Nuts and Various things

Nuts and Various things Service Business

04/11/2024

ইতিহাসের আয়নায় তাবলীগ জামাত বিভক্তির ৩টি কারণ:

অন্যান্য যে কোনো দল বিভক্তির পেছনে উভয় পক্ষের বৈধ যুক্তি থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তাবলীগ জামাত বিভক্তির পেছনে এমন কোনো কারণ নেই। এই বিভক্তি মোটেও বিভ্রান্তকর ছিল না। তাদের একটি দল স্বচ্ছ স্ফটিকের ন্যায় বিভ্রান্ত, আরেকদল সুস্পষ্ট হক। কারণ এই বিভক্তি ছিল কেবল একজন মাত্র ব্যক্তি আর অন্যান্য সকল প্রবীণ শুরা সদস্যদের মাঝে।

২০১৮ সালের মার্চ মাসে বিশ্বব্যাপী তাবলীগের প্রবীণ শুরা সদস্যগণ মাওলানা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা এর কারণ হিসেবে ৩টি কারণ উল্লেখ করেছেন:

১. মাওলানা সাদ সাহেব শুরা সদস্যদের অনুমোদন ছাড়াই তাবলীগ জামাতের স্বতঃসিদ্ধ নিয়মগুলো পরিবর্তন করতে থাকেন। এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব মানহাজ অনুযায়ী এই জামাত চালানো শুরু করেন।

তাবলীগ জামাতের অন্যতম একটি নিয়ম হলো, সর্বদা নিজেকে উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত্য বিষয়ের ওপর সোপর্দ করে দেয়া। এবং কুরআন-হাদীস, সীরাত, আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. দের ঘটনাবলি বলার ক্ষেত্রে উম্মতের সালাফে সালেহীন ও আকাবিরদের ধারাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করা। তাঁরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সেভাবেই ব্যাখ্যা করা।

মাওলানা সাদ সাহেবের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ছিল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত থেকে তার মতাদর্শ এবং ইসলাম সম্পর্কে তার নতুন উদ্ভাবিত উপলব্ধির মাধ্যমে এই মেহনতকে বিচ্যুত করা। এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দসহ আরও অনেক ফতওয়া বিভাগ থেকে ফতওয়া জারি হয়েছে।

মাওলানা সাদ সাহেব অনুমোদন ছাড়াই তাবলীগের মধ্যে আরও অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তার প্রথম বড় পরিবর্তন হলো, মুন্তাখাব হাদীস কিতাবকে তাবলীগের ‘অফিসিয়াল’ কিতাব হিসেবে চালু করা। অথচ এ ব্যাপারে অন্যান্য শুরাদের অনুমোদন নেয়া হয়নি। তার এমন আরও অনেক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী এই জামাতে বিভ্রান্তি ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

২. মাওলানা সাদ সাহেব ১৯৯৫ সালে তাবলীগের প্রবীণ মুরুব্বী ও আমীরদের রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও চুক্তিকে লঙ্ঘন করে নিজেকে আমীর ঘোষণা করেন।

১৯৯৫ সালে এই বিষয়ে ফয়সালা হয়েছিল, এই কাজের পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব কোনো এক ব্যক্তির ওপর নয়, বরং একটি বিশ্ব শুরার ওপর বর্তাবে। তারাই এর দেখভাল করবেন। কিন্তু ২০১৪ সালে মাওলানা সাদ সাহেব এই চুক্তি লঙ্ঘন করে নিজেকে নতুন আমীর ঘোষণা করেন। এবং ১৯৯৫ সাল থেকে চলে আসা তাবলীগের শুরা ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তিনি আনুগত্যের বায়াত নেয়াও শুরু করেন! আর এর সবকিছুই করা হয়েছিল তৎকালীন শুরাদের অনুমোদন ছাড়াই।

৩. মাওলানা সাদ সাহেবের মতাদর্শের ওপর অনেক ফতওয়া জারি হয়।

প্রথম পয়েন্টে বলা হয়েছে, এই জামাত সর্বদা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাথেই আবদ্ধ রাখবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দারুল উলূম দেওবন্দসহ বিশ্বের অনেক ফতওয়া বিভাগ তাকে এর বাইরে মনে করেছে। তার ব্যাপারে এই অভিযোগগুলো নতুন নয়, বরং তার বয়ান ও কাজের বিভ্রান্তিগুলো ২০০১ সাল থেকেই রেকর্ড রাখা হয়। মুরুব্বীগণ তখন থেকেই ভেতরগত ভাবে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার হলো, মাওলানা সাদের আদর্শ বছরের পর বছর ক্রমশ বিচ্যুত হতে থাকে।

ফলে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর দারুল উলূম দেওবন্দ মাওলানা সাদ সাহেবের ওপর প্রথম ফতওয়া জারি করে। এরপর মাওলানা সাদ একটি রুজুনামার গেম খেলেন। তার অনুসারীরাও এটাকে প্রচার করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারী দারুল উলূম দেওবন্দ তার রুজুকে প্রত্যাখ্যান করে বলে, ‘মাওলানা সাদের আদর্শগত বিভ্রান্তি একেবারেই উপেক্ষা করা যায় না। তথাকথিত রুজু করার পরেও তিনি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দারুল উলূম দেওবন্দ আরেকটি ফতওয়া জারি করেছে। তারা সেখানে স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘মাওলানা সাদকে অনুসরণ করা উচিত নয়। এবং যারা তাকে অনুসরণ করবে, তারা আল্লাহ তাআলার কাছে দায়বদ্ধ।’

এটা নিঃসন্দেহে যে, তরুণ ও উচ্চাভিলাষী মাওলানা সাদ সাহেবই ছিলেন ২০১৪ সালে তাবলীগের বিভক্তির মূল কারণ। বেশিরভাগ প্রবীন শুরা ও ওলামায়ে কেরাম তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাই সংকট কেটে গিয়েছে এবং এই জামাত হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারীদের ব্যাপারে আমাদের একটাই কথা, তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, নেই অন্য কোনো বিরোধ। তারা আমাদের ভাই। তাই তাদেরকে আমরা হকের দিকেই দাওয়াত দিয়ে যাব। কোনো ব্যক্তির দিকে দাওয়াত দিব না। আমরা কেবল হকের ওপরই ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। মানুষকে মিথ্যার দিকে ডাকতে পারি না।

Tanjil Arefin Adnan

14/08/2023

রহিমাহুল্লাহ

ছুটির দিনে পোলাও কিংবা বিরিয়ানি  ছাড়া চলে!!!আমাদের কাছে পাচ্ছেন১. Fortune Biryany Soecial Basmati Rice ১ কেজি প্যাকেট ২৭...
19/02/2021

ছুটির দিনে পোলাও কিংবা বিরিয়ানি ছাড়া চলে!!!
আমাদের কাছে পাচ্ছেন
১. Fortune Biryany Soecial Basmati Rice ১ কেজি প্যাকেট ২৭০ টাকা। MRP ৩০৬ টাকা।
২. সুগন্ধি চিনিগুড়া চাল ৮৫ টাকা কেজি।

15/02/2021

মারিয়াম খেজুর
একদম ফ্রেশ মারিয়াম খেজুর পাচ্ছেন খুবই সাশ্রয়ী দামে। এক বক্স নিলে পাইকারি দাম।
১। প্রতি কেজি ৭০০ টাকা। ৫ কেজি বক্স ৩১০০ টাকা, সাথে ডেলিভারি চার্জ ফ্রী।
২। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা। ৫ কেজি বক্স ৩৩০০ টাকা, সাথে ডেলিভারি চার্জ ফ্রী।
এছাড়া আমাদের কাছে পাবেন আজওয়া, সাফাওয়ি, ফরিদা, সুক্কারি, দাবাস, নাগাল, জাহেদি, খুরমা সহ প্রায় সবধরনের খেজুর।

আমাদের সকল পণ্য তালিকাঃকাঠবাদাম- ৬৫০ টাকা কেজিকাজুবাদাম (রেগুলার)- ৭৬০ টাকা কেজিকাজুবাদাম (জাম্বু)- ৮৫০ টাকা কেজিকাজু (র...
30/12/2020

