clover4

clover4 Alhamdulillah. "Life is not only about finding yourself
But creating yourself." "The most important thing in The World is
Family and Love "

Welcome to clover4.

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱রেশমা                             𝟯𝟭শুক্রবার সকাল মানেই ডাইনিং টেবিলে বসে আড্ডা। খাবার এখনো টেবিলে দেওয়া ...
02/06/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟯𝟭
শুক্রবার সকাল মানেই ডাইনিং টেবিলে বসে আড্ডা। খাবার এখনো টেবিলে দেওয়া হয় নাই। সালেহার দুইদিন থেকে জ্বর। রাহেলা রান্নার কাজ সাধারনত করে না তাইতো সে সঠিক সময় সকালের নাস্তা রেডি করতে পারি নাই। সাদাদ আর শায়লা বসে বাচ্চাদের খুনসুটি দেখছে আর মজা নিচ্ছে।
রাহেলা একে একে খিচুড়ি, ডিম পোচ, বেগুন ভাজি আর আলু ভর্তা এনে টেবিলে রাখল। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এতোটুকুতেই সে অনেক হ্যাপিয়ে গিয়েছে।

মুহিব খাবার গুলো ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল আজকের আলু ভর্তাটা কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে বানিয়েছে আর ডিম ভাজি না করে সবগুলো ডিম পোচ করে রেখেছে। মুহিব কাঁচা পেয়াজের ভর্তাও পছন্দ করে না, ডিম পোচও পছন্দ করে না। দুটোই তার অপছন্দের। সে খাবার দেখে খুব বিরক্ত হইলো। সে বলল আমাকে ডিম ভাজি করে দাও আমি ডিম পোচ খাব না।

সাদাদ শায়লাকে বলল, রাহেলাকে ডাকো ওকে বল একটা ডিম ভাজি করে নিয়ে আসতে।

শায়লা বলল, একদিন অপছন্দের খাবার খেলে কিচ্ছু হবে না। সব রকমের খাবার খেতে হয় আজকে খেয়ে নাও।

মুহিব বলল,আপুর অপছন্দের খাবার হইলে কি হতো? আহ কেন যে ছোট হইলাম সবকিছু শুধু আমাকেই মানিয়ে নিতে হয়।

সোফিয়া বলল, কি আর করবি বল। এক কাজ কর বিয়ে করে ফেল তাহলে তুই কারো থেকে বড় হতে পারবি। বিয়ে করলে কিন্তু তুই তোর বউয়ের চেয়ে বড় হয়ে যাবি, তখন আর সবচেয়ে ছোট থাকবি না। ভেবে দেখ আইডিয়া কিন্তু মন্দ না। তাছাড়া বাড়িতে একসাথে দুটো বিয়ে হলে বাবার খরচও কমে যাবে।

মুহিব মাহিনের দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইয়া সিরিয়াল ব্রেক হলে কি তোমার কোন প্রবলেম আমার কিন্তু কোন আপত্তি নাই। বাবা আমি তো নাইনে পড়ি বড় হয়ে গেছি তাইনা? হা হা হা……

মুহিবের কথা শুনে মাহিনের বিষম উঠল ।

শায়লা পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে বলল, এত তাড়াহুড়া করিস না সাবধানে খা।

সাদাদ বলল, আমাদের সাথে তোরা কে কে যাবি?

মুহিব বলল,আমি যাব।

সোফিয়া বলল, ভাইয়া তুই যাবি?

মাহিন বলল, সবাই গেলে লোকজন বেশি হয়ে যায় না?

শায়লা বলল, হঠাৎ করেই আমরা যাচ্ছি সেখানে কি পরিস্থিতি দাঁড়াই? আজকে বাচ্চাদের যাবার দরকার নেই, আমরা মা আর রাহাত নীলা গেলেই হবে।

সাদাত বলল, বাদ দাও অতসব চিন্তা করো না আমার ছেলের যোগ্যতায় কি কম? মুহিব গেলে যাক না ও মার সাথে সাথে থাকবে। ওহ রাহাত নাকি আজকে যেতে পারবে না। ওর কি যেন জরুরী কাজ আছে। বলল নীলা আর মা যাবে।

মুহিব বলল,বাবা আমারও কাজ আছে আমি আজকে যেতে পারবো না।

মাহির দুদিন আগে ফোন দিয়েছিল ওর নাকি একটা পছন্দ আছে যে কিনা ওর বাবার স্টুডেন্ট। মেয়েটা মাহিরের চার ব্যাচের জুনিয়র সে মেয়েটার গার্জিয়ানরা হঠাৎ করে বিয়ে ঠিক করেছে। আজ ছুটির দিন হওয়াতে শায়লা সাদাদ সেখানে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাদাদ বেশ কনফিডেন্ট তার ছেলের মত এত সুযোগ্য ছেলেকে মেয়ের পরিবার অবশ্যই সাদরে গ্রহণ করবে।

সামান্তাদের ড্রইং রুমে বসে আছে মাহিরের পরিবারের লোকজন। শায়লা কিছুটা নিস্প্রান বসে আছে কথাও তেমন একটা বলছেনা যা বলার সাদাদ বলছে। শায়লার মনের মধ্যে চলছে তার পুরনো দিনের কতশত স্মৃতি। কত দিন পর সে পুরান ঢাকায় এসেছে তার বাবা-মাকে মনে পড়ছে ভাইদের মনে পড়ছে।

সামান্তাকে মাহিরের পরিবারের সবার খুব পছন্দ হয়েছে। মাহিরের দাদির সামান্তাকে এত বেশি পছন্দ হয়েছে সে সমান্তাকে পাশে বসিয়ে হাত ধরে রাখছে।

ড্রয়িং রুমে সামান্তার বাবা-মা আসলে সামান্তা পরিচয় করিয়ে দিল সাদাদ তার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক। সাদাত প্রথমে কুশলাদি বিনিময় করে শায়লাকে, তার মাকে, ভাইয়ের ওয়াইফকে পরিচয় করে দিল। তারপর তারা এখানে কেন এসেছেন সেটা জানালো। সামান্তার বাবা-মা প্রথমে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। অবশেষে শায়লা সাদাদ বলল, আপনারা আমাদের সম্বন্ধে খোঁজখবর নেন তারপরে আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়েন।

দীর্ঘ আলোচনার পর সাদাদরা উঠতে চাইলে সামান্তার বাবা-মা বললেন, আপনি আমার মেয়ের শিক্ষক রাত হয়ে গিয়েছে আপনারা আজ রাতে আমাদের সঙ্গে খেয়ে যাবেন। আর আমার ছোট দুই ভাইও দোকান থেকে বাসায় এসেছে ওদের সঙ্গে কথা বলি সবাই মিলে আলোচনা করে আমরা কবে যাব আপনাদেরকে জানাবো। মেয়ের পছন্দ যদি সঠিক হয় তাহলে আমরা অবশ্যই সেটা বিবেচনা করব। আমাদের মান সম্মানের চেয়ে আমাদের মেয়ের ভালো থাকা আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চলবে……..

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱রেশমা                           𝟯𝟬ফাতিম, পায়েল, লাইজু  কলেজ প্রাঙ্গণে  বসে আড্ডা দিচ্ছে। নিহা, স্বাধীনও ও...
25/05/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟯𝟬
ফাতিম, পায়েল, লাইজু কলেজ প্রাঙ্গণে বসে আড্ডা দিচ্ছে। নিহা, স্বাধীনও ওদের সাথে ছিল ওরা দুজন একটু আগেই বেরিয়ে গেছে।আজ কারো বাসায় ফিরবার তাড়া নেই আগামী দুই সপ্তাহ তাদের কলেজ বন্ধ থাকবে। ইয়াসমিনের আজকে মিটিং আছে। সে ফাতিমকে একাই বাসায় যেতে বলেছিল কিন্তু ফাতিম বলেছে একসঙ্গে যাবে।

পায়েলের আগামীকাল বাড়িতে যাবার কথা। সে ফাতিম কে বলল, কিরে তুই কবে যাবি? বাড়িতে যাবি না এবার?

ফাতিম বলল, অবশ্যই যাবো। তবে কবে যাব সেটা এখনো ঠিক হয় নাই, ফুুপিও যাবে তো।

লাইজু বলল, সেই,তোদেরই ভালো ছুটি হলে বাড়িতে যাস। বাড়ির সবাই নিশ্চয়ই মেহমানের মত ট্রিট করে, অনেক মজা হয় তাই না ? আর আমাকে দেখ কলেজ খোলা থাকলেই ভালো তাও বাইরে বের হওয়া হয় আর তা না হলে উফ। কলেজ বন্ধ মানেই বোরিং, সারাদিন বাসায় বন্দি।

পায়েল বলল, নেক্সট ছুটিতে আমাদের গ্রামে যাবি? এর আগে কখনো গ্রাম দেখেছিস?

