15/08/2026
বিশেষ সাক্ষাৎকার: Vision 2050 Strategic Vision
আয়োজনে: Mashallah Elite (IT Company)
প্রশ্নকর্তা: Mashallah Elite-এর প্রতিনিধি
উত্তরদাতা: জনাব সালেহ
প্রশ্ন ১:
"আপনি ভিশন ২০৫০ ঘোষণা করেছেন এবং এই বৃহত্তর Project-এ আমাদেরকে Involve করেছেন সেজন্য ধন্যবাদ! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত Fund/Money আপনি কোথায় পাবেন?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"আমি এই Project মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর পূর্ণ Trust রেখে Start করার Decision নিয়েছি।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ — "অতঃপর তুমি যখন কোনো সংকল্প করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো।" [সুরা আল-ইমরান: ১৫৯]
এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلَا تَعْجَزْ — "তোমার জন্য যা উপকারী, তা অর্জনে সচেষ্ট হও; আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং কখনো হিম্মত হারিয়ো না।" [সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪]
যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাওাক্কুলের প্রকৃত অর্থ বর্ণনায় আরও বলেছেন: لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ — "তোমরা যদি আল্লাহর ওপর সঠিক ও যথাযথ ভরসা করতে, তবে তিনি পাখিদের যেভাবে রিজিক দেন, তোমাকেও সেভাবে রিজিক দান করতেন।" [জামে আত-তিরমিজি: ২৩৪৪, সহিহ]
তাছাড়া আল্লাহ তাআলা সুরা আল-ত্বলাকে কঠিন পরিস্থিতেও রিজিকের ওয়াদা দিয়ে বলেছেন: وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ — "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।" [সুরা আত-ত্বলাক: ২-৩]
Investment-এর জন্য ইতিমধ্যে International Investors-দের সাথে Discussion চলছে। এ পর্যন্ত ৪৭ জন Investor-এর সাথে মিটিং হয়েছে। তবে এখানে মূলত আমাদের "Term Sheet" অত্যন্ত Strong, যার ফলে এই ৪৭ জন Investor-এর কেউই Investment করতে রাজি হননি। আমার Estimate অনুযায়ী, পুরো Investment জোগাড় করতে ১০-১২ বছর কিংবা ১৫-১৬ বছরও লেগে যেতে পারে। এর মধ্যে হয়তো ২০০০ থেকে ৩০০০ Investor-এর সাথে Meeting করতে হতে পারে।
আমি মূলত একজন Lead Entrepreneur বা প্রধান উদ্যোক্তা; সে হিসেবে পুরো Project-এ আমার এবং আমার Family-র গুরুত্বপূর্ণ Share থাকবে। এখানে Investor হিসেবে তাঁদেরকেই Connect করা হচ্ছে, যারা আমাদের Terms & Conditions মেনে Investment করতে আগ্রহী।Financial Risk বা Investment-এর ক্ষেত্রে আমার একক কোনো বিষয় নেই, তাই আমি অনেকটা Relieved বা নিশ্চিন্ত রয়েছি।
বাইরের দেশের Investors-দের কেন Target করছি, সেটারও উত্তর দিয়ে দিচ্ছি। বাংলাদেশে এ ধরণের Project-এ Investment করার মতো Mindset-এর মানুষের সংখ্যা কম। আবার যাদের সেই Mindset আছে, তাঁদের অনেকের কাছে পর্যাপ্ত Capital বা অর্থ নেই। সে কারণেই আমি আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোকে Target করছি।"
প্রশ্ন ২:
"আমাদের কাছে আপনার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছে—আপনি 'মুসলিমরা ৭৩ টি দলে বিভক্ত হবে' এই সহিহ হাদিসটি ব্যবহার করে মূলত নিজের Branding এবং Business দাঁড় করানোর Attempt নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনার Comment কি?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"একদমই নয়! সত্যি বলতে, আমার উদ্দেশ্য যদি শুধুই Commercial বা ব্যবসায়িক হতো, তবে তো আমি সেইসব মানুষদের Target করতাম যারা বিভিন্ন Job Position-এর জন্য বেশি Qualified বা অভিজ্ঞ। সাধারণ Interview System থাকত, যেখানে তাঁদের অতীতের Experience ও CV/Resume Check করে কর্মী Recruit করা হতো। কিন্তু আমাদের Concept এমন নয়।Certificates will be given more importance only in hospitals, but of course conditions will apply......