আমাদের সকল পণ্য তালিকাঃ
কাঠবাদাম- ৬৫০ টাকা কেজি
কাজুবাদাম (রেগুলার)- ৭৬০ টাকা কেজি
কাজুবাদাম (জাম্বু)- ৮৫০ টাকা কেজি
কাজু (রোস্টেড)- ১০০০ টাকা কেজি
আখরোট- ১২৯০ টাকা কেজি
পেস্তাবাদাম- ১৪০০ টাকা কেজি
চিনাবাদাম- ১৫০ টাকা কেজি
মিক্স নাট- ১০০০ টাকা কেজি
কিসমিস- ২৮০ টাকা কেজি
১০ কেজি কার্টুন ২৫০০ টাকা
এপ্রিকট- ২০০ টাকা/২০০ গ্রাম
- ৯০০ টাকা/কেজি
ত্বীনফল- ১৪০০ টাকা/কেজি
জয়তুন- ১৫০ টাকা ৩৪০ গ্রামের বোতল
প্রিমিয়াম আজওয়া(মিডিয়াম)- ৫৫০ টাকা কেজি
৩ কেজি কার্টুন ১৪০০ টাকা
প্রিমিয়াম আজওয়া(বড়)- ৮৫০ টাকা কেজি
৩ কেজি কার্টুন ২১০০ টাকা
প্রিমিয়াম আজওয়া(বড়)- ৫০০ টাকা ৫০০ গ্রামের বক্স
আজওয়া(ভিআইপি)- ১০৫০ টাকা কেজি
৩ কেজি কার্টুন ২৯০০ টাকা
কলমি সাফাওয়ি- ৫০০ টাকা কেজি
৫ কেজি কার্টুন ২১০০ টাকা
আম্বর- ৬০০ টাকা কেজি
৩ কেজি কার্টুন ১৫০০ টাকা
ফরিদা- ২৮০ টাকা কেজি
৫ কেজি কার্টুন ১২০০ টাকা
দাবাস- ২৫০ টাকা কেজি
১০ কেজি কার্টুন ২২০০ টাকা
নাগাল-১৮০ টাকা কেজি
১০ কেজি কার্টুন ১৫৫০ টাকা
জাহেদি- ১৬০ টাকা কেজি
১০ কেজি কার্টুন ১৩০০ টাকা
খুরমা- ১২০ টাকা কেজি
১০ কেজি কার্টুন ১০০০ টাকা
সরিষার তেল- ৫ লিটার ৯০০ টাকা (ঘানী ভাঙ্গানো)
প্রাকিতিক চাকের মধু- ৭০০ টাকা কেজি
সরিষা ফুলের মধু (চাষের)- ৪০০ টাকা কেজি
ঘি- ১২০০ টাকা কেজি

07/06/2020

#মুফতি মনসূরুল হক দাঃ বাঃ এর লিখিত কিতাব থেকে সংগৃহীতঃ

#একমাত্র ধর্ম ইসলাম

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হওয়ার পর অন্য কোন ধর্মে মুক্তি আছে বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবে নাঃ

সৃষ্টির শুরু থেকে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য মহান রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর বুকে প্রেরণ করেছেন অসংখ্য নবী-রাসূল (‘আলাইহিমুস সালাম)। নাযিল করেছেন বহু আসমানী কিতাব ও সহীফা। তাঁরা যুগে যুগে তাওহীদের বাণী প্রচার করে গেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। পূর্বের নবীর অবর্তমানে মানুষ যে বাতিল ও মিথ্যাকে সত্য মনে করে গ্রহণ করেছিলো পরবর্তী নবী এসে মানুষের সামনে সে বাতিল ও মিথ্যার অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং সত্যের পরিচয় তুলে ধরেছেন। একাধিক রবের ধারণা দূর করে মহান আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের বাণী শুনিয়েছেন।

সর্বশেষ আল্লাহ তা‘আলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাইয়্যিদুল মুরসালিন, খাতামুন্নাবিয়্যিন হিসাবে কিয়ামত পর্যন্ত মানব ও জ্বিন জাতির হিদায়াতের জন্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন। সেই সাথে তার উপর নাযিল করেছেন সর্বশেষ মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনে কারীম। অতএব কুরআন নাযিল হওয়ার পর যেমন অন্যান্য সকল ধর্মের কিতাব রহিত হয়ে গেছে। তেমনি শেষ নবীর আবির্ভাবের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল নবীর আনীত ধর্মও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে এবং মুক্তির একমাত্র পথ হিসাবে ইসলাম ধর্মকেই মনোনীত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন,

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

অর্থ : ‘আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম একমাত্র ইসলাম’। -সূরা আলে ইমরান; আয়াত ১৯

উক্ত আয়াতের তাফসীরে হযরত ইবনে কাসীর রহ. লেখেন,

إخبار من الله تعالى بأنه لا دين عنده يقبله من أحد سوى الإسلام، وهو اتباع الرسل فيما بعثهم الله به في كل حين، حتى ختموا بمحمد صلى الله عليه وسلم، الذي سد جميع الطرق إليه إلا من جهة محمد صلى الله عليه وسلم، فمن لقي الله بعد بعثته محمدًا صلى الله عليه وسلم بدِين على غير شريعته، فليس بمتقبل. كما قال تعالى: وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران:৮৫] وقال في هذه الآية مخبرًا بانحصار الدين المتقبل عنده في الإسلام: إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإسْلامُ.

অর্থাৎ এই আয়াত দ্বারা এই সংবাদ দেয়া উদ্দেশ্য যে, আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন কেবল ইসলাম। আর সর্বযুগেই আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত নবীদের ওহীর অনুসরণ করার নাম ইসলাম। সর্বশেষ এবং সকল নবীর সমাপ্তকারী হচ্ছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার নবুওয়্যাতের পর আল্লাহ তা‘আলা পূর্বের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পর কেউ যদি তার শরী‘আত ব্যতীত অন্য কোন শরী‘আত গ্রহণ করে মৃত্যুবরণ করে তা আল্লাহ তা‘আলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অপর আয়াতে বলেন,

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: যে ব্যক্তি ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন ধর্ম তালাশ করবে কখনো তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। -সূরা আলে ইমরান; আয়াত ৮৫
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

এই আয়াতের অধীনে লেখেন, এই আয়াতে নাস্তিক্য চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা হয়েছে। বর্তমানে উদারতার নামে কুফর ও ইসলামকে এক করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং একথা প্রচার করা হচ্ছে যে, ভাল কাজ করলে ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে যে কোন ধর্মাবলম্বীই মুক্তি পাবে। সে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান অথবা মূর্তিপূজারী যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। এই অতি উদারতা মূলত ইসলামী নীতিমালাকে বিকৃত করারই নামান্তর। কারণ, একথার সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, ইসলামের কোন ভিত্তি নেই। এটা একটা কাল্পনিক বিষয়, যা কুফরের পোশাকেও পাওয়া যেতে পারে।

পবিত্র কুরআনের এ দু’টি আয়াত এবং এ জাতীয় অসংখ্য আয়াত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছে, অন্ধকার ও আলো একত্র হওয়া যেমন অসম্ভব, অনুরূপভাবে আনুগত্য ও অবাধ্যতা একই সাথে আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় হওয়া একেবারেই অযৌক্তিক ও অসম্ভব বিষয়। যে ব্যক্তি ইসলামের কোন একটি মূলনীতিও অস্বীকার করবে সে নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিদ্রোহী ও রাসূলগণের শত্রু। চাই সে শাখাগত আমল ও প্রথাগত চরিত্র মাধুর্যে যতই সুন্দর দৃষ্টিগোচর হোক না কেন। পরকালের মুক্তির উপায় আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্যের উপর নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি এ আনুগত্য থেকে বঞ্চিত তার কোন কর্ম ধর্তব্য নয়। পবিত্র কুরআনে এমন লোকদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে,
فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا

অর্থ: ‘কিয়ামতের দিন আমি তাদের কোন (আমল) ওজন করার ব্যবস্থা রাখব না’। -সূরা কাহ্ফ; আয়াত ১০৫

ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্মঃ
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র সম্পর্কে তাতে দিক নির্দেশনা রয়েছে। এই আধুনিক যুগেও কুরআনের বিধান যুগোপযোগী। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মে জীবনের অনেক বিষয়েরই সমাধান নেই। আর আধুনিক বিষয়ের তো আলোচনাই নেই। এর মাধ্যমে ইসলামের সার্বজনীনতা ফুটে ওঠে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নেয়ামতকে তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন (ধর্ম) মনোনীত করলাম।-সূরা মায়িদা; আয়াত ৩

ইয়াহুদী ও খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা তাদের আসমানী কিতাবের বিভিন্ন বিধানকে পরিবর্তন করে ফেলেছিলো। পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সেকথা বলেছেন। যেমন তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

অর্থ: আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে যাতে তোমরা মনে করো তারা কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা পাঠ করছে তা আদৌ কিতাব নয় এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। -সূরা আলে ইমরান; আয়াত ৭৮

অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

অর্থ: তোমরা কি এই আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে। যখন তাদের একদল আল্লাহর কালাম শ্রবণ করে তারপর তা জেনে বুঝে বিকৃত করে। অথচ তারা তা জানে। - সূরা বাকারা; আয়াত ৭৫

অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ

অর্থ: সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। দুর্ভোগ তাদের রচনা এবং দুর্ভোগ তাদের উপার্জনের জন্য। -সূরা বাকারা; আয়াত ৭৯

সহীহ বুখারীতে রয়েছে,

عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما، قال: يا معشر المسلمين، كيف تسألون أهل الكتاب، وكتابكم الذي أنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم أحدث الأخبار بالله، تقرءونه لم يشب، وقد حدثكم الله أن أهل الكتاب بدلوا ما كتب الله وغيروا بأيديهم الكتاب، فقالوا: هو من عند الله ليشتروا به ثمنا قليلا، أفلا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مساءلتهم، ولا والله ما رأينا منهم رجلا قط يسألكم عن الذي أنزل عليكم.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! কি করে তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞাসা করো? অথচ আল্লাহ তাঁর নবীর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তা আল্লাহ সম্পর্কিত নবতর তথ্য সম্বলিত। এটা তোমরা তিলাওয়াত করছ এবং এর মধ্যে মিথ্যার কোন সংমিশ্রণ নেই। তদুপরি আল্লাহ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি যা লিখে দিয়েছেন আহলে কিতাবরা তা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ হাতে সেই কিতাবের বিকৃতি সাধন করে তুচ্ছ মূল্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচার করেছে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। তোমাদেরকে প্রদত্ত মহাজ্ঞান কি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করার ব্যাপারে তোমাদের বাধা দিয়ে রাখতে পারে না? আল্লাহর শপথ! তাদের একজনকেও আমি কখনো তোমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে দেখিনি। -সহীহ বুখারী; হাদীস ২৬৮৫

সহীহ হাদীস শরীফেও অপরাপর ধর্ম রহিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান পাওয়া যায়

এ বিষয়ে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার একটি হাদীস লক্ষ করুন,

أن عمر بن الخطاب أتى النبي صلى الله عليه و سلم بكتاب أصابه من بعض أهل الكتاب، فقال: يا رسول الله! إني أصبت كتابا حسنا من بعض أهل الكتاب، قال: فغضب، وقال: أمتهوكون فيها يا بن الخطاب! فوالذي نفسي بيده لقد جئتكم بها بيضاء نقية، لا تسألوهم عن شيء فيخبروكم بحق فتكذبوا به أو بباطل فتصدقوا به، والذي نفسي بيده لو كان موسى حيا ما وسعه إلا أن يتبعني.

অর্থ: হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে কোন আহলে কিতাব (ইয়াহুদী) থেকে একটি কিতাব নিয়ে এলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একজন আহলে কিতাব থেকে একটি সুন্দর কিতাব পেয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত উমর রাযি.-এর কিতাব দেখে) রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে উমর ইবনে খাত্তাব! এটা দেখে হয়রান হয়ে পড়েছ? যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ তার কসম! নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দীন নিয়ে এসেছি। তাদেরকে কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না। তাহলে (হতে পারে) তারা কোন সত্য সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবে আর তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। অথবা মিথ্যা সম্পর্কে অবহিত করবে আর তোমরা তা সত্য বলে মেনে নিবে। যেই সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! যদি হযরত মূসা আ. জীবিত থাকতেন তাহলে তাঁর জন্যও আমার দীনের অনুসরণ আবশ্যকীয় হতো। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হাদীস ২৬৪২১

এই হাদীসের আলোকে বোঝা গেল যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য ধর্মের কিতাব দেখে রাগান্বিত হয়েছেন। হাদীসের শেষে একথাও তিনি বলেছেন, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যদি জীবিত থাকতেন তাহলে তার জন্যও আমার ধর্মের অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোন সুযোগ থাকত না। এতে কি বোঝা যায় না যে, একজন নবী যদি নিজ ধর্ম বাদ দিয়ে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে বাধ্য থাকেন তাহলে অপরাপর ধর্মের অনুসারী; যারা নবী নন, তাদের বেলায় ইসলাম ধর্ম মেনে নেয়া ছাড়া মুক্তির আর কোন উপায় থাকতে পারে না।

সর্বশেষে একটি দাবির খন্ডন করা জরুরী মনে করছি। তা হলো, বর্তমানে কিছু শিক্ষিত মানুষ বলে বেড়ায়, সকল ধর্মই সঠিক। আমরা সব ধর্মকে স্বস্থানে সঠিক মনে করি। যে যার ধর্ম পালন করলে মুক্তি পেয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনে সূরা কাফিরূনের আয়াত لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِين দিয়ে তারা এর স্বপক্ষে দলীল দিয়ে থাকে। তাদের এ দাবি একেবারেই অবান্তর। কুরআন ও হাদীসের অর্থ ও উদ্দেশ্য নেয়ার সময় সেটা যেন মনগড়া না হয়ে যায় এদিকে সকলেরই লক্ষ রাখা উচিত। কেননা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ

অর্থ: যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে পর্যাপ্ত জ্ঞান না রেখে তাফসীর করে সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নেয়। -মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৫০

এই আয়াতের তাফসীরে হযরত মাওলানা সানাউল্লাহ পানিপথী রহ. লেখেন, ‘এই আয়াতটি মূলত পূর্ববর্তী আয়াতের বিষয়গুলোকে দৃঢ়তর করার জন্য। উদ্দেশ্য হলো, তোমরা তোমাদের ধর্ম পরিত্যাগ করবে না, আর আমরাও আমাদের ধর্ম পরিত্যাগ করব না’। - তাফসীরে মাযহারী: ১০/৩৫৫

‘সবাই যার যার ধর্ম পালন করবে’ এ তাফসীর ও উদ্দেশ্য গ্রহণ করা মারাত্মক ভুল। কেননা এই আয়াত নাযিল হওয়ার পরও নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য কাফেরকে দীনের প্রতি দা’ওয়াত দিয়েছেন এবং কাফেররাও মুসলমানদেরকে ইসলাম মানার কারণে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। সুতরাং কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বর্তমান যুগে পরকালে মুক্তির জন্য ধর্ম হিসাবে ইসলাম ধর্মকেই বেছে নিতে হবে। মুক্তির পথ কেবল ইসলামই। অন্যান্য ধর্ম অনুসারীদের মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ব্যতীত মুক্তির অন্য কোন পথ খোলা নেই।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সঠিক বিষয় বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।

04/06/2020

#মুফতি মনসূরুল হক দাঃ বাঃ এর লিখিত কিতাব থেকে সংগৃহীতঃ

#তাবীজ-কবজ ও ঝাড়-ফুঁক সম্বন্ধে আক্বীদা

বর্তমান যুগে ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ-কবজের ব্যপারে মানুষের মাঝে বাড়া-বাড়ি ও ছাড়া-ছাড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ কেউ তো ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ-কবজকে একেবারে অস্বীকার করে এবং এ সকল কাজকে না-জায়িয, হারাম এমনকি শিরক ও মনে করে। অপর দিকে কেউ কেউ তাবীজ-কবজে এতটাই বিশ্বাসী যে, তাবীজ-কবজকে স্বয়ংক্রিয় ও নিজস্ব কার্যক্ষমতার অধিকারী মনে করে এবং প্রতিটি কাজেই তাদের একটি তাবীজ কাম্য। অথচ উল্লেখিত উভয়পন্থার কোনটিই সঠিক নয়। বরং তাবীজ-কবজকে উসীলা মনে করে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে আমল করাই হল একমাত্র সহীহ তরীকা। (সূত্র: জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানী দা.বা. মুর্জারাবাতে আকাবির: পৃ: ৪৫)

