04/09/2020
ইসলামিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বই অন্যতম একটা মাধ্যম৷ তবে সহীহ জ্ঞান অর্জনের জন্য ইসলামিক বই সংগ্রহ করতে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত৷ কেননা অনেক বইয়ে ভুল তথ্য বিশেষ করে অধিকাংশ ওযীফার বইয়ে ভুয়া দুয়া, দুরুদ ও ফযীলত দেওয়া আছে৷ নিয়ামুল কুরান, মকসুদুল মুমিনিন, নূরানী ওয়াযেফ শরীফ ইত্যাদি নামের বাজারে প্রচলিত ওযীফার বইগুলোতে অনেক বানোয়াট ও জাল দুয়া ও দুরুদ ও ফযীলতের কথা দেওয়া আছে। এইগুলোর ৭০-৮০% জাল, মিথ্যা ও বানোয়াট!! এইগুলার মাঝে অনেক শিরকী ও কুফুরী কথাও দেয়া আছে!!
কয়েকটি দুয়া যেইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট:
আহাদ নামা, দুয়ায়ে গাঞ্জুল আরশ, হাফতে হাইকল, হিজবুল বাহার্ ইত্যাদি। এইগুলো কুরআনের বিভিন্ন আয়াত অথবা মানুষের বানানো দুয়া একত্রিত করে দুয়ার মতো বানানো হয়েছে যা রাসুলুল্লাহ (সা:) করেননি। এইভাবে কুরআনের আয়াত উল্টা পাল্টা করে তেলাওয়াত করাটা বিদআত। কারণ ইবাদত নিজের মন মতো করার সুযোগ নাই। ইবাদত সেইভাবেই করতে হবে যেইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা:) করেছেন। আর এই দুয়াগুলোর যে উপকার ও ফযীলতের কথা বলা আছে ১০০% মিথ্যা। আল্লাহ তাদের বিচার করুন যারা মিথ্যা কথা বলে বিদআত চালু করেছে।
কয়েকটি দুরুদ যেইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট:
দুরুদ তাজ, দুরুদে আকবার, দুরুদে হাজারী, দুরুদে লাখী, দুরুদে মাহী, দুরুদে তুনাজ্জিনা ইত্যাদি। এইগুলো মানুষের বানানো ভুয়া দুরুদ। এইগুলো পড়লে কোনো সওয়াব নেই উল্টা বিদআত করার কারণে গুনাহ হবে।
শ্রেষ্ঠ দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহিম, যেটা আমরা নামাযে পড়ি। দুরুদ বেশি বেশি করে পড়ুন, একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ তাআলা ১০ বার রহম করেন। কিন্তু ভুয়া মানুষের বানানো বিদআতী দুরুদ পড়বেন না। বিশেষ করে মা বোনেরা এইগুলো বেশি পড়েন। আপনারা এই সমস্ত বিদআতী হুজুরদের লেখা ওযীফার বই পড়বেন না। সহীহ ও সুন্নতী দুয়া, দুরুদ জানার জন্য হিসনুল মুসলিম বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। আরো বেশি জানতে হলে রিয়াদুস সালেহীন বইয়ের দুয়া ও যিকির অধ্যায় দেখুন।
শুধু দোয়া দরুদের বইতেই না অন্যান্য বইতেই প্রচুর ভুল থাকে৷ যা সাধারন মুসলিমদের দৃষ্টিগোচর হয় না৷ হাদিসের বইসহ ভিন্ন ভাষায় রচিত নির্ভরযোগ্য আলেমদের বইয়ের অনুবাদেও ভুল থাকে, ভুল তথ্যযোগে টীকা দেয়া থাকে৷ আবার অনেক অনুবাদক মূল লেখক যা বলেছে তা বাংলায় যথার্থভাবে তুলে ধরতে পারেন না৷ এ জন্য বইয়ের নাম বা মূল লেখক দেখার সাথে সাথে প্রকাশনী দেখেও বই সংগ্রহ করা উচিত৷ বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক বইয়ের প্রকাশনী হল "এমদাদিয়া লাইব্রেরী"৷ এছাড়া মাকতাবাতুল আববার, মাকতাবাতুল আশরাফ, মুজাহিদ প্রকাশনী, মুহাম্মদ ব্রাদার্স, মাকতাবাতুস সালাম, আনোয়ার লাইব্রেরী, মদিনা পাবলিকেশন্সও নির্ভরযোগ্য৷ আরো আছে সিয়ান পাবলিকেশন।
সংগ্রহে রাখার মত কিছু বই:
আমাদের সাধারন মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন আকিদা ঠিক করা৷ এ জন্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন সাহেবের "ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ" বইটা পড়া উচিত৷ বিভিন্ন আমলের লাভ বা ফযিলত জানতে একই লেখকের 'ফাযায়েলে যিন্দেগী' এবং কোন আমল কিভাবে করতে হবে মানে সকল মাসআলা মাসায়েল জানার জন্য 'আহকামে যিন্দেগী' এবং 'ফিকহুন নিছা' বইগুলো সংগ্রহে রাখা উচিত৷ এছাড়া হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক রহ এর 'আমাদের অধঃপতন ও উত্তরনের পথ', হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ এর 'ইসলামের সৌন্দর্য', মৌলভী মোঃ মুছলেহুদ্দীন সাহেবের 'বিশ্ব নবীর মহান আদর্শ', আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী সাহেবের 'নারীর মর্যাদা ও অধিকার' মুফতি শফী রহ এর 'আত্মশুদ্ধি', আল্লামা সাঈদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ এর 'হযরত মুহাম্মদ সাঃ এই পৃথিবীকে কি দিয়েছেন', 'মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারালো', 'নবীয়ে রহমত', 'প্রাচ্যের উপহার', 'ঈমান যখন জাগলো', মাওলানা হিফযুর রহ এর 'কাছাছুল কুরআন', মাওলানা তারিক জামিল সাহেবের 'আলোকিত নারী', মুফতি ত্বকী উসমানী সাহেবের 'দুনিয়ার ওপারে', 'অভিশাপ ও রহমত', 'মাযহাব কি ও কেন', ঈমাম গাযযালী রহ এর 'দাকায়েকুল আখবার', 'এছলাহে নফস', মাওলানা মনযুর নুমানী রহ. এর 'ইসলাম একমাত্র জীবন বিধান', 'ঈমান সবার আগে'; ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপ্স এর 'এক', 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন', ইত্যাদি৷
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ জ্ঞানের দিগন্ত প্রশস্ত করুন এবং অর্জিত জ্ঞান মত জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন৷ আমীন৷