19/10/2022
সকল হতাশা ও ঋণ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়
আল্লাহর উপর ভরসা করুন এবং তার প্রতি সুধারণা রাখুন। কারণ বান্দা আল্লাহর প্রতি যেমনটা ধারণা করে ,আল্লাহ তার সাথে ঠিক তেমন ই ।আল্লাহর ব্যাপারে নিরাশ হবেন না তার দয়ার প্রতি আশা হারাবেন না ।একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি মসজিদে এসে আবু উমামা রাঃ কে বসে থাকতে দেখলেন ।তিনি তাকে বললেন হে আবু উমামা কোন ব্যাপার টি তোমাকে এই অসময়ে মসজিদে বসিয়ে রেখেছে, জবাবে তিনি বললেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের বোঝা আর দুশ্চিন্তা আমাকে কাবু করে ফেলেছে ।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি কি তোমাকে এমন কিছু শব্দ শিখিয়ে দেবো যেগুলো বললে আল্লাহ তোমার সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَل وَأَعُوذُِ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আঝযি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল ঝুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিঝালি।
( হে আল্লাহ নিচ্ছই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে , কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে , ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে ) চমৎকার বরকতময় কিছু শব্দের দোয়া যেগুলো আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না । আল্লাহর যে বান্দাই পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে এই কথাগুলো বলবে আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য স্বস্তি আর মুক্তির পথ বের করে দেবেন । আবু উমামা বললেন আমি দোয়া গুলো পড়েছি, ফলে আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন ও আমার ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন । আরবিতে আলহাম হল ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন চিন্তা যা আপনার মনকে ভাড়ি করে রাখে। আর হাযিন হলো অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু নিয়ে ব্যথিত হওয়া। এই দোয়ায় দুটি ব্যাপার কে উল্লেখ করা হয়েছে অতীতের কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ।মানুষ প্রকৃত পক্ষে খুবই দুর্বল তার ওপরে একটার পর একটা দুশ্চিন্তার ঝড় বয়ে যায় সে একটি চিন্তা থেকে বের হতে না হতেই আর একটি চিন্তা তাকে ঘিরে ফেলে। একটি বিপদ কাটতে না কাটতেই আরেকটি বিপদে পতিত হয় ।আল্লাহ বলেন لقد خلقنا الانسان في অথাদ নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে কষ্টের মধ্যে সৃষ্টি করেছি এবং এই কষ্ট দুশ্চিন্তা দূর করতে পারেন একমাত্র সেই আল্লাহ যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন । হে আমার ভাই আল্লাহ আপনার কল্যাণ চেয়েছেন যখন তিনি আপনাকে কোন বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং সেই বিপদে ধৈর্য ধারনের তৌফিক দান করেন।আল্লাহ আপনার কল্যাণ চেয়েছেন যখন তিনি আপনাকে পরীক্ষা করেন ফলে আপনার হৃদয় ভেঙে গিয়ে তার দিকেই ফিরে ।আল্লাহ আপনার কল্যাণ চেয়েছেন, যখন আপনি আপনার মনকে একমাত্র তাঁর দিকে ফিরিয়ে আপনার সকল দুঃখ-কষ্ট তার কাছে একান্ত ব্যক্ত করেন আর আপনার হৃদয় বলে ওঠে হে আমার মালিক আপনি কার কাছে আমাকে ছেড়ে দিচ্ছেন ,আপ্নার ই কোন এক দুর্বল বান্দার কাছে যে আমার প্রয়োজন শুনে বিরক্ত হয় ,নাকি এমন এক শত্রুর কাছে যাকে আপনি আমার উপর ক্ষমতা দিয়েছেন।