07/08/2021
গর্ভবতী মায়েরা পড়াশুনা করুন, জ্ঞানচর্চা করুন।
বুদ্ধিমান সন্তান জন্ম দিতে মায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃগর্ভে ৫ম সপ্তাহ হতে শিশুর মস্তিষ্ক গঠন শুরু হয়ে ৮ম সপ্তাহের মধ্যে তা গঠিত হয়ে যায়, এরপর ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত মাতৃগর্ভেই তা পূর্ণতা পেতে থাকে।
মানব শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমন ক্ষারিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয়। যেমন; ডোপামিন (dopamine), এন্ডোরফিন (endorphin), সেরোটোনিন (serotonin), অক্সিটোসিন (oxitocin) হরমনের প্রভাবে মানুষের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, এবং এই হরমন সমূহের অনুপস্থিতিতে কারো পক্ষে আনন্দিত হওয়া সম্ভব নয়।
একই ভাবে বুদ্ধির বিকাশেও বিভিন্ন ধরনের হরমন নিঃসৃত হয়, যেমন 'থাইরয়েড'। হরমনের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি, স্বল্পতা-পর্যাপ্ততার কারণে বুদ্ধির স্বল্পতা-পর্যাপ্তা হয়ে থাকে। গর্ভে সন্তান আসার পর বিভিন্ন ধরনের চিন্তা ও অনুভূতিতে মায়ের মস্তিষ্ক নিঃসৃত হরমন গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক গঠনে যুক্ত হয়। সে সময় মা যদি পড়াশুনা করে, গাণিত চর্চা করে, ইতিবাচক চিন্তা করে, তবে মায়ের মস্তিষ্ক হতে নিঃসৃত হরমন গ্রহণ করে সন্তান বুদ্ধিমান হবে।
এ সময় দুঃশ্চিন্তা বা নেতিবাচক ভাবনা কারণে মায়ের মস্তিষ্ক হতে নিঃসৃত হরমন গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। পবিত্র কুরআনের সূরা মারিয়ামের ২৪ নং আয়াতেও গর্ভবতী মা'কে দুঃশ্চিন্তা না করতে বলা হয়েছে।
ইসলামিক স্কলাররা গর্ভবতী মা'কে সন্তানের মঙ্গলকামনায় বেশি বেশি দোয়া ও আল্লাহর রহমত কামনা, প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ইত্যাদি করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ এখানেও গর্ভবতী মায়ের জ্ঞানচর্চা এবং ভালো ব্যবহার বা ইতিবাচক চিন্তার বিষয়টিতেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ফরাসি সম্রাট আলী নেপোলিয়নের সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করতে চাই --
তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেবো।
© Md Saddam Hossain
ছবি: গুগল