29/08/2026
বিখ্যাত ট্রাভেল ডকুমেন্টারি ব্লগার রুহি চেনেট এর ইহুদিদের নিয়ে এই ডকুমেন্টারি দেখে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। ডকুমেন্টারিটি কমেন্ট বক্সে পাবেন।
ভিডিওতে উঠে আসা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরছি :
১. তারা নিচের একটি কক্ষে দিনে তিনবার প্রার্থনা করে এবং সারাদিন গবেষণা ও পড়াশোনা করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টারও বেশি পড়াশোনা করে। সেখানে প্রায় ৫০০ জন ছেলে রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইসরাইল থেকে এসেছে। তারা বলছিল, একজন মা যেমন সন্তান প্রসবের সময় নয় মাসের মধ্যে শেষ মাসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেন, তেমনি পৃথিবীও এখন শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই মাসীহ (দাজ্জাল) আসবেন এবং পবিত্র ভূমিতে তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করে তারা সেখানে ফিরে যাবেন।
২. তারা কেউ মোবাইল, ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহার করে না। কারণ, তারা বিশ্বাস করে এসব তাদের রুহানিয়াত ও ঈশ্বরের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। সুতরাং, এসব থেকে বিরত না থাকলে ইবাদতের স্বাদ নষ্ট হবে এবং তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা অবশিষ্ট থাকবে না।
৩. তাদের আয়-রোজগার ও ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা বলে, এসব নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু নেই; ঈশ্বরই ব্যবস্থা করে দেবেন।
৪. তারা ইবাদতের শুরুতেই দান করে এবং জেরুজালেমের দিকে মুখ করে ইবাদত করে। তাদের ইবাদতখানায় স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দান বাক্স রয়েছে। তারা সেসব বাক্সে দান করে।
৫. তারা বারবার জিজ্ঞেস করছিল, ‘আপনি ইহুদি কি না?’ কারণ, তারা ইহুদি ছাড়া অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে না। এমনকি যোগাযোগের জন্য তাদের আলাদা মোবাইলও রয়েছে। তারা ভিডিও ক্যামেরা পছন্দ করে না; প্রয়োজন হলে ছবি তোলে। ইন্টারনেটের কথা তো বাদই দিলাম — টিভি, সিনেমা ইত্যাদি সম্পর্কেও তাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। কোনো খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটির নামও তারা জানে না। তারা জানে কেবল তাদের রাব্বি বা ধর্মগুরু কী বলেছেন এবং তিনি কোথায় থাকেন।
৬. তারা সাধারণত ১০ জনের কম সন্তান নেয় না; অর্থাৎ তাদের পরিবারে সন্তানসংখ্যা অনেক বেশি। সন্তান নেওয়া বা সন্তান নেওয়া বন্ধ করার মতো বিষয়েও তাদের রাব্বি বা প্রধান ধর্মগুরুর কাছে যেতে হয়। কারণ, তারা তাঁর কথাকে ঈশ্বরের নির্দেশের মতোই বিশ্বাস করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতি ২০ বছর পরপর তাদের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
৭. তাদের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে তারা তাওরাত অনুযায়ী বিচার করে। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে খুবই সহযোগিতা করে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও পরস্পরকে সাহায্য করতে তারা খুব পছন্দ করে। তাদের নিজস্ব পুলিশবাহিনীও রয়েছে, যারা টহল দেয় এবং কোনো ইহুদি নারী অশালীন পোশাক পরেছেন কি না বা মাথা ঢেকে চলছেন কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সও রয়েছে। এক কথায়, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রায় সবকিছুই রয়েছে।
৮. তাদের নারীরা বেশি সন্তান নেওয়া কিংবা টিভি-সিনেমা দেখতে না পারা নিয়ে কোনো অভিযোগ করে না। তারাও শালীন পোশাক পরেন এবং ইবাদতের জন্য ইবাদতগাহে যান। তবে ইবাদতগাহে তাঁদের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে, যেখানে কাঁচ দিয়ে ঘেরা পৃথক অংশে তাঁদের ইবাদত করতে হয়।
৯.বিবাহিত নারীদের জন্য তাদের চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক । অনেক নারী (বিশেষ করে সাতমার সম্প্রদায়ের) তাদের চুল সম্পূর্ণ কামিয়ে ফেলেন এবং বাইরে বের হওয়ার সময় পরচুলা (উইগ) বা স্কার্ফ ব্যবহার করেন । তারা মনে করেন চুল শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়েও বেশি সংবেদনশীল, তাই এটি ঢেকে রাখা জরুরি । এছাড়া তাদের পোশাকের ক্ষেত্রে কনুই এবং হাঁটু ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক এবং উৎসগুলোতে 'মডেস্টি প্যাট্রোল' বা শালীনতা রক্ষাকারী দলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা মানুষের পোশাকের ওপর নজর রাখে ।
১০. বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় ম্যাগাজিনগুলোতেও কোনো নারীর মুখ বা ছবি ছাপানো হয় না, যা তাদের কঠোর 'শালীনতা' রক্ষারই একটি অংশ ।এই সম্প্রদায়ের বিজ্ঞাপনে সাধারণত কোনো নারীর মুখ বা ছবি দেখানো হয় না। এমনকি তাদের নিজস্ব বিভিন্ন সেবার বিজ্ঞাপনেও (যেমন তাদের ডায়াল-আপ সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো বিশেষ প্লাটফর্ম) শুধুমাত্র পুরুষদের ছবি ব্যবহার করা হয় ।
হাসিদিক পাড়ায় বাইরের আধুনিক ট্রাক বা যানবাহনের গায়ে থাকা "অশালীন বা অনুপযুক্ত বিজ্ঞাপন" (inappropriate advertisements) যাতে মানুষের চোখে না পড়ে, সেজন্য রাস্তার কিছু অংশে বিশেষ আড়াল বা ব্লকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় ।
এখন একবার আমাদের কথা চিন্তা করলে?
আমরা কতটা ধোঁকার মধ্যে পড়ে আছি?