07/09/2020
বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত
#পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদানকারী (PSO),
#ই-ওয়ালেট সেবাদানকারী (PSP) এবং
#মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) কোম্পানির তালিকা।
ই ওয়ালেট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন আরেকটি কোম্পানিকে চুড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করলো। এ নিয়ে দেশে মোট ই-ওয়ালেট (PSP) লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ালো তিনটি।
1. iPay Systems Ltd
2. D Money Bangladesh Ltd
3. Recursion Fin Tech Ltd.
এদের মধ্যে iPay Systems Ltd ও D Money Bangladesh Ltd এই নামেই ই-ওয়ালেট পরিচালনা করছে আর Recursion Fin Tech Ltd. ক্যাশবাবা নামে ই-ওয়ালেট পরিচালনা করে আসছে।
ব্যাংকের বাহিরে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ই-ওয়ালেট পরিচালনা করতে পারবে।
এছাড়া দেশে পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রদানের জন্য চুড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানির সংখ্যাও মাত্র ৪ টি।
1. IT Consultants Ltd.
2. SSL Commerz Ltd.
3. ShurjoMukhi Ltd.
4. Progoti System Ltd.
এদের মধ্যে IT Consultants Ltd. কিউ ক্যাশের সেবার জন্য বিখ্যাত।
SSL Commerz Ltd ও ShurjoMukhi Ltd দেশে পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা করে বিখ্যাত।
Progoti System Ltd. এর বিখ্যাত সেবা হচ্ছে শিওরক্যাশ।
PSP ও PSO কি সেটা জানতে চাইলে নিচের অংশটি পড়ুন।
PSO মানে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর। PSO প্রধানতঃ Payment Gateway সার্ভিস প্রদান করে, যার সাহায্যে ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য/সেবা মূল্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া কিছু PSO এর অবকাঠামো ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো কার্ড ও ATM লেনদেন পরিচালনা করে।
PSP মানে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার। PSP প্রদত্ত সেবা E-Wallet সেবা নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট সেবাদানকারীর সাথে একাউন্ট খোলার মাধ্যমে গ্রাহক তার ব্যাংক একাউন্ট হতে E-Wallet এ টাকা এনে অনলাইন কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, টিউশন ফি পরিশোধ ইত্যাদি লেনদেন করতে পারে।
PSO ও PSP ব্যবসা পরিচালনার জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক হতে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
MFS
১. মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা MFS কি?
= মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সেবা। সংক্ষেপে একে MFS বলা হয়।
২. MFS হিসাব কি? এই সেবার সুবিধা কী?
= মোবাইল নম্বরের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের জন্য যে একাউন্ট খোলা হয় তাই MFS হিসাব, যেখানে গ্রাহকের টাকা ইলেকট্রনিক উপায়ে জমা থাকে। এই সেবার মাধ্যমে নিজের MFS একাউন্টে নগদ টাকা জমা করা যায়। নিজের একাউন্ট হতে অন্যের MFS একাউন্টে টাকা পাঠানো যায়। MFS একাউন্টে জমানো টাকা দিয়ে যে কোন পণ্য ও সেবা কেনাকাটা করা যায়; বিদ্যুৎ গ্যাস পানির বিল, টিউশান ফি ইত্যাদি পরিশোধ করা যায় এবং প্রয়োজনে MFS একাউন্টে জমাকৃত টাকা তোলা যায়।
৩. MFS একাউন্ট খোলার জন্য কী কী কাগজ পত্র দরকার?
=MFS একাউন্ট খোলার জন্য একটি রেজিস্টার্ড চালু বায়োমেট্রিক সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও গ্রাহকের সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি দরকার হয়।
৪. কোথায় MFS একাউন্ট খোলা যায় ?
=MFS সেবাদানকারীর এজেন্ট এর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হয়ে একাউন্ট খোলা যায়। একাউন্ট খোলার সময় গ্রাহক-কে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়াও বর্তমানে ডিজাটাল উপায়ে তাদের আপসের মাধ্যমেও একাউন্ট খোলা যায়।
৫. এক ব্যক্তি কি একাধিক MFS একাউন্ট খুলতে পারেন?