লাইজু বলল, আমার দাদা বাড়িতো গ্রামে কিন্তু, মা একদম যেতে চায় না। আমার মা নানা নানীর একমাত্র সন্তান তাইতো আমরা নানা বাড়িতেই থাকি।

পায়েল আবার বলল, তাহলে তুইও কি বিয়ের পর তোর মা’র বাড়িতেই থাকবি নাকি?

লাইজু বলল, মার বাড়িতে থাকতে হলে জীবনে বিয়েও করবো না।

ফাতিম বলল, হুম মরুভূমি।
লাইজু বাসায় যাবিনা? বাসায় যা তাছাড়া তোকে আজ নিশ্চিত বকা খেতে হবে। পরে আবার বলিস না আমাদের জন্য তোকে ধোলাই খেতে হল।

লাইজ হুম বলে মাথা উচিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখল একটা ছেলে ফাতির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লাইজুও ছেলেটার দিকে নিষ্পলক থাকিয়ে রইল। সে এর আগে এত সুন্দর ছেলে দেখেনি। সে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেল।

পায়েল লাইজুকে ধাক্কা দিয়ে বলল, কিরে কি হইসে তোর? কি দেখিস ?

লাইজু সামনে তাকিয়েই বলল, দোস্ত মনে হয় প্রথম দেখাই প্রেমে পড়েছ। কিন্তু, কপাল প্রেমে পড়ার সাথে সাথেই আবার ছ্যাকাও খেয়েছি।

ফাতিম পায়েল দুজনে একসাথে কী? বলে লাইজুর দৃষ্টি অনুসরণ করে পিছনে ফিরে তাকালো। পায়েল ভাইয়া বলে লাফি উঠলো। তারপর ব্যাগ নিয়ে সামনে এগোতে লাগলো।

লাইজু ফাতিম কে বলল, ওটা পায়েলের ভাই! তাহলে তোর দিকে এভাবে অত সময় তাকিয়েছিল কেন? পায়েল না তোর কাজিন?

ফাতিম লাইজুর সাথে এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে চায় না। তাইতো বলল,কিরে বাসায় যাবি না? উঠ বাসায় যা। আর শোন, পিয়াল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই সে বিবাহিত তার বউও অনেক সুন্দরী।

লাইজু মজা করে বলল,ঠিক বলেছি দোস্ত বাসায় যাই, নইলে কখন ফিট হয়ে যাই। আমার জন্য দোয়া করিস ইনশাআল্লাহ ছুটির পরে আবার দেখা হবে। ভালো থাকিস, বাই।

ফাতিম বলল,তুইও ভালো থাকিস।
লাইজু চলে যেতেই ফাতি ব্যাগ নিয়ে পায়েলদের দিকে এগোতে লাগলো। লাইজুর কথা শুনে ফাতিমের মেজাজ খারাপ হলো। সে সিদ্ধান্ত নিল আজ সে পিয়ালের সঙ্গে কথা বলবে। ফাতিম সালাম দিয়ে পায়েল কে বলল, দেখতো ফুফির মিটিং শেষ হয়েছে কিনা?

পায়েল ফাতিমের দিকে তাকিয়ে ফাতিমকে বুঝতে চেষ্টা করল তারপর একটু দূরে সরে গেল কিন্তু ফাতিমকে একা রেখে খুব বেশি দূরে গেল না।

ফাতিম পিয়ালকে বলল, ভাবী কেমন আছেন?
পিয়াল কিছু বলল না।

ফাতিম আবার বলল, আমার কিছু কথা আছে পিয়াল ভাই। আপনি কেন এখনো আমার পিছন পিছন ঘুরছেন? আমার কারণে অন্য কোন মেয়ে কষ্ট পাক,তা আমি চাইনা। ভাবি যদি জানতে পারেন আপনি আমার কারণে তাকে অবহেলা করছেন তাহলে ভাবি কি মনে করবেন? ফাতিম সরাসরি পিয়ালের চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল, পিয়াল ভাই ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কারণেই মাহিনকে পাইছি। সে আমার জন্যই বেস্ট, আমিও তার জন্য। মাহিনকে পেয়ে আমি খুব খুশি এবং ভালো আছি। আশা করি এরপর থেকে আমাকে আর ফলো করবেন না। আর শুনুন আপনি কিন্তু একা ভালো থাকতে পারবেন না। ভাবিকে ভালো রাখলেই আপনিও ভালো থাকবেন। অন্তত নিজের ভালোর জন্য হলেও আর আমাকে বিরক্ত করবেন না। প্লিজ।

ইয়াসমিন মিটিং শেষে বের হয়ে দেখল ফাতিম পিয়ালের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। সে দ্রুত ফাতিম এর কাছে গেল, পিয়াল পায়েলের সঙ্গে কথা বলে ফাতিকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো। সে সারা রাস্তা ফাতিমকে কিছু বলল না। ফাতিমও চুপচাপ ফুফিকে অনুসরণ করল। ইয়াসমিন বাসায় গিয়ে খাবার শেষে বলল, পিয়ালের সঙ্গে কি কথা বলছিলি?

ফাতিমকে কিছু বলতে না দেখে ইয়াসমিন রেগে গেল কিরে কথা বলছিস না কেন?

ফাতিম মাথা নিচু করে আস্তে করে বলে, ফুপি আমি তোমাকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না প্লিজ।

ইয়াসমিন কি ভেবে একটু চিন্তিত হল তারপর নরম কন্ঠে বলল, মাহিন কেমন আছে? ও কি নিয়মিত চিঠি দেয়? তুই কি ঠিকমতো লিখিস?

ফাতির মাথা ঝুকিয়ে বলল,হুম। ফাতিম আবার বলল আজকে ফোন দিতে পারি?

ইয়াসমিন বলল হ্যাঁ। এখন দিবি?

ফাতিম বলল, এখন না। তুমি লকটা খুলে রাখ আমি পরে একসময় দিব।

ইয়াসমিন বলল ঠিক আছে কথা শেষ হলে আমাকেও দিস।

পায়েলকে নিয়ে পিয়ালের বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। পিয়ালও প্রায় মাস দুয়েক পর হোস্টেল থেকে আজ বাড়িতে ফিরলো। বাসায় পৌঁছেই দাদির ঘর থেকে খিলখিল আওয়াজ শুনতে পেল। সুরভীর সাথে তার বিয়ের বছর দেড়েক পেরিয়ে গিয়েছে। সে বাড়িতে থাকলে সুরভীর সাথে একসঙ্গে রাতে ঘুমানো আর প্রয়োজনে রাতে কাছাকাছি আসা ছাড়া সুরভীর সঙ্গে তার আর কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। সুরভীর পক্ষ থেকেও তেমন কোন আগ্রহ সে দেখে নাই আর তার তো ইচ্ছেই করেনি।তাইতো সুরভীর এমন আচরণে সে খুশিই ছিল। বরঞ্চ উল্টো হলেই হয়ত তার বিরক্তিকর মনে হতো বা লাগতো। সে বাড়িতে পৌঁছে তার ঘরে গিয়ে ব্যাগ রেখে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হতেই সুরভীর সঙ্গে দেখা হল। সুরভী তাকে দেখে তার দৃষ্টি নিচে নামিয়ে নিল। তার মনে হলো সুরভী কিছুটা বদলে গেছে তার মধ্যে আগের চঞ্চলতা নেই তাকে দেখলেই চুপ হয়ে যায়। সেও কিছু বলল না। মা দাদীর সঙ্গে কথা বলে বাজারের দিকে চলে গেল।

পিয়াল বাড়িতে ফিরল অনেক রাতে প্রায় রাত এগারোটা। আজ রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাতে সে বিষন্ন ছিল। তার মাথার মধ্যে ফাতিম আর ফাতিমের বলা কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। তাইতো আড্ডা শেষে সে বাড়িতে না ফিরে বাড়ির পাশে আমগাছটার নিচের মাচায় দীর্ঘক্ষণ বসে ছিল। পায়েল সুরভীর সঙ্গে গল্প করছিল পিয়ালকে দেখে পায়েল বলল, ভাইয়া আব্বার ঘরে গিয়ে দেখা করে এসো, আব্বা তোমাকে ডেকেছিলেন।

নিজাম বলল, তোর পড়ালেখা কেমন চলছে?

পিয়াল বলল, ভালো।

এখন রাত কয়টা বাজে সেদিকে খেয়াল আছে? সারাদিন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা। এতদিন পর বাড়িতে এসেছিস, বাড়িতে যে তোর স্ত্রী আছে সেটা কি মনে আছে?

