সুকুন.Sukun

Directions

সুকুন.Sukun Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from সুকুন.Sukun, Religious Bookstore, Beverly R/A, Chatteswari Road, Chittagong.

14/11/2025

In this dunya, no one will listen to your problems all the time, not even the people you love. When you share your problems too much, you might feel even more vulnerable. Then?

وَ قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

And your lord says,

'Call upon me. I will respond to you'❣️✨

01/11/2025

আমাদের বাসায় যিনি ঘর মোছা আর কাপড় ধুয়ে দেওয়ার কাজটা করে দেন, তাকে আমরা ‘খালা’ বলে ডাকি। আমার বাচ্চারা উনাকে ডাকে ‘আপি’। বাচ্চারা খালাকে এতো পছন্দ করে যে, সকালবেলা খালা এসে দরোজায় নক করলে, তারা ‘আপি এসেছে’ ‘আপি এসেছে’ বলতে বলতে ভৌঁ-দৌঁড়ে ছুটে যায়। ছোটজন তো একলাফে কোলে উঠে পড়ে।

খালা আমাদের বিল্ডিংয়ের অন্য একটা ফ্লোরেও কাজ করেন৷ একদিনের ঘটনা। খালা পর পর দু’দিন কাজে আসতে পারেননি। অন্য যাদের বাসায় খালা কাজ করেন, সেই বাসার একটা ছোট ছেলে আমাদের বাসায় আসলো খালার খোঁজ নিতে৷ তাদের বাসায় তো যাচ্ছে না, আমাদের বাসায় আসে কী না জিগ্যেস করতে।

দরোজা খুলতেই ছেলেটা বলল, ‘আঙ্কেল, বুয়া কি এসেছে আপনাদের বাসায়?’

কেউ বাসায় এলে বা দরোজায় নক করলে, আমার মেয়ে দুটো এক দৌঁড়ে ছুটে দরোজার কাছে চলে আসে। লোকজনের আগমনের প্রতি তাদের অনন্ত কৌতূহল। সেদিন আমার বড় মেয়েও আমার পাশে দাঁড়ানো ছিল। নিচের ফ্ল্যাটের ছেলেটার মুখে শোনা ‘বুয়া’ শব্দটা মেয়ের মাথায় গেঁথে থাকে।

ছেলেটা চলে যাওয়ার পর মেয়ে জিগ্যেস করল, ‘আব্বু, বুয়া কে?’

আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। কারণ, আমরা সচেতনভাবেই মেয়েকে এই শব্দটার সাথে পরিচিত করাইনি। শব্দটা যদিও খারাপ কোনো শব্দ নয়, তথাপি মানুষ হিশেবে অন্য মানুষের প্রতি মমত্ব আর দয়ার জায়গা থেকে শব্দটাকে আমরা নিজেরাও চর্চা করিনি, বাচ্চাদেরও সচেতনভাবে শেখাইনি।

মেয়েকে বললাম, ‘তোমার আপির খোঁজ করতেই এসেছে। তোমার আপি যেমন আমাদের কাজ করে দেন, ওই বাসাতেও কিছু কাজ করেন।’

ভাগ্যিস যে, মেয়ে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করেনি, আপিকে ছোট্ট ছেলেটা ‘বুয়া’ বলে ডাকল কেন!

মেয়ের স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বেশ কয়েকজন গরিব মানুষের দেখা পাওয়া যায়৷ সাহায্য চায় হাত পেতে। সচরাচর এইসব মানুষগুলোকে বাচ্চার বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের কাছে কীভাবে বা কোন শব্দে পরিচিত করায়? ফকিরকে টাকা দাও, ভিক্ষুককে টাকা দাও—এভাবেই তো?

কিন্তু আমরা বাচ্চাদেরকে এইসব শব্দ শেখাইনি। এই লোকগুলোকে আমার মেয়েরা ‘অসহায় মানুষ’ বলেই চেনে। রোজ স্কুলে যাওয়ার পথে আমার বড় মেয়ের একটা রুটিন কাজ হলো—এইসব অসহায় মানুষগুলোকে নিজ হাতে টাকা দেওয়া। এই ধরণের মানুষ দেখা মাত্রই মেয়ে সটান দাঁড়িয়ে যায় আর বলে—‘আব্বু, টাকা দিন আমাকে। আমি ওই অসহায় মানুষটাকে দেবো।’

‘ফকির’ বা ’ভিক্ষুক’ কিন্তু খারাপ কোনো শব্দ নয়। তবে, এই শব্দগুলোতে সেই অ্যাম্পেথিটা ( সহানুভূতি ) অনুপস্থিত যা ‘অসহায়’ শব্দটার মাঝে রয়েছে। ফকির বা ভিক্ষুক শব্দগুলো শুনলে অপরপক্ষের প্রতি যতটা না দয়ার উদ্রেক হয়, তারচেয়ে বেশি মনে ঝেঁকে বসে তার দীনতার চিত্র।

