24/03/2023
বইয়ের নামঃ প্রিয়তমা।
লেখকঃ সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
পৃষ্ঠাঃ ৩৫২।
মূল্যঃ ৫২০ টাকা।
প্রকাশনীঃ নবপ্রকাশ।
প্রিয়তমা বইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও উম্মুল মুমিনিনদের দাম্পত্যজীবন তুলে ধরা হয়েছে। এটি রাসূলপত্নীদের জীবনীগ্রন্থ নয়। ভাষাকে গল্পের মতো সাজিয়ে ইতিহাস ও তথ্য নির্মোহভাবে হাদিস ও সিরাতগ্রন্থের আলোকে বইটি সাজানো হয়েছে। তবে এটি কোন ইতিহাস বা সিরাতগ্রন্থও নয়।
বইটি পাঠ করলে জানা যাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কেনো ১১ টি বিয়ে করেছিলেন? কেন আয়েশার মতো সদ্য কিশোরীকে বউ হিসেবে গ্রহণ করলেন? বিয়ের সময় আয়েশার বয়স কত ছিলো? কেন এক ইহুদিকন্যাকে উম্মুল মুমিনিন হিসেবে সম্মানিত করলেন? রসূল পুত্র ইব্রাহিমের জন্ম ও মৃত্যু বিষয়ক এমন আরও নানা তর্কিত বিষয়।
প্রথম অধ্যায়ের নাম খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ অধ্যায়। মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্মের পূর্বে কুরাইশ বংশের অবিসংবাদিত নেতা আব্দুল মুত্তালবের স্বপ্নে প্রত্যাদিষ্ট হয়ে জমজম কূপ পূনরায় খননের ঘটনা দিয়েই এই অধ্যায়ের শুরু। প্রিয় নবীর জন্ম, রসূল হওয়ার পূর্বাভাস, খাদিজা (রাঃ) শেষ জামানার নবীর সাথে মুহাম্মদ নামক বালকের চারিত্রিক গুণাবলীর মিল খুজে পাওয়া ইত্যাদি রোমাঞ্চকর ঘটনার বিবরণ রয়েছে এই অধ্যায়ে।
খাদিজা (রাঃ) ছিলেন মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। যিনি মক্কার সবচেয়ে বিত্তশালী নারী ছিলেন। ভালোবাসা, অর্থবিত্ত, বিশ্বাস, মর্যাদা সব দিক দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে আগলে রেখেছিলেন মুহাম্মদ (সঃ) কে। জিবরাইল (আঃ) এর ওহী নিয়ে আসাকে বিশ্বাস করা, সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ব্যাক্তি ছিলেন খাদিজা (রাঃ)। খাদিজা (রাঃ) জীবিত অবস্থায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন নি। এরপর বিভিন্ন ঘটনাক্রমে সাওদা বিনতে জামআ, আয়েশা বিনতে আবু বকর, হাফসা বিনতে উমর, জয়নব বিনতে খোজায়মা, উম্মে সালমা বিনতে উমাইয়া, জয়নব বিনতে জাহাশ, জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস, উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান, সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই, মায়মুনা বিনতে হারিস, মারিয়া কিবতিয়া, রায়হানা বিনতে জায়েদ উম্মুল মুমিনিন হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন।
প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে রসূল (সঃ) এর ছিলো প্রেমময় সম্পর্ক।
একবার আয়িশা (রা.) রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূল (সা.) তাকে কেমন ভালোবাসেন।
রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন, “একটি শক্ত গিঁটের মতো। এমন গিট তা যতই টানা হয়, সেটির বাঁধন ততই শক্ত হয়।"
আয়িশা রা.) প্রায়ই ঠাট্টাচ্ছলে জিজ্ঞেস করতেন, 'গিটের কী খবর?' রাসূল (সা.) উত্তর দিতেন- 'প্রথম দিনের মতোই শক্ত আছে’ সুবহানাল্লাহ!
নারীমনের ভালোবাসা বড় অদ্ভূত জিনিস। একবার যাকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসাবে,দুনিয়ার সকল কিছু তার সামনে তুচ্ছ হয়ে যায়। হোক ভালোবাসার মানুষটি বয়সে ঢের বড়, হোক সে নিঃস্ব কিংবা দেখতে ভারিক্কি। নারীর ভালোবাসার সামনে এর কোনো কিছুই বিবেচ্য নয়। ভালোবাসার মানুষের সামান্য অপমানও সে সহ্য করতে পারে না।
একবার এক ইহুদি এল রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু ইহুদি তো ইহুদিই, তাদের মনের মধ্যে সব সময় কোন না কোন কূটচাল কাজ করে। রাসূলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কোনো বিষয়ে ইহুদি লোকটি অসহিষ্ণু হয়ে উঠল। সে রাসূলকে অভিশাপ দিয়ে বলল, " আল্লাহ আপনাকে মৃত্যু দান করুক!"
আয়েশা পাশেই ছিলেন। ইহুদির মুখ থেকে এমন কথা শুনে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না। তখনই ইহুদির সামনে দাড়িয়ে তার চোখের দিকে আঙুল তুলে বলে উঠলেন, "তুমি কোথাকার কে যে আল্লাহর রাসূলের মৃত্যু কামনা করছ? তোমার উপরই অভিশাপ পতিত হোক, মৃত্যু হোক তোমার!'
আয়েশার এমন রণমূর্তি দেখে ইহুদি ভড়কে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়ালাসাল্লাম আয়েশার রুদ্রমূর্তি দেখে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন,'আয়েশা শান্ত হও! আল্লাহ আমাদের পরম বন্ধু। তিনি সব বিষয়ে আমাদের তাঁর ভালোবাসার চাদরে ঢেকে নেন। যারা মন্দ আচরণ করে, তাদের তিনি মোটেও ভালোবাসে না। তাদের রহমত থেকে বঞ্চিত করেন।'
সহধর্মিণী তো এমনই হওয়া উচিত। স্বামীর সামান্য অপমানে যার অন্তর ব্যথায় জ্বলে উঠবে। স্বামীর আনন্দে যে নিজেকে সবচেয়ে সুখী ভাববে। আয়েশা তো সেই নারীমূর্তিরই প্রবল প্রতিচ্ছবি ছিলেন।
মূলত মুহাম্মদ (সঃ) এর স্ত্রীদের সাথে দাম্পত্য জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে এই বইয়ে। শেষ জামানার নবীর স্ত্রী হওয়ার মতো সৌভাগ্যবান নেককার নারী হয়েও নবীপত্নীদের মাঝেও ছিলো ভালোবাসা, আবেগ, অভিমান, হিংসা, ভুলত্রুটি।
বইটি পাঠকমনের অনেক অজানা তথ্যকে জানাতে সাহায্য করবে। দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি মজবুতে সহায়ক হিসেবেও বিশেষ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
© Farhana Sumi