22/08/2021
মুসলমানরা অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত মোট ৭০০ বছর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই সময়গুলোতে, মুসলমানরা খিলাফতের আওতাধীন নানা অঞ্চলে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চালু করেছিল। প্রাচ্যের নিকটে, উত্তর আফ্রিকায় এবং স্পেনের টলেডো, কর্ডোভা এবং সেবিলে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সকলের জন্য উম্মুক্ত ছিল এবং সেখানে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্ররা অধ্যায়ন করতে আসতো।
ইউরোপিয়ান ছাত্ররা মুসলমানদের এই সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে এসে জ্ঞান অন্বেষণ, জ্ঞান অর্জন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামের গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো দেখে অভিভূত হয়ে যায়। শিক্ষা গ্রহণ শেষে নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে তারা ইউরোপীয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন চার্চ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে মুসলমানদের মতো একই ধরনের অধিকারের দাবি করতে শুরু করে।
স্বাভাবিকভাবেই চার্চের প্রধান এবং ক্ষমতাসীন মহল তাদের সেই দাবি মানতে অস্বীকার করে। ফলে চার্চ এবং সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে গোটা ইউরোপ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনে রূপ নেয়।
মুসলমানেরা উচ্চশিক্ষা, নথি প্রস্তুতকরণ, অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ নির্বাচন এবং আরবি অক্ষর প্রবর্তনসহ কৃষি, চিকিৎসা, স্থাপত্য এবং যাতায়াতে দিক নির্ধারনের ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ইউরোপ অগ্রসর হয় এবং মুসলমানদের আবিষ্কৃত এইসব জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই পঞ্চদশ ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইউরোপে রেনেসাঁ এবং সংস্কার আন্দোলন সংঘটিত হয়।
পাশাপাশি, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইউরোপিয়ানরা ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করলে ইউরোপে স্বর্ণসহ নানা ধরনের মূল্যবান সামগ্রী আসতে শুরু করে। এমনকি মুসলমানদের বানানো স্থাপত্য নিদর্শনকে অনুকরণ করেই পরবর্তীতে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের অন্যান্য স্থানে ভবন ও অন্যান্য স্থাপত্য নির্মিত হতে শুরু করে।
(তথ্যসূত্র: বিশ্বসভ্যতা বিনির্মাণে মুসলমানদের অবদান)
প্রকাশনায়: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স