21/12/2025
যমযম কুপ বা কুয়া (زمزم)। এটি মক্কায় মসজিদুল হারামের পূর্বদিকে অভ্যন্তরে অবস্থিত। আরবি ভাষায় যমযম শব্দের অর্থ হলো অঢেল পানি। মহান স্রষ্টার অন্যতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই যমযম কূপ। আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছরপূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।
হযরত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর হুকুমে যখন হযরত ইসমাঈল (আঃ) ও তার মা হযরত হাজেরা (আঃ ) কে মক্কার বারিহীন মরুভূমিতে এনে পুনর্বাসিত করলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা মাতা ও সন্তানের প্রতি দয়াপরবশত হয়ে প্রস্তরময় প্রান্তরে, যমযম প্রস্রবণ প্রবাহিত করে ছিলেন।
হাদীসে এ কুয়ার পানির অনেক ফযিলত ও বরকত বয়ান করা হয়েছে।
আবে যমযমের বরকত ও ফযিলত বয়ান করতে গিয়ে নবী (সাঃ) বলেন, আবে যমযম যে উদ্দেশ্যেই পান করা হয় তার জন্যেই ফলদায়ক হয়। রোগ আরোগ্যের জন্য পান করলে আল্লাহ আরোগ্য দান করবেন। তৃপ্তি লাভের জন্যে পান করা হলে আল্লাহ তৃপ্তিদান করবেন। পিপাসা নিবারণের জন্যে পান করলে আল্লাহ পিপাসা নিবারণ করবেন। এ হচ্ছে সেই কুয়া যা জিবরাঈল (আঃ) পায়ের গোড়ালির আঘাতে খনন করেন এবং এ হচ্ছে ইসমাঈল (আঃ) এর পানি পানের উন্মুক্ত জলাধার। (দারু কুতনী)
অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাঈল (আঃ ) বিশেষভাবে হযরত ইসমাঈল (আঃ) ও তার মাতা হযরত হাজেরা (আঃ )এর জন্যে বারিহীন অনুর্বর প্রান্তরে যমযম বানিয়ে দিয়েছিলেন যাতে করে তাদের ক্ষুধাতৃষ্ণা মিটে যায়।
হাজ্জের সায়ী এবং মাথা মুণ্ডন প্রভৃতি শেষে পেট ভরে যমযমের পানি পান করা উচিত। এমন বেশী করে পানি পান করা, যাতে পাঁজরগুলো ডুবে যায়, এটা ঈমানের আলামত। ঈমান থেকে বঞ্চিত মুনাফিক ব্যক্তিরা এতোটা পান করতে পারে না।
নবী (সাঃ) বলেন আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিহ্ন এই যে, মুনাফিক যমযমের পানি পেটভরে পান করতে পারে না যাতে পাঁজরা ডুবে যায়। (ইবনে মাজাহ)
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, নবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন, দুনিয়ার সকল পানি থেকে উৎকৃষ্ট যমযমের পানি। ক্ষুধার্তদের জন্যে এ আহার, রোগীর জন্য আরোগ্য।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে যমযমের পানি পান করে যে, সে দুশমন থেকে আশ্রয় লাভ করবে- তাহলে সে আশ্রয় পাবে।(হাকেম)
আবু যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয় যমযমের পানি বরকতপূণ। তা তৃপ্তিকর খাদ্য এবং রোগনিরাময়ের ঔষধ।” (ত্বাবারানীর স্বাগীর ২৯৫, বাযযার ৩৯২৯, সহীহুল জামে’ ২৪৩৫)
হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১২০১)
যমযম পানির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যঃ
এই পানির স্বাদ কখনো পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোনো ছত্রাক বা শৈবাল।
সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।
এই কূপের পানি কখনো শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একইরকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ মওসুমে ব্যবহার কয়েকগুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও পানির স্তর কখনো নিচে নামে না।
সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে।
এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য পানির থেকে বেশি, এজন্য এইপানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এইপানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।
এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান বেশি থাকার কারণে এতে কোনো জীবানু জন্মায় না ।
এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়
(উইকিপিডিয়া)
যমযমের পানি দাড়িয়ে এবং বিসমিল্লাহ বলে পান করা উচিত এবং পেটভরে পান করা উচিত। পান করার সময় নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে.
'আয় আল্লাহ আমি তোমার কাছে মঙ্গলকর ইলম চাই, প্রশস্ত রুজি চাই এবং প্রত্যেক রোগ থেকে আরোগ্য চাই। (নায়লুল আওতার)