শরী‘আতের দৃষ্টিতে রোগ হলে যেমন ঔষধ ব্যবহার করা বৈধ, তেমনি রোগ-বালাই ও বিভিন্ন সমস্যায় দু’আ-দুরূদের ব্যবহারও শরী‘আত-সম্মত। কুরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ ও আল্লাহর নাম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক ও তাবীজ ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। (সূত্র: মিরকাতুল মাফাতীহ: পৃ: ৮/৩৬)

তদ্রূপ কুফরী ও শিরকী থেকে খালী কোন নকশা বা শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীজ ব্যবহার করাও জায়েয। পক্ষান্তরে কুফর ও শিরক মিশ্রিত নকশা বা শব্দ অথবা অর্থ বুঝে আসেনা এমন শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীজ ব্যবহার করা না-জায়িয। (সূত্র: তাকমিলাতু ফতহিল মুলহিম: পৃ: ৪/৩২৫ হাদীস নং ৫৬৮৮)

আর তাবীজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এগুলোর নিজস্ব কোন কার্যক্ষমতা নেই। (সূত্র: বজলুল মাজহূদ: পৃ: ১১/৬১২ হাদীস নং ৩৮৮৩)

এগুলো উসীলা মাত্র। বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. ঝাড়-ফুক করতেন। বাকী যে সকল হাদীসে তাবীজ-কবজকে শিরক বলা হয়েছে, তার ক্ষেত্র হল শুধু ঐ সকল তাবীজ যাতে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে। যেমনটি ছিল জাহিলী যুগের তাবীজ-কবজে। (সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ১/১৭৯)

অথবা যে ক্ষেত্রে তাবীজ-কবজকেই কার্যকরী বিশ্বাস করা হয়। তাবীজ কে উসীলা বিশ্বাস করে নয়। এমন বিশ্বাস নিয়ে এ্যালোপ্যথিক, হোমিও প্যথিক চিকিৎসা করানোও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাবীজ-কবজ নয়।

তাবীজ-কবজ জায়িয হওয়ার আরো কিছু দলীলঃ

১. হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী ও সাহাবায়ে কেরামের রা. আমলঃ

عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: إذا فزع أحدكم في النوم فليقل: أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده، ومن همزات الشياطين وأن يحضرون فإنها لن تضره. فكان عبد الله بن عمرو، يلقنها من بلغ من ولده، ومن لم يبلغ منهم كتبها في صك ثم علقها في عنقه.

হযরত ‘আমর ইবনে শু‘আইব স্বীয় পিতা এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যখন তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, সে যেন বলেঃ

أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده، ومن همزات الشياطين وأن يحضرون

তাহলে সেই ভয় কিছুতেই তার কোনরূপ ক্ষতি করবেনা। আর আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর রা. এ দু’আ স্বীয় সন্তানদের মধ্যে যে বালিগ হয়েছে তাকে মুখে বলাতেন এবং তাদের মধ্যে যে বালিগ হয়নি এ দু’আ কোন পর্চায় লিখে দিতেন অত:পর তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। (সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ৩৫২৮)

২. তাবেয়ীগণের রহ. মাঝেও অনেক থেকে তাবিজ লিখে দেওয়ার কথা বর্ণিত আছে, যথা-
كان مجاهد يكتب للناس التعويذ فيعلقه عليهم

হযরত মুজাহিদ রহ. মানুষের জন্য তাবীজ লিখতেন এবং তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। (সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: হাদীস নং ২৩৫৪৫)

তদ্রূপ ইবনে শিরীন ও জাহহাক রহ. প্রমুখ থেকেও অনুরূপ আমল বর্ণিত আছে।

৩. হযরত মুফতী শায়েখ নিযাম রহ. তার বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ হিন্দিয়ায় লেখেনঃ ولا بأس بتعليق التعويذ তথা তাবীজ ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই । (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩৫৯)

৪. তদ্রূপ আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. তার ফাতাওয়া গ্রন্থে লিখেনঃ বিপদগ্রস্ত ও অন্যান্য অসুস্থ লোকদের জন্য জায়িয (তথা পবিত্র) কালি দ্বারা আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর যিকির থেকে কিছু লেখা এবং তাকে ধুয়ে পান করানো জায়িয হবে। (মাজমূ‘আয়ে ফাতাওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া: মাস’আলা নং ১৯)

আসল সুন্নাত ঝাড়-ফুঁকঃ
হযরত আশরাফ আলী থানভী র. বলেনঃ ঝাড়-ফুঁক তাবীজ থেকেও বেশী উপকারী। এবং তার তাছীর তাবীজের তাছীর থেকে দ্বিগুণ। কেননা এ আমল হুযুর আলাইহিস সালাম স্বয়ং নিজে করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এর তালকীন করেছেন। যেখানে ঝাড়-ফুঁক করার কোন লোক নেই, সেখানে তাবীজ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকী উভয় তরীকাই সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত আছে। (সূত্র: মুজাররাবাতে আকাবির: পৃ: ৪৯)

01/06/2020

#উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

#আমার কাছে কথাগুলো মুক্তার চেয়েও বেশি দামি মনে হয়েছে। না পড়ে অযথা কেউ লাইক দিবেন না।

বিশ্বের শীর্ষ ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার মুহতামিম

হযরতুল আল্লাম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী সাহেব দা.বা. এর ঐতিহাসিক বয়ান

(স্থানঃ মদীনাতুল উলূম মাছনা মাদরাসা, মনিরামপুর, যশোর। সময়ঃ ৮ই ফেব্রুয়ারী,২০১৩ ঈঃ, শুক্রবার)

ভাষান্তর: শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা. বা.

প্রিয় ভাইয়েরা! আজ আমাদের দেওবন্দী জামাআত যা প্রকৃতপক্ষে হকপন্থীদের জামাআত এবং সঠিক অর্থে মুসলমান নামে আখ্যায়িত হওয়ার উপযুক্ত, যারা আকাবিরদের নাম উচ্চারণকারী এবং তাদের রেখে যাওয়া দ্বীনী মিশনকে শক্ত হাতে ধারণকারী। আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন, অনেক জামাআত এমন আছে যাদের নিজেদের হিফাজাতের চিন্তা ব্যতীত অন্য কারো হেফাযতের চিন্তা নেই।

