Magic of Islam2

Magic of Islam2 The words of Almighty Allah

হিসনুল মুসলিমদোআ: [২৭.১৩] কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে নাতিন বার বলবে,بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ...
29/05/2025

হিসনুল মুসলিম

দোআ: [২৭.১৩] কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না
তিন বার বলবে,

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْاَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاۤءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম

যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, নং ৩৮৬৯; আহমাদ, নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২ আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন।)

#)

নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সহীহ দোয়া ও যিকির

15/03/2024

রোজায় বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতে সময় দেবেন যে কারণে:
আরবি মাস সমূহের নবম মাস হলো মাহে রমজান। দীর্ঘ এক বছর পর এই মহিমান্বিত মাসের পুনরাবৃত্তিতে মুসলিম উম্মাহ আবেগ আপ্লূত ও উচ্ছ্বাসিত হয়ে পড়েন। রমজানের আগমনে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায় মুমিনের অন্তরে। এ মাসে জাহান্নামের সাতটি দরজা একে একে বন্ধ হয়ে যায় এবং অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়।পাপের বোঝা হালকা করার সুযোগ

মুসলমানদের আমলের পাল্লা ভারী করার পাশাপাশি পাপের বোঝা হালকা করার সুবর্ণ সুযোগ থাকে। রমজানের রহমত, মাগফেরাত এবং নাজাতের দিনগুলোতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষিত হতে থাকে। এই ফজিলতপূর্ণ মাসের শান, মান-মর্যদা অন্য মাসের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো- এই মাসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রিয় রাসূল, আমাদের প্রাণের নবী হজরত মুহাম্মাদ সা.-এর উপরে হেদায়াতের সর্বোচ্চ গ্রন্থ পবিত্র কোরআন মাজিদ অবর্তীর্ণ হয়েছে।এই মাসের শেষ দশকে এমন একটি বরকতপূর্ণ রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী। যা লাইলাতুল-কদর তথা ভাগ্য রজনী বলে কোরআনের ভাষায় পরিচিত । উম্মতে মুহাম্মদীর গড় আয়ু কম হওয়ায়, অন্য উম্মতদের চেয়ে আমলের তুলনায় এগিয়ে থাকার এক পরম অনুগ্রহ মহান আল্লাহ তায়ালার। একরাতে ইবাদত করে হাজার রাতের সওয়াব পাওয়ার এমন সৌভাগ্য অর্জনে সকলেরই মরিয়া হয়ে উঠা উচিত।