পিয়াল কিছু বলল না চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।

নিজাম আবার বলল, বিয়ে করেছিস অতএব ঠিকমতো বউয়ের দায়িত্ব পালন করতে শিখ। বৌমার ভালো-মন্দের খেয়াল রাখার দায়িত্ব তোর কথাটা যেন মনে থাকে। ঠিক আছে এখন যা। বৌমা অপেক্ষা করছে।

সুরভী ঘরে এসে দেখলো পিয়াল খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। পিয়ালের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই সে তার দৃষ্টি নামিয়ে নিল। সে দৃষ্টি নামিয়েও বুঝতে পারল পিয়াল তার দিকেই তাকিয়ে আছে, এর আগে পিয়াল কখনোই এভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকেনি। অভিমান আর কষ্টগুলো লুকাতে দ্রুত সে বালিশটা ঠিকঠাক করে উল্টো দিকে ঘুরে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো। ইদানিং কেন জানি পিয়ালের উপস্থিতিতে তার অস্বস্তি বেড়ে যায়। সে এখন আগের চেয়ে আরো বেশি পরিণত হয়েছে বুঝতে শিখেছে সম্পর্কের মানে। পিয়ালের শীতলতা তাকে বড্ড বেশি পীড়া দেয়। শরীরে পিয়ালের হাতের স্পর্শে সে জমে গেল আর সেই সাথে মনের ভিতরের রাগ, ক্ষোভ আর অভিমানগুলো বিস্ফোরিত হতে চাইলো। সে ভাবে এভাবেই কি পিয়ালের সাথে তার জীবন কাটিয়ে দিতে হবে? হঠাৎ পিয়ালের কন্ঠে এখনই ঘুমোবে শুনে সে কোন উত্তর দিতে পারল না কান্না কন্ঠকে আটকে ধরল। পিয়ালকে তার আজ বড্ড বেশি অপরিচিত মনে হচ্ছে। পিয়াল তাকে আলতো হাতে শোয়া থেকে উঠিয়ে খাটে বসিয়ে বলল, আজ আমরা ঘুমাবো না, সারা রাত দুজন গল্প করব। সারারাত জেগে থাকতে পারবে তো?

সুরভী মুখে কিছুই বলতে পারল না। সে এই প্রথমবার আবেগে পিয়ালকে জড়িয়ে ধরল আর খুশিতে কান্না করতে লাগলো।

টেলিফোনের শব্দে শায়লার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উদ্বেগ নিয়ে ফোন ধরতে ধরতেই ওপাশ থেকে নীরবতা। শায়লা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো 11:30। শায়লা বিরক্ত হয়ে বললেন কে বলছেন প্লিজ। ফাতিম সালাম দিয়ে বলল, মা কেমন আছেন?

শায়লা কিছুটা ভয় নিয়ে জানতে চাইলো কি ব্যাপার মা কেমন আছো এত রাতে? কোন সমস্যা হয়নি তো?

ফাতিম লজ্জিত হয়ে বলল সরি মা। এমনিতেই ফোন দিয়েছি আপনারা কেমন আছেন? বাবা কেমন আছেন?

আমরা ভালো আছি। মাহিনের সঙ্গে কথা বলতে চাও দাঁড়াও ওকে ফোনটা দিচ্ছি।

হ্যালো আফরি কেমন আছো? সব কিছু ঠিকঠাক?

জানিনা। তুমি কেমন আছো?

মনটা কি বেশি খারাপ? তুমি চাইলে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে রাজশাহীতে যেতে পারি।

না এখন আসতে হবে না। কয়েকদিন পর আমি বাড়িতে যাব আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কলেজ বন্ধ ।মাহিন?

বলো

কতদিন পর আমাদের কথা হচ্ছে? তুমি এতদিন আমাকে ফোন দাওনি কেন?

ফোন তো দিয়েছিলাম তোমার রোবট ফুপি বলল, তুমি নাকি ঘুমিয়ে আছো।

হুম। তুমি কেমন আছো? তোমার শরীর ঠিক আছে?

আলহামদুলিল্লাহ। এবার একটু হাসো তোমার হাসি শুনলে আর একটু ভালো থাকবো।

মিনিট পনেরো তারা দুজন মধুর মধুর গল্পে কাটালো। তারপর হঠাৎ করেই ফাতিম বলল,
এবার যদি আমাকে রাজশাহীতে ভর্তি হতে বলে আর তুমি যদি কোন কিছু না বল, তাহলে তোমার সঙ্গে আর কথা বলবো না। যতদিন না তুমি আমাকে, তোমার ঘরে উঠিয়ে নিবে।

কি হলো আবার, রেগে যাচ্ছ কেন? ভেবে বলতো সত্যিই কি আমার কিছু করার ছিল? ফাতিমকে চুপ থাকতে দেখে মাহিন আবার বলল, লাইফের গোল এত ছোট রেখোনা। লাইফের যদি আলটিমেট গোল ঠিক রাখো তাহলে সবকিছু মেনে নিতে সহজ হবে। আর তোমার মনও প্রশান্তিতে থাকবে। আফ্রি?

হুম

বউ তোমাকে ভালোবাসি অনেক অনেক অনেক।

আমিও তোমাকে ভালোবাসি। সরি ডিয়ার হাজবেন্ড।

নামাজ পড়েছ?

না পড়ব।

যতই ব্যস্ত থাকো, মন খারাপ যাই হোক না কেন, নামাজ ও কোরআন পড়া বাদ দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পড়বে। লাইফের আলটিমেট গোলের চেয়ে আর কিছুই ইম্পরট্যান্ট না বুঝলে। আমি হেভেন চাই, আর সেখানে তোমাকেও চাই। এবার ফোন রাখি। নামাজ পড়ে ঘুমাও।

হুম।ভালো থেকো।

চলবে…….

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱রেশমা                      𝟮𝟵রোদ রুবাদের  শীতকালীন ছুটি এখনো শেষ হয়নি।রাহাতও পৌনে সাতটার দিকে অফিসের কাজে...
18/05/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟵
রোদ রুবাদের শীতকালীন ছুটি এখনো শেষ হয়নি।রাহাতও পৌনে সাতটার দিকে অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে গিয়েছে, আগামীকাল ফিরবে। রাহাতকে বিদায় দিয়ে নীলা আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। তাইতো নীলার আজ ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরি হয়েছে। সে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে দেখে ডাইনিং টেবিলে বসে তার বাবা-মা, শাশুড়িমার সঙ্গে গল্প করছেন। রোদ রুবাবও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে।

শাশুড়ি নীলাকে দেখে বলল দেখো কে এসেছে?

নীলা এত সকালে তার বাবা মাকে দেখে একটু অবাক হয়নি। নীলার বাবা রিটায়ার্ড করেছেন বছর পাঁচেক হলো। তবে বছরখানেক হলো ওনার ডাইবেটিস ধরা পড়েছে। সেজন্য প্রতিদিন সকালে তার বাবা তার মাকে নিয়ে সংসদ ভবনের আশেপাশের এলাকায় হাটতে বের হন। যেদিন বাবার তাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে । সেদিন ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাঁটতে আসেন। হাঁটা শেষে সোজা নীলার বাসায়। বাসায় এসে খুব বেশিক্ষন দেরি করেন না এই আধাঘন্টা কখন আবার ঘন্টাখানেক তারপর চলে যান।

নীলা হাসি মুখে তার বাবা মাকে সালাম দিয়ে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করল। তারপর তাদের পাশে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
সরি মা আমার উঠতে দেরি হয়ে গেছে আপনারা নাস্তা করেছেন? সকালে ওষুধ খেয়েছেন?

হ্যাঁ আমরা খেয়েছি, রোদ রুবাবও খেয়েছে, এবার তুমি খাও। খেয়ে আমাদের জন্য দুধ চা বানাও আজকে আমরা তোমার হাতের দুধ চা খাব।

নীলার বাবা বলল তা তো অবশ্যই বেয়ান এত দূর কষ্ট করে এসেছি মেয়ের হাতের দুধ চা না খেলে কি হবে? বাসায় এখন দুধ চা খাওয়া নবীন নিষিদ্ধ করেছে। সে নিজেও বাসায় দুধ চা খায়না।

বেয়াই আপনার মেয়েও আমাকে খেতে দেয় না। তাইতো আপনারা আসলে সুযোগের সৎ ব্যবহার করি। আপনাদের সামনে তো আর কিছু বলতে পারে না। কয়দিন পর তো মারাই যাব এখন আর এত ডাক্তারের আদেশ নিষেধ মেনে চলে কি হবে বলেনতো?

নীরার মা তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমার জন্য তো আমারও খাওয়া হয় না আমাকে তো আর ডাক্তার নিষেধ করেনি।

নীলা ভাবলো, বাবা-মা’র বয়স বেশি বলে আমরা সন্তানরা তাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা বিবেচনায় না নিয়ে আমরা তাদের উপর অতিরিক্ত বিধি নিষেধ চাপিয়ে দিচ্ছিনা তো? নীলা বলল,সরি, আমি মনে হয় বেশি বেশি করে ফেলেছি। এরপর থেকে আপনাদের কী কী করতে ও খেতে ইচ্ছে করে জানাবেন। শুধু একটাই রিকোয়েস্ট আপনাদের ইচ্ছে আর ডাক্তারের পরামর্শ ব্যালান্স করে চলবেন।

নীলার বাবা তার মাকে বলল, এবার বুঝেছো আমি কেন এত মেয়ের জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করি।

নীলের মা হেসে মাথা দুলাতে দুলাতে বলল জানি তো। তাই বলে….