৭৩ দলের মধ্যে 'নাজাতপ্রাপ্ত দল'-কে Target করার মূল Reason হলো—তারা প্রকৃত অর্থে সহিহ আকিদা, পবিত্র কোরআন এবং সহিহ হাদিস অনুযায়ী নিজেদের Lifestyle পরিচালনা করতে চায়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'আমি এবং আমার সাহাবিরা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি, তারাই হচ্ছে নাজাতপ্রাপ্ত দলের আদর্শ।' আমি নিজে সেই দলের একটি অংশ হতে চেয়েছিলাম।
বাধ্য হয়ে নিজের জন্য এবং আমার মতো যারা সঠিক পথে চলতে চায়—তাদের জন্যই এই Vision 2050 Project হাতে নেওয়া। এখানে Business Element অবশ্যই আছে, তবে তা ১০০% Halal।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ — "সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" [সহিহ বুখারি: ১]
এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي — "আমি এবং আমার সাহাবিগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি (তারাই নাজাতপ্রাপ্ত)।" [জামে আত-তিরমিজি: ২৬৪১]
যেমনটি আল্লাহ তাআলা সুরা আল-আনআমে এর সত্যতা স্পষ্ট করে বলেছেন: وَأَنَّ هَٰذِهِ صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ — "আর এটিই আমার সরল-সঠিক পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।" [সুরা আল-আনআম: ১৫৩]
এমনকি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন: تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ — "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি; যতক্ষণ তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।" [মুয়াত্তা মালিক: ৩৩৩৮, সহিহ]
আল্লাহ তাআলা সত্যের সাথে সত্যবাদীদের থাকার নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ — "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।" [সুরা আত-তওবা: ১১৯]"
প্রশ্ন ৩:
"আপনার বিরুদ্ধে আরেকটি Allegation বা অভিযোগ হলো—আপনি রাজতন্ত্র বা Monarchy কায়েম করার চেষ্টা করছেন, এজন্য প্রতিটি Company-র নামের সাথে 'আল সালেহ' Title যুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
এই vision রাজনীতির জন্য নয় ,দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যাণের জন্য , আমি এবং আমার পরিবারের কেউ কখনোই রাজনীতিতে প্রবেশ করা অসম্ভব, তবে আমাদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক সবার সাথেই ভালো, "প্রথমত, Monarchy বা রাজতন্ত্র মানে হচ্ছে সেখানে একজন রাজা বা বাদশাহ থাকবেন এবং তার উত্তরসূরি রাষ্ট্রক্ষমতা চালাবেন। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো রাজতন্ত্রের বিষয়ই নেই! হ্যাঁ, এসব Business Institutions-এর Governing Board-এ আমার পরিবারের সদস্যরা থাকবেন—এটা খুব Normal; কারণ এই Initiative আমি ও আমার পরিবারই নিয়েছি।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ — "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্বাধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।" [সহিহ বুখারি: ২৫৫৪]
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজ পরিবারকে দ্বীনি ও সুশৃঙ্খল দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا — "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" [সুরা আত-তাজরিম: ৬]
কিন্তু আমরা কেউ 'আমির' বা শাসক নই। আমরা Businessmen।
আমরা এমন Halal Business Model তৈরি করতে চাই, যা দিয়ে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই Success পাওয়া যায়। যারা আমাদের এখানে Job করতে আসছে, আমরা কেবল তাদের Corporate Boss। এখানে রাজতন্ত্রের কোনো প্রশ্নই আসে না! এটাকে বড়জোর একটি Family Business Group বলতে পারেন।"
প্রশ্ন ৪:
"আপনার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ—আপনি ইচ্ছা করে বর্তমানের আলেম-ওলামাদেরকে Controversy বা বিতর্কে ফেলছেন এবং তাঁদের Ghibat করছেন। আপনার Opinion কী?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"এটা সম্পূর্ণ একটি False Allegation বা মিথ্যা অভিযোগ। আমি শুধু এতটুকুই বলেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বা সাহাবিরা কখনো দান ও যাকাতের টাকাকে নিজেদের স্থায়ী Salary বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন না কিংবা দ্বীন প্রচারকে Paid Profession বানাননি।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ — "কারো জন্য নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম কোনো খাদ্য হতে পারে না।" [সহিহ বুখারি: ۲۰৭২]
