13/04/2023
পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার
বর্তমানে আমাদের জীবনে স্মার্টফোন এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের নানান প্রয়োজনে সবার সাথে যোগাযোগ, কেনাকাটা, বিনোদন এমন অনেক কিছুই আমরা আমাদের ফোনের স্ক্রিনে গুছিয়ে নিয়েছি। আর এই ফোনের ব্যাটারিকে তাই আমাদের সব সময় চার্জড রাখতে হয়। তবে ঘর বা অফিসের বাইরে যেখানে ব্যাটারি চার্জ করবার সুবিধা সীমিত সেখানে আমাদের বিকল্প হিসেবে পাওয়ার ব্যাংকের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায় আবার ব্র্যান্ড ছাড়াও কিছু ডিভাইস বেশ খানিকটা সস্তায় পাওয়া যায়। সব পাওয়ার ব্যাংকের দক্ষতা সমান নয়। তাই পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে আমাদের অবশ্যই কিছু বিষয় জেনে নেয়া ভালো। সেই বিষয়গুলো নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
ক্যাপাসিটি বা চার্জ ধারণ ক্ষমতা
প্রথমেই আসে পাওয়ার ব্যাংকের ক্যাপাসিটি বা চার্জ ধারণ ক্ষতার বিষয়টি। ভাল অভিজ্ঞতা পেতে কমপক্ষে ১০ হাজার এমএএইচ ক্যাপাসিটির পাওয়ার ব্যাংক দরকার। তবে যেহেতু ‘ভালো’র কোনো শেষ নেই, তাই আপনি চাইলে ২০ হাজার এমএএইচ (বা আরও বেশি) পাওয়ার ব্যাংকও নিতে পারেন।
আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি ৩ হাজার এমএএইচ হয়, তাহলে একটি ১০ হাজার এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক দ্বারা আপনার ফোনকে কমপক্ষে ৩ বার ফুল চার্জ করা যাবে।
ইনপুট আউটপুট পোর্ট
অধিকাংশ পাওয়ার ব্যাংকে স্ট্যান্ডার্ড ইউএসবি –এ পোর্ট থাকে ইনপুট আউটপুট চার্জের জন্য। তবে কোন কোন পাওয়ার ব্যাংক বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী ইউএসবি-সি পোর্ট সুবিধা দেয় যাতে সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস চার্জ করা যায়।
পাওয়ার ব্যাংকে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি
পাওয়ার ব্যাংকটিতে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি রয়েছে কি না দেখে নিতে হবে। তা’নাহলে অধিক চার্জে মোবাইলের ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে সেটের ক্ষতি এমনকি ব্লাস্ট পর্যন্ত করতে পারে। অনেকেরই অভ্যাস আছে রাতে ফোন চার্জ দিয়ে ঘুমাতে যাবার। তাদের জন্য বিষয়টি বেশ বিপদজনক এবং এমন বেশ কিছু দূর্ঘটনার কথা আমরা আগেও জেনেছি।
এ সব ক্ষেত্রে গঠনগত কারণেই লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি অনেকটাই ‘সেফ’। আবার এই ধরনের ব্যাটারির পাওয়ার ব্যাকআপ দেওয়ার ক্ষমতাও বেশি।তাই লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি এবং অটো-কাট প্রযুক্তি দেখেই পাওয়ার ব্যাংক পছন্দ করুন। যে কোম্পানির এবং মডেলের পাওয়ার ব্যাংক কিনবেন, পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন।
চার্জ আদান প্রদানের সময়
যে কোন চার্জার পূর্ণ চার্জ হতে বা মোবাইল ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ করতে কত সময় নেবে তা নির্ভর করে পাওয়ার ব্যাংকের ধারণক্ষমতা আর ব্যবহৃত চার্জার এর ওপর। যদিও বেশিরভাগ পাওয়ার ব্যাংকগুলো আড়াই থেকে সাড়ে চার ঘন্টা সময় নেয়ার কথা বলে।
মোবাইলের চার্জারগুলো আউটপুট দেয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি ৫ ভোল্ট ও ২ এম্পিয়ার হারে আউটপুট দিয়ে থাকে। এরকম একটি চার্জার দিয়ে ১০ হাজার এমএএইচ পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দিতে কমপক্ষে ৪.৫ ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে রাখুন। অনেক পাওয়ার ব্যাংকে আউটপুট অপশন দুটি (2A/1A) থাকার কারণে সাধারণ চার্জারের চেয়ে দ্রুত চার্জ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। তবে পাওয়ার ব্যাংকের কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা “দ্রুত চার্জ” হওয়ার দরকার নেই। বরং স্বাভাবিক সময়ে চার্জ হলেই যথেষ্ট। ভাল ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক কিনলে চার্জিং টাইম নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবেনা।
পাওয়ার ব্যাংকের আকৃতি
পাওয়ার ব্যাংক হতে হবে সহজে বহনযোগ্য তাই এর আকার আকৃতি হবে এমন যাতে সহজে ধরা এবং পকেটে বা পার্সে বহন করা যায়। অনেক পাওয়ার ব্যাংক আছে যেগুলো গোলাকার, যা পকেটে বহন করা যায়না। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি ফোনের মত চারকোণা আকৃতির পাওয়ার ব্যাংক কিনতে পারেন। তাহলে প্রয়োজনে আপনি এটি পকেটেও বহন করতে পারবেন। আর পাওয়ার ব্যাংকের ওজন খুব একটা বেশি হয়না। তারপরও আপনি কেনার সময় বিকল্প খুঁজে দেখতে পারেন।
অন্যান্য ফিচার
পাওয়ার ব্যাংকের বাড়তি ফিচার হতে পারে চার্জ ইন্ডিকেটর, বাড়তি আউটপুট পোর্ট, টর্চ প্রভৃতি। চার্জ ইন্ডিকেটর লাইট/এলসিডি ডিসপ্লে আপনাকে দেখাবে যে কতটুক চার্জ বাকি আছে কিংবা কতটা চার্জ হয়েছে। বাড়তি আউটপুট পোর্ট থাকলে একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জ দিতে পারবেন। এছাড়া, কিছু কিছু পাওয়ার ব্যাংকে সোলার চার্জার থাকতে পারে, যদিও এ ধরনের সোলার চার্জার দ্বারা চার্জ হতে অনেক অনেক বেশি সময় লাগে।