নীলার বাবা তার মাকে কথা তার কথা শেষ করতে দিল না। থামিয়ে দিল বলল, এখন আর শুনিও না প্লিজ। জানি তুমি কি বলবে, বাসায় সারাদিনই একই কথা।

চার ভাই বোনের মধ্যে নীলা তৃতীয়। রাহাত ও সে দুজনের বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান। এই একটা মাত্র বিষয়ে তাদের মিল খাপে খাপ।বাবা মায়েরা সাধারণত তাদের প্রথম ও ছোট সন্তানকে একটু বেশি আদর করেন। কিন্তু নীলার ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক উল্টো তার বাবা তাকে খুব বেশি ভালবাসেন। বাবা মনে হয় তাকে নিয়ে বেশ চিন্তাও করেন। কিন্তু দৃশ্যত তাকে নিয়ে চিন্তার কোন কারণই নেই। সে স্বামী, সন্তান, শ্বশুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি লোকজন সবাইকে নিয়ে ভালই আছে। আর রাহাতও শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশ শ্রদ্ধা সম্মান করে। তার বাবার তিন মেয়ে জামাই এর মধ্যে রাহাতই তার বাবার সবচেয়ে প্রিয়।

নীলার শাশুড়ি তার বাবা-মাকে দুপুরের খাবার খেয়ে যেতে অনুরোধ করলেন। ওদিকে রোদ রুবাবও নাছর বান্দা। তারা বলেছে, বিকেলে তাদের খেলা শেষ করে নানু ভাই নানুমুনির সঙ্গে তারাও যাবে।

রাত আটটা। টুনির মা বিকেলের সব কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসন গুলোর উপুড় করে পানি ঝরাতে টেবিলের উপর রেখে তার থাকার রুমে গিয়েছে। আজ রাতে আর নীলার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না বিকেলে বেশ ভারী নাস্তা করেছে। তার শাশুড়ি মা ও কিছু খাবেন না। বাসাটা আজ বড্ড খালি নিচে তার শাশুড়ি মা উপরে শুধু সে একা। তার অসাবধানতায় টেবিল থেকে একটা কাঁচের পাত্র পড়ে গেল। ঝন ঝন শব্দ হলো তবে খুব বেশি না। শাশুড়ির রুম থেকে কোন আওয়াজ এলো না। সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো, সে দেখলে পাত্রটা অসংখ্য ছোট ছোট টুকরায় ভাগ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কোন কিছু ভেঙ্গে এতো ছোট ছোট টুকরায় বিভক্ত হতে ইতিপূর্বে সে দেখেনি। মনে হলে ভাঙ্গা এই টুকরো গুলো তার হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। সে শান্ত ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর টুকরোগুলোকে একত্র করে পলিথিনে জড়িয়ে ময়লার বিনে ফেলে দিল।

রাত সবে সাড়ে আট নীলার এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস নেই। টিভি ছেড়ে বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করল। টিভি দেখতেও ইচ্ছে করছে না। সে উঠে একটা গল্পের বই হাতে নিল। তারপর সাইড টেবিলের ড্রয়ার থেকে তার ডাইরিটা নিয়ে বিছানায় এল। ডাইরিটা বেশ পুরনো বিয়ের পর রাহাত অফিস থেকে ডায়েরিটা এনে তাকে দিয়েছিল। ডাইরিতে তার জীবনের খুব সুন্দর সুন্দর মুহূর্তের কিছু কথা লিখা আছে। লিখা আছে না পাওয়ার হিসাব কিভাবে মুছে দিয়ে সেখানে শুধুই পাওয়ার হিসাব গুলো মনে রেখে জীবনটা সুন্দর করে চালিয়ে নিতে হয়। লেখা আছে তার ভেঙ্গে পড়া নিজেকে প্রত্যেকবার কিভাবে নতুন করে গড়ে নতুন উদ্যমে শুরু করে তার গোপন কথা। ডাইরিতে লেখা সুন্দর সুন্দর মুহূর্তের কথাগুলো পড়ে তার মনটা পিছনে ফিরে সেই মুহূর্তগুলো অনুভব করল। রাহাতকে তার মনে পড়ছে। এই ডাইরির সবকিছুই রাহাতকে নিয়ে লেখা।
সে ডাইরিটা বন্ধ করে চোখ বন্ধ করে রইল।

টেলিফোনের শব্দে সে চোখ মেলে না উঠেই হাত বাড়িয়ে ফোনটা কানে ধরল। টেলিফোনের ওপাশে দীপার কণ্ঠ শুনেই সে বিছানায় উঠে বসলো। দীপা তার সেকেন্ড কাজিন আবার ভার্সিটির বন্ধুও। সেকেন্ড ইয়ারে তার বিয়ে হয় তারপর কোনমতে অনার্স শেষ করেছে। দীপা প্রথমে জানতে চাইলো আমি আমার বেডরুমে কিনা? রাহাত আছে কিনা? আমি জানালাম আমি বেডরুমেই আছি রাহাত বাসায় নেই। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর বলতে লাগল তার ব্যক্তিগত জীবনের কথা। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা কথা বললাম। দীপা তার সমস্যার কথা আমার সঙ্গে প্রায় শেয়ার করে। তবে আজ তার কন্ঠে তাকে একটু বেশি বেসামাল ক্লান্ত মনে হল। তাইতো রাহাত ফোন দিতে পারে জেনেও তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা চালিয়ে গেলাম।মানুষের জীবনটা বড়ই অদ্ভুত, বিচিত্র রকমের মানুষের বিচিত্র রকমের জীবন।

নীলার মনে হলো আমারা কিসের পিছনে ছুটছি। একটা কিছু পরিষ্কার আমরা যে যার পিছনেই ছুটি না কেন এ ছোটা ছুটি অনন্তকালের নয়। নীলা তার লাভ ক্ষতির হিসেব বুঝতেই তার ছুটে চলার বেশিরভাগই তার কাছে অর্থহীন মনে হতে লাগল। সে তার মনটাকে ডাইভার্ট করতে বারান্দায় গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো। তারপর দীর্ঘ সময় সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গল্প করল। গল্প শেষে নীলা অনুভব করল তার বেশ নির্ভার লাগছে। বিছানায় এসে গা এলিয়ে দিয়েই রাহাতের বালিশটা জড়িয়ে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।

চলবে………

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱রেশমা                                𝟮𝟴দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন কেটে গেল বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ পেরিয়ে...
11/05/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟴
দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন কেটে গেল বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ পেরিয়ে হেমন্তও শেষের দিকে। আশানুরূপ ফলাফল করেও ফাতিমের ঢাকায় ভর্তি হওয়া হলোনা। ফাতিমের মনটা বেশ খারাপ হয়েছিল তবুও সবার কথা বিশেষ করে বাবার কথা মেনে আর নাছোড় বান্দা ছোট ফুফির জেদ যুক্তির কাছে হেরে ফুফির কলেজ, রাজশাহী কলেজে ভর্তি হতে হয়েছে। ইয়াসমিন রাজশাহী কলেজের শিক্ষিকা। সে ফুফির সঙ্গেই থাকে ফুফির বাসায়। সেখানে ইলোরা, রূপমের সঙ্গে তার ভালোই সময় কাটছে, তবে যখন একা থাকতে খুব ইচ্ছে করে তখন এই দুজনের পিছনে লেগে থাকা অসহ্য লাগে।আবার কলেজে পায়েল আছে সেই সাথে আরো নতুন একজন তাদের বন্ধু হয়েছে সবমিলিয়ে এখন রাজশাহী ভালোই লাগছে।

সে সাধারণত কারো সামনে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেনা, আজ কিছু নতুন অনুভূতি যেমন তাকে আবেশিত করেছে, শিহরিত করেছে তেমনি মাহিনের এভাবে অপমানিত হয়ে চলে যাওয়া তার মনকে বড্ড অশান্ত, অস্থির, এলোমেলো করেছে, সেই সাথে দুশ্চিন্তাও যোগ হয়েছে । সে গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে। কিন্তু তার সকল চেষ্টা বিফলে গিয়ে দু’চোখ নোনা জলে ভরে উপচে পড়ছে কোন বাঁধায় বাঁধ মানাতে পারছেনা। তাইতো একটু আগে ফুফির উপস্থিতিও তাকে লুকাতে দেয়নি শুধু গ্রিলে কপালটা ছুঁয়ে দিয়েছে। ফুফিও কোন কথা ছাড়াই তাকে কিছুক্ষন জড়িয়ে ধরে ছিল তারপর চলে গেছেন। তার বাবা আর ফুফির এমন আচরণ, তারা কী চায় সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেনা। মাহিনকে উনারা খুব পছন্দ করেন এটা যেমন সত্যি তেমনি মেয়ের জামাই হিসেবে মেনেও নিয়েছেন তবে কেন এমন করে?