30/01/2024

যেসব পাপের কারণে আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসে:
কিছু গুনাহ আছে, যা করলে মানুষের ওপর অভিশাপ নেমে আসে। অভিশাপকে আরবিতে বলা হয় ‘লানত’। নিম্নে এমন কিছু কাজের কথা আলোচনা করা হলো, যেগুলো আল্লাহর অভিশাপ ডেকে আনে।
১. কুফর ও শিরক অবস্থায় মারা যাওয়া : শিরক বা কুফরি করার পর তাওবা না করে মারা গেলে এমন ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।
পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতা ও গোটা মানবজাতির লানত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬১-১৬২)
২. গাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করা : সালাত-সিয়াম, জবেহ-কোরবানি শুধু আল্লাহর নামে হতে হবে। এসব আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে করা হলে সেটা লানতের কারণ হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করল তার ওপর আল্লাহ লানত বর্ষণ করেন।
’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৮)
৩. রাসুল (সা.)-এর নাফরমানি করা : যারা রাসুল (সা.)-এর নাফরমানি করে তাদের ওপর তিনি লানত করেছেন। আর তারা কিয়ামত দিবসে একে অন্যকে লানত করতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে ওলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! যদি আমরা আল্লাহকে মানতাম ও রাসুলকে মানতাম! ‘তারা আরো বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করতাম। অতঃপর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।
হে আমাদের রব! তাদের তুমি দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের মহা অভিশাপ দাও।’ (সুরা ; আহজাব, আয়াত : ৬৬-৬৮)
৪. কবরকে সিজদার স্থান বানানো : কবরের ওপর বা কবরকে সামনে রেখে সিজদা করলে লানত বর্ষিত হয়। আবদুল্লাহ (রা.) ও আয়েশা (রা.) উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও নাসারাদের ওপর লানত করেছেন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৫)
৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা : আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের ওপর লানত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদের প্রতি লানত করেন। অতঃপর তাদের তিনি বধির করেন ও তাদের চোখ দৃষ্টিহীন করে দেন।’ (সুরা ; মুহাম্মাদ, আয়াত : ২২-২৩)
৬. বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করা : যে নারী পুরুষের পোশাক গ্রহণ করে এবং যে পুরুষ নারীদের পোশাক, চালচলন নকল করে কিংবা অঙ্গবিকৃতি করে তাদের ওপর আল্লাহর রাসুলের লানত বর্ষিত হয়। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদের এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের অভিশাপ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৮৫)
৭. সমকামিতা : পুরুষে-পুরুষে ও নারীতে-নারীতে জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য লজ্জাস্থান ব্যবহার করাকে সমকামিতা বলা হয়। এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর লানতের কারণ। ইবনু আববাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা সমকামী তাদের ওপর লানত বর্ষিত হোক।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৫৬)
৮. সতীসাধ্বী নারী ওপর অপবাদ দেওয়া : কোনো নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিলে আল্লাহর লানত নেমে আসে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সতীসাধ্বী, সরলা ঈমানদার নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়, তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য আছে গুরুতর শাস্তি।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ২৩)
৯. ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ গ্রহণ করা : আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) বলেছেন, ‘ঘুষ আদান-প্রদান করা লানতের কারণ। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)
মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা : মদপান করা, মদ বহনকারী, মদ বিক্রেতা ইত্যাদি কাজে জড়িতদের ওপর আল্লাহর লানত। আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, ‘মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশম শ্রেণির লোককে রাসুল (সা.) লানত করেছেন। মদ প্রস্তুতকারী, যে মদ প্রস্তুত করতে বলে, পানকারী, বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয়, যে পান করায়, বিক্রয়কারী, এর মূল্য গ্রহণকারী, যে মদ ক্রয় করে এবং যার জন্য ক্রয় করা হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১২৯৫)
১০. জুলুম করা : জালিমদের ওপর আল্লাহ লানত করেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘জেনে রেখো! জালিমদের ওপর আল্লাহ লানত করেন।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১৮)
১১. মানুষকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো : যে ব্যক্তি মানুষকে ধারালো হাতিয়ার দিয়ে ভয় দেখায় তার ওপর ফেরেশতারা লানত করে। ইবনে সিরিন (রহ.) থেকে বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি (লৌহ নির্মিত) অস্ত্র উত্তোলন করে সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে লানত করতে থাকে, যদিও তার সহোদর ভাই হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬১৬)
১২. তাকদির বা ভাগ্য অস্বীকার করা : তাকদির বা ভাগ্য অস্বীকারকারী অভিশপ্ত। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ছয় ব্যক্তিকে আমি লানত করি, আল্লাহ তাআলা লানত করেন এবং প্রত্যেক নবী লানত করেছেন। (তারা হচ্ছে) আল্লাহর কিতাবে সংযোজনকারী, তাকদির মিথ্যা প্রতিপন্নকারী, শক্তি দ্বারা ক্ষমতা দখলকারী, যে ক্ষমতার বলে সে আল্লাহ তাআলা যাকে অপদস্থ করেছেন তাকে সম্মানিত করে এবং আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন তাকে অপদস্থ করে, আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু হালাল জ্ঞানকারী, আমার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে যাদের আল্লাহ হারাম করেছেন তাদের হালাল জ্ঞানকারী ও আমার সুন্নাত পরিত্যাগকারী।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৫৪)
১৩. জমির নিশানা পরিবর্তন করা : আবু তুফায়ল আমির ইবনে ওয়াসিলা (রহ.) বলেন, আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, নবী (সা.) আপনাকে আড়ালে কী বলেছিলেন? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বলেন, নবী (সা.) লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার কাছে একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল হে আমিরুল মুমিনিন, সে চারটি কথা কী? তিনি বলেন, ১. যে ব্যক্তি তার মা-বাবাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন, ২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করে আল্লাহ তার ওপরও অভিসম্পাত করেন, ৩. ওই ব্যক্তির ওপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোনো বিদাতি লোককে আশ্রয় দেয় এবং ৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্ন অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে তার ওপরও আল্লাহ লানত করেন। (মুসলিম, হাদিস : ৫০১৮)
মহান আল্লাহ আমাদের লানত থেকে হেফাজত করুন।

24/12/2023

বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আমল:
দুনিয়া মুমিনের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র। বিপদ-মুসিবত হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি পরীক্ষা মাত্র। আল্লাহতায়ালা বিপদ দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করেন।
এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, জানমালের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে তোমাদের মধ্যে যারা ধৈর্যশীল এবং বিপদের সময় ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন’, অর্থাৎ, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের সবাইকে তার কাছে ফিরে যেতে হবে’ বলে, তাদের প্রতি রয়েছে মহান রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত।আর তারাই প্রকৃতপক্ষে হেদায়েতপ্রাপ্ত’ (সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৭)। আরও বলেন, লোকেরা কি মনে করে যে, ‘আমরা ইমান এনেছি’-এ কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? তাদের আগে যারা ছিল আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। অতঃপর আল্লাহ অবশ্য জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী’ (সূরা আনকাবুত : ১-৩)।

