27/05/2024
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। সেখানকার মানুষগুলোর জীবনের যেন কোন দামই নেই।
জোয়ারে পানিতে তাদের জীবন ভেসে যাচ্ছে আর তারা চেয়ে চেয়ে দেখছে কিন্তু কিচ্ছু করার নাই। সাজানো সংসার, ঘর-বাড়ি, গবাদিপশু, ফসল জমি সব চেখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এমন নিরাপত্তাহীন জায়গায় নিজেকে কল্পনা করলেই তো শরীর শিওরে উঠে।
এদিকে মিডিয়ার কল্যাণে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যতটা আপডেট পাচ্ছি সঙ্গে ততটাই পাচ্ছি বিনোদন। এক নিউজে দেখি কিছু অতি উৎসুক মানুষ ভীড় জমিয়েছেন সমুদ্রতীরে ঝড়ের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য নিজের চোখে দেখবেন এজন্য।
আরেক নিউজে দেখি কেউ কেউ টিকটক করছে।
কিছু কিছু ফটোগ্রাফার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরও ঝড়ইস্যু নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন। মাইক্রোফোন হাতে এক সাংবাদিক উঁচু জায়গা ছেড়ে জোয়ারের পানিতে নেমে সংবাদ করছেন। আরেক সাংবাদিক নিউজ করার সময় একটা ছোট ছেলেকে টান দিয়ে সরিয়েছেন বলে সেটা এখন মিম কনটেন্ট। দেশের টপ নিউজ মাধ্যমগুলোও রমরমা শিরোনামে নিউজ প্রকাশ করে টিআরপি বাড়িয়ে নিচ্ছে। এক পোস্টে স্যাড তো দুটো পোস্টে হা হা দিয়ে আমাদের স্ক্রোলিং অব্যাহত রয়েছে।
মানুষের বিচিত্র সব এক্টিভিটিসে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ইস্যুটাও আজ যেন বিনোদনের খোরাক হয়ে গেছে, আফসোস!
একই দেশে বাস করা আমরা যখন রাতের খাবার আয়েশ করে খেয়ে স্বস্তির ঢেঁকুর তুলে ফেইসবুক স্ক্রোলিং করছি ঠিক তখন দেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলো জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে রাত কাটাচ্ছে। মিনিটে মিনিটে সেখানকার পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছে। নিউজগুলোতে তাদের শুকনো মুখগুলো দেখে নিজেরই মায়া হচ্ছে। কোলের বাচ্চা ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ মা-বাবা নিয়ে তারা কোথায় যাবে? যা হারাচ্ছে তা কি আর ফিরে পাবে?
@ইমরান হোসেইন আদিব