মাহিন তাকে সারপ্রাইস দিতে না জানিয়েই রাতের ট্রেনে চড়ে সকালে নেমে বাসায় না যেয়ে সোজা তার কলেজের গেটে দাড়িয়ে ছিল। সে ফুফির সাথেই কলেজে যায়। মাহিন ফুফিকে সালাম জানিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে ফুফিকে বলল, আজ ও ক্লাস না করুক একটু ঘুরে আসি?
গেটের সামনে দাড়িয়ে ফুফি তেমন কিছু বলতে পারলোনা। মাহিনের দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, যাও তবে বারোটার মধ্যে বাসায় ফিরবে। আমি একটা ক্লাস নিয়ে দশটায় বাসায় ফিরব। তারপর ফাতির দিকে ফিরে বলল, কি বুঝতে পেরেছিস আমি দশটায় বাসায় থাকবো। সে মাথা নেড়ে হ্যা জানালো।

ফাতির মনে হল মাহিন সরাসরি বাসায় না এসে ভালো করেছে, হয়ত মাহিন বুঝেই আসেনি । বিয়ের পর মাহিনকে তার, দুজনে দুজনকে কাছে পাবার তৃতীয় দিন। অন্তত ঘন্টা চারেক তারা সুন্দর সময় কাটিয়েছে রিক্সায় বসে ঘুরেছে, পারিস রোডে হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটেছে, মাহিন একটা বেলি ফুলের মালা তার হাতে পড়িয়েছে,ক্যাম্পাসে বসে বাদাম খেয়েছে তারপর রেললাইনের পাশে একটা দোকানে বসে নাস্তা করে বাসায় ফিরেছে, যদিও ফুফিকে দেওয়া কথা বারোটার ভিতরে বাসায় পৌঁছাতে পারে নাই। তাতে কী সেতো অন্য কারো সাথে ঘুরতে যায়নি, সেতো তার একান্ত আপন মানুষের সাথেই ছিল। তার ইচ্ছে করছিলোনা এতো দ্রুত বাসায় ফিরতে কিন্তু মাহিন বলল, চল ফুফি রাগ করবেন। দুপুরে খাবার শেষে খাবার টেবিলে বসেই ফুফি সরাসরি মাহিনকে বলল, তুমি কি বিকেলের ট্রেনে ফিরবে না রাতের ট্রেনে। বিকেলের ট্রেনে ফিরলে এখনই চা দিতে বলি, চা খাবে? মাহিন জানাল, সে রাতের ট্রেনে ফিরবে। কিন্তু ফাতিম জানে, মাহিন আগামীকালের টিকিট কেটেছে। তারপর ফুফি রূপমকে বলল, ভাইয়াকে নিয়ে রুমে যাও আর ইলোরা তুই ফাতির সঙ্গে ওর রুমে যা । ইলোরা আর রূপম এক রুমে থাকে ফাতিম ওদের পাশের রুমে। তবে এই দুরুমের জন্য একটা কমন বারান্দা আছে। বারান্দা দিয়ে এক রুম থেকে আরেক রুমে যাওয়া যায়। কিন্তু ফাতিমের ফুফির উপর এত রাগ হলো সে আর তার রুম থেকে বের হলোনা। সন্ধ্যায় মাহিন চলে যাবার সময়ও ফুফির ডাকে ফাতিমকে রুম হতে বের হতে না দেখে মাহিন ফুফিকে বলে ফাতির রুমে এসেছিল। মাহিন তাকে জড়িয়ে নিলে সে আরো শক্ত করে মাহিনকে জড়িয়ে নিল। মাহিন, তার চুলগুলো মুখ থেকে সরিয়ে আদর করে বলল, আফরি ভালো থেকে। বাসায় যেয়ে ফোন দিবো। ফাতিম বেশ ভালোই বুঝতে পারছে মাহিন বাসায় গিয়ে ফোন না দেওয়া পর্যন্ত তার শান্তি মিলবে না। সে গ্রিল থেকে মাথা সরিয়ে রুমে আসল।

আগামীকাল শুক্রবার, ইয়াসমিনের ঘুম পাচ্ছেনা সে এপাশ ওপাশ করছে। ফাতি রাতে খায়নি তারও খেতে ইচ্ছে করেনি। তার মনটা ও ভালোনা মাহিন ট্রেন পেল কিনা? সে ইচ্ছে করেই মাহিনের সাথে এমন করেছে যাতে সে এখানে ইচ্ছে হলেই আসার চিন্তা না করে। মেয়েদের নিজেদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানো খুব বেশি প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় নারীদেরকে অনেকে শুধু ব্যবহার্য বস্তু মনে করে। তারা নারীদের প্রাপ্ত মর্যাদা দিতে নারাজ।যদিও মাহিনকে বোধসম্পন্ন মানুষই মনে হয় তবুও তারা দুজনে এখন কেউ কারো দায়িত্ব নেবার উপযুক্ত নয়। সে আবার ভাবলো, নারীর এধরণের চিন্তা করতেই কেন হচ্ছে? এর দায় কার নারীর নিজের না পুরুষের ব্যার্থতা? পুরুষকে সৃষ্টিকর্তা সংসারের প্রধান বানিয়েছেন নারীর দায়িত্ব দিয়ে,নারীর উপর প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করেছেন অথচ তারা অনেকে নিজেদের সন্মান রাখতে জানেনা । অন্যকে তার প্রাপ্ত সন্মান অধিকার না দিয়ে কি সত্যিকারের সন্মান পাওয়া যায়।? তাহলে কি তারা হোক পুরুষ বা নারী সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সন্মান তারা নিজের করে রাখতে যোগ্য? তিঁনি নারীদেরকে পুরুষদের চেয়ে বেশি সম্মানিত করেছেন নারীদের মা বানিয়ে। তিঁনি পুরুষদের নারীদের তুলনায় শারীরিক ভাবে শক্তিশালী করেছেন। শর্ত সাপেক্ষে একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন। তাই বলে সৃষ্টিকর্তা কি পুরুষকে বহুগামী করে সৃষ্টি করেছেন? যদি পুরুষকে বহুগামী করে সৃষ্টি করতেন তাহলে আদি পুরুষের জন্য একাধিক স্ত্রীও সৃষ্টি করতেন। সব ক্ষেত্রেই কি সৃষ্টিকর্তা পুরুষকে নারীদের চেয়ে বেশি কার্যক্ষম করে সৃষ্টি করেছেন ? স্বাভাবিক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ কি পারবে একজনের পরই আরেকজন নারীকে শয্যা সঙ্গী করতে? তবে তারা কি তাদের সক্ষম একাধিক স্ত্রীর হক মিটাতে পারবে? সমতা রাখতে পারে? আর নারী শরীর? আল্লাহ কি শুধু নারীকে ধর্য্যশীল হতে বলেছেন? কাউকে শুধুমাত্র সাহায্য করতে আল্লাহর আদেশই যথেষ্ট।একেক জনের পরীক্ষা একেক রকম। সবকিছুই আল্লাহর পরীক্ষা।আল্লাহ তাঁর বিশেষ বান্দাদের বিশেষ কিছু করতে যেমন আদেশ দিয়েছেন তেমনি সেসব বান্দাদের তেমন প্রয়োজন অনুসারে সক্ষমতাও দিয়েছেন। আল্লাহ ন্যায় বিচারক, তাঁর কাছে তাঁর সকল সৃষ্টির সবরকম হকই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ মানুষকে চিন্তা করতে বলেছেন তার আয়াত নিয়ে, সৃষ্টি নিয়ে।আল্লাহ পবিত্র কোরআনে পড়তে বলছেন, কিন্তু চিন্তা করতে বলেছেন অনেক বার।আল্লাহ মুমিন নারীদের বলেছেন পর্দা করতে।পর্দা কি শুধু শরীর ঢেকে রাখা? মুমিন পুরুষদের বলেছেন দৃষ্টি সংযত রাখতে। যার দৃষ্টি সংযত তার জন্য সবকিছুই সংযত রাখা সহজ। কিছু মানুষ আল্লাহর আদেশের চেয়ে সুন্নাহ পালনকে বেশি গুরুত্ব দেয় নিজেদের ভালো অনুভব করাতে আবার কিছু মানুষের সুন্নাহতে এলার্জি তারা মনে করে একমাত্র আল্লাহর হকই চূড়ান্ত।আবার কেউ কেউ বান্দার হক বলতে সেসব হককেই প্রাধান্য দেয় যা ক্ষতি পুরুন দেওয়া সম্ভব। অথচ সময়ই যে জীবন তা ভাবেনা, কারো জীবন থেকে অন্যায়, অত্যাচার, সীমালংঘনের মধ্যে দিয়ে সময় নিয়ে নিলে সেটার ক্ষতিপুরুন কেমনে দিবে? আবার কেউ কেউ মনে করে অন্যের হক আদায়, জীবন সঙ্গীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা সুন্নাহ আল্লাহর আদেশ না। ধর্মই যদি কারো রুজি রোজগারের একমাত্র পথ হয় তাহলে তাদের অনেকেই নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মের অপব্যাবহারে জড়িয়ে পড়তে পারে, সেই সাথে কিছু মস্তিষ্কের ব্যবহারহীন মানুষকেও ধর্মের কথা বলে বিপথগামী করতে পারে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার তাদের কারণে কোরআন না পড়া চিন্তাশীলেরা ধর্মে আকৃষ্ট হওয়ার বদলে দূরে সরে যেতে পারে। আবার রাষ্টের বিভিন্ন পদ পদবিতে থাকা ব্যাক্তি ছাড়া যাদের রাজনীতি করা ছাড়া আর অন্য কোনভাবে অর্থ উপার্জনের পথ না থাকে তাহলে সেও অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিবে বা সেই সম্ভবনাই বেশি । যদিও আল্লাহ ভালো জানেন।সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভয় সেনুসারে স্বাস্থ্যকর পারিবারিক সম্পর্কই পারে সমাজের অবক্ষয় রোধ করতে। আমাদের পরিবারগুলো সুন্দর হলে সামাজিক মূল্যবোধ সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।