শুধুমাত্র দেওবন্দী উলামাদের জামা‘আতের অবস্থা এই যে, একদিকে তাদের দ্বীনের সহীহ তালীম হাসিল করা, অন্যদেরকে তালীম দেওয়া, অন্যের নিকট দ্বীনের তাবলীগ করার দায়িত্ব রয়েছে। অন্য দিকে দ্বীনে ইসলাম হেফাযতের দায়িত্বও তাদের কাঁধে, যেন নাম সর্বস্ব শিক্ষা- দীক্ষার ফাঁদে মুসলমানরা আটকে না যায়, কোথাও কেউ মওদূদী মতবাদের শিকার না হয়। খ্রিস্টান ও কাদিয়ানীরা মুসলমানদের ঈমানকে হুমকির মধ্যে ফেলে না দেয়। আমি জিজ্ঞাসা করি এবং অত্যন্ত দরদভরা দিল নিয়ে জিজ্ঞাসা করি, আজ কাদীয়ানী মতবাদ, খ্রিস্ট মতবাদ এর বিরুদ্ধে মোকাবেলা করে জনগণকে সচেতন করার জন্য কয়জন লোক কাজ করছে? সহীহ দ্বীনের উপর কে কে আছে? তো এমন গুরুত্বপূর্ণ জিম্মাদারীর চিন্তা মাথায় নিয়ে আমাদেরকে উদাসীনতার ঘুম থেকে জাগতে হবে। নিজেদের দায়িত্ব পালনে যত্নবান হতে হবে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি বলতে চাই, আরো কয়েকটি স্থানে যা বলেছি তা হলো, শয়তান দ্বীনের সহীহ মেহনতের কর্মীদেরকে কাজ থেকে হটানোর জন্য সবচেয়ে বেশি যে অস্ত্রটি ব্যাবহার করে তাহলো, আপোষে মতবিরোধ সৃষ্টি করা। বর্তমানে সেই দুর্ভাগ্য আমাদের হকপন্থীদের সাথে যুক্ত হয়েছে। একই চিন্তাধারার অধিকারী, একই আকাবিরগণের নাম বুকে ধারণকারী, একই নিসাবে শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদানকারী দ্বীনের একই মিশনের কেতনধারী আলেমগণ অনৈক্য ও প্রকাশ্য মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। দুনিয়ার বড় বড় সমস্যার সমাধান তাদের মাথার উপর তারা সেগুলির সমাধান না করে মতবিরোধে লিপ্ত আছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে উভয় দেশের মধ্য থেকে তাদের বড় ব্যক্তিরা সন্ধির জন্য মিলিত হয় এবং তারা সমস্যার সমাধান করে উঠে। আমাদের শহরগুলোতে এ ধরণের ঘটনার অনেক নজীর রয়েছে। হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছে। তখন দুই দেশের বড় বড় ব্যক্তিরা দুই দুইবার বসে সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে। এসব দুনিয়াদার লোকেরা নিজেদের দুনিয়ার স্বার্থে আপোষে মতবিরোধ দূর করার জন্য বসতে পারে। কিন্তু আলেমগণের পবিত্র জামাআত দ্বীনের জন্য নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ দূর করতে পারবে না? নিজের ব্যক্তি সত্বার কী মূল্য আছে? নিজের আমিত্বের কি দাম? দ্বীন কি আমাদেরকে এ কথা বলে যে আপোষে যুদ্ধ করো? আসলে আমরা আমাদের প্রবৃত্তির চাহিদার বেড়াজালে আটকে গেছি।

অতএব, আজকের যুবক উলামায়ে কেরাম এ কথার উপর অঙ্গীকারাবদ্ধ হোন যে, আমরা আমাদের বড় বড় উলামায়ে কেরামকে ঐক্যের প্লাটটফর্মে আনবো এবং সেজন্য তাদের পায়ে ও কাঁধে হাত রেখে খোশামোদ করে তাদের ভিতরকার অনৈক্য ও দূরত্ব দূর করে দিব। দেখুন, অনৈক্যের এই অর্থ নয় যে, বিভিন্ন মসজিদে বিভিন্ন মকতবে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে তালীম দিচ্ছেন। এটা কোনো এখতেলাফ নয়; বরং এটাতো একই ফুল বাগানের বিভিন্ন ফুলের মত দৃশ্য। যেমন ফুল বাগানে বিভিন্ন রং ও ঘ্রাণের ফুল থাকে। কোনোটি গোলাপ,কোনোটি চামেলি, কোনোটি বেলি। একেক ফুলের একেক রং ও একেক ঘ্রাণ। রং এবং ঘ্রাণের ভিন্নতা সত্ত্বেও সব ফুল মিলে মানুষকে ও পরিবেশকে সুঘ্রাণযুক্ত করে দেয়।

এমনিভাবে সকল আলেম নিজেদের আকাবিরদের ইউনিফর্ম তথা আদর্শের ধারক হবে। কিন্তু যে বিষয়গুলো মৌলিক ও ভিত্তিমূলক সেগুলোতে সবাই ঐক্যের সূতায় আবদ্ধ থাকবে। কোনো প্রকার বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করবে না। আর যেখানে যেখানে এই বিচ্ছিন্নতা আসবে সেটা দূরীকরণের চেষ্টা করবে।

আর দ্বিতীয় জরুরী কথা হলো, এখলাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে দ্বীনের যে কাজ আমরা করছি হুবহু এই কাজ যদি অন্য কেউ করে তাহলে দুঃখিত না হওয়া বরং খুশি হওয়া। এক ছেলে তার পিতার খেদমতে লিপ্ত আছে। তাহলে পিতার অন্য ছেলের খেদমতে সে নারাজ হবে না, বরং খুশি হবে। এক মুরিদ তার শাইখের খেদমতে আছে, তখন অন্য মুরীদ তার শাইখের খেদমত করলে সে নারাজ হবে না, বরং খুশি হবে যদি সে সত্যিকার অর্থেই শাইখকে ভালবেসে থাকে। এক ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে দান করে তো অন্য কেউ এই প্রতিষ্ঠানে দান করলে প্রথম ব্যক্তি নারাজ হবে না, বরং খুশি হবে। যদি আবেগ এমন হয় যে, আমি একাই খেদমত করবো অন্যকে খেদমত করতে দিব না তাহলে এটা ইখলাস হবে না; বরং তা হবে নিজের সুনাম সুখ্যাতির জন্য।

আমরা সকলেই দ্বীনের কাজে ব্যস্ত, তো একজন আলেম একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি সংগঠন বানিয়ে কাজ নিয়ে দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় তার সহযোগী হতে হবে। তার বিরোধী হলে চলবে না। কেননা সে ঐ কাজই করছে যা আমি করছি। যে কেউ দ্বীনের আওয়াজ উঠাবে , পতাকা যার হাতেই থাকুক না কেন, নাক সিটকানো যাবে না। কোথাও একহাজার লোক জামা‘আতে নামায আদায় করার জন্য জমা হলে, তার মধ্যে হয়তো এমন একশত লোক আছে, যারা সকলেই ইমামতী করতে পারে। কিন্তু একশত লোকই তো ইমামতী করবে না, বরং ইমামতী একজনই করবে। আর বাকী সবাই তাকে ইমাম হিসেবে মেনে নিবে। এখন অবশিষ্ট ৯৯ জন জুতা হাতে নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় কিংবা ইমাম সাহেবের জায়নামায কেড়ে নিয়ে বলে যে, ইমামতির যোগ্য আমি, অতএব আমি ইমামতি করবো। এ জাতীয় আচরণ করা কি কখনোই সমীচীন হবে? নাকি একজনের ইমামত মেনে নিয়ে জামা‘আতের সাথে নামায আদায় উচিত হবে? এক ব্যক্তি ইমামতির জায়গাতে দাঁড়িয়ে গেছে এটাতো অন্যদের জন্য কোনো অসম্মানের বিষয় নয়। কেননা বিষয়টি এমন নয় যে, ইমামতিতে দাঁড়ালে সম্মানিত হবে আর মুক্তাদি অসম্মানিত হবে। ছাত্র ইমামতি করছে আর শাইখুল হাদীস সাহেব তার পিছনে নামায পড়ছেন। মাদানী সাহেব ছাত্রের পিছনে নামায পড়ছেন, কোথাও ছেলে ইমামতি করছে বাপ, দাদা তার পিছনে মুক্তাদী হয়ে নামায পড়ছে। তাদের জেহেনে একথা আসে না যে, একে ইমাম বানানোর দ্বারা তাদের পদমর্যাদা নষ্ট হবে। কেননা প্রথমেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, নামায জামা‘আতের সাথে পড়া হবে। এই দৃশ্য প্রতিদিন পাঁচবার সামনে আসছে আর সবাই তাতে অংশগ্রহণও করছে। এমনিভাবে দ্বীনের কোনো কাজ যখন দলবদ্ধভাবে করা হয়, তখন তার মধ্য থেকে একজন সামনে নেতৃত্ব দিল আর আমি তার নেতৃত্ব মেনে নিলাম। এতে কি আমার মান সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে? এতে সম্মান আরো বৃদ্ধি পাবে। এটা না করে কেউ যদি মনে করে যে, আমার মধ্যেও নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা আছে। অতঃপর ভিন্ন একটা দল গঠন করে সে নেতা হয়ে যায়। তাহলে দ্বীনের লাভের পরিবর্তে ক্ষতি হবে। সব জায়গায় আজ বাস্তবতা দৃশ্যমান হচ্ছে। তো যুবকগণ হচ্ছে একটি জাতির শক্তি। সংসারে কোনো যুবক যদি এই জিদ ধরে যে, মা-বাপের মধ্যকার গন্ডগোল খতম করবে তাহলে তা সম্ভব হয়ে যায়। এটা না করে ছেলে যদি একদিকে থাকে, আর বাপ অন্য দিকে যায় তাহলে গন্ডগোলের নিরসন হবে না। আজকের নওজোয়ান তোলাবা ও উলামাদের শিক্ষা-দীক্ষা জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই। আমাদের মধ্যকার বড় বড় উলামায়ে কেরাম যদি পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের দর্শন ও আদর্শকে, ত্যাগ ও অগ্রাধিকারকে সামনে রাখেন, তাহলে পরবর্তীদের জন্য এটা হবে অনুসরণীয় বিষয়। প্রত্যেক ব্যক্তিই নেতা হওয়ার যোগ্য। পদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু মুসলিম জাতির ঐক্যের স্বার্থে আপোষের ঝগড়া খতম করে দিয়ে সহীহ পদ্ধতি ও এখলাসের সাথে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ সফলতা আমাদের পদচুম্বন করবে।

