21/05/2026
গণভবন লুট করা আর কায়সার হামিদের মতো কোন তারকা স্পোর্টস ম্যান গিয়ে গণভবন লুট করা একই বিষয় না।
কায়সার হামিদ কোন এলে বেলে মানুষ না। তিনি এই দেশের পতাকাবাহক ছিলেন। তার মা রানি হামিদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার (WIM) এবং পরবর্তীতে তিনি ফিদে (FIDE) থেকে উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার (WGM) খেতাব অর্জন করেন। যারা রানি হামিদকে চিনেন না তারা জাস্ট ধরে নিতে পারেন, তিনি হলেন দাবার জগতের লতা মঙ্গেশকর। যার নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। তার ছেলে হিসেবে কায়সার হামিদ সস্ত্রীক গণভবন লুট করে উল্লাস করছে এই দৃশ্য অত্যন্ত লজ্জার এবং অপমানের। অনেকই হয়তো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে জাস্টিফাই করতে পারেন।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এবং আন্দোলন শেষে বাসভবন লুট করা দুটো ভিন্ন বিষয়। প্রথমটি গণতান্ত্রিক অধিকার, পরেরটি ফৌজদারি অপরাধ।
কায়সার হামিদই শুধু না, এরকম বহু তারকা এই লুটপাটের অংশ হয়েছেন যার মধ্য দিয়ে এই লুটপাটের লেজিটেমেসি তৈরি হয়েছে এবং চব্বিশ কেন্দ্রিক এইসব লুটপাট একটি স্বাভাবিক ঘটনায় রূপান্তরিত হয়েছে। যার ফলে পরবর্তীতে আওয়ামিলীগারদের ঘরবাড়ি লুটপাট, অফিস লুটপাট, বিভিন্ন দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইন্ডাস্ট্রি লুটপাট, সরকারি অফিস আদালত, থানা লুটপাট, বিদেশি হাইকমিশনের অফিস লুটপাট, হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট, এগুলো মোটামুটি মামুলি ঘটনায় রুপান্তরিত হয়েছে।
কায়সার হামিদদের উচিৎ ছিলো তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের সীমা নির্ধারণ করা। কোথায় গিয়ে তারা থামবেন সেটা নির্ধারণ করার। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আজ যখন কায়সার হামিদ নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাতে ভারতের ভিসা জটিলতার চিত্র তুলে ধরে আফসোস করেন তখন এই সত্য আমাদের সামনে এসেই যায় যে এই পরিস্থিতি কায়সার হামিদের নিজ হাতে তৈরি করা পরিস্থিতি। দেশের মধ্যে এনার্কি তৈরি করে, লুটপাট করে তারা যে পরিস্থিতিতে দেশটাকে নিয়ে এসেছে সেখান থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাই ল্যাটারাল সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। যার জন্য গত দুই বছরে কয়েক লক্ষ মানুষ ভারতের চিকিৎসা ভিসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। না জানি কত মানুষ সামর্থ্য থাকার পরেও সুচিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। এটা যে কি বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিলো নিশ্চয় কায়সার হামিদ এখন অনুভব করবেন।
আগুন নিজের ঘরের চালে না লাগলে বোঝা যায় না আগুনের উত্তাপ কত বেশি। চরম ভারত বিরোধিতা করা সারজিস আলম ও তার বাবার চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলো। ভারতের সাথে করা সকল গোলামী চুক্তি বাতিল করা উচিত আবার আমেরিকার গোলাম হওয়াও যুক্তিযুক্ত নয় কিন্তু এতো দেশপ্রেমিকের সংসদে আমেরিকার দাসত্ব চুক্তি নিয়ে সবাই নিরব।
যাই হোক, কারিনা কায়সারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। কিন্তু তার অকাল মৃত্যুও যেন আমাদের বুঝিয়ে দেয়, এক রাজনৈতিক বিদ্বেষের আগুন যখন জ্বলে, তখন তার উত্তাপে পুড়ে যায় দেশেরই সাধারণ মানুষ। মুক্তির পথ কেবল আইন, শান্তি ও ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই সম্ভব।
সংগৃহীত