পানির পিপাসা ইয়াসমিনকে তার এলোমেলো চিন্তা ছেড়ে বিছানা থেকে উঠতে বাধ্য করল। সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা হাতে নিতে গিয়ে ফটো ফ্রেমে চোখ পড়ল। ওহ রায়হান তো এখনো ফোন দেয়নি। মনের ভিতর আনচান শুরু হলো পুলিশের ডিউটি ও কি এখনো বাসায় ফিরেনি? হঠাৎ টেলিফোনের রিং এ হাতের গ্লাস থেকে কিছুটা পানি পড়ে গেল। অন্য হাতে ফোনটা কানে রাখতেই রায়হানের হাস্যজল কণ্ঠ শুনে পানির তৃস্না ভুলে তাদের দুজনের সারাদিনের গল্পে মজে উঠল।

চলবে…………

04/05/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟳
সোনালী কালারের উপর কালো, সাদা, মেরুন রঙের সুন্দর একটা স্কার্ফ পরে ফাতিম ফাহিমের সঙ্গে পায়েলদের বাড়িতে এসেছে । স্কার্ফটি ফাতিমের পছন্দ হয়েছে। অবশ্য শুধুমাত্র পছন্দের কারণে একই স্কার্ফ তিনদিন সে গলায় জড়িয়ে রেখেছে তা না। সে মাহিনকে তার সাথে জড়িয়ে রেখেছে। মাহিন স্কার্ফটি ফাহিমের হাতে পাঠিয়েছে।

গতকাল পিয়ালের বিয়ে হয়েছে আজ বৌভাত । পায়েলের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও ফাতিম বরযাত্রীদের সাথে যায়নি। প্রথম কারণ ঐদিনের পর থেকে পিয়ালের সঙ্গে এখনো সে কথা বলেনি, তাছাড়া তাকে দেখে যদি পিয়ালের খারাপ লাগে lআবার মাহিনকে জানানো হয়নি যদিও মাহিন তাকে কোথাও যেতে বা কিছু করতে আদেশ নিষেধ কিছুই করেনি।

পিয়ালের নব বধূ মাশাআল্লাহ ফাতিমের পছন্দ হয়েছে। বধূ বেশ হাসিখুশি হাতে, নাকে গলায়, মাথায়, কোমড়ে ভারী সোনার অলংকারে সজ্জিত। পরনে ভারী কাতান। ফাতিম নব বধূর আরো কাছে যেতে চাইলো তবে ভিড়ের কারণে দরজার কাছে দাড়িয়ে রইলো। পায়েল নেইল পলিশ দিয়ে দিচ্ছে, ফাতিমকে দেখতে পায়নি। ফাতিমের আসে পাশের মহিলারা ফিসফিস করছে কালকে রাতে নাকি বর বাসর ঘরে নিজে থেকে যায়নি গভীর রাতে বুঝিয়ে সুজিয়ে রেখে আসছে। ফিসফিসানি শুনে ফাতিমের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে দূর থেকেই বউকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। একটু পর বউয়ের বাবার বাড়ির লোকজন আসল। বউয়ের ঘরের সামনের ভিড় কমে এসেছে সবাই বাহিরে গেছে। এখন সে, পায়েল, নববধূ আর তার আত্মীয়া কয়েকজন মহিলা আর মেয়ে। নতুন বউকে এখন আরো বেশি উৎফুল্ল লাগছে, সে তার গহনাগুলো নেড়ে দেখিয়ে দেখিয়ে কথা বলছে। ফাতিমের হাসি পেল সে তার স্কার্ফটা সযত্নে ঠিক করে কেউ যেন দেখতে না পায় এমনভাবে আলতো করে চুমু খেল ।

শায়লা ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে টেলিফোনে মাহিরের সাথে কথা বলছে। কথা শেষে অন্ন্যমনস্ক হয়ে বসে ভাবছে। মাহিন সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতে গিয়ে মাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে বলল,মা কেমন আছো?কী করছো মা ? পাটা একটু সোফা থেকে নামিয়ে বসতো আর একটু সরে বসো । শায়লা পা নামিয়ে বসতেই মাহিন মার পায়ে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল। মা, আব্বার সাথে ঝগড়া করেছো?

নাতো। কেন?

চুপচাপ বসে আছো, শরীর ঠিক আছে।

হুম। মাহিরের সাথে কথা হল এইতো এমনি বসে আছি।

ভাইয়ার কী খবর? ভালো আছেন?

হু ভালো আছে। মাহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শায়লা আবার বলল, আমাদের বৌমার কী খবর? তোর সাথে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে ?

আলহামদুলিল্লাহ মা ভালো।

মাহিন, গ্রীষ্মের ছুটিতে কি যাবি ভাবছিস?

না মা এখনো ভাবিনি।

যেকোন প্রয়োজনে আমাকে জানাবি। আর শোন কাছে আর দূরে যেখানেই দুজন থাকিস না কেন সম্পর্ক সুন্দর রাখবি। দাম্পত্য সম্পর্ক কিন্তু এক তরফা ভালো রাখা যায় না।প্রয়োজন দুজনের স্বদিচ্ছা আর সক্রিয়তা। কোনো কিছু তৈরিতে সেটা নরম থাকতেই ইচ্ছেমতো আকার দেওয়া সম্ভব। সম্পর্কও ঠিক তেমনি প্রথম থেকে সুন্দর করে তৈরী করতে হয়।তা নাহলে একবার শক্ত হয়ে গেলে তা ঠিক হয়না আর সেটা যত দেরি হবে তার ততো সৌন্দর্য কমতে থাকবে বুঝতে পেরেছিস। প্রথমের সবকিছুর আবেশ মানুষের মনে স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।

তুমি শুধু দোয়া করো।

কেন?

তুমি দোয়া করতে চাচ্চনা?

আমার দোয়ার কথা আসছে কেন? আমি উপদেশ দিয়েছি সেজন্য?

তুমি বলছো, আমাকে শুনতে হবেনা?

আমি বলেছি তা শুনবি এটা আমার ভালো লাগবে, তবে বুঝে করলে আমাকে মর্যাদাবান মনে হবে। তুই যে কাজ করবি, সেটা কেন করবি তা না জেনে বুঝে করিস তাহলে সেই কাজ তোর চিন্তা,মন,আত্মাকে উন্নত করবে না । কোন কাজ কেন করবি তা আগে জেনে ও বুঝে নিবি। আরেকটা কথা কী জানিস একসময় এই আমি থাকবো না, আমরা থাকবোনা।এখন যেমন ভাইবোনরা সবাই একসঙ্গে আছিস ওরাও কেউ তোর সঙ্গে থাকবে না এমনকি তোর সন্তানরাও হয়ত তোদের সঙ্গে থাকবে না। থাকতে হবে তোর স্ত্রীর সাথে। দেখনা মাহির হয়ত ওখানেই সেটেল্ড হবে।

লাভ ইউ মা। ভাইয়ার জন্য মন খারাপ লাগছে?

তাতো লাগবেই। তবে তোরা যেখানেই থাকিস না কেন তোরা নিজেরা ভালো থাকলেই আমার শান্তি। শায়লা ছেলের গাল টেনে বলল,আজকে দুপুরে কী খাবি বল, আমি রান্না করব।

ছোট চিংড়ি আছে? থাকলে পেঁয়াজ ছোট চিংড়ির ভর্তা, গরুর মাংস আর সাদা ভাত পেতে পারি । মা আগামীকাল দুপুরে তন্ময়ের বাসায় যাব ওখানে সবাই থাকবে।

ধন্যবাদ বাবা।ঠিক আছে বিকেলে বা রাতে আমাদের এখানে সবাইকে আসতে বলিস আর আমাকে আজকে সেটা জানাস।

ঠিকঠাক জনাব। মা?

