25/05/2026
দু দিন আগে গুলিস্তানে এই সেন্টটা দেখে চোখ আটকে গিয়েছিল৷ পারফিউম মামাকে জিগ্যেশ করেছিলাম, কী নাম এটার? হাতে নিতে নিতে তিনি বললেন— লেহা আছে বিন্টেজ; তয় আসল নাম বার্সেস ইরুজ পিং— পিং কালার তো, তাই! মামা বিরক্তি নিয়েই হাসলেন একগাল৷
আবারও জানতে চাইলাম, জিনিশটা কেমন হবে? ঘ্রাণ কেমন?
সেই জিনিশ, মামা! দুইটা স্প্রে করলেই লিশা হয়া যাইব— বলেই তিনি সেন্টের বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বললেন— দুইডা স্প্রে কইরাই দেখেন৷ ভালো না লাগলে থুয়া যায়েন গা৷
তার কথায় আশ্বস্ত হতে না পারলেও কৌতুহল থেকে সত্যিই দুটা স্প্রে করলাম কাপড়ে৷ একটু ঝারা দিয়ে ঘ্রাণ শুকতে দেরি, এর পরে থেকে আর কোনো কিছু স্পষ্ট মনে নেই৷ আমি আজকে নিজেকে আবিষ্কার করেছি হাসপাতালের বেডে৷
মাঝে এতটুকু মনে পড়ে, আমাকে কোনো সার্জারি রুমে নিয়েছিল৷ আরেকবার মনে পড়ে কোনো এম্বুল্যান্সে করে কোথাও নিচ্ছিল৷ আজকে হাসপাতালের বেডে চোখ খুলতেই এক আপু এগিয়ে এসে বললেন— স্যার, আপনার নাম কী? আপনি কথা শুনতে পাচ্ছেন?
আমি তাকে বললাম, একটু ফোনটা দেবেন? আমি একটু ফেসবুক দেখব৷ তিনি দিলেন৷ একটু স্ক্রল করতেই চোখে পড়ল যামুনা টিভির ফটোকার্ড— পারফিউম খেয়ে নেশা করতে গিয়ে অসুস্থ যুবক; কিডনি বিক্রি করে চলছে চিকিৎসা৷
আমি সাথে সাথে পেটের বাম পাশে হাত দিয়ে দেখি অনেকটা জায়গা জুড়ে স্কচটেপ লাগানো৷ একটা চিনচিনে ব্যথাও আছে৷ একটু পরেই বুঝতে পারি, পেটের পাশের ব্যথার চেয়ে বুকের বাম পাশের ব্যথা তীব্র হচ্ছে৷ এরপরে আর মনে নেই৷
মাত্রই জ্ঞান ফিরল৷ দেখি জাক্তার কাউকে ব্রিফ করছে— এই লোকটার কিডনি চুরি হয়েছে৷ সন্ধ্যেয় মাইনর হার্ট অ্যাটাকও এসেছে৷ বেচারাহ...