অনেক সময় বিপদ প্রদানের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করা হয়ে থাকে। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন নারী-পুরুষের বিপদ-মুসিবত লেগেই থাকে। এ বিপদ-মুসিবত তার শারীরিক, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির ব্যাপারে হতে পারে। আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা চলতেই থাকে।

আর আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তার ওপর গুনাহের কোনো বোঝাই থাকে না’ (মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৫৬৭)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ তাঁর পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফোটে এর দ্বারাও’ (বুখারি : ৫৬৪০)। আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমের ওপর কোনো বিপদ পতিত হলে তার বিনিময়ে তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়, এমনকি ক্ষুদ্রতর কোনো কাঁটা বিদ্ধ হলেও’ (মুসলিম : ৬৪৫৯)।

দুনিয়ার জীবনে এসব বিপদ থেকে পরিত্রাণের পথও বলে দেওয়া হয়েছে। কিছু আমলের মাধ্যমে বান্দা এসব বিপদ থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বরকত লাভ করতে পারে। হাদিসে এসেছে, হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন’ (আবু দাউদ : ১৩১৯)।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর, আর তা আল্লাহভীরু ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কাছে নিশ্চিতভাবেই কঠিন’ (সূরা বাকারা : ৪৫)। আল্লাহ মানুষকে বিপদ দেন তার পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্য, স্বর্ণকার যেভাবে আগুনে স্বর্ণ দেন খাঁটি করার জন্য। তবে যখনই কোনো বিপদ আসবে, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কথা স্মরণ করলে এবং নফল নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে মিলবে বিপদ থেকে মুক্তি এবং আত্মিক প্রশান্তি। একই সঙ্গে পরকালের খাতায়ও জমা হয়ে যাবে সবর ও নামাজের সওয়াব।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-মাছের পেটে নবি ইউনুস (আ.) নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি বিপদে পড়ে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করে, মহান আল্লাহ তা কবুল করবেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন (আহমাদ, তিরমিজি)। ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্জলিমিন।’ অর্থ : (হে আল্লাহ!) আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি অপরাধী (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৭)।

24/12/2023

সুরা বাকারার ২৮৫-২৮৬ আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে জান্নাতের পথ সুগম করবে:
ফলো করুন



সুরা বাকারার ২৮৫-২৮৬ আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে জান্নাতের পথ সুগম করবে

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), কোরআনের কোন সুরা সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান? তিনি বললেন, সুরা ইখলাস। এরপর আবার বললেন, কোরআনের কোন আয়াতটি মর্যাদাবান? তিনি বললেন, আয়াতুল কুরসি। এরপর আবার বলেন, হে আল্লাহর নবী, আপনি কোন আয়াতকে পছন্দ করেন, যা দ্বারা আপনার ও আপনার উম্মত লাভবান হবে। নবীজি (সা.) বললেন, সুরা বাকারার ২৮৫-২৮৬ নম্বর শেষ দুটি আয়াত।সুরা বাকারা পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সুরা। এ সুরার শেষ দুটি আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। নিয়মিত এ অংশের আমল বান্দাকে নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে। জান্নাতের পথও সুগম করবে।
এ দুটি আয়াত কখন অবতীর্ণ হয়?

সহিহ্ মুসলিমে এ দুটি আয়াতের ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, ‘এ দুটি আয়াত রাসুল (সা.)-কে মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে আসমানে দান করা হয়েছে।’
আমানার রাসুলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিমমির রুসুলিহি। ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা-লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত-রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসিনা আও আখতানা-রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং ক্বাবলিনা- রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহি-ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা- আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৫-২৮৬)
এ দুটি আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তার প্রতিপালকের কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে রসুল তার ওপর বিশ্বাস করে আর বিশ্বাসীরাও। তারা সকলেই বিশ্বাস করে আল্লাহয়, তাঁর ফেরেশতাগণে, তাঁর কিতাবগুলোয় ও তার রসুলদের ওপর (এবং তারা বলে) 'আমরা তাঁর রসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, 'আমরা শুনি ও মানি । হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব
করো, আর আমাদেরকে ক্ষমা করো, আর আমাদের ওপর দয়া করো, তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদের জয়যুক্ত করো।

সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি নিয়ে হাদিসে আরও অনেক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। এ দুটি আয়াতের ফজিলত প্রসঙ্গে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে এ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এটাই যথেষ্ট।’
আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাতে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।’ [সহিহ্ বুখারি: ৪০০৮]

হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘আমার মতে যার সামান্য বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না।’

03/09/2023

নারী ও পুরুষের জন্য মাহরাম যে ১৪ ব্যক্তি :
নারী পুরুষ সবাইকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন নিজ অনুগ্রহ ও কুদরতে। ঈমান-বিশ্বাস, কালিমা, ‍নামাজ, এক কথায় ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই বিধান। নারী-পুরুষের সৃষ্টিগত ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু কিছু পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে। তবে মৌলিক বিশ্বাস ও বিধান পালনের ক্ষেত্রে সবাই সমান। এতে কোনও ছাড় বা গড়িমসির অবকাশ নেই।

নারী-পুরুষের মাঝে দূরত্ব ও নিরাপদ সম্পর্ক:

DP
Dhaka Post
সর্বশেষ
জাতীয়
রাজনীতি
অর্থনীতি
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
খেলা
বিনোদন
স্বাস্থ্য
শিক্ষা
লাইফস্টাইল
প্রচ্ছদ
ধর্ম
নারী ও পুরুষের জন্য মাহরাম যে ১৪ ব্যক্তি
Dhaka Post Desk
ধর্ম ডেস্ক

১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২২ পিএম

82
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttoncopy sharing button
নারী ও পুরুষের জন্য মাহরাম যে ১৪ ব্যক্তি
প্রতীকী ছবি

নারী পুরুষ সবাইকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন নিজ অনুগ্রহ ও কুদরতে। ঈমান-বিশ্বাস, কালিমা, ‍নামাজ, এক কথায় ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই বিধান। নারী-পুরুষের সৃষ্টিগত ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু কিছু পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে। তবে মৌলিক বিশ্বাস ও বিধান পালনের ক্ষেত্রে সবাই সমান। এতে কোনও ছাড় বা গড়িমসির অবকাশ নেই।

নারী-পুরুষের মাঝে দূরত্ব ও নিরাপদ সম্পর্ক

পৃথিবীতে চলাফেরা ও বসবাসের শৃঙ্খলা দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা যেসব বিধান দিয়েছেন তার একটি নারী-পুরুষের একে অপর থেকে দূরত্ব ও নিরাপদ সম্পর্ক বজায় রাখা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি সীমালঙ্ঘনের বিষয়টি ইসলামে নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষের একে অপরের সঙ্গে দৃষ্টি অবনত রাখা ও পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে।

কোরআনে চেহারা ঢেকে রাখার বিধান

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।-(ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪)

ইবনে সীরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ী) আবীদা (সালমানী রাহ.)কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।

DP
Dhaka Post
সর্বশেষ
জাতীয়
রাজনীতি
অর্থনীতি
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
খেলা
বিনোদন
স্বাস্থ্য
শিক্ষা
লাইফস্টাইল
প্রচ্ছদ
ধর্ম
নারী ও পুরুষের জন্য মাহরাম যে ১৪ ব্যক্তি
Dhaka Post Desk
ধর্ম ডেস্ক

১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২২ পিএম

82
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttoncopy sharing button
নারী ও পুরুষের জন্য মাহরাম যে ১৪ ব্যক্তি
প্রতীকী ছবি

নারী পুরুষ সবাইকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন নিজ অনুগ্রহ ও কুদরতে। ঈমান-বিশ্বাস, কালিমা, ‍নামাজ, এক কথায় ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই বিধান। নারী-পুরুষের সৃষ্টিগত ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু কিছু পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে। তবে মৌলিক বিশ্বাস ও বিধান পালনের ক্ষেত্রে সবাই সমান। এতে কোনও ছাড় বা গড়িমসির অবকাশ নেই।

নারী-পুরুষের মাঝে দূরত্ব ও নিরাপদ সম্পর্ক

পৃথিবীতে চলাফেরা ও বসবাসের শৃঙ্খলা দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা যেসব বিধান দিয়েছেন তার একটি নারী-পুরুষের একে অপর থেকে দূরত্ব ও নিরাপদ সম্পর্ক বজায় রাখা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি সীমালঙ্ঘনের বিষয়টি ইসলামে নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষের একে অপরের সঙ্গে দৃষ্টি অবনত রাখা ও পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে।

কোরআনে চেহারা ঢেকে রাখার বিধান

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।-(ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪)

ইবনে সীরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ী) আবীদা (সালমানী রাহ.)কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।

মাহরাম কাদের বলা হয়?