হে আল্লাহ আপনি ছাড়া এই অসহায় বান্দার ডাকে কে সাড়া দিবে, আপনি তো আপনার নবী আইয়ুব আলাইহিস সালামকে তার রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন ।আপনিতো ইউনুস আলাইহিস সালামকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়েে এনেছিলেন ।আপনি ই তো আপনার বান্দাদের কে বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করেন ।হে আল্লাহ আমার কোন ক্রিত কর্মের কারণে আপনার রহমতের ভান্ডার থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না ।তার কাছে দোয়া করতে থাকুন ,বিনয়ের সাথে মিনতি করুন ।কারণ আল্লাহর কসম- তিনি আপনার প্রতি আপনার নিজের থেকেও বেশি দয়ালু ।যখন বান্দা হৃদয় থেকে আল্লাহকে ডাকে আর তার অবস্থা এই যে নানা দুশ্চিন্তা তাকে ঘিরে রেখেছে তার শরীরে কোন রোগ হয়েছে কিন্তু কোন চিকিৎসা তার কাজে আসছে না অথবা সে তার স্ত্রী পরিবারের সন্তান সন্ততি দেখা কঠিন কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে এমনকি তার এই অবস্থা হয়ে যায় যখন সে হাসে তখন ই কোন না কোন দুঃখ এসে তাকে কাঁদায় অথবা কোন দুশ্চিন্তা তার অন্তরকে মেঘাচ্ছন্ন করে দেয় ।বান্দা যখন এই অবস্থায় পৌঁছে,একাগ্রচিত্তে আল্লাহকে ডাকে এটাই হলো আল্লাহর পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।কারণ এ পরীক্ষার লক্ষ্যই হলো আপনি আল্লাহর দিকে ফিরুন। পরীক্ষার লক্ষ্য হলো এই যে বান্দা একমাত্র আল্লাহর কাছেই তার কষ্টের অভিযোগ করবে এবং তার কাছেই ফিরবে। তার মহত্ব স্মরণ করবে । যদি আপনার ঋণের বোঝা অনেক বড় হয়ে থাকে তাহলে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ আপনার ঋণের চাইতেও বড় এবং সকল কিছুর চেয়ে বড় । যদি আপনার পরিবার স্ত্রী সন্তান কন্যা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা আপনাকে কাবু করে ফেলে ,তাহলে জেনে রাখুন আল্লাহ আপনাকে শুনছেন তিনি আপনাকে দেখেছেন । আর বলুন হে আল্লাহ আপনি আমার অবস্থা দেখছেন আপনি আমার দুর্বলতা ও জানেন আমার প্রয়োজন বোঝেন। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছেই ফিরছি এবং আপনার কাছেই আমার কষ্টগুলো বলছি ।হে আল্লাহ আমি শুধুমাত্র আপনার সাহায্য চাচ্ছি এবং আমার সকল বিষয়ে একমাত্র আপনার উপরই আস্থা করছি, আপনার কাছে ই আত্মসমর্পণ করছি।
আপনি যদি এই দোয়া গুলো দিয়ে বিপদের মোকাবিলা করেন, আপনি অবশ্যই সেই বিপদ থেকে মুক্তি পাবেন। আপনার কঠিন বিপদ গুলো সহজ হয়ে যাবে। আল্লাহ যখন আপনার কষ্ট লাঘবের সিদ্ধান্ত দিবেন তখন আপনার বিপদ থেকে এমনভাবে মুক্তির পথ বের হয়ে যাবে যা আপনি কখনও কল্পনাও করেননি ।যখন কোন বান্দার জন্য দুনিয়া সংকীর্ণ হয়ে আসে বিশেষ করে যখন আপনাকে মানুষ পরিত্যাগ করে এবং বিশেষ করে এমন কেউ যার উপর আপনি আস্থা রাখতে্ন কিন্তু সে আপনাকে নিরাশ করেছে ।আপনি আল্লাহর পরেই তার উপরই আসা রাখতেন অথচ সে আপনাকে লাঞ্ছিত করেছে। সেই সময় জেনে রাখবেন আল্লাহ চাচ্ছেন আপনি তার শরণাপন্ন হন ।এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ সে যে আল্লাহর দিকে তার মুখ ফেরায়।এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ সে, যে আল্লাহর কাছে তার হৃদয় সমর্পণ করে । (তার চেয়ে উত্তম ধর্ম কার যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে তার মস্তক অবনত করে এবং সৎ কাজে নিয়োজিত থাকে) যখন আপনাকে মানুষ লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে তখন জেনে রাখুন যে সম্মান বা লাঞ্ছনা কোনটাই তাদের হাতে নেই আর মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে যখন আপনাকে অসম্মানিত হতে হয়, তখন জেনে রাখুন যে তারা তাদের নিজেদেরই কোন উপকার বা অপকা্রের কর্তৃত্ব রাখে না। যখন আপনার ্বিপদ কঠিন হয়ে যায়, যন্ত্রণা তীব্র হয়ে যায় , স্ত্রীর কারণে পরিবারের কারণে ভাই এর কারণে বোনের কারণে বা বন্ধুদের কারণে যখন মানুষের দেওয়া ব্যথায় আপনি দিশেহারা হয়ে যান ।তখন মনে রাখবেন যে আপনার একজন মালিক রয়েছেন জিনি আপনাকে কখনই নিরাশ করবেন না। আপনার একজন রব রয়েছেন যিনি সকল অভিযোগ শুনেন, যিনি সবচেয়ে লুকায়িত গোপন বিষয়গুলো জানেন এবং মনে রাখবেন যে আপনার একজন মালিক রয়েছেন যিনি আপনার প্রতি আপনার নিজের নফসের থেকেও দয়াবান। যিনি আপনাকে ভালোবাসেন এবং ভালবাসেন যে আপনি তার কাছেই আশ্রয়ের জন্য ছুটে যান ,আর তাকেই আপনার দোয়ায় ডাকেন। আল্লাহ আইয়ুব আলাইহিস সালামকে নেয়া কঠিন পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা যখন তিনি তার পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেন আমি দুঃখ কষ্টে পতিত হয়েছে এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। অতঃপর আল্লাহ বলেন আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ ফিরিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমান আর ও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপা বসত। আর এটা ইবাদতকারীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য উপদেশ স্বরুপ .।পবিত্র কোরআনে এই কথাটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো এই যে, আপনিও যদি আল্লাহকে ঠিক সেভাবে পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ডাকেন ঠিক যেভাবে আইয়ুব আলাইহিস সালাম ডেকেছিলেন। তবে আল্লাহ আপনার ডাকে ঠিক তেমনভাবেই সাড়া দিবেন যেভাবে তার নবী আইয়ুব আলাইহিস সালামের জবাব দিয়ে তার এবং তার পরিবারের সকল দুঃখ কষ্ট দূর করে দিয়েছিলেন। হতে পারে আপ্নি এখন সুখী জীবনযাপন করছেন, আপনি আপনার বাড়িতে নিরাপদে আছেন শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন, আপনার দৈনিক রিজিক নিয়ে চিন্তা করতে হয় না, আর এভাবে চলতে থাকতে থাকতেই কোন একসময়ে আল্লাহ আপনাকে পরীক্ষা করতে চান ফলে আপনি দেখেন যে আপনার উপর একটার পর একটা বিপদ মুসিবত এসে আপতিত হয়। ঋণের বোঝা চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে। অবশেষে আপনার সুখের জীবন হয়ে ওঠে কষ্ট আর দুশ্চিন্তার সাথে এক দৈনন্দিন যুদ্ধ। আপনার স্ত্রী অভিযোগ করে, আপনার সন্তান অভিযোগ কর, নানান উদবেক বিষন্নতা আর দুঃখের মাঝে আপনি ডুবে যান। বিস্তৃত এই জমিন আপনার জন্য হয়ে যায় অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। আলোকিত এই পৃথিবী হয়ে যায় আপনার জন্য অন্ধকার। ঠিক তখনই জেনে রাখবেন যে একমাত্র আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ই আপনার জীবনের সংকীর্ণতা দূর করে প্রাচুর্য এনে দিতে পারে, অন্ধকার দূর করে আবার আলোকিত করে দিতে পার, আপনি জেনে রাখবেন যে আল্লাহ আপনার প্রতি আপনার নিজের থেকেও বেশি দয়াবান। একমাত্র এই বিশ্বাসটাই আপনার সকল দুশ্চিন্তা বিষণ্নতা মুছে দেবে। কে আছে এমন যে আল্লাহর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু আল্লাহ তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তো সবচাইতে উদার আপনি যখন মহা দয়ালু মায়ার সাগর।