সারকথা, আমি আপনাদের সামনে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

এক. বিভিন্ন দিক থেকে প্রকাশিত ফেতনার দিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা এবং সে সব ফেতনা দমনের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্রত্যেকেই এটাকে নিজের দায়িত্ব মনে করা। মওদূদী মতবাদ আমাদের আকিদা ও আমাদের আমলের উপর আক্রমণ করছে, খ্রিস্ট মতবাদ আমাদের সরলমনা মুসলিম ভাইদের খ্রিস্টান বানাচ্ছে। কাদিয়ানীরাও ঈমানের উপর হামলা করছে। তো যেভাবে আমাদের আকাবিরগণ এসকল ফেতনার মোকাবেলা করেছেন সেভাবে আমরাও এর মোকাবেলা করা নিজেদের দায়িত্ব মনে করব।
দুই. যে কেউ দ্বীনের সহীহ খেদমত আঞ্জাম দিবে তার সহযোগিতা করবো। বিরোধিতা করবো না। কেননা আমি যেমন নায়েবে রাসূল তেমনি সেও তো একজন নায়েবে রাসূল।

আর দ্বীনের কাজ বলতে মৌলিকভাবে নববী কাজকেই বুঝায়। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাজের ধারা ছিল তিনটিঃ

১. কিতাবুল্লাহ ও হিকমাত তথা সুন্নাহ শিক্ষাদান।
২. তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি।
৩. দাওয়াত ও তাবলীগ।

এগুলোকেই মূলত প্রকৃত নববী কাজ বলে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তা‘লীমের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছে, খানকাহগুলো তাযকিয়ার কাজ করছে, আর তাবলীগওয়ালারা দাওয়াতের কাজ করছে। এগুলোর সবই দ্বীনী কাজ। এগুলোর যেটার প্রতি যার দিলের ঝোঁক বেশি সে তাতে লেগে থাকবে। অন্যগুলোকে অস্বীকার করবে না। মাদরাসাওয়ালা যদি একথা মনে করে যে, আমরাই তো দ্বীনের কাজ করছি। দাওয়াতের লাইনের লোক দ্বীনের কাজ করছে না। এটা চরম ভুল হবে। দাওয়াত ওয়ালার একথা মনে করা যে, দ্বীনের কাজতো শুধু আমরাই করছি, মাদরাসা ওয়ালারা দ্বীনের কাজ করছে না এটাও ভুল হবে। আর খানকাহওয়ালারা যদি এটা মনে করে যে, দাওয়াতের লাইনের লোকেরা কী জানে? হাকীকত ও প্রকৃত জিনিস তো আমাদের কাছে রয়েছে। এটাও ভুল হবে। আল্লাহ পাক বলেনঃ

هو الذى بعث فى الاميين رسولا منهم... وقال ايضا: ادع الى سبيل ربك بالحكمة و الموعظة الحسنة... وقال ايضا: قل هذه سبيلى ادعو الى الله على بصيرة انا ومن اتبعنى.

তো যারা নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নায়েব তথা ওয়ারিশ দ্বীনের সকল কাজ নিয়ে চলা তাদের দায়িত্বে। যার যেটার প্রতি মনের ঝোঁক বেশি সে সেটা করবে। আর অন্য গুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবে, বিরোধিতা মোটেই করবে না। এ পদ্ধতিতে ইনশাআল্লাহ দ্বীনের কাজ অনেক বেশি হবে। চোখের কাজ দেখা আর কানের কাজ শোনা, জিহ্বার কাজ বলা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজ করে যাচ্ছে। এমন নয় যে, চোখকে দেখার দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে শ্রবণ ও বলার দায়িত্বও পালন করতে হবে। বরং দেখবে চোখ, বলবে জিহ্বা, আর শুনবে কান। তবে প্রত্যেকেই অপরের সহযোগী। এমনিভাবে সকল নায়েবে রাসূল দ্বীনের কাজ করে যাচ্ছেন। অতএব, আপোষে একে অপরের সহযোগী হতে হবে।

আপনাদের সমীপে আর একটি আবেদন এই যে, উর্দূ ভাষা ও ফার্সী ভাষা ছাত্রদেরকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে পড়াবেন। উর্দূ-ফার্সী যদিও মাতৃ ভাষা নয়, কিন্তু এই দুই ভাষা আমাদের দ্বীনী খেদমতের ও শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে গেছে। আমাদের আকাবিরদের সকল কিতাব উর্দূ ও ফার্সীতে লেখা। সেগুলো থেকে উপকৃত হতে গেলে এই দুই ভাষা শিখার বিকল্প নেই। কোনো ভাষার অস্থিত্ব বাকি থাকে সেই ভাষায় শিক্ষাদান, শিক্ষাগ্রহণ ও সেই ভাষা বলার মাধ্যমে। আমরা উলামায়ে কেরাম যদি এই দুই ভাষাকে টিকিয়ে না রাখি, শিক্ষা না দেই, তাহলে এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আর কে পালন করবে? সাধারণ মানুষ তো এই দায়িত্ব পালন করবে না। সুতরাং এই দুই ভাষাকে নিসাবভুক্ত করে গুরুত্বসহ পড়াবেন।

যাইহোক, আপনাদের সামনে বিক্ষিপ্ত কিছু কথা আলোচনা করলাম। এসব কথার প্রথম সম্বোধিত ব্যক্তি আমি নিজেই। যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে মাফ করে দিবেন। আর যদি কিছু কাজের কথা বলে থাকি, তাহলে সেগুলো আপোষে আলোচনা করে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় তার ফিকির করবেন।

29/05/2020

টিভি, সিনেমা এবং ভি সি আর দেখার ক্ষতিসমূহ

মানুষের জীবন দু'ধরনের। নববী জীবন আর পাশবিক জীবন। প্রথমটার পরিণাম জান্নাত আর দ্বিতীয়টার পরিণাম জাহান্নাম। আধুনিক যুগের সিনেমা, টিভি এবং ভি সি আর ইসলাম ও মুসলমানদের চির শত্রু ইহুদী-খৃষ্টানদের আবিষ্কার, মুসলমানদেরকে পাশবিক জীবনে উদ্বুদ্ধ করার এক অত্যাধুনিক যন্ত্র। মুসলমানদেরকে তাদের, কৃষ্টি-কালচার, তাহযীব-তামাদ্দুন, শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজ, নামায, অর্থ, চরিত্র এবং মানবতা থেকে দূরে সরিয়ে বিজাতিদের কৃষ্টি-কালচারে অভ্যস্ত করত: তাদেরকে গোলাম বানানোর এক সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র। কিন্তু আফসোস! আজ মুসলমান চোখ থাকতেও অন্ধ। বিবেক থাকতেও তাদের এ ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে না পেরে শত্রুদের প্রেরিত বিষাক্ত সাপকে শুধুমাত্র বাহ্যিক রূপ এবং সৌন্দর্যের প্রতি বিস্মিত হয়ে অবুঝ শিশুর মত সেটাকে স্বাগত জানিয়ে সযত্নে নিজের ঘরে স্থান করে দিচ্ছে। ফলে চারিত্রিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল দিক দিয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা। যিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অত্যাচার, হত্যা-লুন্ঠন, রাহাজানি-ধর্ষণ ইত্যাকার বহুবিধ ফিতনা-ফাসাদ দিন দিন বেড়েই চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে সমাজে জীবন যাপনই বড় মুশকিল এবং কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য নিম্নে সিনেমা, টি ভি এবং ভি সি আর দেখার দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতিসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হল, যাতে তার ভয়াবহ পরিণাম দেখে আমরা তা থেকে বেঁচে থাকতে পারি।