ফলে, আমরা চেয়েছি, আমাদের সন্তানেরা এমনসব শব্দই শিখুক, যেগুলোর প্রায়োগিক অর্থ সুন্দর। যেগুলো মনে এলে মানুষের প্রতি তাদের সহানুভূতি জাগবে, মানুষকে দূরে ঠেলে দেওয়ার বদলে, কাছের কেউ মনে করবে। সর্বোপরি—মানুষের জন্য তাদের হৃদয়ে মমত্ববোধ, দয়ার উদ্রেক হবে, এমন শব্দগুলোকেই আমরা তাদের জন্য বেছে নিয়েছি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সুন্দর সুন্দর নামে ডাকতেন। মানুষকে সুন্দর সুন্দর নাম আর উপনাম দিতেন। কথা বলার জন্য, কাউকে ডাকার জন্য বা কাউকে বোঝানোর জন্য তিনি এমনসব শব্দ বেছে নিতেন যা সবচেয়ে সুন্দর আর মাধুর্যময়।

কাজের খালাকে আমার সন্তান ‘বুয়া’ ডাকলে, বা রাস্তার গরিব মানুষ, যারা সাহায্য চায় হাত পেতে, তাদেরকে ‘ফকির/ভিক্ষুক’ ডাকলেও উদ্দেশ্য সাধিত হয়। তবে, তারবিয়াহ মানে তো কেবল কাজের উদ্দেশ্য সাধিত করা নয়। অন্তরের ভালোবাসা, মমতা, দয়া আর সহানুভূতির জাগরণ ঘটানোই সন্তানের তারবিয়াহর অন্যতম লক্ষ্য।
‘Arif Azad’

০১. মুখের কথা নিয়ন্ত্রণে রাখো:-যা মনে আসে তাই বলে ফেলা বিপদ ডেকে আনে। পরিবারের মধ্যে কারো গোপন বা দুর্বল দিক নিয়ে কথা বল...
20/10/2025

০১. মুখের কথা নিয়ন্ত্রণে রাখো:-
যা মনে আসে তাই বলে ফেলা বিপদ ডেকে আনে। পরিবারের মধ্যে কারো গোপন বা দুর্বল দিক নিয়ে কথা বলো না। নীরবতা অনেক সময় আত্মরক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায়।

০২. পরের কথায় কান দিও না:-
কেউ যদি অন্যের নামে খারাপ কিছু বলে, তাতে বিশ্বাস করার আগে যাচাই করো। কুটচাল সাধারণত শুরু হয় “শুনেছো?” এই শব্দ দিয়ে-তাই গুজবের জালে জড়িও না।

০৩. নিজের মনোভাব পরিষ্কার রাখো:-
কারো প্রতি ভুল ধারণা পুষে রেখো না। যদি কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হয়, সরাসরি ও শান্তভাবে আলোচনা করো। কথা না বলে দূরত্ব বাড়ালে অন্যরা সেই ফাঁকটাকে ব্যবহার করবে।

০৪. পারিবারিক গোপন বিষয় বাইরে বলো না:-
পরিবারের ঝামেলা পরিবারেই রাখো। বাইরে বলা মানে নিজের সম্পর্কগুলোকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া। এতে অন্যরা কৌশলে ভেতর-বাহিরে ফাটল ধরিয়ে দিতে পারে।

০৫. অন্যের বিষয়ে নাক না গলাও:-
যে বিষয় তোমাকে সরাসরি স্পর্শ করে না, তাতে জড়িও না। পরিবারের প্রতিটি মানুষের জীবনে আলাদা আলাদা সমস্যা থাকে-তাতে হস্তক্ষেপ করলে কুটচালের লক্ষ্য হয়ে যাবে।

০৬. সৎ থেকেও কৌশলী হও:-
সত্য কথা সবসময় বলা উচিত, কিন্তু কাকে কখন বলবে তা বুঝে বলতে হয়। সত্য বলেও তুমি যদি কাউকে অপমান করো, সে পরে পেছনে তোমার ক্ষতি করতে পারে।

০৭. ঈর্ষা ও তুলনা এড়িয়ে চলো:-
“ওর ছেলে এত ভালো”, “ওদের অবস্থা ভালো”-এই ধরনের তুলনা সম্পর্ক নষ্ট করে। পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা নয়, প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। নিজেকে ও অন্যকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো।

০৮. নিরপেক্ষ থাকার অভ্যাস গড়ো:-
দুই পক্ষের ঝগড়ায় একপক্ষের পক্ষে গেলে অন্য পক্ষ শত্রু ভাববে। তাই পরিবারে বিবাদ হলে মধ্যস্থ বা নিরপেক্ষ অবস্থান নাও— এতে তুমি সবার আস্থাভাজন থাকবে।

০৯. নীরবতাকে শক্তি বানাও:-
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই পরিপক্বতা নয়। অনেক সময় চুপ থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নীরবতা ভুল বোঝাতে পারে, কিন্তু কুটচাল বন্ধও করে দেয়।

১০. আল্লাহর উপর ভরসা রাখো ও নিয়মিত দোয়া করো:-
মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ তোমার হাতে নেই, কিন্তু তোমার নিয়ন্ত্রণ তোমার হাতেই। আল্লাহর সাহায্য চাও, নামাজ পড়ো, কুরআন পড়ো— মন শান্ত থাকবে, কুটচালের বিষ তোমার মনে ঢুকতে পারবে না।

