21/01/2026
রজবের চাঁদ ডুবে, গতকাল দেখা দিয়েছে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ। আজ শাবানের দ্বিতীয় দিন। কাঙ্খিত রামাদান মাসের আর একমাসও বাকি নেই।
দ্বীনের পরিপূর্ণ বুঝ আসার আগে রামাদান মাসের মর্যাদা সেভাবে বুঝতে পারতাম না। রামাদানকে নিয়ে থাকত না কোনো বাড়তি উদ্যম, উদ্যোগ কিংবা প্রস্তুতির আয়োজন। আলহামদুলিল্লাহ, দ্বীনের বুঝ পাওয়ার পর, আমলের মাঝে তৃপ্তি আর স্বাদ খুঁজে পাওয়ার পর থেকে সারাবছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকি—কবে আসছে রামাদান।
প্রায় প্রত্যেক বছর রামাদানকে ঘিরে কতো কতো পরিকল্পনা করে রাখি—এবারের রামাদানকে এভাবে কাটাব, ওভাবে কাটাব। কিছুটা হয়তো পারি; অধিকাংশ সময়েই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করা হয় না। তারপর যখন রামাদান চলে যায় জীবন থেকে—একরাশ বেদনা এসে ভর করে মনে। রামাদানকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা পীড়া দেয় সতত। বার বার মনে হয়—ফেইসবুক একটু কম ব্যবহার করলেই পারতাম, অমুক কাজে সময় একটু কম ব্যয় করলেই পারতাম, প্রতি রাতে কিয়ামুল লাইল আরও দুই রাক’আত করে বাড়তি পড়তে পারতাম।
‘এই পারতাম’—এর আফসোস নিয়ে কেটে যায় একটা বছর৷ তারপর আবার আসে নতুন আরেকটা রামাদান।
হয়তো-বা পরিকল্পনামাফিক রামাদানকে উদযাপন করতে পারি না, তবে প্রত্যেক বছর রামাদানকে ঘিরে যে আশা-আকাঙ্খা আর প্রত্যাশার বীজ বুনি, যে উদ্যম, উদ্যোগ আর আয়োজনের খতিয়ান তৈরি করি—এতেও একটা প্রশান্তি পাই, আলহামদুলিল্লাহ।
রামাদান আবারও দোরগোড়ায়। আমাদের কি সময় হবে এই মাসটাকে বরণ করার জন্য নিজেদের পরিকল্পনাগুলো সাজিয়ে নিতে?
খ.
রামাদানকে বরণ করা মানে ফুলের ডালি হাতে নিয়ে ‘এসো হে রামাদান এসো এসো’ বলা নয়। রামাদানকে বরণ করতে হয় ঈমানে টইটম্বুর হৃদয়, আমলে সুবাসিত দেহ আর মন এবং তাওয়াক্কুলে ভরা অন্তর নিয়ে।
শাবান মাস মাত্রই ঢুকল। আপনি কি জানেন, শাবান মাসের প্রথম অর্ধে (প্রথম ১৫ দিন) নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেকবেশি সিয়াম রাখতেন? রামাদানের প্রস্তুতি হিশেবে এভাবে আমল করতেন। শরীরকে প্রস্তুত করতেন রামাদানের দিনগুলোর জন্য।
চলুন, আজ বসে আমরাও একটা রামাদান পরিকল্পনা করে ফেলি। শাবান মাসটাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করি। অধিকবেশি সিয়াম রাখি, কিয়ামুল লাইলে (তাহাজ্জুদ) উঠি, বেশি নফল আমল করি, যিকির আযকারে বেশি সময় ব্যয় করি, কুরআনের তিলাওয়াত বাড়িয়ে দিই।
জীবন থেকে আমি অন্তত চারজন মানুষকে হারিয়ে ফেলেছি, যারা গত রামাদানেও আমাদের মাঝে ছিল। কে জানে, আগামি রামাদানে হয়তো আমি, আপনি, আমরা না-ও থাকতে পারি। এমন কি হতে পারে না যে—এটাই আমাদের জীবনের শেষ রামাদান?
গ.
অনেকেই রামাদান মাসের প্রস্তুতির জন্য কী পড়া যায় সে সম্পর্কিত বইয়ের খোঁজ করেন।
Sukun Publishing থেকে রামাদানের উপরে তিনটা অসাধারণ বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে—
১. শাবানে মুমিনের প্রস্তুতি ( লেখক ড. মুহাম্মাদ আদ দুবাইস)
২. মুমিনের রামাদান প্রস্তুতি ( লেখক ড. মুহাম্মাদ আদ দুবাইস)
৩. যদি হয় জীবনের শেষ রামাদান ( লেখক ড. রাগিব সারজানি)
বই তিনটি রামাদান এবং শাবান মাসকে আমলমুখর, তাকওয়ামুখর করতে সাহায্য করবে, ইন শা আল্লাহ।
এই তিনটি বই একসাথে অর্ডার করলে, তারা ৩৬ পেইজের একটি ‘প্রোডাক্টিভ রামাদান প্ল্যানার’ ফ্রি দিচ্ছে যেটাতে গোটা রামাদান মাসের আমলগুলোকে ট্র্যাক করা বা টুকে রাখা যাবে।
ঘ.
একজন সালাফ বলেছিলেন, ‘কবরের বাসিন্দাদের যদি একটা মাত্র রাতের জন্য দুনিয়াতে আসার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে তারা রামাদান মাসের একটা রাতে আসার সুযোগ চাইতো।’
কবরবাসীদের কাছে যেটা আরাধ্য কিন্তু অবাস্তব স্বপ্ন, আমাদের কাছে সেটা সহজ বাস্তবতা। আমরা তো রামাদানের রাতগুলো পাই, কিন্তু সেভাবে রাতগুলো কাটাই কি?