১। চোখের যিনা: সিনেমা টিভি দেখার সর্ব প্রধান উদ্দেশ্য হল মহিলাদের সোন্দর্য্য দ্বারা পুরুষদের মনোরঞ্জন করা। নারীদেরকে অশ্লীল আর নির্লজ্জভাবে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ করে উপস্থাপন করা হয়। যা দেখার কারণে চোখের যিনা হতে থাকে। তদ্রূপ পুরুষদের দেখে মহিলারাও চোখের যিনায় লিপ্ত হয়ে গুনাহগার হচ্ছে। হাদীসে এসেছে চোখও যিনা করে, আর তার যিনা হচ্ছে বেগানা মহিলাদেরকে দেখা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

২। কানের যিনা: সিনেমা ও টিভির পর্দায় গান-বাজনা, কাওয়ালী, যুবতী মেয়েদের উলঙ্গ নাচ আর নায়িকাদের মনোহারিণী আওয়াজ। ঢোল-তবলা, সেতারা বেহালার মনোমুগ্ধকর ঝংকার। গানের সুরলহরী, প্রেম ভালবাসার অশ্লীল ডায়ালগ ইত্যাদি সব কানের যিনা। হাদীসে এসেছে কানও যিনা করে, আর যিনা হচ্ছে গায়রে মাহরামের আওয়াজ শ্রবণ করা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

৩। অন্তরের যিনা: সিনেমা টি ভির পর্দায় উলঙ্গ, অর্ধ উলঙ্গ, টাইটফিট পোশাক বেগানা মহিলাদেরকে দর্শন করা আর গান-বাজনার বিভিন্ন আকর্ষণীয় আওয়াজে পুলকিত হওয়া, আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে অন্তরের সেদিকে আকৃষ্ট হওয়া, তার যৌনতা আর চিত্তাকর্ষকতা কল্পনা করে মনে মনে শিহরিত হওয়া এবং মজা অনুভব করা ইত্যাদি সবই অন্তরের যিনা। হাদীসে এসেছে অন্তরও যিনা করে, আর তার যিনা হচ্ছে কল্পনা আর কামভাব পূরণের আশা করা। (বুখারী শরীফ হা: নং ৬২৪৩)

৪। লজ্জা-শরমের বিলুপ্তি: পরিবারের সকল সদস্য; পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন সকলে একত্র বসে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ ছবি দেখতে থাকে। যার দ্বারা হায়া-শরম খতম হতে থাকে। অথচ লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। (বুখারী শরীফ হা: নং ৯)

৫। অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনার ব্যাপকতা: যে সকল লোকেরা সিনেমা ও টিভি দেখায় অভ্যস্ত হতে থাকে, চরিত্রগত দিক দিয়ে তাদের মন ও মস্তিষ্ক সব নিম্নস্তরে নেমে আসে। তাদের নির্লজ্জতা এবং অশ্লীলতার মাপকাঠি পরিবর্তন হয়ে যায়। গতকাল পর্যন্ত যে বিষয়টিকে সে উলঙ্গপনা আর অশ্লীলতা বলে জানতো আজ সেটাকে নিতান্তই সাধারণ বা এটাকেই মডার্ণ মনে করছে। অথচ অশ্লীলতা আল্লাহ তা‘আলার নিকট মারাত্মক ঘৃণিত। (সূরায়ে আনআম১৫১)

৬। অসৎ সঙ্গতা: সিনেমা ও টিভি দেখার কারণে অসৎ বন্ধু তথা সিগারেট ও মাদক দ্রব্যে অভ্যস্ত ব্যক্তি, মাতা-পিতার অবাধ্য, স্কুল-কলেজের অসৎ চরিত্রের ছাত্র-ছাত্রী এবং মেয়েদের সাথে চলাফেরা আরম্ভ করে এবং সৎ লোকদের সংশ্রব থেকে দূরে সরে থাকে। (সূরায়ে তাওবাঃ১১৯, সূরায়ে আনআমঃ৬৮)

৭। খারাপ অভ্যাসের জন্ম: ছেলে-মেয়ের সমকামিতা পুংমৈথুন, হস্তমৈথুন এবং ব্যভিচারের মত নানা অভিশপ্ত বদ অভ্যাসে লিপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে নষ্ট করে দেয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা সৎ লোকদের সংশ্রবে থাকার আদেশ করেছেন এবং কুরআন হাদীসে সকল হারাম কাজের প্রতি মারাত্মক ধমকী এসেছে। (সূরায়ে আনকাবূত: ২৮, তিরমিযী হা: নং ১১৬৭, শামী: ২/৩৯৯)

৮। যৌন কামিতার শিক্ষা: প্রায় সকল চলচ্চিত্রের বিষয়ই থাকে অবৈধ প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, যৌন চাহিদা পূরণ করার নানা কৌশল শিক্ষা দেয়া। অথচ কুরআনের স্পষ্ট নিষেধ যে, তোমরা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে কোন ভাবেই অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হইওনা এবং এগুলোর প্রচার করো না। (সূরায়ে আনআম: ১৫১, সূরায়ে নূর: ১৯)

৯। চরিত্রের অবনতি: চরিত্র বিনষ্টকারী কথা-বার্তা, অনর্থক কল্পকাহিনী, গীবত, মিথ্যা, পরশ্রীকাতরতা, ঠাট্টা-বিদ্রূপ, কুদৃষ্টি ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক অভ্যাস সৃষ্টি হয়ে মারাত্মকভাবে চরিত্রের অবনতি ঘটে। অথচ চরিত্র মানব জীবনে অতি মূল্যবান সম্পদ এবং হাশরের ময়দানে সবচেয়ে ওজনদার হবে তার উত্তম চরিত্র। (সূরায়ে হুজরাত:১১-১২, আবূ দাউদ হা: নং ৪৭৯৯)

১০। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা: চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ব্যভিচার, ছিনতাই, হত্যা-লুন্ঠন, রাহাজানি-ধর্ষণ ইত্যাদি মারাত্মক অপরাধ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভাবে সিনেমা টিভির পর্দায় দেখানো হয়। পরবর্তীতে দর্শকরা এগুলোকে সাধারণ মনে করতে করতে নিজেরাও এগুলোর সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। অথচ এগুলো সবই হারাম এবং কবীরাহ গুনাহ। (সূরায়ে মুমতাহিনা: ১২)

১১। পর্দাহীনতার ব্যাপকতা: বর্তমান সমাজের নারীরা চলচ্চিত্রের পর্দাহীনতা দেখে নিজেরাও পর্দাহীনতা শিখছে। নায়িকাদের অনুসরণে নিজেরা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ ইসলামী শরী‘আতে মহিলাদের জন্য পর্দাবিধান পালন করা ফরয। এটা না থাকলে সংসারের সমস্ত শান্তিই বিনষ্ট হয়ে যায়। (সূরায়ে আহযাব: ৩৩,৫৯)

১২। অবৈধ বিবাহ: সিনেমা ও টিভি দেখার কারণে ধর্মীয় অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে না। পরকালের চিন্তাও থাকে না। মাসআলা-মাসাইলের গুরুত্বও শেষ হয়ে যায়। এমনকি একজন মুসলিম ছেলে অমুসলিম মেয়েকে বিবাহ করতে অথবা মুসলিম মেয়ে অমুসলিম ছেলের সাথে বিবাহ বসতে কোন দ্বিধাবোধ করে না। বরং এটাকে উদারপন্থী সংস্কৃতি ও আধুনিকতা মনে করে। অথচ এ সূরতদ্বয়ের কোনটাতেই বিবাহ সহীহ হবে না। এর পরেও ঘর-সংসার করলে যিনা হবে এবং তাদের থেকে যে সন্তান হবে সবই হারামজাদা হবে। (সূরায়ে বাকারা: ২২১)