অন্য জায়গায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা তাঁদের (নবী পত্নীদের) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। তোমাদের কারো জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনো বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। -(সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)
পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। তবে নারী-পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সাথে পর্দার বিধান নেই। তাদের সঙ্গে দেখা করার বিধান রয়েছে। এই মানুষদের মাহরাম বলা হয়। ইসলামী পরিভাষায় মাহরাম বলা হয়, যাদেরকে বিবাহ করা হারাম বা অবৈধ এবং দেখা করা বা দেখা দেওয়া জায়েয বা বৈধ।
কোরআনে মাহরামের পরিচয়
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
‘তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সঙ্গে সঙ্গম হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ -(সুরা নিসা : আয়াত ২৩)
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নারী-পুরুষদের জন্য এমন ব্যক্তি ১৪জন। এই মানুষদের সঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ, পর্দা ফরজ নয়, তবে এদের বিয়ে করা যাবে না। এখানে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হল-
পুরুষের জন্য মাহরাম ১৪ জন।
তারা হলেন- মায়ের সমপর্যায়ের ৫ জন
১. মা
২. ফুফু (বাবার বোন)
৩. খালা (মায়ের বোন)
৪. শাশুড়ি ( স্ত্রী এর মা )
৫. দুধ-মা (যে মা ছোট বেলায় দুধ খাইয়ে ছিলেন)
বোনের সমপর্যায়ের ৫ জন
৬. নিজের বোন
৭. নানি (মায়ের মা)
৮. দাদি (বাবার মা)
৯. নাতনি (আপন ছেলে ও মেয়ের কন্যা)
১০. দুধ-বোন
মেয়ের সমপর্যায়ের ৪ জন
১১. মেয়ে
১২. ভাতিজি (আপন ভাই-এর মেয়ে)
১৩. ভাগ্নি (আপন বোনের মেয়ে)
১৪. ছেলের বউ
এসব ব্যক্তি ছাড়া পুরুষরা বাকি সবার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তবে স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর আপন বোনকে বিয়ে করা যাবে না। আবার তার সঙ্গে দেখাও করা যাবে না।
নারীদের মাহরাম ১৪ জন।
তারা হলেন- বাবার সমপর্যায়ের ৪ জন
১. বাবা
২. চাচা
৩. মামা
৪. শ্বশুর
ভাইয়ের সমপর্যায়ের ৫ জন
৫. সহোদর ভাই
৬. নিজ দাদা
৭. নিজ নানা
৮. নিজ নাতি
৯. দুধ-ভাই
ছেলের সমপর্যায়ের ৫ জন
১০. ছেলে
১১. ভাইয়ের ছেলে
১২. বোনের ছেলে
১৩. মেয়ের জামাই
১৪. দুধ-ছেলে

28/07/2023

৬ জিকিরের বিস্ময়কর উপকার:
আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সর্বাবস্থায় তাঁর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো। (সুরা আহজাব: ৪১-৪২) আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে সফলতা অর্জন করো।’ (সুরা আনফাল: ৪৫)
জিকির বা আল্লাহর স্মরণ মুমিনের গুণ। জিকিরকে বলা হয় সব ইবাদতের রুহ। যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল তাদেরকে মৃতব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন নবীজি (স.)। আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যারা আল্লাহর জিকির করে এবং যারা আল্লাহর জিকির করে না, তাদের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৭)
পবিত্র কোরআনে জিকিরবিমুখ ব্যক্তি সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, অবশ্যই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত। আর তাকে কেয়ামতের দিন উঠাব অন্ধ করে।’ (সুরা ত্বহা: ১২৪)

মুহাদ্দিসরা বলেন, আল্লাহর যেকোনো ধরনের আনুগত্য ও ইবাদত, আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলির উচ্চারণ, কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় আলোচনাগুলো আল্লাহর স্মরণের অন্তর্ভুক্ত। তবে সাধক আলেমরা তাঁদের অনুসারীদের অবস্থা বিবেচনায় বিশেষ জিকির ও তাসবিহ পাঠের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এসব তাসবিহ জিকির হিসেবে গণ্য। নিচে এমন ৬টি জিকির তুলে ধরা হলো- যেসব জিকিরের পুরস্কারস্বরূপ দুনিয়া-আখেরাতে অনেক কল্যাণ নীহিত রয়েছে।
ইস্তেগফার:

