27/09/2022
ADHD এর সম্পূর্ন অর্থ হল Attention deficit hyperactivity disorder.
এটা একটা neurodevelopmental disorder,যা শিশুদের মধ্যে প্রচুর দেখা যায় এবং বড় হওয়ার পরও এটা থেকে যায় অনেক সময়।
যেসব শিশুরা ADHD তে ভোগে তাদের কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়, তারা নিজেদের ইম্পালসিভ বিহেভিয়ার কে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না।সেই কাজের কি ফল হবে তা না ভেবেই কাজটা করে ফেলে,অথবা অতিরিক্ত পরিমানে অ্যাকটিভ/সক্রিয় হয়ে যায়।
ADHD রোগের লক্ষনঃ
সাধারণত ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগ দেখা যায়, অনেক সময় ৩ বছরের ছোট শিশুদের মধ্যেও দেখা যায়। শিশুকাল থেকে শুরু হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অনেকসময় রোগলক্ষন থেকে যায়। মেয়েদের থেকে ছেলেদের মধ্যেই ADHD বেশি দেখা যায়।
ADHD এর লক্ষনগুলোকে ৩ টা প্রকারে ভাগ করা হয়েছে।যেমন……
১.অমনোযোগী :
যে সকল শিশুদের মধ্যে এই অমনোযোগীতার লক্ষন দেখা যায় তারা প্রায়ই……
# কোনো বিষয়ে গভীর মনযোগ দিতে সক্ষম হয় না।
# স্কুলের নানা কাজে অসাবধানতার জন্য ভুল করতে থাকে।
# কোনো কাজ বা খেলাধূলাতে অধিক সময় ধরে মনযোগে অক্ষম হয়।
# সামনা-সামনি কথা বললেও তা সম্পূর্ণ শুনে উঠতে পারে না।
# নির্দেশনা শুনে কোনো কাজ না করে উঠে পড়া এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ করতে না পারা।
# বিভিন্ন কাজকে গুছিয়ে করতে না পারা।
# যেসব কাজে গভীর মনযোগ দরকার পরে তা অপছন্দ করা বা এড়িয়ে চলা।
# খেলনা, পেন্সিল, বই–খাতা ইত্যাদি প্রায়ই হারিয়ে ফেলা।
# খুব সহজেই মনযোগ সরে যাওয়া।
# রোজকার কাজ করতে ভুলে যাওয়া।
২.অতিসক্রিয়তা ও অতি আবেগপ্রবণতাঃ
যাদের মধ্যে এই লক্ষনগুলি দেখা যায়, তারা প্রধানত……
# অকারণে হাত–পা নাড়াতে থাকে।
# এক জায়গায় শান্ত ভাবে বসতে পারে না,
সব সময় কিছু না কিছু করে নানা অঙ্গ ভঙ্গি করে যেতে থাকে।
# যেকোনো জায়গায় লাফাতে বা দৌড়াতে শুরু করে দেয়।
# শান্তভাবে কোনো কাজ করতে পারে না বা যে খেলাধূলায় শান্ত থাকার প্রয়োজন হয় তা করতে পারে না।
# অতিরিক্ত কথা বলে।
# কোনো খেলাধূলায় নিজের সুযোগ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না।
৩.মিশ্রিত রোগলক্ষন – এই ক্ষেত্রে অমনোযোগী এবং অতিসক্রিয়তা উভয় লক্ষনই পরিলক্ষিত হয়।
ADHD এর কারণঃ
বংশগতি, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের সমস্যা, দূষিত পরিবেশ,গর্ভাবস্থায় মায়ের ব্যবহৃত ওষুধ, গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপান, মদ্যপান, প্রিম্যাচিওর বেবির জন্ম,এই সকল কারনে ADHD তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ADHD তে আক্রান্ত শিশুরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়ঃ
# ক্লাসরুমে নিজেকে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়, ফলে বেশিরভাগ সময়ই ফলাফল খারাপ হয়।
# অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশি আঘাত ও দুর্ঘটনার শিকার হয়।
# আত্মবিশ্বাস কম থাকে।
# কথাবার্তা বলায় সমস্যা হওয়ার কারণে বন্ধুদের সাথে সহজে মিশতে পারে না।
ADHD রোগের চিকিৎসাঃ
সাধারণত ওষুধ, বিহেভিয়ার থেরাপি, কাউন্সেলিং, এডুকেশন থেরাপি ইত্যাদি এই রোগের চিকিৎসায় অবলম্বন করা হয়।যেমন……….
স্টিমুল্যান্ট মেডিকেশন :
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সাইকো স্টিমুল্যান্ট ওষুধ বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এইসব ওষুধের মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারকে নিয়ন্ত্রণ করা ও উদ্দীপিত করা হয়। এর ফলে রোগের লক্ষন কম থাকে এবং খুব অল্প সময়ের ভেতরই ফলাফল দিতে শুরু করে।
ADHD বিহেভিয়ার থেরাপিঃ
# বিহেভিয়ার থেরাপী:
অভিভাবক ও শিক্ষক – শিক্ষিকাদের বিহেভিয়ার থেরাপি শিখতে হবে, যেমন টোকেন সিস্টেম ও টাইম আউট পদ্ধতি, কঠিন সময়কে সামলানোর জন্য।
# সোশাল স্কিল ট্রেনিং:
এর মাধ্যমে শিশুরা সঠিক সামাজিক ব্যবহার কিরতে শিখবে।
# প্যারেন্টিং স্কিল ট্রেনিং:
এর মাধ্যমে মা-বাবারা শিশুর সমস্যা বুঝতে এবং তাদেরকে সঠিক ভাবে গাইড করতে সক্ষম হবে।
# সাইকোথেরাপি:
এর মাধ্যমে একটু বড় বয়সের বাচ্চারা নিজেদের সমস্যার কিথা নিজেরা খুলে বলতে পারে। কোন কোন বিষয় তাদের বেশি অসুবিধায় ফেলে তা তারা নিজেরা বলতে পারে।
# ফ্যামিলি থেরাপি:
এর মাধ্যমে পরিবারে কোনো শিশু ADHD তে আক্রান্ত থাকলে, তার সাথে কিভাবে ব্যবহার কিরতে হবে, তা অভিভাবক ও অন্য ভাই বোনদের শেখানো হয়।
এছাড়াও ADHD প্রতিরোধের জন্য….
# প্রসবকালীন জটিলতা এবং প্রেগন্যান্সিতে বিপজ্জনক শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি
নিয়ন্রন করুন।পাশাপাশি মদ্যপান, ধূমপান এবং ক্ষতিকারক মেডিসিন পরিহার করুন।
# স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন।শিশুদের,বিশেষ করে জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে টিভি দেখা এবং ভিডিও গেম খেলা থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।
# শিশুকে যথেষ্ট পরিমানে ভালোবাসা, যত্ন, উৎসাহ ও গুরুত্ব দিন।
# শিশুর যাতে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়, সেদিকে নিজর দিন।
# শিশুকে সামাজিক মেলামেশায় উৎসাহ প্রদান করুন।
মনে রাখবেন “এটা আপনার সন্তানের অক্ষমতা নয়,বরং এটা একটা প্রতিবন্ধকতা যা সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব”।
শিরিনা আক্তার লিমা
ট্রেইনি স্কুল সাইকোলোজিস্ট
এম এস ইন স্কুল সাইকোলোজি(৫ম ব্যাচ)
মনোবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।