19/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ
মহান রব আমাদের বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দিন।
🕋 জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের মহিমা, রোজা ও আমল
প্রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় দিনগুলো হলো—
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন!
আমাদের করণীয়গুলো জেনে নিই:
📖 পবিত্র কুরআনের আলোকে ফজিলত:
* আল্লাহর কসম: মহান আল্লাহ এই ১০ রাতের কসম খেয়েছেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, "শপথ ফজরের, এবং ১০ রাতের।" (সূরা আল-ফজর, আয়াত: ১-২)।
ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই ১০ রাত বলতে জিলহজের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে।
* আল্লাহর স্মরণ: আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাঁর নাম স্মরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে, "যাতে তারা নির্দিষ্ট দিনসমূহ আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।" (সূরা হজ, আয়াত: ২৮)।
📜 সহীহ হাদিসের আলোকে ফজিলত:
* দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জিলহজের এই ১০ দিন।" (সহীহ ইবনে হিব্বান)।
* জিহা'দের চেয়েও প্রিয়: এই দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পছন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন,
"জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।"
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জি'হাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, "আল্লাহর রাস্তায় জি'হাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জা'ন ও মা'ল নিয়ে জি'হাদে বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" (সহীহ বুখারী)।
🍉 জিলহজের রোজা ও এর বিশাল পুরস্কার:💫
১ থেকে ৯ জিলহজের রোজা: জিলহজের প্রথম ৯ দিন (বিশেষ করে ১ থেকে ৮ জিলহজ) রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) বলেন, "নবী করীম (সা.) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখতেন।" (সুনানে নাসায়ী)।
* আরাফার দিনের ১টি রোজা = ২ বছরের গুনাহ মাফ: এই ১০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হলো ৯ই জিলহজ বা আরাফার দিনের রোজা (হাজিদের ছাড়া অন্যদের জন্য)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি এর মাধ্যমে বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম)।
📿 আমাদের করণীয় আমলসমূহ
১.। বেশি বেশি জিকির করা: এই দিনগুলোতে 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার' বেশি বেশি পড়তে বলা হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ)।
২.। তাকবীরে তাশরীক: ৯ই জিলহজের ফজর থেকে ১৩ই জিলহজের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয সালাতের পর পুরুষদের উচ্চস্বরে এবং নারীদের নিচুস্বরে একবার এই তাকবীর বলা ওয়াজিব:
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"
৩.। নখ ও চুল না কাটা: যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাদের শরীরের কোনো চুল, নখ, গোঁফ বা চামড়া না কাটা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম)।
৪.। তওবা ও সাধারণ নেক আমল: বেশি বেশি নফল সালাত (তাহাজ্জুদ, ইশরাক), দান-সদকা এবং কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই দিনগুলোকে জীবন্ত করে তুলুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই বরকতময় দিনগুলোর শতভাগ অনুদান ও সওয়াব হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
゚
#কোরবানি
#জিলহজ্জ