18/06/2021
⭕ হাতের কব্জি থেকে হাতের তালু ও আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসা, ঝিনঝিন করা, আবার কখনো ব্যথা হওয়া বা ফুলে যাওয়া।এই সমস্যা গুলো সাধারণত যে রোগের কারণে দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো কারপাল টানেল সিনড্রোম। নারীদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে গর্ভকালীন ও মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
🔰 কেন হয়?
একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করার কারণে টানেলের ওপর চাপ পড়ে। যেমন- কম্পিউটারে সারাদিন মাউস ধরে কাজ করা বা কির্বোডে টাইপ করতে থাকা, লেখালেখি করা, সেলাই করা, টেনিস খেলা, গলফ খেলা বা বেহালা বাজানো ইত্যাদি।
🔰 লক্ষণ
আঙুল ঝিনঝিন বা অবশ ভাব, জ্বলে যাওয়া, খাবার খেতে, হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে বা কোনো জিনিস ধরতে সমস্যা। লক্ষণগুলো রাতে বেশি দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি হয় হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমাতে। ঝিনঝিন অনুভূতি ও ব্যথার কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যায়, যা হাতে ঝাঁকুনি দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এসব লক্ষণ ওপরের দিকে ছড়িয়ে বাহুতে চলে যেতে পারে। চিকিৎসা না করালে আঙ্গুলের মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে পারে।
🔰 চিকিৎসা
কারপাল টানেল সিনড্রোমের চিকিৎসায় স্নায়ুর ব্যথা কমানোর জন্য ব্যাথ্যানাশক ঔষুধের পরির্বতে প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যাথা কমানোর চেষ্টা করা। এক্ষেত্রে মু টং লিনিমেন্ট র্কাযকরী ভুমিকা রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং হাতের বিশ্রামের জন্য স্ল্পিন্ট ব্যবহার করতে হয়। এই রোগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই উপকারী। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে কখনো কখনো সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
🔰 বিশেষ পরামর্শ
এই রোগের ফাস্ট স্টেপেই চিকিৎসা গ্রহন করা হলে এটা খুব দ্রুতই সেড়ে যায়। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরী না করে ব্যথা কমানোর জন্য লিনিমেন্ট এবং নিকস্থ ফিজিওথেরাপি সেন্টার হতে থেরাপি গ্রহন করুন ।।
⭕যাঁরা টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, লেখেন কিংবা কম্পিউটারে টাইপ করেন, তাঁরা প্রতি ৩০ মিনিট পরপর সামান্য বিরতি নিতে পারেন। হাতের বাহু যেন কাজের সময় বিশ্রামে থাকে। টেবিল ও হাতের ব্যবধান ঠিক করে নিন, যাতে হাত টেবিলের সমান্তরালে থাকে। মাঝেমধ্যে টাইপ করা বা লেখার বিরতিতে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের নির্দেশিত হাতের ব্যায়ামগুলো করুন।
লেখক : ডা. এম ইয়াছিন আলী