14/07/2026
গল্পঃ
Alien / এলিয়েনরা সিদ্ধান্ত নিলো তিনদিনের জন্য জেমিকে ওদের গ্রহে বেড়াতে নিয়ে যাবে, সুন্দর এই জার্নিটার বর্ণনা দেবো।
ওদের সাথে জেমির পরিচয় অনেক আগে থেকেই। সেই সুবাদে এলিয়েনরা প্রায়ই জেমির বাড়িতে আসা যাওয়া করে, অনেক সময় ওরা বাড়িতে এসে জেমির সাথে দেখা না হলেও কোন সমস্যা হয় না, জেমির একটি পরিত্যাক্ত গোয়াল ঘর আছে ওরা সেখানেই দু তিন দিন নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেয়। ওরা দুজন আসে গবেষনা করে নানান উপাত্ত সংগ্রহ করে, জেমি নিজেও ওদেরকে উপাত্ত সঙ্গগ্রহের কাজে সাহায্য করে। যেমন শামুক, পিপড়া, কেচো, ব্যাং ইত্যাদি ধরে এনে সুন্দর করে বাক্সে সংরক্ষন করে দেয়। এ ছাড়া নানা উদ্ভিদ, ফুল ফল এসবও থাকে তাদের গবেষনায়। এলিয়েনরা একদিন জেমিকে সাথে করে নিয়ে যেতে চাইলো, প্রস্তাবটা জেমি লুফে নিলো, পৃথিবী থেকে আকাশের নক্ষত্র দেখা আর সেখানে ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সেই সাথে নুতন গ্রহে বেড়াতে যাওয়া স্বচক্ষে দেখার আন্দনই আলাদা। জেমি সেই আনন্দে পৃথিবীর সব কিছু ভুলে গিয়ে বুদ হয়ে ডুবে আছে মহাশুন্য পরিভ্রমনের চিন্তায়।
এলিয়েন দুজন, একজনের স্পেস সুটটা খুলে সেটা পরানো হবে জেমিকে। আমার সাথে ওদের যোগাযোগের জন্য আমাকে একটা মনিটর ডিভাইস দিয়েছে, সেটা বাড়ির উঠোনে আমার মাথা সমান উচুতে ভেসে আছে, আমাকে জানিয়ে দেয়া হলো এর কিছু করনিয় নাই, আমাকে মাঝে মাঝে ডিভাইসের সামনে দাড়াতে হবে, যা হবে ও নিজে থেকেই ছবি পাঠাবে। এরপর যাত্রা শুরুর পালা। গোলাকার বাহনে ওরা তিনজন তৈরি হয়ে নিয়েছে, সাথে করে এক লিটার খাবার পানি নিয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ওরা মহাশ্যন্যে পাড়ি জমালো। আনুমানিক পাচ ছয় ঘন্টা পর আমার কাছে কিছু তথ্য আসতে শুরু করলো। প্রথমে ঝিরিঝির হলেও পরে তা স্পস্ট হয়ে গেলো। জেমিকে দেখা যাচ্ছে ওদের সাথে কোন একটা গ্রহে আরো অনেকের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। আমি নিশ্চিত হলাম, ভালো ভাবেই ভিন গ্রহে পৌছে গিয়েছে। এবার চিন্তা হছে ফিরে আসা নিয়ে। মাঝে মাঝে আমি ডিভাইসের সামনে দাড়াই, দাড়াতেই আলো জলে উঠে এর পরে ভেসে আসতে থাকে ছবি, আমি এখান থেকে সেই ভিন গ্রহের দৃস্য দেখি। সেখানে নেই কোন দালান কোঠা, গাছ পালা, ওরা সবাই দেখতে একই রকম। যাত্রার শুরুতে ওরা চাঁদে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে আবার মহাশুন্যে পাড়ি জমায়। সেখান থেকে বিভিন্ন গ্রহের দৃস্য ধারন করে, গ্যালাক্সি গ্রহো তারকা পুঞ্জী নিয়ে আমি এতোদিন যা ভাবতাম তা সম্পুর্ণ ভুল ছিলো। কোন গ্রহো ছিলো বরোফে ঢাকা, কোনটিতে ঘুর্নী বলয় আবার কোনটি কোনটিতে ছিলো আগ্নেয়গিরী। অবাক করার বিষয় এলিয়েনরা দূর থেকেই এতো বড় গ্রহের ব্যবচ্ছেদ ঘটিয়ে তার দুরত্ব ওজন উপাদান সব কিছু নির্নয় করে নিতে পারে। এখানে ওদের বুদ্ধিমত্তা আধুনিকতা বিজ্ঞান এ যেনো আমরা চিন্তাই করতে পারিনা।
এবার একটা দুশ্চিন্তায় পড়তে হলো, আমি যখন ওর ছবি দেখলাম। মানুষের উপোযোগি খাবারতো সেখানে নেই, না খেয়ে জেমি শুকিয়ে গিয়েছে, দেখতেও ও অনেকটা এলিয়েনের মতোই হয়ে গিয়েছে, যাওয়ার সময় এক লিটার পানি নিয়ে ছিলো এতোটুকুই। এলিয়েনরা আমাদের এখানে আসে দু দিনের বেশি থাকে না, তাই আমিও জানতাম জেমি দুদিন পরেই ফিরবে।
জেমি ফিরে এসেছে ঠিকই কিন্তু দুটো জেমি, কোনটা আসল আর কোন টা কৃত্তিম ধরতে পারলাম না,