গুনাহ মাফ ছাড়াও ইস্তেগফারের কিছু বিস্ময়কর উপকার রয়েছে। যেমন—বিপদ ও দুশ্চিন্তা দূর হওয়া, রিজিক ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত আসা। মুমিনের দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার পেছনেও ইস্তেগফারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। (ক্ষমাপ্রার্থনা করলে) তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদেরকে তিনি ধনসম্পদ ও সন্তানাদি দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। তোমাদের জন্যে তিনি বিভিন্ন রকমের বাগান ও অনেক নদ-নদী সৃষ্টি করে দেবেন। (সুরা নুহ: ১০-১২)
হাদিসেও একই কথা এসেছে। ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৭৭)

দরুদ:
আল্লাহ তাআলা দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাকো এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসুলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত, বরকত ও অবারিত কল্যাণ লাভের অন্যতম উপায়। একজন মুমিনের সকল মাকসুদ লাভ হয় দরুদে। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর জিকিরের খুব তাকিদ করলেন। আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে থাকি। আমি আমার দোয়ার কতভাগ আপনার জন্য নির্ধারণ করব? তিনি বললেন, তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা। আমি বললাম, চারভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরো ভালো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরো ভালো। আমি বললাম, তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা হয়। তবে বেশি করলে আরো ভালো। আমি বললাম, তাহলে কি আমার দোয়ার পুরোটাই হবে আপনার প্রতি দরূদ? তিনি বললেন, তবে তো তোমার মকসুদ হাসিল হবে, তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ (তিরমিজি: ২/৭২; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১০/২৪৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/৪৫) জিকির, দোয়া, তাসবিহ, ফজিলত

৪ তাসবিহ:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবর’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়বে, সেদিন তার চেয়ে বেশি সওয়াব কেউ আল্লাহর দরবারে পাঠাতে পারবে না। ওই ব্যক্তি ছাড়া যে তার মতো ওই জিকিরগুলো করেছে। উম্মু হানি (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি বুড়ো ও দুর্বল হয়ে গেছি। আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন, যা আমি বসে বসে পালন করতে পারব। তিনি বললেন, তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, তাহলে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ পাঠানোর সমপরিমাণ সওয়াব তুমি পাবে। ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবর’ বলবে, তাহলে ১০০টি মাকবুল উট কোরবানির সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। তুমি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, তাহলে তোমার সওয়াবে আসমান ও জমিন পূর্ণ হয়ে যাবে (এবং তোমার কোনো পাপই বাকি থাকবে না: দ্বিতীয় বর্ণনায়)। যে ব্যক্তি তোমার এ জিকিরগুলোর সমপরিমাণ জিকির করবে, সে ছাড়া কেউই সে দিনে তোমার চেয়ে বেশি বা উত্তম আমল আল্লাহর দরবারে পাঠাতে পারবে না।’ হাদিসটি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং সনদগুলো হাসান বা গ্রহণযোগ্য। (ইবনে মাজাহ: ২/১২৫২; মুসনাদে আহমদ: ৬/৩৪৪; নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা: ৬/২১১; তাবারানি, আল মুজামুল কাবির: ২৪/৪১০; মুসতাদরাক হাকিম: ১/৬৯৫)

বিশেষ তাসবিহ:
হাদিসে একটি জিকিরের বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জিকিরটি হলো—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আ'লা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর’। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার উক্ত কালেমাটি বলবে, সে ১০টি গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব লাভ করবে, তার নামে ১০০টি সওয়াব লেখা হবে ও তার আমলনামা হতে ১০০ গুনাহ মুছে ফেলা হবে। আর সে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকবে। কেয়ামতের দিন কেউ তার থেকে ভালো আমল আনতে পারবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তার থেকে বেশি নেক আমল করেছে।’ (বুখারি: ৬০৪০)

দোয়া ইউনুস জিকির, দোয়া, তাসবিহ, ফজিলত
দোয়া ইউনুস-এর ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। যে কোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তখন আমি তার (ইউনুসের) ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের নাজাত দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৮)
দোয়া ইউনুস হলো— لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।’ অর্থ: ‘তুমি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।’

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, আমি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেবো যে তোমাদের কারো ওপর যখন দুনিয়াবি কোনো কষ্ট-ক্লেশ অথবা বালা-মসিবত নাজিল হয়, তখন তার মাধ্যমে দোয়া করলে তা দূরীভূত হয়। তা হলো ইউনুস (আ.)-এর দোয়া—‘লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলেমিন।’ (সহিহুল জামে: ২৬০৫)
বিভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে, দৈনিক এক হাজার বার দোয়া ইউনুস পড়লে পদমর্যাদা সমুন্নত হয়। আল্লাহ তার রুজি-রোজগারে সমৃদ্ধি দান করেন। দুঃখ-যন্ত্রণা, পেরেশানি, অশান্তি ও কষ্ট-প্রভৃতি দূর করেন। তার জন্য সব রকম কল্যাণের দ্বার খুলে দেন। শয়তানের প্ররোচনা থেকে তাকে রক্ষা করেন।