শেষ কথা:-
পারিবারিক কুটচাল থামানো যায় না, কিন্তু তার প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। শান্ত, সচেতন ও সীমিত কথা বলার মানুষ কখনো সহজে অন্যের ষড়যন্ত্রে পড়ে না।
Copy

 ❤️
05/09/2025

❤️

04/09/2025

মুমিনদের জন্যে এটা একটা লোভনীয় হাদিস!
আল্লাহকে খুশি করার জন্যে নিজের চরিত্রকে শুধরানো অনেক জরুরি। এটা চিন্তা করেই কত ভালো লাগে যে, আমি যদি কোনোভাবে আমার চরিত্রটাকে সুন্দর করতে পারি, কিয়ামতের দিন আমার পাল্লা সবচেয়ে ভারী হবে! (আল্লাহ কবুল করুক! আমিন।) কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবে সুন্দর চরিত্র!" (তিরমিজী)।
চরিত্রকে কিভাবে সুন্দর করা যায় - এটার হয়তো বাঁধা-ধরা কোনো সিলেবাস নেই. রাসূল (সা:) কে নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁর চরিত্রের এমন কিছু দিক আমার সামনে এলো - যেটা নিয়ে সচরাচর আলোচনা শুনিনা।
যেমন, রসূল (সা:) কখনো উচ্চ স্বরে কথা বলতেন না, খুব অল্প শব্দে গভীর জ্ঞানপূর্ণ কথা বলতেন। তিনি সবসময় হাসি খুশি থাকতেন। কখনো বদমেজাজী হয়ে থাকতেন না! ছোট বাচ্চাদের কোলে নিয়ে নামাজ পড়তেন। তাঁর চরিত্রই হচ্ছে কুরআন।
আল্লাহর জন্যে নিজের ভিতরটাকে সুন্দর করার কিছু চর্চা এমন হতে পারে --
🔘 ১. সবসময় সবাইকে নিয়ে ভালো চিন্তা করা. উপযুক্ত প্রমান ছাড়া কাউকে খারাপ ভেবে না বসা. সাহাবীদের সময় একবার এক সাহাবী যখন দেখলেন আরেকজন সাহাবীর দাড়ি থেকে মদের ফোঁটা বেয়ে বেয়ে পড়ছে, সে তাকে প্রথমেই দোষ না দিয়ে ভাবলেন, হয়তো তার সাথে কারো ঝগড়া হয়েছে, এর ফলে রাগ করে কেউ তার দিকে মদের গ্লাস ছুড়ে মেরেছে। সেখান থেকেই ফোঁটা বেয়ে বেয়ে পড়ছে।
🔘 ২. নিয়তেই বরকত! প্রতিনিয়ত নিজের নিয়তকে চেক করা. আমি এই কাজটা কেন করছি? কাকে খুশি করার জন্যে করছি? কেউ যদি সত্যি কোনো কাজ আন্তরিক ভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করে - তাহলে সেই কাজে খুব উঁচু মানের কোয়ালিটি থাকবে! একটা সিম্পল নিয়ত করলে যে কোনো কাজ বরকতপূর্ণ হয়ে যায়।
যেমন কেউ যদি ঘুমানোর আগে এই নিয়ত করে ঘুমায় যে, "হে আল্লাহ! আমি এই ঘুমের মাধ্যমে যে কর্মশক্তি আর তেজ পাবো, সেটা দিয়ে যেন ঘুম থেকে উঠে যেন আরো ভালোভাবে তোমার ইবাদাত করতে পারি।" তাহলে পুরা ঘুমটাই তার জন্যে ইবাদাত হবে এবং সে যতটা সময় ঘুমাযে তার জন্যে নেকী পেতে থাকবে! সুবহানাল্লাহ ঘুমানোর জন্যেও পুরস্কার!
🔘 ৩. অপ্রয়োজনীয় কথা-আলাপে মশগুল না হওয়া। কেউ কথা বলার সময় তাকে কথার মাঝে cut-off না করা (বিঘ্ন না ঘটানো)! শেইখ বলেন, "কেউ কথা বলতে থাকলে কখনো তাকে মাঝখানে কাট করে দিয়ে নিজের কথা বলা শুরু করে দিও না. কারণ, যে কথা বলছে সে যদি জ্ঞানী হয়, তাকে শুনতে থাকো, তোমার জ্ঞান বাড়বে!
আর যে কথা বলছে, সে যদি মূর্খ হয় তাকে শুনতে থাকো - তোমার ধৈর্য্য বাড়বে! নিশ্চয়ই তোমার ধৈর্য্য অর্জন করা জ্ঞান অর্জন করার থেকে বেশি জরুরি!"
🔘 ৪. নিজের সমালোচনা শুনলে ক্ষুব্ধ না হওয়া! আসলেই চিন্তা করে দেখা - আমার মাঝে কি আসলেই এই ভুল আছে? ইমাম শাফি'ই (রা:) একবার ভরা সমাবেশে ক্লাস করাচ্ছিলেন। তখন এক লোক হুড়মুড় করে তার ক্লাসে ঢুকে গেলেন।
তার দিকে আঙ্গুল তুলে বললেন, "তুমি কি ইমাম শাফি'ই?". ইমাম বললেন, "জ্বী, আমি শাফি'." তখন লোকটি সবার সামনে চেঁচিয়ে ইমামকে বললেন, "তুমি একটা ফাসিক, কাফির এবং জঘন্য প্রকৃতির লোক!"