পবিত্র কোরআনেও উম্মতকে সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা নবীদের জবানে ঘোষণা দিয়েছেন: وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ — "হে আমার জাতি! আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো ধন-সম্পদ চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর কাছেই।" [সুরা হুদ: ২৯]
আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতেও স্পষ্টভাবে বিশ্বনবী (সাঃ)-কে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন: قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ — "বলুন, আমি এই দ্বীন প্রচারের জন্য তোমাদের নিকট কোনো পারিশ্রমিক বা বিনিময় দাবি করি না।" [সুরা সোয়াদ: ৮৬]
এমনকি হযরত জাকারিয়া (আঃ)-এর মতো নবীগণও নিজ হাতে কাজ করতেন, যেমনটি হাদিসে এসেছে: كَانَ زَكَرِيَّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ نَجَّارًا — "নবী জাকারিয়া (আঃ) পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।" [সহিহ মুসলিম: ২৩৭৯]
এছাড়া দ্বীন শেখার জন্য কোনো Age Limit থাকা উচিত নয়। যদি ৫০ বছর বয়সের একজন মানুষ হেদায়েত পেয়ে তওবা করতে চায়, তার জন্য তো দ্বীন শেখার ও কাজ করার Environment থাকা উচিত।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ — "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা গ্রহণ করেন যতক্ষণ না তার প্রাণকণ্ঠাগত হয়।" [জামে আত-তিরমিজি: ৩৫৩৭]
নারীদের জন্যও নিরাপদ ও Parda-compliant Workplace দরকার। আমি কেবল সেই সুন্নাহর Flow অনুযায়ী কথা বলেছি, কোনো আলেমের প্রতি আমার Personal Grudge নেই।
তারা পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণসহ রেফারেন্স প্রদান করুক যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবীগণ বেতন গ্রহণের বিনিময়ে ইসলাম প্রচার করতেন, অথবা ইসলাম প্রচারের জন্য তারা প্রতি মাসে বেতন গ্রহণ করতেন। আল্লাহর কসম, যদি তারা তা প্রমাণ করতে পারে, তবে আমি জনসমক্ষে সকলের নিকট আমার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো।
প্রশ্ন ৫:
"আপনার বিরুদ্ধে আলেমদের একটি বড় অভিযোগ হলো—আপনি বর্তমান সময়ে Khilafah System বা খেলাফত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
কারণ প্রশাসন সম্পূর্ণ হানাফিরা নিয়ন্ত্রণ করে,হানাফিরা নিজেদের খেলাফত ব্যবস্থাই পছন্দ করে না; তারা গণতন্ত্র পছন্দ করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন খেলাফত? যদি হানাফি খেলাফত হয়, কিন্তু হানাফিরা তো নিজেদের খেলাফত চায় না, তাই তারা গণতন্ত্র মানে। তবে দেশ টিকে থাকত, যদি হানাফি খেলাফত হতো। কিন্তু যদি এটা আহলে হাদিস খেলাফত হয়, যা কখনো হানাফিরা গ্রহণ করবে না, আর দেশ আহলে হাদিসরা রক্ষা করতে পারবে না। আমি এখানে ইসলাম বলতে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম বলছি, বাংলাদেশে যদি কোনো ধরনের যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা দেখা দেয় কিংবা সেখানে যদি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে দেশটি তিন মাসও টিকবে না; ভারত তখন সেখানে আগ্রাসন চালিয়ে তা দখল করে নেবে—কারণ ভারতের মোকাবিলা করার মতো শক্তিশালী কোনো নেতৃত্ব বর্তমানে সেখানে আমার চোখে পড়ছে না। বাংলাদেশ তিন দিক দিয়ে ভারত এবং এক দিক দিয়ে বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত; দেশটি এমনিতেই একটি দুর্বল রাষ্ট্র, আর কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে তা আরও বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বে, ফলে ভারতের পক্ষে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল কোনো 'খেলাফত' প্রতিষ্ঠা হবে না, বরং তা 'हिंदुस्तान'-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। Logically এই নাজাতপ্রাপ্ত দলটি কেয়ামত পর্যন্ত সঠিক Aqeeda, সুন্নাহ ও আদর্শ নিয়ে টিকে থাকবে। খেলাফতের পক্ষে, কিন্তু নিজেরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে না। শেষ জামানায় যখন হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) আসবেন, তখন তাঁর Leadership-েই সঠিক খেলাফত ও যুদ্ধ পরিচালিত হবে—তার পূর্বে নয়।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا — "সে (ইমাম মাহদী) পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে ভরিয়ে দেবে।" [সুনানে আবু দাউদ: ৪২৮২]
যেমনটি সহিহ হাদিসে খেলাফতের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণী এসেছে: ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ — "অতঃপর নবুয়তের পদচিহ্ন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই পুনরায় খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।" [মুসনাদে আহমাদ: ১৮৪০৬, সহিহ]