এই দোয়াটি এক লাখ পঁচিশ হাজার বার পড়লে (যেটা খতমে ইউনুস হিসেবে পরিচিত) সব ধরনের অপকার থেকে রক্ষা, বিপদ-আপদ থেকে দূরে থাকা এবং রোগ-শোক থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে।

আল্লাহর গুণবাচক নামের জিকির জিকির, দোয়া, তাসবিহ, ফজিলত
আল্লাহর গুণবাচক নামের জিকির করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে কোরআন ও হাদিসে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেইসব নামেই ডাকবে..।’ (সুরা আরাফ: ১৮০) এর বিস্ময়কর উপকার রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলার নিরানব্বই নাম আছে, এক কম একশত নাম। যে ব্যক্তি এ (নাম) গুলোর হেফাজত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ বিজোড়। তিনি বিজোড় পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪১০)

মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম হলো ذُو الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ ‘জুল জালালি ওয়াল ইকরাম’। এই নামের দুটি অংশ। প্রথম অংশ জুল জালাল অর্থ হলো- ‘সমস্ত সৃষ্টি জগতের অধিপতি; যিনি সৃষ্টিকুল থেকে ভয় পাওয়ার হকদার ও একমাত্র প্রশংসার যোগ্য; দ্বিতীয় অংশের অর্থ হলো- মহত্ব-বড়ত্ব-দয়া ও ইহসানের অধিকারী’। যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য, কাজের ভালো ফলাফলের জন্য এবং দুনিয়ার ধন-দৌলত ও রিজিকের প্রশস্ততার জন্য এই নামের বেশি বেশি জিকির করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেমরা। কেননা এই জিকিরের মাধ্যমে একসঙ্গে দুটি কাজ হয়। ১) মহামহিম আল্লাহর উচ্চমর্যাদার গুণকীর্তন ২) দয়াবান আল্লাহর দয়ার ভিখারি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন।

তাছাড়া নবী কারিম (স.) এই জিকিরকে সর্বদা আঁকড়ে ধরতে বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম-কে সর্বদা আঁকড়ে ধরে থাকবে।’ (তিরমিজি: ৫/৫০৪; মুসতাদরাক হাকিম: ১/৬৭৬)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উল্লেখিত জিকিরগুলো নিয়মিত পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

19/07/2023

কিয়ামত দিবস কত বড় হবে বা এর দৈর্ঘ কতটুকু হবে:
এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তার কাছেই উঠবে। যে দিনের পরিমাপ হবে তোমাদের হিসাবে হাজার বছরের সমান। (সূরা সাজদাহ, (৩২), আয়াত, ৫, পারা, ২১)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,



تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَ الرُّوۡحُ اِلَیۡهِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُهٗ خَمۡسِیۡنَ اَلۡفَ سَنَۃٍ ۚ



‘ফেরেশতা এবং রূহ (অর্থাৎ জিবরীল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।’ (সূরা আল-মাআরিজ, (৭০) আয়াত, ৪ পারা, ২৯)

এ বিষযে হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গরিব মুমিনেরা বিত্তশালী মুমিনের অর্ধবিদস আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পৃথিবীর হিসেবে এই অর্ধদিবসের পরিমাণ হবে পাঁচশত বছর। -(তিরমিজি, ২৩৫১)

আরেক হাদিসে আবু হুরায়রা রা. আরও বলেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পৃথিবীতে যেই সম্পদশালীরা জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তাদের জমানো সম্পদগুলোকে উত্তপ্ত করা হবে জাহান্নামের আগুনে। এরপর সেগুলো বড় বড় পাথরের পাত বানানো হবে। আর সেই উত্তপ্ত পাথরের পাতগুলো দিয়ে তাদের পাঁজর ও কপালে দাগ দেওয়া হবে। কিয়ামতের দিন বিচার পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শাস্তি চলতেই থাকবে। আর ওই বিচারপর্বের সময় হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। (মুসলিম, হাদিস : ৯৮৭)

আরেক হাদিসে আবু হুরায়রা রা. বলেন, মুমিনদের কাছে কিয়ামতের দিনের বিচারপর্বের সময়কে মনে হবে জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের সমান। (হাকেম,২৮৪ বায়হাকী, ছহীহাহ, ২৪৫৬, ছহীহুল জামে,৮১৯৩ )

