15/07/2026
RCCB (Residual Current Circuit Breaker) বা রেসিডুয়াল কারেন্ট সার্কিট ব্রেকার মূলত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং বৈদ্যুতিক লিকেজ জনিত দুর্ঘটনা রোধ করতে ব্যবহৃত হয়। Legrand ব্যান্ডের ব্রেকারটি দেখা যাচ্ছে, সেটি একটি 30mA (মিলিঅ্যাম্পিয়ার) সেন্সিটিভিটির RCCB।
এটি মূলত কারেন্টের ভারসাম্য (Current Balance) নীতি এবং ফ্যারাডের তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশ সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। নিচে এর কার্যপদ্ধতি সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:
১. সাধারণ অবস্থা (Normal Condition)
একটি বৈদ্যুতিক সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য দুটি মূল তার থাকে—ফেজ (Phase/Live) এবং নিউট্রাল (Neutral)।
ফেজ তার দিয়ে বিদ্যুৎ লোডে (যেমন—লাইট, ফ্যান বা ফ্রিজ) প্রবেশ করে।
নিউট্রাল তার দিয়ে সেই বিদ্যুৎ পুনরায় ফিরে আসে।
সাধারণ অবস্থায়, ফেজ তার দিয়ে যে পরিমাণ কারেন্ট ভেতরে যায় (I_{in}), নিউট্রাল তার দিয়ে ঠিক একই পরিমাণ কারেন্ট ফিরে আসে (I_{out})। অর্থাৎ, I_{in} = I_{out}। এই অবস্থায় RCCB-র ভেতরের সেন্সরটি কোনো অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করে না এবং সার্কিট সচল থাকে।
২. লিকেজ বা শক খাওয়ার অবস্থা (Fault Condition)
যদি কোনো কারণে ফেজ তারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফ্রিজ বা কোনো ধাতব যন্ত্রের গায়ের সাথে লেগে যায়, অথবা কোনো মানুষ ভুলবশত ফেজ তার স্পর্শ করে ফেলে, তখন বিদ্যুৎ মাটিতে (Earth) চলে যাওয়ার একটি বিকল্প পথ খুঁজে পায়। একে আর্থ লিকেজ (Earth Leakage) বলে।
এই অবস্থায়, ফেজ তার দিয়ে যে কারেন্ট প্রবেশ করছে, তার একটি অংশ মাটির নিচে চলে যাওয়ায় নিউট্রাল তার দিয়ে সমপরিমাণ কারেন্ট ফিরে আসে না। অর্থাৎ, I_{in} \neq I_{out}।
কারেন্টের এই তারতম্য বা পার্থক্যকে বলা হয় রেসিডুয়াল কারেন্ট (Residual Current)।
৩. ট্রিপ করার প্রক্রিয়া (Tripping Mechanism)
CBCT (Core Balance Current Transformer): RCCB-র ভেতরে একটি রিং আকৃতির লোহার কোর থাকে, যার ওপর ফেজ ও নিউট্রাল তার প্যাঁচানো থাকে। একে CBCT বলে।
চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি: সাধারণ অবস্থায় ফেজ ও নিউট্রালের কারেন্ট সমান ও বিপরীতমুখী হওয়ায় তাদের তৈরি চৌম্বক ক্ষেত্র একে অপরকে বাতিল করে দেয়। কিন্তু কারেন্টের অমিল দেখা দিলেই এই কোরের মধ্যে একটি অতিরিক্ত চৌম্বক ক্ষেত্র বা ফ্লাক্স তৈরি হয়।
সার্চ কয়েল ও রিলে: এই চৌম্বক ক্ষেত্রটি কোরের সাথে থাকা একটি ক্ষুদ্র "সার্চ কয়েল"-এ সামান্য ভোল্টেজ বা কারেন্ট তৈরি করে। এই সংকেতটি সরাসরি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রিলে (Relay)-তে যায়।
ট্রিপিং: রিলেটি সাথে সাথে একটি স্প্রিং-লোডেড মেকানিজমকে ধাক্কা দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে (সাধারণত ৩০ মিলি-সেকেন্ডের কম সময়ে) মেইন সুইচটিকে বন্ধ বা Trip করে দেয়।
ছবির ব্রেকারটির বিশেষত্ব:
I\Delta n\ 30mA: এর মানে হলো, ফেজ এবং নিউট্রালের মধ্যে কারেন্টের পার্থক্য যদি মাত্র ৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা তার বেশি হয়, তবেই এটি ট্রিপ করবে। মানুষের শরীর সর্বোচ্চ ৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ সহ্য করতে পারে, এর বেশি হলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। তাই বাসাবাড়িতে মানুষের সুরক্ষার জন্য ৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের RCCB ব্যবহার করা হয়।
Test Button (T): নিচে ডানপাশে যে T চিহ্নিত ধূসর রঙের বাটনটি রয়েছে, সেটি দিয়ে মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখতে হয় ব্রেকারটি সচল আছে কিনা। এটি চাপলে ভেতরে কৃত্রিমভাবে একটি লিকেজ তৈরি হয় এবং ব্রেকারটি সাথে সাথে ট্রিপ করার কথা। এটি মাসে অন্তত একবার টেস্ট করা উচিত।
available here