এমনকি রসূলুল্লাহ (সাঃ) ফিতনার যুগে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলা ও ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ — "তুমি মুসলিমদের মূল জামায়াত ও তাদের প্রকৃত ইমামকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।" [সহিহ বুখারি: ৭০৮৪]"
প্রশ্ন ৬:
"বর্তমানে অনেক Sahih Aqeeda-র Organization রয়েছে, যেখান থেকে প্রবীণরা দীর্ঘ সময় পর আর Active থাকছে না। এই Organizational Drop-out নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
একজন প্রকৃত Leader-এর প্রধান গুণই হলো Unity বা ঐক্য বজায় রাখা।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ — "আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমলহৃদয় হয়েছিলেন; যদি পাষাণহৃদয় হতেন তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে কেটে পড়ত।" [সুরা আল-ইমরান: ১৫৯]
এবং দ্বীনের মধ্যে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা পরিহার করতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا — "এবং তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" [সুরা আল-ইমরান: ১০৩]
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি না করতে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন: وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوا — "তোমরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বা দলাদলি কোরো না, তা করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিনাশ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো।" [সুরা আল-আনফাল: ৪৬]
আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের দলীয় Organizational Concept-এ বিশ্বাস করি না। কারণ ৭৩ নম্বর নাজাতপ্রাপ্ত দলটি সংখ্যায় খুব কম (Minority)। যিনি এই ৭৩টি দলকে ভালোবাসায় Connect করতে পারবেন, তিনিই সঠিক Leadership দিতে পারবেন।"
প্রশ্ন ৭:
"আপনার বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ—আপনি দুনিয়াবী বা Secular প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান, যেখানে ধর্মের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকবে না; এটি শুধুই মানুষের কর্মসংস্থান বা Employment কেন্দ্রিক হবে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"আসুন, আমরা একটি বাস্তব দৃশ্য Imagine করি বা কল্পনার চোখে দেখি—
একজন সাধারণ কর্মী সকাল আটটায় আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানের বিশাল প্রাঙ্গণে বা Campus-এ প্রবেশ করলো। সে কিন্তু সরাসরি অফিসে প্রবেশ করেনি; বরং প্রবেশের পর কর্মসংস্থান এলাকাতেই অবস্থিত যে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে, সেখানে গেল। সেই মসজিদের ভেতরেই ব্যবস্থা করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মূলধারার সহিহ আকিদার মাদ্রাসা শিক্ষা। সেখানে সে বসে গেল এবং শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকগুলো সামনে নিয়ে পাঠদান গ্রহণ করতে শুরু করলো। সকাল ১০টা পর্যন্ত সে নিবিড়ভাবে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করলো।
সকাল ১০টা বাজতেই সে মসজিদের শিক্ষা শেষ করে সরাসরি তার নিজ Workplace বা কর্মসংস্থানে প্রবেশ করলো। প্রবেশ করতেই তার কানে আসলো চারপাশের অজস্র মানুষের 'আসসালামু আলাইকুম' ধ্বনি। সবাই সবাইকে সালাম দিচ্ছে, একে অপরের কুশল বিনিময় করছে।
যেমনটি হযরত মুহাম্মদ (সা.) পারস্পরিক ভালোবাসার মাধ্যম হিসেবে সালাম প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন: أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ تَحَابُّوا — "তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও, তবেই তোমাদের মাঝে ভালোবাসা তৈরি হবে।" [সহিহ মুসলিম: ৫৪]
প্রতিটি মানুষের পরনে শালীন ও সুন্নাহসম্মত Islamic Dress Code, সবার আচরণে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা—ঠিক যেমনটি ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবিদের সময়ে। সবাই এক পরম সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসাথে কাজ শুরু করলো।
এবার একদিনের কথা কল্পনা করুন—সেখানে কর্মরত একজন ভাইয়ের মুখে হঠাৎ গভীর কষ্টের ছাপ দেখা গেল। কাজের ফাঁকে পাশে থাকা আরেকজন সহকর্মী ভাই এসে কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো, 'ভাই, আপনাকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?' সে উত্তর দিল, 'আমি চরম Financial Crisis বা অর্থনৈতিক সমস্যায় আছি। আমি যে বেতন পাই, এই মুহূর্তে তা আমার চাহিদার জন্য পর্যাপ্ত হচ্ছে না, আর আমার কাছে বিক্রি করার মতো কোনো সম্পদও নেই।'
