05/01/2026
𝗡𝗘𝗜𝗥 নিয়ে আমজনতা বিস্তারিত না জেনে বুঝেই ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবীকে ইগনোর করছে কটাক্ষ করছে। 𝗡𝗘𝗜𝗥 নিয়ে জনবিভ্রান্তি দূর করতে আমাদের চাওয়াগুলো তুলে ধরছি।
1.ব্যবসায়ীরা কি NEIR বাতিল বা বন্ধ চান?
— না, ব্যবসায়ীরা NEIR এর পক্ষে, তাঁরা এই প্রক্রিয়ার বাতিল বা বন্ধ চান না বরং সংস্কার চান।
2.ব্যবসায়ীদের আন্দোলন তাহলে কেনো?
— ব্যবসায়ীদের আন্দোলন মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা স্মার্টফোন যেনো নির্বিঘ্নে বিক্রি করতে পারে সেটার একটা স্থায়ী অনুমতি চাওয়া এবং ভ্যাট হার কমানোর দাবী জানাচ্ছে তারা।
3.সরকার তো শুল্কহার কমিয়েছে, তবুও কেনো এই আন্দোলন?
— সরকার ভ্যাট হার কমিয়েছে ঠিক, কিন্তু যেটুকু কমিয়েছে সেটা ফোন ব্যবসায়ীদের দাবী অনুযায়ী যথেষ্ট নয়। কারণ ফোন আমদানি করলে ৪৩.৪৩% ভ্যাট যোগ করে ফোন বিক্রি করতে হবে। এবং এতে করে দেশে উৎপাদিত না হওয়া দেশের বাইরে থেকে আমদানীকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম বেড়ে দেড়গুণ হয়ে যাবে এবং দেশীয় ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিবে।
4.ক্রেতারা কেনো মুখ ফিরিয়ে নিবে বলে মনেহচ্ছে?
— ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিবে দামের অস্বাভাবিকতায়।
যেমন - Xiaomi Redmi Note 14 4G (8+256) GB ফোনটি দেশের বাইরে অফিসিয়াল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র - 18,500 টাকায় সেই একই ফোন আমাদের দেশের অফিসিয়াল স্টোর থেকে নিতে হচ্ছে 28,999 টাকায়। অথচ একই ফোন Unofficial স্টোরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র 20,000 থেকে 21,000 টাকায়। যদি সরকার এখানে সহনীয়মাত্রার মধ্যে থেকে ১০% ভ্যাটও আরোপ করতো তাহলে আমাদের 20,000 টাকার ফোনের প্রাইস দাঁড়াতো 23/24 হাজারে যা ক্রেতাদের জন্য সম্পূর্ণ সহনীয় ও ব্যবসায়ীদের জন্যও হতো প্রতিযোগিতামূলক।
5.আপনারা কি সরকারকে ভ্যাট থেকে বঞ্চিত করছেন না?
— না, আমরা ভ্যাট বঞ্চিত করছিনা। কারণ আমাদের TIN, BIN রেজিস্ট্রেশন আছে। আমরা প্রতিনিয়ত ভ্যাট ট্যাক্স দিয়েই ব্যবসা করে আসছি।
6.তাহলে এখন সমাধান কি চাচ্ছেন?
— এখন ব্যবসায়ীদের চাওয়া একটাই যেনো এই শুল্কহার কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় নির্ধারণ করা হয়। আমদানীকৃত ফোন যেনো ক্রেতাদের কাছে সুলভ মূল্যে বিক্রি করা যায় সেজন্য ভ্যাট হার ০৫/১০% এর মধ্যে রাখা।
7.NEIR এর ফলে এই মুহূর্তে আর কি কি সমস্যা হচ্ছে?