১৩। ফ্যাশন পূজা: সিনেমা টিভি দেখার কারণে পুরুষেরা দাঁড়ি মুন্ডানো, টাখনুর নীচে কাপড় পরা, টাইট পোশাক পরা আর মহিলারা মাথার চুল খাটো করা, চুলে বিভিন্ন কালার করা, নেল পালিশ, লিপস্টিক ইত্যাদি শরী‘আত বিবর্জিত ফ্যাশনে লিপ্ত হয়। অথচ এসব নাজায়িয। (সূরায়ে আ‘রাফ ২৫-২৬, মায়িদা:৬, বুখারী হা: নং ৬৮৯২,৫৭৯৫, শামী:৬/৪০৭)
১৪। স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষতি: সিনেমা টিভি দেখার কারণে যুবক ছেলে মেয়েরা ধীরে ধীরে হৃদকম্পন, ক্যান্সার, ব্লাড প্রেশার, স্বপ্নদোষ, দুর্বলতা ও শরীরের ব্যথাসহ বহুরোগে আক্রান্ত হয়। অথচ স্বাস্থ্যের হেফাযত করাকে আল্লাহ তা‘আলা জরুরী করেছেন। এর ব্যতিক্রম করলে এগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর আদালতে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। (তিরমিযী হা: নং ২৪১৬)
১৫। চোখের ক্ষতি: চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে এ কথাটি পরীক্ষিত যে, যত অধিক পরিমাণ সিনেমা ও টিভি দেখা হবে তত দ্রুত চক্ষু খারাপ হয়ে যাবে এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে থাকবে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)
১৬। সিনেমা ও টিভি দেখা একটি আত্মার ব্যাধি: যখন কোন ব্যক্তির সিনেমা ও টিভি দেখার অভ্যাস মাত্রাতীত হয়ে যায় এবং সেটা ব্যতীত জীবন চলা কঠিন হয়ে পড়ে তখন সে হয়ে যায় একজন আত্মিক রোগী। তখন ঐ ব্যক্তির কাছে চিত্র জগতের প্রত্যেকটি বিষয় খুব ভাল লাগে। সিনেমা ও টিভি দর্শন তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হয়ে যায়। এ মারাত্মক ক্ষতির কারণে এ লোক ধর্মের কোন কাজ পছন্দই করতে পারে না। দুনিয়ার কাজের জন্যও সে নিষ্কর্মা। আর হারামকে মনে প্রাণে ভালবাসার কারণে তার ঈমান যে কোন মুহূর্তে চলে যেতে পারে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)
১৭। আল্লাহ ও রাসূলের অসন্তুষ্টি: আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল ও দীনদার লোকদের মুহাব্বাত ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ (যা তার জন্য জরুরী) পরিবর্তে অভিশপ্ত নায়ক নায়িকাদের মুহাব্বাত ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে পয়দা হয়। যার ফলে তাদের মুহাব্বাতে দুনিয়াতে অনেক সময় আত্মহত্যার মত মহাপাপ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। আখিরাতে তাদের সাথী হয়ে জাহান্নামী হওয়ার আশংকা থাকে, যদি সে তাওবা না করে নেয়। (সূরায়ে আনফাল:৪৬)
১৮। পিতা-মাতার অবাধ্যতা: শিশুরা পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে যায়। যে সকল শিশু অনবরত সিনেমা ও টিভি দেখতে থাকে তারা আস্তে আস্তে পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে যায়। বরং কতক সময় তাদের সাথে অশ্লীল কথা-বার্তা বলে ফেলে এবং অসামাজিক আচরণ করে বসে। সিনেমা দেখা ও সিডি ক্রয় করার জন্য টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়। যদি পিতা-মাতা পয়সা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এমনকি চুরি-ডাকাতিও শুরু করে, আবার কখনো মায়ের উপর হামলা করে বসে। অথচ পিতা-মাতার বাধ্য হওয়া এবং তাদের কথামত চলা সন্তানদের জন্য ওয়াজিব। (সূরায়ে বনী ইসরাইল:২৩-২৪)
১৯। পড়া-লেখার বিঘ্ন সৃষ্টি: এগুলোর আসক্তির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া-লেখার দারুণ ব্যাঘাত ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে পড়া-লেখাই নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে পড়া-লেখা, কাজ-কর্ম সবকিছু উপেক্ষা করে সিনেমা টিভি দেখে দীন-দুনিয়া বরবাদ করে দেয়। অনেক সময় এ কারণে পরীক্ষায় ফেল করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
২০। নামায বিনষ্ট হয়: টিভি দেখতে গিয়ে বেনামাযীর কথা তো বাদই, নামাযী লোকদেরও নামায ছুটে যায় অথবা কমপক্ষে জামা‘আত ছুটে যায়। অথচ নামায আল্লাহ তা‘আলার গুরুত্বপূর্ণ বিধান। যা তিনি বান্দার উপর ওয়াক্তমত ফরয করেছেন এবং তার জন্য জামা‘আতকে করেছেন অতীব জরুরী এবং ওয়াজিব। (সূরায়ে নিসা: ১০৩, বাকারা:৪৩)
২১। টাকা পয়সার অপব্যয়: সিনেমা ও টিভি সকল মন্দ ও অশ্লীল কর্ম-কাণ্ড প্রশিক্ষণ দেয়ার এক ট্রেনিং স্কুল। অতএব তা দেখা অবৈধ ও হারাম। সুতরাং এ হারাম কাজে টাকা-পয়সা ব্যয় করা অপব্যয়। আর অপব্যয়কারীকে কুরআনে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। (সূরায়ে বনী ইসরাঈল:২৭)
২২। সময়ের অপচয়: এ অবৈধ এবং হারাম কাজে টাকা-পয়সা খরচ করা যেমন অপব্যয় তেমন তার জন্য মূল্যবান হায়াত থেকে মূল্যবান সময় দেয়া সময় অপচয় করারই নামান্তর। অথচ এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন। (তিরমিযী হা: নং ২৪১৬ )
২৩। হারাম কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ: সিনেমা এবং টিভি দেখলে পর্দাহীনতা, মহিলা-পুরুষের স্বাধীনভাবে মেলা-মেশা, অবৈধ প্রেম ও ভালবাসা, ব্যভিচার, মদ্য পান, ফ্যাশন পূজা, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ধোঁকাবাজি ইত্যাদি হারাম ও অবৈধ কর্ম-কাণ্ডের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়। এজন্য বর্তমানে টিভির কারণে ঘরে ঘরে চোর-ডাকাত, হাইজ্যাকার, ছিনতাইকারী সৃষ্টি হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। (সাঈদ মুহাম্মদ লিখিত সিনেমা টিভি দেখার ভয়াবহ পরিণতি: ৬১)
২৪। বিপদ ও মুসীবতের কারণ: সিনেমা টিভির কারণে বহু কবীরাহ গুনাহ ব্যাপক হয়। আর হাদীসে এসেছে: যখন গুনাহ ব্যাপক হয় তখন আল্লাহ তা‘আলার আযাব ও শাস্তিও ব্যাপকভাবে হয়। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ:৪/২৬৮)
২৫। সর্বোপরি সিনেমা টিভি দেখার মধ্যে কমপক্ষে ২১টি হারাম কাজ পাওয়া যায়। সুতরাং এতগুলো হারাম কাজ পাওয়া যাওয়ার পরেও সেটা দেখা মানে নিজের মূল্যবান হায়াতকে ধ্বংস করা ও আখিরাতকে বরবাদ করা।
সারকথা: টিভি, ভিসিআর এবং সিনেমার দুনিয়াবী এবং আখিরাতী বহুবিধ ক্ষতি এবং অনেক হারামের সমষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সেখানে মন্দ ছাড়া ভাল কোন দিকই নেই। সেখান থেকে কোন ভাল ফলাফলের আশা করা মানে ম্যানহোল থেকে স্বচ্ছ পানি তালাশ করা।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আমাদের ছেলে মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও সকল মুসলমানকে চলমান এ ফিতনা থেকে বেঁচে থেকে সঠিক পন্থায় আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহে সচেষ্ট হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Address

Dhaka

Telephone

+8801521500567

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nuts and Various things posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share