তার এই কথা শুনে সহকর্মী ভাইটি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, 'চিন্তা করো না ভাই! আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে একটি ডেডিকেটেড Zakat Fund ও Welfare Committee রয়েছে। তুমি সেখানে যোগাযোগ করো।' সে তক্ষণি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলল। প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আশ্বস্ত করে বলা হলো, 'আমরা পুরো বিষয়টি Investigate বা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।' সে আশ্বস্ত হয়ে আবার তার কাজে ফিরে আসলো।
দেখতে দেখতে জোহরের আজান ভেসে আসলো। কাজের ব্যস্ততা থামিয়ে সবাই সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে রওনা হলো। সালাত আদায় হলো ঠিক সেইভাবে, যেভাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবিরা আদায় করেছিলেন। সালাত শেষে সবাই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাবারের জন্য একত্রিত হলো। কেউ বাসা থেকে আনা খাবার খাচ্ছে, আবার কেউ সেখানে স্বল্পমূল্যে খাবার পাচ্ছে। খাওয়া শেষে বিশ্রাম নিয়ে সবাই রিফ্রেশ হয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসলো।
এভাবে আসর পার হয়ে মাগরিবের আজান হলো। মাগরিবের সাথে সাথেই দিনের কাজের সমাপ্তি ঘটলো এবং সবার ছুটি নিশ্চিত হলো।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ — "অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।" [সুরা আল-জুমুআ: ১০]
বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সেই চিন্তিত কর্মীকে ডেকে নেওয়া হলো এবং প্রতিষ্ঠানের Zakat Fund থেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হলো। সে একরাশ স্বস্তি ও হাসি মুখে নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ — "মুমিনদের পারস্পরিক প্রীতি ও সহানুভূতির উপমা একটি দেহের মতো।" [সহিহ মুসলিম: ২৫٨৬]
পবিত্র কোরআনেও সৎ ও কল্যাণকাজে সহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ — "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতা করো।" [সুরা আল-মায়েদা: ২]
এমনকি রসূলুল্লাহ (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন কোনো ভাইয়ের অভাব দূর করার ফজিলত সম্পর্কে: وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ — "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ বা অভাব দূর করতে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তার প্রয়োজন পূরণে সাহায্য করেন।" [সহিহ বুখারি: ২৪৪২]
সে যে বাড়িতে ফিরছে, সেটিও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সুসজ্জিত এক রুমের ছোট ভাড়া Flat। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা পরম নিরাপদে বসবাস করছে। তারা গ্রাম থেকে হয়তো এসেছিল একটি খাঁটি দ্বীনি পরিবেশের আশায়—যেখানে হয়তো গ্রামের মানুষেরা তার স্ত্রীর কঠোর পর্দা বা তাদের সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপনকে মেনে নিতে পারছিল না। কিন্তু এখানে তার স্ত্রী ও সন্তানরাও সেই মসজিদভিত্তিক মাদ্রাসায় সম্পূর্ণ ফ্রিতে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। সবাই একসাথে একই মসজিদে নামাজ পড়ছে, সুন্দর ও গোছানো এক ইসলামিক জীবন অতিবাহিত করছে।তার স্ত্রী ও পার্ট টাইম ইসলামী পরিবেশে কর্মসংস্থানের সম্পৃক্ত হতে পারছে । কারণ নারীদের ফ্লোর সম্পূর্ণ আলাদা যেমন মসজিদে নারীদের স্থান আড়াল থাকে ।
তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব Super Shop থেকে সে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে নিজের পরিবারের জন্য খাদ্য ও বস্ত্র ক্রয় করতে পারছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব Hospital থেকে তার পুরো পরিবার ৫০% Discount-এ উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। আর সে তার পরিবারকে নিয়ে সম্পূর্ণ একটি সুরক্ষিত ও ইসলামিক Housing Society-তে বসবাস করছে, যেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য রয়েছে আলাদা প্রাইভেসী, সেপারেট ওয়াশরুম, সেপারেট রান্নাঘর এবং পর্যাপ্ত খোলামেলা স্পেস।
এখন আপনিই বলুন—যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, চাকরি, আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডে সুন্নাহ ও ইসলাম জড়িয়ে আছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে কোন যুক্তিতে আপনি দুনিয়াবী, ধর্মহীন বা Secular Institution বলবেন? এরপরেও কি আর কিছু বলার বাকি থাকে?"
