12/07/2026
মাইকেল বললেন, " এক ডজন বিয়ার দিলে আমি নাটকটি অনুবাদ করে দিব৷ একরাতেই অনুবাদ করে দিব । "
এই মাইকেল হলেন আমাদের মাইকেল মধুসূদন দত্ত৷ আর নাটকটি হলো দীনবন্ধু মিত্রের " নীল দর্পন "
দীনবন্ধু মিত্র এবং মাইকেল ছিলেন সমসাময়িক । এমনকি তারা দুজনে একই বছরে 1873 সালে মারা যান । নীলকরের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে নাটক লেখার জন্যে অনেকেই মাইকেলের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তবে তিনি তখন রাজি হননি ।
অবশেষে অত্যাচারের কাহিনী টা নিয়ে কালজয়ী নাটক লিখলেন দীনবন্ধু মিত্র । হ্যারিয়েট স্টো যেমন দাস প্রথা নিয়ে
" Uncle Tom's Cabin " লিখেছিলেন তারই অনুকরণে নীলকরদের অত্যাচারের ছবি আঁকলেন " নীল দর্পনে " ।
কিন্তু নিজের নাম ব্যবহারের সাহস পেলেন না ।
লিখলেন " কস্যচিৎ পথিকস্য " ছদ্মনামে। তখন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এমনকি রাজা রামমোহন রায় নীলচাষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্রিটিশ প্রভুর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ।
এমন সময়েও বলির পাঁঠা হতে রাজি হলেন রেভারেন্ড জেমস লঙ । প্রকাশ করলেন নীল দর্পন নাটক । এটিই ছিল ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ ।
এখন ইংরেজি অনুবাদের পালা । মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক ডজন বিয়ারের বিনিময়ে রাজি হলেন । বিয়ার খেলেন আর সারারাত ধরে অনুবাদ করলেন । নীল দর্পন হয়ে গেল " The Indigo Planting Mirror " তবে তিনিও নিজের নাম ব্যবহার না করে ছদ্মনাম A Native ব্যবহার করলেন ।
আসলেই বলির পাঁঠা হলেন রেভারেন্ড জেমস লং । নাটক প্রকাশের দায়ে 1 হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । তখন তাকে বাঁচান হুতোম প্যাঁচা নামে পরিচিত কালীপ্রসন্ন সিংহ । তিনি নিজের পকেট থেকে 1 হাজার টাকা দিয়ে লং সাহেব কে মুক্ত করেন ।
অবশেষে ইন্ডিগো কমিশনের রিপোর্ট মতে নীলচাষের নিপীড়ন থেকেও রক্ষা পেল নীলচাষীরা । কারন ব্রিটিশ প্রভুরা কাপড়ে রং করা কৃত্রিম উপায় আবিষ্কার করে ফেলেছিল ।
তবে নাটকের তেজ টা কিন্তু চলছিল । 1872 সালে যখন বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হয় কলকাতায় । বিদ্যাসাগর নীলচাষীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিজের জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন অভিনেতা কে উদ্দেশ্য করে !
অভিনেতা অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফিও নিজের অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জুতা টাকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন ।
(আশাকরি এই বিষয়টা গল্পের মত করে পড়লে প্রিলি, রিটেন, ভাইভা সব কাভার হয়ে যাবে)
লেখা: শামিম শাহরিয়ার