= এক ব্যক্তি প্রত্যেক MFS সেবাদানকারীর সাথে একটি করে MFS একাউন্ট খুলতে পারেন। তবে একজন গ্রাহক একই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে একাধিক MFS একাউন্ট খুলতে পারবেন না।
৬. কারা এই সেবা পেতে পারে?
= দেশের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার চাইতে বেশী বয়সের) নাগরিক MFS সেবাদানকারী ব্যাংক বা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে MFS একাউন্ট খুলে এই সেবা পেতে পারেন।
৮. মোবাইল একাউন্টে লেনদেনের জন্য স্মার্টফোন দরকার হয় কি ?
= মোবাইল একাউন্ট খোলা বা লেনদেনের জন্য স্মার্ট ফোন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ মোবাইল (ফিচার) ফোনেও এই সেবা পাওয়া যায়।
৯. MFS একাউন্টে কি বিদেশ হতে আসা রেমিটেন্সের অর্থ জমা করা যায়?
= ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ হতে আসা রেমিটেন্সের অর্থ বাংলাদেশি টাকায় MFS একাউন্টে জমা করা যায়।
১০. একজন গ্রাহক MFS হিসাবে কত টাকা রাখতে পারেন ও লেনদেন করতে পারেন ?
=একজন গ্রাহক MFS একাউন্টে দিনে সর্বোচ্চ ৫বারে সর্বমোট ৩০,০০০/- এবং মাসে সর্বোচ্চ ২৫বারে সর্বমোট ২০০,০০০/- টাকা জমা দিতে পারেন। তিনি MFS একাউন্টে হতে দিনে সর্বোচ্চ ৫বারে সর্বমোট ২৫,০০০/- ও মাসে সর্বোচ্চ ২০বারে সর্বমোট ১৫০,০০০/- টাকা তুলতে পারেন। আবার তিনি নিজের MFS একাউন্ট হতে দিনে ২৫,০০০/- ও মাসে সর্বোচ্চ ৭৫,০০০/- টাকা অন্য গ্রাহকের MFS একাউন্টে ট্রান্সফার করতে (P2P) পারবেন। একজন ব্যাক্তি তাঁর MFS একাউন্টে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা ব্যালেন্স রাখতে পারেন।
১১. MFS সেবার ক্ষেত্রে কোন অভিযোগ থাকলে গ্রাহক কোথায় যোগাযোগ করবে?
= MFS সেবার বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে গ্রাহক সেটা সংশ্লিষ্ট MFS সেবাদানকারীকে অবহিত করবে এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী দ্রুততম সময়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করবে। কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে ১৬২৩৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
১২. কারা এই সেবা দিচ্ছে ?
= বর্তমানে নিচের 15 টি ব্যাংক এবং ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিচ্ছে।
1 রকেট Dutch Bangla Bank Ltd
2 বিকাশ Brac Bank Ltd
3 মাইক্যাশ Mercantile Bank Ltd
4 এমক্যাশ Islami Bank Bangladesh Ltd
5 টি-ক্যাশ Trust Bank Ltd
6 ফাস্টপে শিওরক্যাশ First Security Islami Bank Ltd
7 ইউক্যাশ United Commercial Bank Ltd
8 ওকে One Bank Ltd
9 রুপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ Rupali Bank Ltd
10 টেলিক্যাশ Southeast Bank Ltd
11 বিসিবি শিওরক্যাশ Bangladesh Commerce Bank Ltd
12 যমুনা ব্যাংক শিওরক্যাশ Jamuna Bank Ltd
13 ইসলামিক ওয়ালেট Al-Arafah Islami Bank Ltd
14 স্পটক্যাশ Standard Bank Ltd
15 মেঘনা ব্যাংক ট্যাপ এন পে Meghna Bank Ltd