প্রশ্ন ৮:
"এত Company থাকতে আপনি 'Mashallah Elite IT Company'-কে কেন এই Vision-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Responsibility দিলেন?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"প্রথমত, আমি দেখেছি Mashallah Elite-এর নিজস্ব একটা Clear Vision আছে। যারা নিজেরা অন্তরে কোনো Vision লালন করে, তারা অন্যের স্বপ্নকে সবচেয়ে ভালো Understand করতে পারে। সে কারণেই আমি তাদের এই Responsibility দিয়েছি।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ — "নিশ্চয়ই আপনার কাজের জন্য উত্তম সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী (যোগ্য) ও বিশ্বস্ত।" [সুরা আল-কাসাস: ২৬]
এমনকি আমানত ও দায়িত্ব সঠিক লোকের হাতে তুলে দিতে কোরআনে নির্দেশ রয়েছে: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا — "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন আমানতসমূহ তার যোগ্য পাওনাদারদের হাতে পৌঁছে দিতে।" [সুরা আন-নিসা: ৫৮]
এছাড়া Starting Stage থেকেই একজন Partner হিসেবে তাদের সাথে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত Close।"
প্রশ্ন ৯:
"আপনি কি 'এক উম্মাহ, ওয়ান রুল' (One Ummah, One Rule) খেলাফত ব্যবস্থার পক্ষে নাকি বিপক্ষে?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"আমি অবশ্যই এর In Favor বা পক্ষে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وَإِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ — "এবং নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মাহ তো একক জাতি; আর আমিই তোমাদের রব।" [সুরা আল-মুমিনুন: ৫২]
কোরআনের অন্য আয়াতেও এই মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সত্যতা তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ — "নিশ্চয়ই মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।" [সুরা আল-হুজুরাত: ১০]
তবে Practically চিন্তা করে দেখুন—বর্তমানে প্রতিটি দেশের নিজস্ব State Governance System ও Border রয়েছে।
এখন যদি One Rule আসতে হয়, তবে সৌদি আরবের যুবরাজ যে নতুন Alliance-এর Initiative নিয়েছেন, যেখানে ইতিমধ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তান যুক্ত হয়েছে—সেভাবে যদি সব দেশ সেই যৌথ চুক্তিতে যুক্ত হয়, তবেই One Rule হওয়া সম্ভব। তবে সেটির মূল Center থাকবে সৌদি আরব। এখানে One Ummah, One Rule হয়তো শতভাগ Absolute অর্থে প্রযোজ্য হবে না, তবে NATO-র মতো একটি শক্তিশালী Geopolitical Influence অবশ্যই কাজ করবে।"
প্রশ্ন ১০:
"জনাব সালেহ, আপনার ধর্মের প্রতি Inspiration কে?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"ভক্তির অর্থে ধর্মের প্রতি আমার আগ্রহ মূলত চারজন মহান ব্যক্তির জীবনী বা Biography থেকেই এসেছে:
১. হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - নবুয়তের পূর্বে ব্যবসায়ী
২. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)- কাপড়ের ব্যবসায়ী
৩. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) - ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারী
৪. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) - ধনী ব্যবসায়ী
এই চারজন ব্যক্তির জীবনাদর্শ আমাকে পবিত্র কোরআন এবং সহিহ হাদিসের প্রতি সবচেয়ে বেশি Attracted করে তুলেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ — "নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [সুরা আল-আহজাব: ২১]
এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ — "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের নীতিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে।" [সুনানে আবু দাউদ: ৪৬০৭]
সত্যবাদী ও সৎ ব্যবসায়ীদের চিরস্থায়ী মর্যাদা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃ) শুভসংবাদ দিয়ে বলেছেন: التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ — "সৎ, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবীগণ, সিদ্দীকগণ এবং শহীদদের সাথে থাকবেন।" [জামে আত-তিরমিজি: ১২০৯, সহিহ]"
প্রশ্ন ১১:
"আপনার উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানে কারা আসবে? তওবাকারীরা নাকি যারা আগে থেকেই পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী জীবনযাপন করছে তারা?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"আমার কাছে এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো Difference বা পার্থক্য নেই। তওবাকারী ব্যক্তি তওবা করার সাথে সাথে নিষ্পাপ শিশুর মতো হয়ে যায়—তার জীবনের অতীতের সব পাপ মুছে যায়।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لاَ ذَنْبَ لَهُ — "গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহই নেই।" [সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০]