কী?

ধন্যবাদ কেন?

কনফিডেন্টলি জানানোর জন্য। তোকে জিজ্ঞেস করলে তুই মাঝে মাঝে যখন বলিস কী আছে? যা শুনে বিরক্ত হই এবং বকা দিই, তবে আজ ভালো লেগেছে । আমার সন্তানদের কনফিডেন্ট আমাকে ভালো লাগায়, স্বস্তি দেয় । তবে তোর আত্মবিশ্বাস যেন তোকে অহংকারী করে না তোলে সেটা খেয়াল রাখবি। আত্মমর্যাদা আর আত্মঅহংকার এক নয়। যদি ভুল করার পর ভুল স্বীকার করে শুধরাতে না পারিস, ক্ষমা চাইতে না পারিস সে যেই হোক, হতে পারে তোর কাছের মানুষ, দূরের মানুষ, অধীনস্ত, সাহায্যপ্রার্থী, এমনকি তোর স্ত্রী।

মাহিনকে চুপ থাকতে দেখে শায়লা আবার বলল, বিরক্ত হচ্ছিস? আজ তোকে এতো কিছু কেন বললাম জানিস? তুই না চাইতেও একটা বড় দায়িত্ব তোর কাঁধে এসেছে সেটা যথাযত পালন করার জন্য প্রচেষ্টা ও স্বদিচ্ছা প্রয়োজন।কর্মপ্রচেষ্টা ছাড়া ইচ্ছে আর স্বদিচ্ছা যাইহোক তা মূল্যহীন। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু ঘটে যার কন্ট্রোল আমাদের কাছে থাকেনা কিন্তু যা আমাদের হাতে থাকে তা আমাদের আবেগ, রিঅ্যাকশন, আমাদের কর্মপ্রচেষ্টা যেগুলার স্বমন্বয় আমাদেরকে গুছিয়ে সুন্দরভাবে চলতে সাহায্য করে।

চলবে…..

29/04/2026
𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱রেশমা                                           𝟮𝟲আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। রাহাত সকালের নাস্তা শেষে শ...
28/04/2026

𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟲
আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। রাহাত সকালের নাস্তা শেষে শোবার ঘরের বিছানায় হেলান দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছে।
নীলা দু’কাপ চা নিয়ে বসলো এক কাপ চা রাহাতকে এগিয়ে দিয়ে খবরের কাগজের বিশেষ পাতাটা হাতে নিল।
রাহাত চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, ওদের কী কী কিনতে হবে আজকে কিনি ।

নীলা বলল, আজকে?

তবে আবার কবে?

আগে বললে ভালো হত।

রাহাত কিছু বলল না।

নীলা আর কথা বাড়ালোনা। চা শেষ করে শাশুড়ির সাথে কথা বলে টুনির মাকে কাজ বুঝিয়ে দিল।

শপিং আরো কিছুটা বাকি কিন্তু রোদ রুবাব বিরক্ত শুরু করেছে। তারা আর ঘুরতে পারবেনা, বাসায় যাবে। রাহাত সবাইকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। বসার জায়গা নেই, একটু দাড়িয়ে থাকতেই একটা টেবিল ফাঁকা হলো। সঙ্গে সঙ্গেই তারা সেখানে বসে পড়ল।।টেবিল পরিষ্কারের কাজ চলছে রাহাত বাচ্চাদের বলল, যাও তোমরা ওদিকে গিয়ে দেখ কী খাবে? একটু পরে রোদ, রুবাব ফিরতেই ওয়েটার আসল। তারা নিজেদের পছন্দ জানিয়ে দিলে রাহাত মেনুটা নিয়ে বলল, ওগুলোর সাথে আমাদের জন্য এই ৭নং দুইটা আর চারটা কোল্ডড্রিংকস দিবেন।ওয়েটার ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, স্যার একটু অপেক্ষা করতে হবে। মিনিট কুড়ি লাগতে পারে।

রাহাত ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গিয়েছে। নীলা তার টুইন দুটোর সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠল।

বাসায় ফিরতে দুপুর পেরিয়ে বিকেল হল। রাহাত আসরের নামাজ শেষে বিছানায় হেলান দিয়ে টি.ভি. ছেড়ে বসল।

নীলা বাসায় এসেই নিচে শাশুড়ির রুমে গেল। দুপুরের খাবার পর ঔষুধ খেয়েছে কিনা জানতে । শাশুড়ি নীলাকে খুব পছন্দ করেন।

নীলা শাশুড়িকে জিজ্ঞেস করল, মা টুনির মাকে দেখছিনা কই গেছে?

কই আর যাবে, বাগানে বোধহয়।

রোদ, রুবাবের রেস্টুরেন্টে ঠিকমতো খাওয়া হয়নি। তাইতো দুজনকে নুডুলস দিয়ে রাহাতকে এককাপ চা দিয়ে ওয়াশরুমে গেল। আসরের ওয়াক্ত প্রায় শেষের দিকে সে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিল তারপর দ্রুত ড্রেস চেঞ্জ করে অযু করে আসরের নামাজ পড়ে সোফায় বসলো।

সন্ধ্যার পর শাশুড়ির শাড়ির ব্যাগ নিয়ে নীলা নিচে নামল। টুনির মা নীলাকে দেখে বলল, ভাবী ভালোই হলো আমার আর উপরে উঠতে হলোনা খালাম্মা, বড় ভাবী ডাকছে আপনারে।

মা ঘরে নেই?

না। পোলাপানের চিল্লাচিল্লি শুনছেননা। ভাইজানও তো ওখানে আছে। বিরাট সুন্দর গরুদুটা। ছাগল দুইটাও দেখার মতো।

আমরা বাসাতে ছিলামনা মাকে একা রেখে কই গেছিলা?

বাগানের ঐ পশ্চিম দিকের দেওয়ালের ওপারে একটা এক তলা বাসা আছে ঐ বাসার বেডি যে কী দজ্জাল শাউর ননদরে তো দেখতেই পারেনা। আর সেই নিয়া ব্যাডার সাথে কয়দিন পর পর ঝগড়া। আজকে তো সেই ঝগড়া মারামারি। শাউরিডা মাটির মানুষ। ঔ ব্যাডা এই দুনিয়াই জাহান্নাম দেখা ফালাইছে বেডিডারে বিয়া কইরা।

মানুষের ব্যাডার খবর না নিয়ে নিজের ব্যাডার খবর নাও।

কী যে কন ভাবী, হেতো বেহেস্তয় আছে,হের কামতো খালি মুখে পান দিয়ে গেটে বসে থাকা।

বিয়ের আগেও মুখে পান দিয়ে গেটে থাকতো। তখন তো তুমি কাজ বাদ দিয়ে একটু পর পর খোঁজ নিতা।

তহন আর এহন কি এক। তখন তো আর টুনির মা আছিলাম না। তখন ছিলাম ফরিদা, ফরি।

সেও কি এখন মজনু থেকে টুনির বাপ হয়ে গেছে?
ফরিদাকে কিছু বলতে না দেখে নীলা আবার হেসে বলল, তোমাকে তো আর লাল নীল ফিতা দিয়ে দুই বেণী করতে দেখিনা। কালকে মনে করে আমার থেকে টাকা নিয়ে মজনুকে দিও তোমার জন্য লাল নীল ফিতা আনবে।

নীলা শাশুড়ির রুমে শাড়ির ব্যাগ রেখে বলল চল যাই। দুপুরের ভাত আছে? থাকলে গরুকে খাওয়ানোর বালতিটা বের করে নিয়ে আসো।

নীলার বাচ্চাদের আনন্দ দেখতে খুব মজা লাগছে। নীলার ও ইচ্ছে করছে বাচ্চাদের সাথে খেলতে। পাঁচ ভাইবোন মিলে চাঁদের আলোয় কানামাছি খেলছে। মাহিনকে চোখ বেঁধে বুড়ি বানিয়েছে। রাহাত মাহিনকে বলল, তুই এখনো বড় হবিনা। মাহিন সময়টা উপভোগ করছে তাইতো সে ছোট্ট করে বলল চাইলে তুমিও যোগ দিতে পার।

নীলা শায়লা দাড়িয়ে আছে। পাশে শাশুড়ি তার দুই ছেলে চেয়ারে বসে গল্প করছে। তাদের জন্যও চেয়ার দেওয়া আছে।
সাদাদ নীলাকে বলল, নীলা গরু ছাগল কেমন,পছন্দ হয়েছে?

নীলা বলল, জ্বী ভাই খুব ভালো হইছে। নীলা আরো বলল, মা, ভাবী গতবারের চেয়ে এবারের গুলা বেশি ভালো হয়েছেনা?

