12/07/2026
ফেরদৌসী রহমানের নতুন বই
লোকে বলে প্রেম
আমি বলি জ্বালা
২৫৬ পৃষ্ঠা, মূল্য: ৬০০ টাকা
ফেরদৌসী রহমানের কাছে সংগীত মানে জীবন। শিল্পী বাবার সুবাদে শিশুকাল থেকে সংগীতের মধ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা। গান গেয়ে, গান শুনে এবং সংগীতকে ভালোবেসে পেরিয়ে গেছে জীবনের ৮০টি বসন্ত। আজও প্রথম দিনের মতো একই রকম ভালোবাসেন তিনি সংগীতকে। ছোটবেলায় তাঁর স্কুলে যাওয়ার পথে পড়ত একটা বিরাট পানিয়াল ফলের গাছ। ফল খাওয়ার সময় ছড়া কাটত মেয়েটি: ‘আম পাকে জাম পাকে, হাতেতে পানিয়াল পাকে।’ হাত দিয়ে টিপে টিপেই পানিয়াল ফল পাকাত সে। তাতেই টক ফল হয়ে যেত মিষ্টি। জীবনের এই প্রান্তে এসে মেয়েটি উপলব্ধি করে, জীবনটাও সে রকম—‘পানিয়াল ফল’-এর মতো।
বাবাকেই তিনি গুরু মানেন। তিনিই তাঁর ওস্তাদ, পথপ্রদর্শক। আব্বাসউদ্দীন চেয়েছিলেন মেয়ে তাঁর আর সবার চেয়ে আলাদা হবে। তার নিজস্ব পরিচয় দাঁড়াবে, সে স্বাবলম্বী হবে। বাংলা সংগীতকে সে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে। ফেরদৌসীর কাছে সংগীতই প্রেম; তাঁর জীবনে অমূল্য সম্পদ। আবার এই গান তাঁর জ্বালাও। সংগীতকে ভালোবেসে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। সেই কষ্টও তাঁকে অপার আনন্দ দিয়েছে। তাঁর সেই আনন্দময় জীবনের অভিজ্ঞতা বিধৃত হয়েছে এই স্মৃতি-কাহিনিতে।
লেখক পরিচিতি
ফেরদৌসী রহমান
জন্ম ২৮ জুন ১৯৪১, কোচবিহারে। সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা আব্বাসউদ্দীন আহ্মদের উৎসাহে শিশুকালেই সংগীতে হাতেখড়ি। ইউনেসকোর বৃত্তি নিয়ে লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজ অব মিউজিকে স্টাফ নোটেশন কোর্স করেছেন। এইচএমভি থেকে প্রথম গানের ডিস্ক বেরোয় ১৯৫৭ সালে। গেয়েছেন খেয়াল, ঠুমরি, দাদরা, গজল, নজরুলসংগীত, আধুনিক, পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়াসহ নানা ধরনের গান। রবিন ঘোষের সঙ্গে যুগ্মভাবে রাজধানীর বুকে চলচ্চিত্রে ছাড়াও এককভাবে সংগীত পরিচালনা করেছেন একাধিক ছবিতে। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার। পাকিস্তান আমলে প্রেসিডেন্ট’স প্রাইড অব পারফরম্যান্স পদক এবং ২০০৮ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। গান করেছেন উদুর্, হিন্দি, ফারসি, জাপানি, চীনা, ইংরেজি, রুশ, আরবি, যুগোস্লাভ ও আফগান ভাষায়। বিটিভিতে বহু বছর ধরে তাঁর পরিচালিত ‘এসো গান শিখি’ ছিল ছোটদের প্রিয়
একটি অনুষ্ঠান।