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ — "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।" [সুরা আজ-জুমার: ৫৩]
যেমনটি আল্লাহর অশেষ দয়ার চিত্র ফুটিয়ে তুলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও নিশ্চিত করেছেন: إِنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ — "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনের গুনাহগার তওবা করতে পারে।" [সহিহ মুসলিম: ২৭٥٩]
কোরআনে তওবাকারীদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার বাণী ঘোষণা করা হয়েছে: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ — "নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালোবাসেন।" [সুরা আল-বাকারা: ২২২]
আর যিনি আগে থেকেই সুন্নাহ মেনে চলছেন, তিনিও সমপরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
এরা আমার দুই চোখের মতো—ডান চোখ ও বাম চোখ। আর পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হয়ে আল্লাহ তাআলা তওবার দরজা বন্ধ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের দরজা তওবাকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।"
প্রশ্ন ১২:
"আপনি কি মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"এটা একদমই ভিত্তিহীন প্রশ্ন! আমি এর ১০০% পক্ষে। তবে আমার কথা হলো—দ্বীনি বা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ Free হওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বা সাহাবিগণ কি মসজিদে শিক্ষা প্রদান করে নির্দিষ্ট বেতন নিতেন?
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا — "বলুন, আমি এর (দ্বীন শিক্ষার) ওপর তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না।" [সুরা আল-আনআম: ৯০]
দ্বীন শিক্ষাকে Educational Business বা শিক্ষাবাণিজ্যে পরিণত করা এবং কৃত্রিম Age Limit দেওয়া অনুচিত।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ — "দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ।" [সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৪]
এমনকি রসূলুল্লাহ (সাঃ) ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং দ্বীন শেখার অসামান্য প্রতিদানের কথা ব্যক্ত করেছেন: مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ — "যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন।" [সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯]
ইসলাম শিক্ষা হতে হবে সম্পূর্ণ Universal এবং বিনামূল্যে। শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা খুশিতে যে হাদিয়া দেবে, তা তিনি গ্রহণ করতে পারেন। তাই আমি মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে, কিন্তু দ্বীন শিক্ষায় বাণিজ্যকারীদের বিপক্ষে।"
প্রশ্ন ১৩:
"আমরা আপনাকে সর্বশেষ প্রশ্ন করব—কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করছেন এই ভিশন ২০৫০?"
উত্তর (জনাব সালেহ):
"আমার এই Vision 2050-এর পেছনে ৩টি উদ্দেশ্য রয়েছে:
১. Halal Income & Reward: নিজের ও পরিবারের জন্য হালাল উপার্জন এবং আখেরাতের জন্য নেকি হাসিল করা।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ ۖ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا — "আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তা দিয়ে আখেরাতের বাসস্থান অন্বেষণ করো।" [সুরা আল-কাসাস: ৭৭]
২. Islamic Environment: সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ ইসলামিক আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার পরিবেশ তৈরি করা।
৩. Self-Satisfaction: মৃত্যুবরণ করার আগে মনে এই আত্মতৃপ্তি রাখা যে, আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের জন্য দুনিয়াতে কিছু একটা করতে পেরেছি।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ — "মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে-ই, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।" [আল-মু'জামুল আওসাত: ৫৮২৯]
এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সৎ কাজের যে ধারাবাহিক সাওয়াব জারি থাকবে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাদিসে ঘোষণা দিয়েছেন: إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ — "মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; কেবল তিনটি আমল ব্যতীত, যার একটি হলো সাদাকায়ে জারিয়া (প্রবাহমান সদকা)।" [সহিহ মুসলিম: ১৬৩১]
পবিত্র কোরআনে সুসংবাদ দিয়ে শেষবারের মতো বলা হয়েছে: فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ — "যে ব্যক্তি অণু পরিমাণও সৎকাজ বা কল্যাণমূলক কাজ করবে, সে তা প্রত্যক্ষ করবে।" [সুরা আজ-জিলজাল: ৭]"