকে আকাশের দিকে নির্বাক চেয়ে থাকা, চোখের ভেতর থেকে মুক্ত করে আনা নীলপদ্ম, যেন চাঁদের হ্যাজাক জ্বেলে তাকিয়ে থাকে। আর হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্ল্যাকার্ড হাতে হিজাব পরা তরুণী জন্মাতে চায় নতুন করে, নিঃশব্দে শক্তিশালী আওয়াজ তুলে বলে,
'আই অ্যাম ইন্দুলেখা। আইডেন্টিফাই মি বাই মাই ড্রেস?'
জ্যানেট উইনটারসন বলেছিল, ১৪৯ টি উপায়ে খুঁজে নেওয়া যায় সৃষ্টিকর্তাকে। অথচ সবগুলো পথ পেরিয়ে দিনশেষে যেন ফরিদ উদ্দিন আত্তারের কথাই সত্যি হয়ে ওঠে, 'ভেতরে সবাই সমানরঙা'।
তবুও এখানে ঘুরঘুরে ঘুণপোকার গান, পা টিপে টিপে বেদনার ডাকাডাকি, আকাশে উড়ে যায় লাল-নীল-কালো মাছ। গুটিয়ে নেওয়া হাতের বুক জুড়ে হলুদাভ রাত্রি। বার্লিনের প্রাচীরের মতো কতো দেয়াল জেগে ওঠে! তবুও বাজে নাইন্থ সিম্ফনি। শত করতালির আড়ালে বিতোভেন আজও কাঁদে। গোপন দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে তবুও জেগে ওঠে আশা, নতুন করে বাঁচা, আরেকটা বাকেটলিস্ট, নতুন বছরের নামে ব্লুমিংবক্স।
আর ছোট শহরের মাইনাসে নেমে আসা তাপমাত্রায় ডেকে ওঠে অজস্র অচেনা ঝিঁঝিঁ পোকা। যেন মনজুর এলাহীর গোটা বাগানের মতো ওরাও জোনাকি হয়ে দখল করে নেবে সমস্ত পৃথিবী।
বিনা যুদ্ধে, বিনা রক্তপাতে...