ইমাম চুপ করে শুনলেন। শুধু সমালোচনা না, তাকে সবার সামনে খুব খারাপ ভাবে অপমান করা হয়েছে! তিনি অফেন্ডেড তো হলেনই না, বরং এর উত্তরে তৎক্ষনাৎ দুই হাত তুলে সবার সামনে দুআ করলেন,
"হে আল্লাহ! এই ব্যক্তি যদি সত্য বলে থাকেন, তাহলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার উপর দয়া করো এবং আমার তাওবা কবুল করে নাও! আর যদি এই ব্যক্তি যা বললেন, সেটা যদি সত্য না হয়, তাহলে তার এ আচরণের জন্যে তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও, তার উপর দয়া করো এবং তার তাওবা কবুল করে নাও!"
🔘 ৫. প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে সবাইকে মাফ করে দিয়ে অন্তর পরিষ্কার করে ঘুমানো
🔘 ৬. কোনো ব্যাপারে অন্তরে অহংকার ঢুকে যাচ্ছে কি না চেক করা. যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ-ও পাবে না (সহীহ হাদিস)
🔘 ৭. যদি কারো উপর হিংসা হতে থাকে, সেই ব্যক্তির নাম ধরে তার সাফল্যের জন্যে বেশি বেশি দুয়া করা. এটাকে অনেক স্কলার হিংসার সর্বোত্তম চিকিৎসা বলেছেন। একটা উদাহরণ দেই, ধরেন ক্লাসে আব্দুল্লাহ অনেক ভালো রেজাল্ট করলো, এতে উমরের হিংসা হচ্ছে। উমর কন্ট্রোল করতে পারছে না।
তার মনে এটা নিয়ে কষ্ট লেগেই আছে যে, তার বন্ধু তার থেকে এতো ভালো অবস্থানে আছে, অথচ সেও তো অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তার কেন উন্নতি হচ্ছে না? উমর সেই দিন থেকে বেশি বেশি আব্দুল্লাহর জন্যে দুয়া করতে থাকলো, আল্লাহ যেন আব্দুল্লাহকে আরো বেশি সাফল্য দেন, রহমত এবং বরকত দেন!
আলহামদুলিল্লাহ দুয়া করতে করতে কয় মাসের মধ্যেই উমরের অন্তর থেকে হিংসা দূর হয়ে গেলো। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা উমর এবং আব্দুল্লাহ দুইজনকেই সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক ভালো অবস্থানে যাবার তাওফিক দিলেন।
🔘 ৮. নিজের ভুল/গুনাহ -র একটা লিস্ট বানানো। নিজের ভুল নিয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত থাকা, যেন অন্যের ভুল নিয়ে গল্প/গীবত করার কোনো সুযোগ না থাকে।
🔘 ৯. এমন কোনো কথা কারো পিছনে কখনো না বলা, যেটা সে যদি সামনে থাকতো, তাহলে তার সামনে কখনোই বলা যেত না. এটাই গীবতের ক্লাসিক সংজ্ঞা! গীবত মৃত ভাইয়ের মাংস খাবার মতন জঘন্য গুনাহ (কুরআন: সুরাহ হুজুরাত)
🔘 ১o. রাস্তার মধ্যখানে কখনো ময়লা না ফেলা! আমার স্বামীকে দেখতাম সে দেশে গেলে একটা ব্যাগ নিয়ে ঘুরতো। বলতো, দেশে তো সব জায়গায় ময়লা ফেলার ঝুড়ি খুঁজে পাওয়া যায় না. সারাদিনের ময়লা সে তার ঐ ব্যাগে রাখতো। ঘরে এসে ময়লার বিনে ফেলে দিতো।
🔘 ১১. বড় - ছোট সবাইকে নিয়ে ভালো চিন্তা করা. যারা আমাদের থেকে বয়সে বড়, তারা আমাদের থেকে বেশি বছর ধরে বেঁচে আছেন, কাজেই তারা আমার থেকে বেশি নেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আবার যারা আমাদের থেকে বয়সে ছোট, তারা আমাদের থেকে কম গুনাহ করার সুযোগ পেয়েছে। কাজেই বড় হোক, ছোট হোক - সবাই আমার থেকে ভালো। কারো সাথে তুলনা করে যেন আমার নিজের মধ্যে অহংকার না আসে।
আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আমাদের ভিতর-বাহির সব সুন্দর রাখুক।আমাদেরকে উত্তম চরিত্রের হবার তাওফিক দিন। আমিন!
~ inspired by Imam Omar Suleiman's Course - "Behind the Scene - Spiritual Cleansing of the Believer"