— NEIR এর ফলে দেশের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী ও আমদানির সাথে জড়িত কিছু কোম্পানি মাত্র ০৫% শুল্ক দিয়ে পার্টস আমদানি করে অত্যন্ত নিম্নমানের ফোন দেশে অ্যাসেম্বল করে ভোক্তার পকেট থেকে ৪৩.৪৩% ভ্যাট নিয়ে ফোন বিক্রি করছে।
বিশ্বখ্যাত টেক প্রতিষ্ঠান Samsung এর লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ ফোন Galaxy S25 Ultra (12+256) ভ্যারিয়েন্ট অফিসিয়াল স্টোরের প্রাইস 2,26,999 টাকা যা ডিলার প্রাইস 2,14,150 টাকা।
অথচ এই একই ফোন দেশের বাইরে থেকে আমদানি করে Unofficial স্টোরগুলোতে দোকান ভেদে বিক্রি হচ্ছে 1,08,000 থেকে 1,10,000 হাজার টাকায়।
এখানে দামের পার্থক্যটা দেখুন, কী বিশাল! অথচ অফিসিয়াল ও দেশে অ্যাসেম্বল করা হিসেবে এই ফোনটির দাম হওয়া উচিত ছিলো 1,30,000 হাজারের মধ্যে যেহেতু এটি মাত্র ৫% ভ্যাট দিয়ে এনে অ্যাসেম্বল করা।
একই ফোন Samsung India অফিসিয়াল স্টোরে সেল হচ্ছে MRP: ₹129999.00 (Incl. of all taxes) এই দামে।
8.ভোক্তা যদি কিনতে পারে এই দাম দিয়ে তাহলে আপনাদের সমস্যা কি?
— এখানে অবশ্যই আমাদের অনেক সমস্যা। এতে করে শুধুমাত্র ধনী শ্রেণীর মানুষেরাই ফোন কেনার সক্ষমতা রাখবে। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে দরিদ্র শ্রেণীর নাগালের বাইরে চলে যাবে যেকোনও ভালো ফোন কেনা। বিগত দিনে যা ছিলো সহজলভ্য সেটা হয়ে যাবে দুষ্কর। ক্রেতারাও ফোন বিমুখ হবেন। ফলে বিগত দিনে গড়ে ওঠা এই মোবাইল বিজনেস ও এর সাথে জড়িত গ্যাজেটস ও এক্সেসরিজের বিজনেসেও ব্যাপক ধ্বস নামবে। ফলে এই ব্যবসার সাথে জড়িত সকল মালিক ও কর্মচারীরা তাঁদের কর্মসংস্থান হারাবে এবং দেউলিয়া হয়ে পড়বে।
9.NEIR এর ফলে আর কি কি সমস্যা হচ্ছে?
— NEIR এর ফলে সবথেকে বড় যে সমস্যাটা হচ্ছে তা হলো ফোন এক্সচেঞ্জ নিয়ে আমরা বিপদে আছি। এক্সচেঞ্জ করা ফোনগুলো এখন আর নেটওয়ার্ক পাচ্ছেনা, ফলে প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের থেকে এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কিনে রাখা ইউজড বা ব্যবহৃত ফোনগুলো এখন চাইলেও বিক্রি করা যাচ্ছেনা। ইউজড ফোন বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের নিজস্ব সিম থেকে ফোনকে প্রথমত ডিরেজিস্টার করতে হবে, এবং সেই ব্যবহৃত ফোনটি যিনি কিনবেন তার সিম দিয়ে তার নামে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ধরুন আমি আজ আপনার ব্যবহৃত ফোনটি কিনে রাখলাম, এটা কবে কখন কার কাছে বিক্রি হবে সেটা তো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে যদি আমি 1 সপ্তাহ বা 1 মাস পর ফোনটি বিক্রি করতে যাই তখন এটা কিভাবে বিক্রি করব?
