02/09/2021
আমরা যেহেতু কিছু “ মানুষরুপি জানোয়ারদের” সাথে বসবাস করি, তাই মেয়ে বড় হওয়া শুরু করলে মা-বাবার বাড়তি সতর্ক থাকা খুব জরুরী।
মেয়ে কোন স্কুলে পড়ে তা দোকানীকে না-বলি।
দর্জির দোকানীকে যদি ফোন নম্বর দিতেই হয় মেয়ে বা মায়ের নম্বর কেন দেব? বাবার নম্বরটাই দেই।
মেয়েকে প্রতিবার দোকানে না নিয়ে একটি সঠিক মাপের জামা থাকলে সেই জামাটাই নিয়ে যাই।
মেয়ের নম্বরে বাবাই ফ্লেক্সি করুক না।এখন তো দোকানে না গেলেও হয়।
বাসায় শিক্ষক পড়াতে আসলে টেবিলটা এমনভাবে সেট করি যাতে শিক্ষকের থেকে মেয়ে কিছুটা দূরত্বে থাকে।
পড়ার টেবিলে যদি শিক্ষক-ছাত্রী মুখোমুখিই বসতে হয় তাহলে পড়ার টেবিলটা একটু বেশিই চওড়া করে বানাই যাতে টেবিলের নিচে দুজনের পা নিরাপদ দূরত্বে থাকে।
চাচাত মামাত খালাত ফুফাত ভাই, দু:সম্পর্কের চাচা, মামা, বাবা-মার বন্ধু, ডিশওয়ালা, পত্রিকাওয়ালা, পাশের বাসার ভাই- এরা যেন অকারণে বাসায় না আসে, আসলে তাদেরকে একটু বাড়তি নজরে রাখি।
পাশের বাসার ভাই-ভাবী আপনার জানের জান। ভালো-মন্দ কিছু রান্না করলে তাদের না-দিয়ে খান না।
আগে আপনার মেয়েকে দিয়ে পাঠাতেন। এখন আপনার মেয়ে ওই বাসায় যেতে চায়না বলে মেয়েকে বকাঝকাও করেন।
আপনি কি জানেন, কোনো একদিন আপনি আপনার মেয়েকে পাশের বাসার ভাবীকে ডালের চচ্চরি দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। আপনার সোনামণি গিয়ে দেখল আন্টি বাসায় নেই। আঙ্কেল দরজা খোলাতে মেয়ে চচ্চরির বাটি বাড়িয়ে দিলে আঙ্কেল কি বাটি ধরেছিলো না আপনার রাজকন্যার হাত?
গানের শিক্ষক হারমনিয়ামে সুর তুলতে গিয়ে তার হাতটা ছুটে (ইচ্ছাকৃত) গিয়ে মামণিকে স্পর্শ করে কি-না সেদিকটাও খেয়াল রাখা খুব জরুরী।
কখনও অপ্রীতিকর কিছু একটা ঘটেছে এমন কিছু যদি মেয়ে বলতে চায়, অর্ধেক শুনেই রিয়্যাক্ট না করে কী বলতে চায় তা মন দিয়ে শুনি-বুঝি তারপর মেয়েকে সঠিক পরামর্শ দেই।
শুধু মা-বাবা না হয়ে ভালো বন্ধু হই।
এতে যদি আমাদের কলিজার ধনটা নিরাপদ থাকে।
এবং এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে আমরা নিজেরাও যেন মনের অজান্তে ঐ জানোয়ারদের কাতারে সামিল না হয়ে যাই।