🖊️ শারিন শফি অদ্রিতা

হরহামেশাই এই অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়, ‘মুসলিমদের প্রযুক্তি নেই কেন?’সত্যিই মুসলিমদের প্রযুক্তি নেই৷ মুসলিমদের টাকা পয়সা, ...
03/02/2025

হরহামেশাই এই অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়, ‘মুসলিমদের প্রযুক্তি নেই কেন?’

সত্যিই মুসলিমদের প্রযুক্তি নেই৷ মুসলিমদের টাকা পয়সা, ধন সম্পদের কোনো অভাব নেই৷ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশ মিলে ইচ্ছা করলে প্রতিদিন দুই চারটা করে বিলিয়ন ডলারের টেক স্টার্টাপ লঞ্চ করতে পারে। সেই সক্ষমতা তাদের অবশ্যই আছে৷ কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে টেক দুনিয়ার দিকে মুসলিম নেতা বা সরকারের কোনো ঝোঁক দেখা যায় না।

দুনিয়ার জায়ান্ট সব টেক কোম্পানিগুলোতে প্রচুর মুসলিম কাজ করে৷ এমন নয় যে মুসলমানরা টেক পড়াশোনা বা জানাশোনায় পিছিয়ে৷ যথেষ্ট মেধাবি এবং ডেডিকেটেড মুসলিম লোকজন এসব ফিল্ডে আছে, কিন্তু যথেষ্ট বিনিয়োগ, যথাযথ উদ্যোগ আর সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে মুসলিম দুনিয়া থেকে জায়ান্ট কোনো টেকনোলোজি উদ্ভাবন হচ্ছে না।

যেহেতু আমাদের কোনো টেকনোলোজি নাই, কোনো জায়ান্ট সোশ্যাল মিডিয়া নাই, ফলে ওদের উদ্ভাবিত টেকনোলোজির ওপরে আমাদেরকে সর্বোতভাবে নির্ভর করতে হয় এবং যেসকল বিষয় ওদের সরাসরি স্বার্থের প্রতিকূলে যায়, সেসকল বিষয়ে তারা আমাদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করে দেয়। কী লিখতে পারব আর কী লিখতে পারব না। কী বলতে পারব আর কী বলতে পারব না এসব তারা ঠিক করে দেয়। তারাই যেহেতু মালিক, তাদের বেঁধে দেওয়া নীতি মানা ব্যতীত কোনো উপায় আমাদের সামনে অবশিষ্ট থাকে না।

কিন্তু, তবু তো বসে থাকা যায় না৷ দুনিয়ার নানান প্রান্তে, নানানজন সামষ্টিক বা ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করে৷ কিছু করার, কিছু একটা দাঁড় করানোর।

আলহামদুলিল্লাহ, এই জায়গায় আমরাও একটা চেষ্টায় আছি। আমরা চেষ্টা করছি মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন টেক সলিউশন তৈরি করতে যা একইসাথে যেমন মুসলমানদের সম্পদ হয়ে উঠবে, অন্যদিকে সেগুলো মুসলমানদের জন্য হবে নিরাপদ, হারাম থেকে সুরক্ষা এবং উপকারি।

আমরা আমাদের সেই উদ্যোগটার নাম দিয়েছি—Kahf

সুরা আল কাহাফে আমরা দেখি, যুবকদল যুগের ফিতনা থেকে বাঁচতে একটা গুহায় আশ্রয় নেয় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সেখানে ঘুম পাড়িয়ে নিরাপত্তা দান করেন৷ আমাদের উদ্যোগটাকে আমরা কাহাফ তথা সেরকম একটা প্রটেক্টিভ গুহার মতো কল্পনা করছি যেখানে মুসলিমরা, তাদের সন্তান, পরিবার, পরিজনেরা নিরাপদ এবং স্বাধীন।

‘Kahf’ থেকে আমরা কী কী করছি?

কাহাফের আছে সুদূরপ্রসারী সব ভিশন এবং মিশন৷ সোশ্যাল মিডিয়া জগতের যতোগুলো স্পেইসে হারামের আনাগোনা আছে, এমনসব স্পেইসের হালাল সলিউশন নিয়ে কাহাফ লম্বা সময় ধরে কাজ করছে।

আমাদের কাজের অগ্রগতি কী, তাই তো?

এই মুহূর্তে Kahf এর তিনটা সলুশন এভেইলেবল আছে, আলহামদুলিল্লাহ।

01. Kahf Guard
02. Mahfil
03. Kahf Kids

Kahf Guard হচ্ছে ব্রাউজার বেইজড সলুশন। আমরা যখন ব্রাউজারে কোনোকিছু সার্চ করি, তখন এড হিশেবে, পুশ নোটিফিকেশনের মতো অনেক হারাম সাইট, ছবি বা ভিডিও আমাদের সামনে শো করে৷ অধিকাংশ সময় সেগুলোতে ক্লিক করে আমরা সেসব হারামে প্রবেশ করে ফেলি৷ আমরা, আমাদের সন্তান, আমাদের পরিবারের জন্য এই জিনিসটা খুবই বেদনাদায়ক।

Kahf Guard এই জায়গায় একটা শেল্টারের কাজ করবে। আপনার ফোন বা পিসিতে যখন Kahf Guard ইন্সটল করা থাকবে, তখন কোনোকিছু সার্চ করতে গেলে এইসমস্ত হারাম সাইট, ছবি বা ভিডিওকে কাহাফ গার্ড আটকে দেবে। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন—এক মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে কাহাফ গার্ড ব্যবহার করছেন এবং প্রতিদিন ষাট লক্ষ এরকম হারাম সাইট মানুষের সামনে আসা থেকে কাহাফ গার্ড ব্লক করছে৷ আলহামদুলিল্লাহ।

