21/07/2022
বাংলা সাহিত্যে গুনী লেখকদের তালিকা করা হলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নাম বেশ উপরের দিকেই থাকবে।
আজকে আমরা তার রচিত শ্রীকান্ত উপন্যাসকে ঘিরে আলোকপাত করব অনেকটা রিভিও ও বলা যায়।
শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মুলত ৩ টি খন্ডে বিভক্ত, তাই আমরা ধারাবাহিক ভাবে প্রতিটি খন্ড নিয়ে আলোকপাত করব।
শ্রীকান্ত(প্রথম খন্ড)
আমার এই ভবঘুরে জীবনের অপরাহ্নে দারাইয়া ইহারি একটি অধ্যায় লিখিতে বসিয়া আজ কত কথাই না মনে পরিতেছে
হ্যা উপন্যাসে কবি নিজেকে একজন ভবঘুরে অভিযাত্রি হিসেবেই তুলে ধরেছেন, পার করেছেন অনেক চরাই উৎরাই ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ পারা মহল্লার মারপিট থেকে পালিয়েছেন আবার রাজকুমারদের সাথে শিকার করেছেন। লরেছেন কুষন্সকার এর বিপক্ষে আবার সম্মান করেছেন মানুষের বিশ্বাস কে। মায়ায় জরিয়েছেন ভালবেসেছেন তবে আটকে থাকেন নি কোন সম্পর্কের বাধনে।
তবে প্রথম খন্ডে উঠে এসে কবির ছেলেবেলা। তার দুরন্ত কৈশোরে তার সংগি ছিল ইন্দ্র। শ্রীকান্ত এর শান্ত স্বভাব এর মাঝে কৈশরেই দুরন্তপনার বীজ বপন করে দেয় ইন্দ্র।ইন্দ্র বেয়ারা সাহসি ভয়ডরহীন এক বালক যার হাত তিনেক লম্বা হাতের মুষ্ঠি বাঘের থাবা এর থেকে কম না।ইন্দ্র আর শ্রীকান্ত এর বন্ধুত্বটাও অনেকটা ধোয়াশার মত ভাগ্য কখনো তাদের খুব কাছে নিয়ে এসেছে আবার কখন তৈরী করেছে তাদের মধ্যে ব্যবধান।কখন গভির রাতে জেলেদের মাছ চুরি করে ধরা পরার ভয়ে নদী সাতরে পার হওয়া আবার কখন গভির জংগলে শ্মশান এর মধ্যে দিয়ে সমাজের ভেদাভেদ এর যাতাকলে পিষ্ট এক পবিত্র আত্মা অন্নদা দিদির কাছে যাওয়া। ইন্দ্র এর দর্জিপাড়ার মাসতুতো ভাই এর শীতের রাতের নৌকাভ্রমন এবং তার নাস্তানাবুদ হওয়ার গল্প পাঠ্যপুস্তকের দৈলতে আমাদের সবারি জানা।
এভাবেই নান ঘাতপ্রতিঘাত পার করে কবি যখন যৌবনে পা দেন তখন অন্য সবার থেকে তার চিন্তাচেতনা হয় আলাদা সমাজকে সমাজের মানুষকে কবি দেখতে পান এক নতুন চোখে।অন্যরা যখন জাত পাত নিয়ে মাতামাতিতে ব্যাস্ত কবি তখন মনের মধ্যে ধারন করে চলছেন ইন্দ্র এর বলা সরল মনা সেই উক্তি "মরার আবার জাত কিসের"