10/11/2021
মাছের সাথে বাঙ্গালির আত্মার সম্পর্ক। বাঙ্গালির জীবনে মাছের চাহিদা বরাবরই সর্বাগ্রে, বিশেষ করে দেশি মাছের। আর তা যদি হয় বিখ্যাত হাওরের মাছ তাহলে তো কথাই নেই!!
হাওরের দেশি সুস্বাদু মাছ খেতে তো সবাই খুব পছন্দ করি তবে হাওর সম্পর্কে জানি কতটুকু? আসুন, হাওরের মাছ খাওয়ার পাশাপাশি সেসব মাছের অন্যতম উৎস হাওর সম্পর্কে একটু ধারনা নিয়ে নিই।
হাওর মূলত বিস্তৃত প্রান্তর, অনেকটা গামলা আকৃতির জলাভূমি যা প্রতিবছর মৌসুমী বৃষ্টির সময় পানিপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাওরের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল, প্রতি বছরই মৌসুমী বর্ষায় বা স্বাভাবিক বন্যায় প্লাবিত হয়, বছরের কয়েক মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে এবং বর্ষা শেষে হাওরের গভীরে পানিতে নিমজ্জিত কিছু স্থায়ী বিল জেগে ওঠে। গ্রীষ্মকালে হাওরকে সাধারণত বিশাল মাঠের মতো মনে হয়, তবে মাঝে মাঝে বিলে পানি থাকে এবং তাতে মাছও আটকে থাকে। সমগ্র বর্ষাকাল জুড়ে হাওরের পানিকে সাগর বলে মনে হয় এবং এর মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলোকে দ্বীপ বলে প্রতীয়মান হয়। বছরের সাত মাস হাওরগুলো পানির নিচে অবস্থান করে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি শুকিয়ে যায। শুষ্ক মৌসুমে হাওরের পুরো প্রান্তর জুড়ে ঘাস গজায়, গবাদি পশুর বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠে। হাওরে আগত পানি প্রচুর পলিমাটি ফেলে যায় যা ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাওরের অবস্থান বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হলেও মূলত সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বিয়ানীবাজার, ফেন্সুগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং সিলেটসহ আশে পাশের এলাকজুড়ে এর বিস্তৃতি।
বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ হাওর রয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বা এলাকার বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হাওরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ঃ
১. পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত হাওর
২. প্লাবিত এলাকার হাওর
৩. গভীর পানিতে প্লাবিত এলাকার হাওর।
বাংলাদেশের হাওরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
টাঙ্গুয়ার হাওরঃ
টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই হাওরটি বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। এটি মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরনা এসে মিশেছে এই হাওরে। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি।
হাকালুকি হাওরঃ
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তার মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর। এটি মৌল্ভীবাজার জেলার বড়লেখা (৬০%), কুলাউড়া (১২%), ফেঞ্চুগঞ্জ (১০%), গোলাপগঞ্জ (১০%) এবং জুরি উপজেলা (৮%) জুড়ে বিস্তৃত। ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশে। ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উজানে প্রচুর পাহাড় থাকায় হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি বছরই আকস্মিক বন্যা হয়। এই হাওরে ২৭৩টি ছোট, বড় ও মাঝারি বিল রয়েছে।[ শীতকালে এসব বিলকে ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
আপনাদের বিশ্বস্ত "তরতাজা বাজারে" পাচ্ছেন হাওরের খাটি ও নির্ভেজাল মাছ। আপনাদের চাহিদা মাথায় রেখে দেশি পুটি, বাতাসি, পাবদা, বাছা, বাটা, কাচকি ইত্যাদি মাছগুলোর সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে টেংরা, দেশি চান্দা, সরপুটি ও বাইম মাছ।
**অনলাইনে অর্ডার করতে আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ করুন অথবা নিম্নোক্ত নাম্বারে সরাসরি কল করে আপনার অর্ডার নিশ্চিত করুন।
এছাড়াও আমাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি অর্ডার করতে পারেন, আমাদের ওয়েবসাইট এড্রেসঃ https://tortaza.com.bd
"সাথে ফ্রি হোম ডেলিভারির বিশেষ অফার তো থাকছেই"
(শুধুমাত্র রামপুরা ও এর আশেপাশের এরিয়ার ১ঘন্টায় হোম ডেলিভারি নিশ্চিত)