Mahfil হলো ইউটিউবের অল্টারনেটিভ। ইউটিউবে গেলে শর্টস, আজেবাজে কতো ধরণের ভিডিও সাজেশানে চলে আসে, তাই না? আমরা যারা হারামমুক্ত একটা স্বচ্ছ ভিডিও প্ল্যাটফর্ম চাই, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে Mahfil. আলহামদুলিল্লাহ, ইতোমধ্যেই অনেক কন্টেন্ট মাহফিলে আছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন কন্টেন্ট যুক্ত হচ্ছে৷ আসন্ন রামাদানে ইউটিউবে সময় পার না করে, আপনার উক্ত সময়টা Mahfil এ দিতে পারেন। উপকারি এবং কল্যাণকর।


ইউটিউব ছোট বাচ্চাদের জন্য তৈরি করেছে Youtube Kids. যদিও মনে হয় বাচ্চা-ফ্রেণ্ডলি, কিন্তু আল্টিমেটলি আমাদের বাচ্চারা কী শিখছে? গান, কার্টুন, কল্পকথা, তাই তো?

আমাদের সন্তানদের জন্য Kahf থেকে আমরা তৈরি করেছি Kahf Kids. বাচ্চাকে যদি ডিভাইস দেওয়াই লাগে, ইউটিউব বা ইউটিউব কিডস ওপেন করে না দিয়ে, Kahf Kids দিতে পারেন। হারাম-মুক্ত, স্বচ্ছ, দ্বীনের শিক্ষণীয় বিষয়ের ওপর রয়েছে ভালো ভালো সব কন্টেন্ট৷ প্রতিদিনই সমৃদ্ধ হচ্ছে নতুন নতুন আপডেটস আর কন্টেন্টে।

শুধু এই তিনটে নয়, আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি এক্সাইটিং আরো অনেকগুলো প্রজেক্টে, আলহামদুলিল্লাহ। ধীরে ধীরে আমরা সেসব জানাব। ও হ্যাঁ, এসবের কোনোটাই শুধু বাংলাভাষীদের জন্যে নয়। আমরা গ্লোবাল অডিয়েন্স টার্গেট করেই এসব করছি। ইতোমধ্যেই দেশ বিদেশের প্রচুর স্বনামধন্য স্কলার, প্রমিনেন্ট মুসলিম ব্যক্তিবর্গের সাথে আমাদের আলাপ চলমান। গোটা উম্মাহর একটা সম্মিলিত অংশগ্রহণ এখানে আমরা নিশ্চিত করতে চাই।

আমরা, Kahf পরিবার প্রথমত আপনাদের দোয়া চাই। দ্বিতীয়ত, আমাদের এই সকল ইনিশিয়েটিভ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত এবং ফ্রি। যেভাবে অন্য সোশ্যাল মিডিয়া আমরা ব্যবহার করছি, সেরকম। আমাদের আশা, আমাদের এই যাত্রায় আপনারা বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে সাথে থাকবেন। ইসলামের একটা সৌন্দর্য হলো, কেউ যদি আমার কথায় একটা হারাম থেকে বাঁচে, এরজন্য তার আমলনামায় যতোটুকু সওয়াব লেখা হবে, ঠিক একই পরিমাণ সওয়াব আমার আমলনামাতেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দিবেন।

ভাবেন তো, আপনি কাউকে Kahf Guard এর কথা বললেন এবং সে যদি সেটা ব্যবহার করে, ব্রাউজ করতে গিয়ে আগে যেসকল হারাম সাইট বা ছবি বা ভিডিও তার সামনে চলে আসতো, সেসব যখন তার সামনে আসবে না, সে তো হারাম থেকে বেঁচে থাকার সওয়াব পাবেই৷ আপনার আমলনামাতেও সমপরিমাণ সওয়াব যুক্ত হয়ে যাবে। কী সুন্দর, তাই না?

Kahf Guard, Mahfil, Kahf Kids তিনটি অ্যাপই প্লে স্টোর আর অ্যাপ স্টোরে এভেইলেবল। সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। প্রথম কমেন্টে ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া থাকবে।

ওয়ামা তাওফিক্বী ইল্লাবিল্লাহ
Arif Azad

03/02/2025

হাদিসটি আমার মনে ছুঁয়ে গেছে তাই শেয়ার করলাম। সুবাহান আল্লাহ ‼️

একজন নারী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে তার স্বামীর বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন যে, তার স্বামী অনেক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের জন্য বারবার খাবার প্রস্তুত ও তাদের আপ্যায়ন করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো উত্তর দিলেন না, আর সেই নারী চলে গেলেন।

কিছুক্ষণ পরে রাসুলুল্লাহ ﷺ সেই নারীর স্বামীকে ডেকে বললেন, “আজ আমি তোমার অতিথি হবো।”

তখন সেই ব্যক্তি অত্যন্ত খুশি হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার স্ত্রীকে বললেন, “আল্লাহর রাসুল ﷺ আজ আমাদের অতিথি হবেন।”

তার স্ত্রী খুব আনন্দিত হলেন এবং অনেক চেষ্টা ও যত্ন নিয়ে যা কিছু খাবার ছিল তা দিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য খাবার প্রস্তুত করলেন।

যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের ঘরে এসে তাদের আতিথেয়তার সম্মান গ্রহণ করলেন, তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন, “তোমার স্ত্রীকে বলো, সে যেন সেই দরজা দেখে, যেখান দিয়ে আমি এই ঘর ত্যাগ করব।”

নারী সেই দরজা দেখলেন এবং দেখতে পেলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে ঘর থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী, বিচ্ছু এবং ক্ষতিকর জীব বের হয়ে যাচ্ছে। তিনি এ দৃশ্য দেখে ভীষণ বিস্মিত হলেন এবং আল্লাহর মহান কুদরত উপলব্ধি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।

যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বললেন, “এটাই ঘটে যখন একজন অতিথি তোমার ঘর থেকে বিদায় নেয়। তার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ক্ষতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিপদ তোমার ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। অতিথির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং আপ্যায়নের কষ্ট স্বীকার করার পেছনে এটাই হেকমত।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন, “যে ঘরে বেশি অতিথি আসে, আল্লাহ সেই ঘরকে ভালোবাসেন। এর চেয়ে উত্তম ঘর আর কিছুই হতে পারে না যেখানে তরুণ ও বৃদ্ধ সবার জন্য দরজা খোলা থাকে। এমন ঘরে আল্লাহর রহমত ও বরকত নেমে আসে।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন আল্লাহ কোনো জাতির জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি তাদের জন্য একটি উপহার পাঠান।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ধরণের উপহার, হে আল্লাহর রাসুল?” তিনি বললেন, “অতিথি তার নিজের রিজিক নিয়ে আসে এবং গৃহের লোকদের পাপ সঙ্গে নিয়ে যায়।”

তাই, সবাই জেনে রাখুন, অতিথি হলো জান্নাতে যাওয়ার একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, তাকে অবশ্যই তার অতিথির প্রতি উদার হতে হবে।”

[বুখারি ৫৫৬০]

সুবহান আল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহ!
©️

29/01/2025

৩ টি পদ্ধতিতে দু‘আ করা যায়। আজ আমরা সেগুলো দলিলসহ জানবো, ইনশাআল্লাহ। কোনো আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির কাছে দু‘আ চাওয়া বৈধ কি না...
26/01/2025

৩ টি পদ্ধতিতে দু‘আ করা যায়। আজ আমরা সেগুলো দলিলসহ জানবো, ইনশাআল্লাহ। কোনো আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির কাছে দু‘আ চাওয়া বৈধ কি না, সেটিও জানবো।

❖ দু‘আ বলতে আসলে কী বুঝায়?
আরবি দু‘আ শব্দটির অর্থ হলো ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা ইত্যাদি। পরিভাষায় কারও কাছে কোনো কিছু চাওয়া বা প্রার্থনা করাকে দু‘আ বলে।

❖ দু‘আ করার পদ্ধতি:
দু‘আ কয়েকভাবে করা যায়।

১) কেবল মনে মনে কোনোকিছু কামনা করা। যেমন: আমরা কুরআনে পাই, যখন বাইতুল মাকদিস মুসলিমদের কিবলা ছিলো, তখন নবিজি বারবার আকাশের দিকে তাকাতেন আর মনে মনে খুব চাইতেন, যেন কা’বাকে কিবলা নির্ধারণ করা হয়। আল্লাহ বলেন—
قَدۡ نَرٰی تَقَلُّبَ وَجۡهِکَ فِی السَّمَآءِ ۚ فَلَنُوَلِّیَنَّکَ قِبۡلَۃً تَرۡضٰهَا ۪ فَوَلِّ وَجۡهَکَ شَطۡرَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ ؕ وَ حَیۡثُ مَا کُنۡتُمۡ فَوَلُّوۡا وُجُوۡهَکُمۡ شَطۡرَهٗ ؕ

‘‘অবশ্যই আমরা আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানো লক্ষ্য করছি। সুতরাং অবশ্যই আমরা আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেবো, যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব, আপনি মাসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। আর, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের চেহারাগুলোকে এর দিকে ফেরাও।’’ [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৪৪]
(আল্লাহ নিজেই ‘‘আমরা’’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, তাই কুরআনের অনুবাদকগণও ‘‘আমরা’’ শব্দেই অনুবাদ করেন। এখানে কোনো ভুল নেই। এই ‘‘আমরা’’ দিয়ে সম্মান প্রকাশ করা হয়। আল্লাহ তাই, নিজের ক্ষেত্রে কুরআনের অনেক স্থানে ‘‘আমরা’’ শব্দ ব্যবহার করেছেন)

২) সাধারণভাবে মুখ ফুটে আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া। যেমন: কেউ আমাদের জন্য ভালো কিছু করলে আমরা বলি—জাযাকাল্লাহ খাইরান (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন)। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২০৩৫; হাদিসটি সহিহ]

এটাও কিন্তু দু‘আ, যা আমরা মুখ ফুটে বলি, কিন্তুু হাত উঠাই না। আমরা হাদিসে নবিজির মুখনিঃসৃত যেসব দু‘আ দেখি, এর অধিকাংশই এই ক্যাটাগরির দু‘আ। কারণ নবিজির প্রায় সকল কাজ ছিলো দু‘আ দিয়ে সুসজ্জিত।

