03/07/2023
শুধুমাত্র ট্রল না করে,আওয়াজ তুলা দরকার।
একটা হাদীস আমার খুবই প্রিয়। প্রায়ই আমি সেটা বলি। এই হাদীসে বোঝা যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্পনাতীত প্র্যাগম্যটিক ছিলেন। রাসূলের দেয়া প্রতিটা উদাহরণ কতটা বুদ্ধিদীপ্ত ছিলো তা হাদীস থেকে সহজেই অনুমেয়। সাহাবায়ে আজমাঈন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে সমাজের সৎ ও অসৎ শ্রেণীর আন্তঃসম্পর্কে দাওয়াতী কাজের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাতে হাদীসটি বলেছিলেন। তিনি বলেন,
مَثَلُ القَائِمِ في حُدُودِ اللهِ وَالوَاقعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَومٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَصَارَ بَعْضُهُمْ أعْلاها وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، وَكَانَ الَّذِينَ في أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوا مِنَ المَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقهُمْ فَقَالُوا: لَوْ أنَّا خَرَقْنَا في نَصِيبِنَا خَرْقاً وَلَمْ نُؤذِ مَنْ فَوقَنَا، فَإِنْ تَرَكُوهُمْ وَمَا أرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعاً، وَإنْ أخَذُوا عَلَى أيدِيهِمْ نَجَوا وَنَجَوْا جَمِيعاً
-আল্লাহর সীমারেখায় অবস্থানকারী এবং ঐ সীমা লংঘনকারীর উপমা হলো এমন এক দলের মত, যারা একটি দ্বিতল জাহাজে লটারি করে কিছু লোক উপর তলায় এবং কিছু লোক নিচের তলায় স্থান নিল। নিচতলা বাসীদের পানির প্রয়োজন হলে তারা উপর তলায় যেতে লাগল। (এভাবে বারবার যাওয়া আসাটা কষ্ট লাগায়) নিচের তলার লোকেরা বলল, ’আমরা যদি আমাদের নিচের তলায় কোনো স্থানে একটা ছিদ্র করে দিই, তাহলে আর উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট দেয়া লাগবে না, পানির বন্দোবস্ত এখানেই হয়ে যাবে। এখন যদি উপর তলার লোকেরা তাদেরকে নিজ ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয় এবং সে কাজে বাধা না দেয়, তাহলে সবাই পানিতে ডুবে মরবে। আর যদি উপর তলার লোকেরা যদি তাদের হাত ধরে জাহাজে ছিদ্র করতে বাঁধা দেয়, তাহলে তারা নিজেরাও বেঁচে যাবে এবং সকলকেই বাঁচিয়ে নেবে।
-সহীহ বুখারী ২৪৯৩, তিরমিযী ২১৭৩
এই উদাহরণটা কতটা বাস্তবিক এবং কার্যকরী উদাহরণ! সুবহানাল্লাহ। কয়েকটা বিষয়ই এক হাদীসে এসে গেছে, যার প্রত্যেকটাই উভয়দলের সাথে জড়িত।
১. অসৎকাজে লিপ্তরা নিজেদের কাজকে ভালো মনে করে। তারা মনে করে, তাদেরকে বাঁধা দিয়ে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই যেমন তারা ভাবছে জাহাজে ছিদ্র করে নিলে তারা উপর তলাবাসীকে কষ্ট দেয়া থেকে বেঁচে যাবে।
২. সমাজে অসৎকাজের ছড়াছড়ি দেখে নির্লিপ্ততা গ্রহণ করে নেয়া ব্যক্তিরা যদি ভাবে, আমার কী দায়। যাদের কাজ তারা করে মরুক গে। আমার অত কথা বলার প্রয়োজন কী। কিন্তু যখন কনসিকোয়েন্স এসে যাবে তখন তারাও যে বেঁচে যাবে তা নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা গুণ হলো, তিনি জাওয়ামিউল কালিম। সহজ অর্থে, যার অল্প কথায় সবকথা এসে যায় এবং কোনো ফাঁকফোকর অবশিষ্ট থাকে না। আল্লাহর রাসূলের এই গুণ হাদীসের ছত্রে ছত্রে সুশোভিত হয়ে আছে। সুবহানাল্লাহ!
--মুহাতারাম আম্মারুল হক