26/08/2026
Saifur Rahman
অবশেষে বাঙালি জানতে পারল, ‘স্বৈরাচার’ লুটপাট করেছে বলে গ্যাস কেনা যাচ্ছে না। কিন্তু যুদ্ধবিমান ও বোয়িং কেনার টাকা স্বৈরাচার আলাদাভাবে রেখে গেছে। আমরা তো ঘাস খেয়ে হলেও অস্ত্র বানাতে চাই। আমাদের শান্তিপ্রিয় জাতির মনস্তত্ত্বে যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব পুশ করা হচ্ছে, সেটা বোঝার মতো ঘিলু দেশের কতসংখ্যক মানুষের আছে, তা এখন বেশ সন্দেহের বিষয়।
আপনারা জেনে খুশি হবেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের নতুন ঋণের রেকর্ড হয়েছে। পরিমাণটা হলো ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। গত দুই বছর ধরে আমাদের শোনানো হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের ঋণের গল্প। বলা হয়েছে, মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ লুট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একটি মেট্রোরেলের টাকায় চারটি মেট্রোরেল করা যেত। আপনারা জেনে খুশি হবেন, এসব যারা বলত, তারা এখন আর মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু খায় না। তাই বাস্তবতা মেনে নিয়ে দেখুন, সব সরকারি প্রকল্পে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। তারা মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কথা বলেন। বলেন না কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা।
আপনারা কি জানেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা কেন শুরু হয়েছিল? এবং সেই প্রেক্ষাপট কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল? নিশ্চয়ই জানেন। ইউক্রেনকে ইউরোপের সব দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছে। কিন্তু রাশিয়া যে অঞ্চলগুলো দখল করে নিয়েছে, সেগুলো কি ইউক্রেন আর কখনো ফেরত পাবে? আপনারা নিশ্চয়ই এও জানেন, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের একটি বড় অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধে সহায়তার বিনিময়ে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা যেমন শক্তিশালী কিছু যুদ্ধবাজের ইগোর লড়াই, তেমনি এর ভুক্তভোগী হয়েছে সাধারণ মানুষ। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও তেমনি নিরপেক্ষ নীতি থেকে সরিয়ে একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ব্লকে।
নিশ্চয়ই জানেন, সৌদি আরবে মার্কিন সেনা ঘাঁটি আছে। তবুও কেন সৌদি আরবকে দিয়ে নতুন কথিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে? আপনারা যারা ভাবছেন, বাংলাদেশ আগামীকাল ভারত কিংবা মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে হাজার মাইল দূর থেকে ভারত কিংবা মিয়ানমারের আকাশসীমা ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভাইয়েরা উড়ে আসবে, তারা কীভাবে মনে করেন, ততক্ষণ সেই আকাশসীমা ও ভারত মহাসাগরের সমুদ্রসীমা আপনাদের ভাইদের জন্য খোলা থাকবে?
নতুন এই কথিত ‘মুসলিম ন্যাটো’ মূলত আমেরিকার ব্রেইনচাইল্ড। তারা এখন থেকে আর নিজেদের সৈন্যদের মরতে দেবে না। সৌদির অর্থ দিয়ে এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামক জোটের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ভাড়ায় খাটাবে। তবুও আমি চাই, বাংলাদেশ এতে যোগ দিক। তাতে আমাদের দেশের এক শ্রেণির মানুষের যে জোশ উঠেছে, সেটা ঠান্ডা হবে। প্রতিদিন বিমানবন্দরে সেনাসদস্যদের লাশ গ্রহণ করতে তো আর তারা যাবে না। যাবে তাদের পরিবারের সদস্যরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরবে আমাদের নতুন সামরিক রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের লাশ।
এই যে দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসছে না, হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে—এসব নিয়ে এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ধারণ করা ভাইদের কোনো আলাপ আছে? দেখবেন না। সেসব কিন্তু ফ্যাসিস্টের দোষ। দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনতে চেয়েও কেন পাচ্ছে না, সেটা নিয়েও তাদের মাথাব্যথা নেই। অতীব প্রয়োজনীয় ওষুধের উৎপাদন ৬০ শতাংশ কমে গেলে আমাদের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কী হবে, তাও ভাববার প্রয়োজন নেই। আমাদের শুধু প্রয়োজন যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা। পেটে ভাত না থাকলে কী হয়েছে, আমাদের তো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান থাকবে। গায়ে শার্ট না থাকলেও গলায় টাই থাকা চাই।