৩) হাত উঠিয়ে বিশেষভাবে দু‘আ করা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উঠিয়েও দু‘আ করতেন। যেমন: বিশুদ্ধ হাদিসে আমরা দেখি, বদর যুদ্ধের দিন নবিজি হাত তুলে দু‘আ করেছেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৪৪৮০]

সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের রব্ব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। বান্দা যখন তাঁর নিকট দুই হাত তুলে, তিনি তা শূন্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৮৮; হাদিসটি সহিহ]

সুতরাং, এই তিন পদ্ধতিতেই দু‘আ করা বৈধ। তবে, প্রথম পদ্ধতিটা সেই অর্থে দু‘আ নয়, বরং মনের বাসনা মাত্র। অবশ্য আল্লাহ তা‘আলা অনেক সময় মনের বাসনাকেই পূরণ করে দেন; মুখেও বলতে হয় না।

❖ দু‘আ দুই রকমের হয়ে থাকে।

[১] যেকোনো ইবাদতই এক রকম দু‘আ।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন নামাজরত অবস্থায় থাকে, তখন সে তার রবের সাথে মুনাজাতরত থাকে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৪১৬]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সর্বোত্তম দু‘আ হলো, আলহামদুলিল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮০০; হাদিসটি হাসান]

এজন্য আলিমগণ বলেন, আল্লাহর ইবাদত মানেই এক ধরনের দু‘আ। ‘‘আলহামদুলিল্লাহ’’ শব্দটিতে কিছু চাওয়া হয় না, তারপরও হাদিসে এটিকে দু‘আ বলা হয়েছে।

[২] সরাসরি আল্লাহর কাছে চেয়ে দু‘আ। এই দু‘আ তো আমরা সবাই চিনি। অর্থাৎ, যে বাক্যের দ্বারা আমরা আল্লাহর কাছে কিছু চাই। যেমন: রাব্বিগফিরলি (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন), আল্লাহুম্মাহদিনি (হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত দিন), রাব্বি যিদনি ইলমা (রব, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন)।

❖ আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে দু‘আ করা:

আল্লাহ ব্যতীত কোনো কিছুর নিকট দু‘আ করা হারাম। হোক সেটি কোনো মূ*র্তি কিংবা হোন তিনি কোনো পির-বুযুর্গ, নবি বা আউলিয়া।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন—

وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

‘‘তুমি আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডেকো না, যে না তোমার উপকার করতে পারবে আর না তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে। তুমি যদি এমন করো, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো বিপদে ফেলেন, তাহলে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা থেকে তোমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান, তাহলে কেউ তাঁর অনুগ্রহকে প্রতিহত করতে পারবে না। স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান, তাকেই তিনি স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন; তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।’’ [সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬-১০৭]

অন্যত্র এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

فَادۡعُوا اللّٰهَ مُخۡلِصِیۡنَ لَهُ الدِّیۡنَ

‘‘অতএব, দ্বীনকে (ইসলামকে) আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করে শুধু আল্লাহকেই ডাকো।’’ [সুরা গাফির/মুমিন, আয়াত: ১৪]

সুরা ফাতিরে আল্লাহ বলেন—

وَ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهٖ مَا یَمۡلِکُوۡنَ مِنۡ قِطۡمِیۡرٍ

‘‘তোমরা আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির আবরণের মালিকও নয়।’’ [সুরা ফাতির, আয়াত: ১৩]

❖ নেককার ব্যক্তির কাছে দু‘আ চাওয়া:

(১) যদি জীবিত কোনো নেককার ব্যক্তির কাছে এই নিয়তে দু‘আ চাওয়া হয় যে, ‘‘অমুক যেহেতু নেককার মানুষ, তাই উনার দু‘আ হয়তো আল্লাহ কবুল করবেন’’ তাহলে সমস্যা নেই। এভাবে দু‘আ চাওয়া বৈধ। কারণ মূলত আল্লাহর কাছেই দু‘আ করা হচ্ছে, ব্যক্তির কাছে দু‘আ করা হচ্ছে না, বরং দু‘আ চাওয়া হচ্ছে কেবল। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা বললেন, ‘‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আনাস আপনারই খাদেম। আপনি তার জন্য দু‘আ করুন।’’ তিনি দু‘আ করলেন, ‘‘ইয়া আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন। আর তাকে আপনি যা কিছু দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫৯০৪]
এই দু‘আর বরকতে আনাস (রা.) বিপুল সন্তান-সন্ততি ও সম্পদের অধিকারী হন।

(২) আর যদি সেই নেককার ব্যক্তিটি মৃত হয়, তাহলে তার কাছে দু‘আ করা তো যাবেই না, এভাবে দু‘আ চাওয়াও যাবে না। কারণ মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির কথা শুনতে পারে না এবং তার ডাকে সাড়া দিতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

وَمَا أَنتَ بِمُسْمِعٍ مَّن فِي الْقُبُورِ

‘‘আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।’’ [সুরা ফাতির, আয়াত: ২২]

#সার্থক_মুনাজাত (প্রথম পর্ব)

Address

Beverly R/A, Chatteswari Road
Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সুকুন.Sukun posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share