একই বিষয়ে আরেক হাদিসে হজরত আবু সাঈদ রা. বলেন, আল্লাহর রাসূলকে কিয়ামতের বিচারপর্বের পঞ্চাশ হাজার বছর সম্পর্কে জিগেস করা হলে, তিনি বলেন, যার হাতে আমার জীবন, সেই পবিত্র সত্ত্বার শপথ! ঈমানদারদের কাছে ওই দিনকে পৃথিবীর ফরজ নামাজ আদায়ের সময়ের থেকেও কম বলে মনে হবে। (বায়হাকী, আহমাদ, ১১৭৩৫, ইবনু হিববান, ৭৩৩৪)

আল্লাম বাগবী লিখেছেন, ইবনে আবী মালিকা বলেছেন, একবার আমি হজরত উসমানের মুক্ত করা ক্রীতদাস আব্দুল্লাহ ইবনে ফিরোজকে সঙ্গে নিয়ে হজরত ইবনে আব্বাস রা. এক কাছে উপস্থিত হয়ে কিয়ামত দিবসের দৈর্ঘ ও পঞ্চাশ হাজার বছর নিয়ে জানতে চাইলাম। এর জবাবে তিনি আমাদের বললেন, এ বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই। তাই এ নিয়ে আমি চুপ থাকেই শ্রেয় মনে করি।

মুফাসসিররা বলেন, এর সহজ উত্তর হলো এই যে, সেদিনটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে বিধায় মানুষের নিকট অতিশয় দীর্ঘ বলে মনে হবে। এই দীর্ঘানুভূতি নিজ নিজ ঈমান ও আমলানুপাতে হবে। যারা বড় অপরাধী তাদের কাছে সুদীর্ঘ এবং যারা কম অপরাধী তাদের কাছে কম দীর্ঘ মনে হবে। এমনকি সেদিন কিছু মানুষের কাছে এক হাজার বছর বলে মনে হবে, আবার কারো কারো নিকট পাঁচশত বছর বলে মনে হবে। আবার কারো কারো কাছে পঞ্চাশ হাজার বছর বলে মনে হবে।

(তাবারী, বাগভী; ফাতহুল কাদীর, তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, ৭ম খণ্ড, ৪৭, তাফসিরে মাযহারী, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা, ৩৭০

18/07/2023

যেসব আমলে আগের গুনাহ মাফ হয়:
মহান আল্লাহ বিভিন্ন বাহানায় তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করতে চান। তিনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। বান্দাকে শুধু সেই ক্ষমা পাওয়ার জন্য কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। নবীজি (সা.) বিভিন্ন সময় সাহাবায়ে কেরামকে এমন কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলো করলে গোটা জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।
তবে কেউ কেউ এসব হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এই হাদিসগুলোতে সগিরা গুনাহের কথা বলা হয়েছে। কবিরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য বিশুদ্ধভাবে তাওবা করা জরুরি। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
উত্তমরূপে অজু করে নামাজ পড়া : উত্তররূপে অজু করে একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়। হুমরান (রহ.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি উসমান (রা.)-কে অজু করতে দেখেছি।তিনি তিনবার হাতের ওপর পানি ঢাললেন। এরপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন। অতঃপর তিনবার চেহারা (মুখমণ্ডল) ধুলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন এবং বামহাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন।এরপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর ডান পা তিনবার ধুলেন অতঃপর বাম পা তিনবার ধুলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে অজু করতে দেখেছি আমার এ অজুর মতোই। এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ অজুর মতো অজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোনো কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)
খাওয়ার পর দোয়া : সাহল ইবনে মুআজ ইবনে আনাস (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে এ দোয়া পাঠ করবে তার আগে-পরের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০২৩, দারেমি)
পবিত্র হজ পালন : হজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম আমল। কেউ যদি হজের পরিপূর্ণ আদব রক্ষা করে হজ পালন করতে পারে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি হজ করে এবং তাতে কোনো রকম অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে তাহলে তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮১১)
রমজানের রোজা : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮)
শবে কদরের আমল : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫)
রমজানের কিয়ামুল লাইল : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সঙ্গে ও একান্ত আল্লাহর সন্তষ্টির নিমিত্তে রাতের নামাজ পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৬৪)
জামাতের সহিত নামাজ পড়া : আমাদের সবাই নামাজের সুরা ফাতেহার পর আমিন বলে, তবে আমিন আস্তে বলবে নাকি জোরে বলবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যেভাবেই বলুক, যদি কারো আমিন ফেরেশতাদের আমিনের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে বলে হাদিসে পাওয়া যায়।

Address

Dhaka
1229

Telephone

+8801687777777

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Magic of Islam2 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Magic of Islam2:

Share