সাদাদ বলল, তোমার ভাবীও সেটাই বলছিল।

টুনির মা গরুর সামনে পানির বালতি রেখে নীলার পাশে দাড়িয়ে ফিসফিস করে বলল, সেজো ভাবী মজনু তো আর মজনু নেই, টুনির বাপ হইয়া গ্যাছে।

ফরিদার কথা শুনে নীলা শব্দ করে হেসে উঠল।
শায়লা বলল, কী হইছে রে নীলা। নীলা হাসিতে কিছু বলতে পারলোনা। ফরিদা আবার বলল, সত্যি ভাবী এই চার পাঁচ দিন আগে হেই টুনির জন্য চুরি ফিতা কিনছে। অবশ্য আমার জন্য সেন্ডেল আনছে।

নীলা বলল, সান্ডেল কেন?

হেই দেখছে আমি সেন্ডেলের ফিতা জোড়া দিয়া পরতেছি। তই ভাবী, হেই কিন্তু টুনির বাপ হইয়া ভালাই আছে। আমারে ভালাই খেয়াল রাহে,আদর যত্নে রাহে।

শায়লা টুনির মাকে বলল, টুনির মা কী সব বলছিস।

ফরিদা বলল, আপনারা আমাকে টুনির মা বললেই ভালো লাগে।

নীলা এক হাত মুখে দিয়ে অন্য হাতে শায়লাকে টেনে নিয়ে হাঁটতে লাগল।

রাতের খাবার শেষে সকালে কী কী করতে হবে টুনির মাকে বুঝিয়ে দিয়ে, শাশুড়ির আর কিছু লাগবে কিনা দেখে উপরে গেল। রোদ রুবাব সোফায় বসে টিভি দেখছে, নীলা টিভি বন্ধ করে দিল বলল, এখন ৯:৫০ তাড়াতাড়ি দুজন ফ্রেশ হয়ে ঘুমুতে যাও। রোদ বলল তুমি কি আমাদের সাথে একটু থাকতে পারবে তাহলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরব।

নীলা রুমে গিয়ে দেখল, রাহাত টিভি দেখছে, সে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসে হেলান দিয়ে রাহাতের চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে মাথা ম্যাসাজ করতে লাগল। রাহাতকে টিভি বন্ধ করে পাশ ফিরতে দেখে নীলা বলল, এখন ঘুমাবে নাকি?
হুম বলে রাহাত আরাম করে শরীরটা ছড়িয়ে দিল।
নীলা আরো মিনিট দশেক রাহাতের চুলে হাত বুলিয়ে রাহাতকে একটা আলতো চুমু দিয়ে ঘুমের চেষ্টা করতে লাগল।

নীলার ঘুম হঠাৎ ভেঙ্গে গেল তৃস্নায় গলা শুকিয়ে গেছে । এক অদ্ভুত স্বপ্ন তাকে জাগিয়েছে। দেখলো সে গোলকের ভিতরে ছুটছে, ছুটতে ছুটতে সে হাপিয়ে উঠছে, তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সে যখনি গোলক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে তখনি কিছু একটা টেনে তাকে বিত্তের কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে।

আজ সকালে নীলার ঘুম ভাঙলো অনেকটা বেলা হবার পর, ফজরের ওয়াক্ততে জাগা পায়নি। দেওয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে সাত পেরিয়েছে রাহাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে এখনো ঘুমে। রাহাত হয়ত আজ ভোরে উঠতে পারেনি। রাহাত উঠলে শব্দে সে জেগে যেত । সে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে কোরআন তেলোয়াত করল। ইতিমধ্যে রাহাত উঠে পড়েছে। রাহাতের চেহারায় রাগ,বিরক্তি স্পষ্ট। রাহাত খুব সহজে তার অনুভূতি লুকাতে পারেনা, মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট দেখা যায়। নীলা একটু বোঝার চেষ্টা করল কী হলো আবার? সে মনে মনে হেসে দিল। রাহাত কি ভাবছে সে স্মৃতিকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে।উহু সে এক আজব লোকের সাথে জুড়েছে। অন্যায় করবে সে আবার দুঃখী চেহারাও করে রাখবে সে আর সামলাতে হবে আমাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলল, এখন খাবে?

হু। তোমার ছেলেরা কই?

দ্যাখো হয়ত গরু ছাগলের সাথে বন্ধুত্ব করতেছে।

নীলা নিচ থেকে রান্না শেষে গোসল করতে রুমে ঢুকতেই রাহাত বলল, প্রেমে পড়েছো নাকি? তোমার প্রেমিক ফোন করেছিল।

নীলা থমকে দাড়ালো, প্রেমিক? মনে মনে বলল, তারতো একটা প্রেমিকের বড্ড প্রয়োজন।

ল্যান্ড ফোনের দিকে তাকিয়ে রাহাত বলল, তিন তিনবার ফোন করল, আমার কণ্ঠ শুনেই কেটে দেয়।

তাই বলে আমার প্রেমিক?

তাহলে কে ফোন দিচ্ছে?

যে কথা তুমিও বিশ্বাস করোনা, এমন কথা বলোনা প্লিজ। নীলা আর কোন কথা না বলে ওয়াশরুমে গেল। ঝরর্ণা ছেড়ে নীলা স্থির হয়ে ভিজতে লাগল।

মানুষের সামনে সৃষ্টিকর্তা দুটো পথই খোলা রেখেছেন, আবার তাকে যে কোন রাস্তায় চলার সামর্থ ও স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ চাইলেই সে ডুবে যেতে, স্রোতে ভেসে যেতে পারে। আবার সে চাইলেই স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়েও নিজের পা দুটো দৃঢ রেখে সোজা, সঠিক পথে চলতে পারে।

নীলা রাহাতকে ভালো করেই বুঝতে পারে, অনুভবও করতে পারে তার অনুভূতিগুলো। তবে রাহাত কি সেটা বুঝে? আলহামদুলিল্লাহ, সৃষ্টিকর্তার সমস্ত পরিকল্পনাই নিখুঁত। যতক্ষণ জীবনটাকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব হয় ততক্ষন জীবনটা সত্যিই সুন্দর। রাহাত আসলে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। প্রকৃতি শূন্যতাকে পছন্দ করে না। সে তো প্রেমে পড়েছেই, আরো গভীরভাবেই সে ইসকে জড়াতে চায়, তবে মাঝে মাঝে প্রেমে ভাটা পরে। আবার মাঝেমাঝে মনে হয় সম্ভব না, এতো ভার নিয়ে শিকল পরে এখানে থেকে ইসক ধরে রাখা অসম্ভব। নিজের অধিকার ভুলে বা ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র দায়িত্ব পালন করা অনেক কঠিন, কষ্টকর। তাঁর কাছে এক নাম্বার চাওয়া এটাই, তাঁর সাথে প্রেমে ভাটা পড়ুক আর যাইহোক শেষটা যেন গভীর ইসকের সাথেই হয় আর খুশিতে নতুন পথের যাত্রা শুরু করতে পারে ।

দুপুরে খেয়ে রাহাত নীলা বিশ্রাম নিচ্ছে নীলা পাশ ফিরে রাহাতকে বলল, শোন বিকেলে তুমি কোথাও যাবে?

কেন?

গাড়ি থাকলে আমাদের বাসায় যাব ভাবছি, রাতেই ফিরব।

তোমার ছেলেরা কি যাবে?

ওদেরকে নিবোনা, একাই যাব। আর মনে হয়না ওরা গরু ছাগল ছেড়ে যাবে।

কয়টার দিকে যাবে?

এই ঘন্টাখানিক পর।

ঠিক আছে তাহলে একটু রেস্ট নিই।

নীলা রেডি হয়ে রাহাতকে বলল, এই আমি গেলাম।

রাহাত আরামোড়া ভেঙ্গে উঠতে উঠতে বলল, দশ মিনিট দাড়াও।

নীলা বলল, তোমাকে যেতে হবেনা, বেশি রাত করব না, তাড়াতাড়ি ফিরব ।

রাহাত বলল, এবার ড্রেস কিনবেনা?

নীলা বলল,গত ঈদের সবগুলো এখনো পরা হয়নি। দুইটা নতুন শাড়ি,একটা থ্রিপিচ আছে। অপ্রয়োজনীয় কোন কিছুরই আমার প্রয়োজন নেই রাহাত।

রাহাত উঠতে উঠতে বলল, দশ মিনিট।

নীলা ভালো করেই জানে সে ড্রেস না কিনলেও রাহাত তার সাথেই যাবে। উহু যন্ত্রনা, নীলা তার যন্ত্রনাকে সঠিক সংজ্ঞাই সংজ্ঞাইতো করতেই পারেনা। কখনো তা পাহাড়ের মতো ভার, কখনো তা অস্থিরতার, কখনো তা অস্বস্তির, কখনো তা একটু উষ্ণতার, কখনো তা তিক্ততার আবার কখনো তা মধুময়।

চলবে…………….

Address

4
Dhaka
1230

Telephone

+8801955225579

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when clover4 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to clover4:

Share