28/08/2026
নেপালে দুনিয়ার ইতিহাসের ভয়াবহতম একটা বন্যা হয়ে গেল।
সাধারণত আমরা জানি, বৃষ্টির দীর্ঘ ভারী বর্ষণের কারণেই বন্যার সৃষ্টি হয়; কিন্তু আশ্চর্য ঘটনা কী জানেন? নেপালের এই ভয়াবহ বন্যাটা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট নয়৷ এই বন্যাটার সাথে বৃষ্টির সম্পর্ক খুবই কম।
তাহলে কোত্থেকে তৈরি হলো এই বন্যা, তাই তো?
হিমালয়ের খুব উঁচুতে একটি বরফ-পাথরের স্তর হঠাৎ করে ধ্বসে পড়ে। প্রায় ১৬,৮০০ ফুট উঁচু থেকে এই বরফের স্তর এতো শক্তিশালী ফোর্স নিয়ে নিচে নেমে আসে যে, রিপোর্টগুলো বলছে, এই ধ্বসের নিচে নেমে আসার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারের মতো।
এতো শক্তিশালী ফোর্স নিয়ে সেই ধ্বস যে পথে এসেছে, সেই পথটাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে এসেছে।
তারপর, শক্তিশালী এই বরফ-পাহাড়ের ধ্বস যখন নদীতে আছড়ে পড়ল, রিপোর্ট বলছে তখন নদীতে যে ফোর্স তৈরি হয়েছিল সেটা ছিল প্রায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান। স্বাভাবিকভাবেই, নদীতে হঠাৎ আছড়ে পড়া এই ফোর্স নদীকে মুহূর্তে অশান্ত করে তুলল। ৩০ মিনিটের মধ্যে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেল ৯ মিটারেরও বেশি।
তারপর যা ঘটল তা তো গোটা দুনিয়াই দেখল। ভেসে গেল মানুষ, ঘরবাড়ি, বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, গাড়ি, গাছপালা সব।
নেপালে কিন্তু সব ঠিকঠাকই চলছিল। ওখানে এখন বৃষ্টির মৌসুম চলছে; কিন্তু অতো ভারী বৃষ্টিপাত ছিল না যে একেবারে এরকম বন্যা হয়ে যাবে। সাহিত্যের ভাষায় যেটাকে রিমঝিম বৃষ্টি বলে, সেরকমই হয়তো বৃষ্টি হচ্ছিল। কখনো গুড়িগুড়ি, কখনো-বা কাকভেজা।
সব তো স্বাভাবিকই চলছিল সেখানে। স্কুল, অফিস, চাকরি, আউটিং, আড্ডা, ব্যবসা। কিন্তু চোখের পলকে বদলে গেল সব। খানিক আগে যেখানে সবাই জীবন উপভোগে ব্যস্ত ছিল, মুহূর্তের ব্যবধানে সেখানে সবাই পঙ্গপালের মতো দৌঁড়াচ্ছিল জীবন বাঁচানোর তাগিদে।
হিমালয়ের উঁচুতে বরফের একটা ছোট স্তর ধ্বসে পড়ল কেবল। এরপর নেপাল হয়ে উঠল একটা মৃত্যুপুরী।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে কুরআনে তো সেই কথাই বলেছেন বারংবার৷ যখন তিনি কিছু করার ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন—হও।
ওই ‘হও’ বলা পর্যন্তই।
তারপর বদলে যায় সভ্যতা, ওলট-পালট হয়ে যায় পৃথিবীর গতিপথ।
যারা ভাবে, কিয়ামত কীভাবে হবে? দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে এমন ফোর্স তথা শক্তি Out of Nowhere কোথা থেকে বের হবে, তাদের জন্য এই ঘটনায় একটা নিদর্শন রয়েছে।
একটা ছোট্ট বরফের স্তরের ধ্বস যদি নেপালকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যেতে পারে, আস্ত হিমালয় যদি নড়াচড়া শুরু করে, দুনিয়ার অস্তিত্ব কতো সেকেন্ড টিকে থাকবে?
~ আরিফ আজাদ