দেশের মোটামুটি সব UNOFFICIAL স্টোরগুলো থেকে ক্রেতারা তাদের ব্যাবহৃত পুরনো ফোন বদলে ক্যাশ যোগ করে তাদের পছন্দমত নতুন ফোন নিতে পারতো। এতে করে ব্যবসায়ীর পাশাপাশি দুইটি শ্রেণীর ক্রেতারাও সুবিধাভোগী হতো। প্রথমত যে এক্সচেঞ্জ করে কিনছে সে তার পছন্দের নতুন ফোন নিতে পারছে অল্প টাকা যোগ করে, বাড়তি খরচ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। অপরদিকে কেউ হয়তো স্বল্পদামে একটি পছন্দসই ফোন কেনার অপেক্ষায় ছিলো সে দোকান থেকে অনায়াসে সেই পুরনো ফোনটি অর্ধেক দামে নিয়ে নিতে পারছে এবং ব্যবসায়ী এখানে নতুন ও পুরাতন ফোন উভয় ফোন বিক্রি করতে পারছে।
অতএব এক্সচেঞ্জ করা ফোনের জন্য NEIR এর জটিলতা নিরসন করতে হবে যেনো আমরা ক্ষতিগ্রস্থ না হই।
10.NEIR থাকলে তো দেশে অবৈধ ফোন ঢুকতে পারবেনা, সে ব্যাপারে আপনাদের ভাষ্য কি?
— দেখুন আমরা কোনও চোরাই ফোন বিক্রির সাথে জড়িত নই। বলা যেতে পারে আমরা এতদিন ট্যাক্স ফ্রি প্রোডাক্ট এনেছি এবং সেগুলো ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে থাকায় সেগুলো এনে মার্কেট ধরেছি। অবৈধ ফোন বলে যে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো মোটেও অবৈধ নয়। বৈশ্বিক মার্কেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যেসব ফ্ল্যাগশিপ ফোন পাওয়া যায় সেগুলোর কোনোটাই আমাদের দেশে নেই। অফিসিয়ালি আমদানি কিংবা অ্যাসেম্বল কোনোটাই হচ্ছেনা। যেমন : Motorola, iQOO, Oppo findx সিরিজ, Vivo এর ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ, Honor এর ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ, Realme GT সিরিজ, OnePlus ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ থেকে শুরু করে টেক জায়ান্ট অ্যাপলের কোনও অফিসিয়াল স্টোর কিংবা প্রোডাক্ট এই দেশে নেই।
এই যে দেশের ভিআইপিরা আইফোন ইউজ করছে তারা নাহয় দেশের বাইরে থেকে নিয়ে এলো, কিন্তু যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেনা যেতে পারছেনা তাদের কি একটি আইফোন ব্যবহারের শখ কিংবা প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারেনা?
আমরা এই ফোনগুলো দেশের মানুষদের জন্য সহজলভ্য করেছি, এবং দেশের মানুষদের চাহিদা অনুযায়ী ফোনগুলোর প্রসার ঘটিয়েছি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে।
11.সবশেষে সরকার ও জনগণের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?
— দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা ব্যবসায়ীদের পেটানোর ও গ্রেফতারের নিউজে অনেকেই ব্যবসায়ীদের গালমন্দ করছেন, উল্লাসিত হয়েছেন। অনেকেই যাচ্ছেতাই বলছেন অথচ এখানে আমাদের একার কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়, সামগ্রিক ও সামষ্টিক স্বার্থ জড়িত। আপনারা যদি না কিনতেন এই ফোনগুলো তাহলে কারা কিনছে, কোথায় যাচ্ছে? ফোনগুলো তো আমরা নিজদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসিনা। আপনাদের জন্যই নিয়ে আসা।
আর সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমাদের ব্যবসায়ী ও কর্মীদের ফ্যাসিস্ট স্ট্যাইলে নির্যাতন বন্ধ করুন। নির্যাতনের শিকার ও গ্রেফতার কর্মী ও ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে মুক্তি দিন।
আমাদের দাবিগুলো শুনতে হবে, বুঝতে হবে এবং আমাদের ব্যবসায়িক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবেনা। আমরা এই দেশের নাগরিক, আমরা এই দেশে কোনও অচলাবস্থা চাইনা, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে লিগ্যাল ওয়েতে বিজনেস করতে।